প্রথমবার ৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান পেলেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক
২১,ফেব্রুয়ারী,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে তিন ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক পেয়েছেন। প্রথমবারের মতো রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে এ পদক তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেন, এখন থেকে প্রতি দুবছর অন্তর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মাতৃভাষার সংরক্ষণ, পুনরুজ্জীবন ও বিকাশে অবদানের জন্য এ পদক দেয়া হবে। এদিন মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠান ও মাতৃভাষা পদক ২০২১ প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে চার দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। জাতীয় পর্যায়ে মাতৃভাষার সংরক্ষণ, পুনরুজ্জীবন ও বিকাশে অবদানের জন্য এবারের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক-২০২১ পেয়েছেন জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণে অবদানের জন্য খাগড়াছড়ির জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা পান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উজবেকিস্তানের গবেষক ইসমাইলভ গুলম মিরজায়েভিচ ও লাতিন আমেরিকার আদি ভাষাগুলো নিয়ে কাজ করা বলিভিয়ার অনলাইন উদ্যোগ অ্যাক্টিভিজমো লেংকুয়াস এ বছর বাংলাদেশ সরকারের এ সম্মাননা পেয়েছেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেন। মূল প্রবন্ধ ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধু উপস্থাপন করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে এতে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী, জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক জিনাত ইমতিয়াজ আলী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি বিয়াট্রিস কালদুন।
ভাষা শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনারে মানুষের ঢল
২১,ফেব্রুয়ারী,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে জাতি। প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা জানানো পরপরই ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নামে মানুষের ঢল। ফুল হাতে শহীদ মিনারে হাজির হন সর্বস্তরের মানুষ। এর আগে রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাদের প্রতিনিধিদল, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থার ব্যক্তিবর্গ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ শেষে সাধারণ মানুষের জন্য শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ খুলে দেয়া হয়। সারিবদ্ধভাবে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ফিরে যাচ্ছেন তারা। তবে এবারের শহীদ মিনারে আগত ব্যক্তিদের মানতে হচ্ছে বিশেষ সতর্কতা। মাস্ক পরা এবং নির্দিষ্ট রুটম্যাপ অনুসরণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন তারা। এছাড়া সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঁচ এবং ব্যক্তি পর্যায়ে দুইজন করে শহীদ মিনারে ফুল দেয়ার নির্দেশনা কর্তপক্ষের। একুশের প্রথম প্রহরে ফুল দেয়ার জন্য ছাত্র-জনতা ব্যানার, পোস্টার, ফুলের তোড়া নিয়ে প্রণীত রুটম্যাপ অনুযায়ী পলাশীর মোড় হয়ে জগন্নাথ হলের সামনে অপেক্ষা করতে থাকে ছাত্র-জনতা। রাত ১২ টা ২০ মিনিটের দিকে সর্বসাধারণের জন্য গেট খুলে দিলে দলবদ্ধ ও এককভাবে শহীদ মিনারে প্রবেশ করে শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হওয়া মানুষ।
ভাষা শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
২১,ফেব্রুয়ারী,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিনম্র শ্রদ্ধা, যথাযথ মর্যাদা ও পূর্ণ ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশে অমর একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে জাতি ভাষা শহীদদের স্মরণের মাধ্যমে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন শুরু করেছে। অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহান ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাত ১২টা ১টি মিনিটে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তাদের সামরিক সচিবরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এসএম সালাহউদ্দিন ইসলাম এবং এর পরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকীব আহমেদ চৌধুরী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় অমর একুশের কালজয়ী গান আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি বাজানো হয়। তারা কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে থেকে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর আওয়ামী লীগ সভাপতির পক্ষে দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শহীদ মিনারের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলির সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী ও কর্নেল (অব.) ফারুক খান এবং তথ্যমন্ত্রী ও দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা জি.এম কাদের, তিন বাহিনীর প্রধান, পুলিশের মহাপরিদর্শক, Rapid Action Battalion (Rab) প্রধান এবং আনসার বাহিনী প্রধান পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এছাড়া জাসদ, ন্যাপ, ওয়ার্কার্স পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দও শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারবৃন্দ, বিদেশী সংস্থার প্রধানগণ শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত জাতি
২০,ফেব্রুয়ারী,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত জাতি। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ঘিরে নিরাপত্তাবলয় গড়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। চলছে শেষ মুহূর্তের রংতুলির ছোঁয়ায় আল্পনার কাজ। হু হু বাতাসে মন উদাস করা সুর। আর শিমুল পলাশের আগুনঝরা রং স্মরণ করিয়ে দেয় ছালাম বরকতের দ্রোহের রক্তকে। শেষ হয়েছে আলপনা, শেষ সময়ের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। মধ্যরাত থেকেই জাতি শ্রদ্ধা জানাবে ভাষা শহীদদের প্রতি। তবে সারাদিন শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দেখা মিলেছে দর্শনার্থীদের। এদিকে দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিরাপত্তার প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন Rab মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। পরে, সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। পুরো এলাকায় স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। যে কোনো পরিস্থিতির জন্য Rabর বোমা স্কোয়াড এবং স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত থাকবে বলেও জানান তিনি। ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশাপাশি দেশের সব শহীদ মিনারেও যথেষ্ট পরিমাণ Rab সদস্য মোতায়েন থাকবে বলেও জানান তিনি।
২১ ফেব্রুয়ারি নিয়ে সতর্ক বাহিনী, নাশকতার আশঙ্কা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
২০,ফেব্রুয়ারী,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ২১ ফেব্রুয়ারিকে ঘিরে কোনো নাশকতার সম্ভাবনা নেই উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, এ বিষয়ে নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে আছে। শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জুম বাংলাদেশ স্কুলের আয়োজনে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা আলোচনাসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা যাতে পথভ্রষ্ঠ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জুম বাংলাদেশের সভাপতি রুহুল আমিন সেলিম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জুম বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা প্রকৌশলী খালেদ হুসাইন, প্রধান পৃষ্ঠপোষক মনিরুজ্জামান, সহসভাপতি জেরিন সুলতানা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে জুম বাংলাদেশের শুভাকাঙ্খী ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় জুম বাংলাদেশ স্কুলের শিক্ষার্থীরা সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী এসটি শাহীন প্রধান। পরে বিভিন্ন শাখার শিশু ও সমন্বয়কদের হাতে শিক্ষাসামগ্রী ও পুরস্কার বিতরণ করেন আগত অতিথিরা। উল্লেখ্য, জুম বাংলাদেশ বিগত ৫ বছর ধরে ঢাকা, গাইবান্ধা, যশোর ও চট্টগ্রামসহ দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার জন্য কাজ এ আসছে। এ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন সংকটকালে বিশেষ করে করোনাকালে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেছে।
সম্মানের সঙ্গে বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলবো : প্রধানমন্ত্রী
২০,ফেব্রুয়ারী,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা বাঙালি, বাংলা আমাদের দেশ। এই বাংলাদেশ বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলবে, সম্মানের সঙ্গে চলবে। কারো কাছে হাত পেতে নয়, আমরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে আত্মমর্যাদা ও সম্মান নিয়ে বিশ্বের বুকে চলবো। শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন থেকে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারি চলছে। যদিও ভ্যাকসিন আসছে, ভ্যাকসিন দিচ্ছি। এ বিষয়ে আরও গবেষণা চলছে। সেজন্য সবাইকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ম মেনে চলার অনুরোধ করছি। অন্তত মাস্ক পরা ও হাত ধোয়ার বিষয়টি মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি বলেন, আজকের ভাষা দিবসে আপনারা সমাজের বিভিন্ন স্তরে অবদানের জন্য ভাষার পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। আপনাদের অভিনন্দন জানাই। আপনাদের কাছ থেকে আগামী প্রজন্ম শিক্ষা নিতে পারবে। এটা শুধু আপনাদের সম্মাননা নয়, জাতির জন্য সম্মাননা, দেশের মানুষের জন্য সম্মাননা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা ভাষা আন্দোলন থেকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করে সংগ্রাম করে যান। সেই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা মাকে মা বলে ডাকতে পারি, স্বাধীনতা অর্জন করি। এ বছর ২১ বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে একুশে পদক দেয়া হয়। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে একুশে পদক তুলে দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।
একুশে পদক নিলেন ২১ বিশিষ্ট নাগরিক
২০,ফেব্রুয়ারী,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২১ সালের একুশে পদক পেয়েছেন ২১ বিশিষ্ট নাগরিক। শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ও সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বিশিষ্ট নাগরিকদের হাতে একুশে পদক তুলে দেন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মন্ত্রী পরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। এবছর একুশে পদক পেলেন যারা- ১. ভাষা আন্দোলনে অবদান রাখার জন্য মরণোত্তর একুশে পদক সম্মাননা পেয়েছেন মোতাহার হোসেন তালুকদার (মোতাহার মাস্টার)। ২. ভাষা আন্দোলনে অবদান রাখার জন্য মরণোত্তর একুশে পদক পেয়েছেন শামছুল হক। ৩. ভাষা আন্দোলনে অবদান রাখার জন্য মরণোত্তর এ সম্মাননা পেয়েছেন আফসার উদ্দীন আহমেদ (অ্যাডভোকেট)। ৪. শিল্পকলায় (সংগীত) অবদান রাখার জন্য সম্মাননা পেয়েছেন বেগম পাপিয়া সারোয়ার। ৫. শিল্পকলায় (অভিনয়) অবদান রাখার জন্য সম্মাননা পেয়েছেন রাইসুল ইসলাম আসাদ।৬. শিল্পকলায় (অভিনয়) অবদান রাখার জন্য সম্মাননা পেয়েছেন সালমা বেগম সুজাতা (সুজাতা আজিম)। ৭. শিল্পকলায় (নাটক) অবদান রাখার জন্য সম্মাননা পেয়েছেন আহমেদ ইকবাল হায়দার। ৮. শিল্পকলায় (চলচ্চিত্র) অবদান রাখার জন্য সম্মাননা পেয়েছেন সৈয়দ সালাউদ্দীন জাকী। ৯. শিল্পকলায় (আবৃত্তি) অবদান রাখার জন্য সম্মাননা পেয়েছেন ড. ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়। ১০. শিল্পকলায় (আলোকচিত্র) অবদান রাখার জন্য সম্মাননা পেয়েছেন পাভেল রহমান। ১১. মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখার জন্য সম্মাননা পেয়েছেন গোলাম হাসনায়েন। ১২. মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখার জন্য সম্মাননা পেয়েছেন ফজলুর রহমান খান ফারুক। ১৩. মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখার জন্য মরণোত্তর সম্মাননা পেয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দা ইসাবেলা। ১৪. সাংবাদিকতায় অবদান রাখার জন্য সম্মাননা পেয়েছেন অজয় দাশগুপ্ত। ১৫. গবেষণায় অবদান রাখার জন্য সম্মাননা পেয়েছেন অধ্যাপক ড. সমীর কুমার সাহা। ১৬. শিক্ষায় অবদান রাখার জন্য সম্মাননা পেয়েছেন বেগম মাহফুজা খানম। ১৭.অর্থনীতিতে অবদান রাখার জন্য সম্মাননা পেয়েছেন ড. মির্জা আব্দুল জলিল। ১৮. সমাজসেবায় অবদান রাখার জন্য সম্মাননা পেয়েছেন প্রফেসর কাজী কামরুজ্জামান। ১৯. ভাষা ও সাহিত্যে অবদান রাখার জন্য সম্মাননা পেয়েছেন কবি কাজী রোজী। ২০. ভাষা ও সাহিত্যে অবদান রাখার জন্য সম্মাননা পেয়েছেন বুলবুল চৌধুরী।২১. ভাষা ও সাহিত্যে অবদান রাখার জন্য সম্মাননা পেয়েছেন গোলাম মুরশিদ।
ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই রোপিত হয়েছিল স্বাধীনতার বীজ
১৯,ফেব্রুয়ারী,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, মহান ভাষা আন্দোলন আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ রোপিত হয়েছিল। আমি সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যিনি ১৯৪৮ সালে মাতৃভাষার দাবিতে গঠিত সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ এর নেতৃত্ব দেন। আমি ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মহান ভাষা আন্দোলনসহ আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের দীর্ঘ সংগ্রামে অমর শহীদদের স্মৃতির প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) একুশে পদক ২০২১ প্রদান উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিল্প, সমাজ, গণমাধ্যম প্রভৃতি ক্ষেত্রে নিবেদিতপ্রাণ যেসব খ্যাতিমান বিশিষ্ট নাগরিক একুশে পদক ২০২১ পেয়েছেন তাদের আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। তিনি বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ভাষা শহীদদের গৌরবদীপ্ত আত্মত্যাগের স্মৃতিবাহী দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশের ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমসহ বিভিন্নক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা বিশিষ্ট নাগরিকদের প্রতিবছর একুশে পদক প্রদান করে আসছে। সম্মাননাপ্রাপ্ত গুণীজনরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাদের সম্মানিত করার মধ্য দিয়ে দেশে মেধা ও মনন চর্চার ক্ষেত্র আরো সম্প্রসারিত হবে বলে আমি মনে করি। তিনি বলেন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে এ দেশের ছাত্র ও তরুণসমাজ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। এক্ষেত্রে তারা দিকনির্দেশনা পেয়েছেন সমাজের বুদ্ধিজীবি ও মুক্তমনা অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকে। এ বছর যারা একুশে পদক পেলেন, তারাও সেই চেতনা বর্তমান তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছেন। আমি তাদের সৃষ্টিশীল অবদানের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা নিবেদন করি। আগামীতে এসব আলোকিত গুণীজন নিজ-নিজ কর্মক্ষেত্রে আরো উৎকর্ষের স্বাক্ষর রাখবেন এ প্রত্যাশা করি।
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের টাকার অভাব নেই: পরিকল্পনামন্ত্রী
১৯,ফেব্রুয়ারী,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের টাকার কোনো অভাব নেই। আমরা টাকা বরাদ্দ দেব সংশ্লিষ্টদের ভালো কাজ করতে হবে। টাকা ও সময়ের অপচয় রোধ করতে হবে। জনগণের উপকার হয় এ সব স্হানে টাকা ব্যয় করতে হবে। শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় সিলেট বিভাগের সবচেয়ে দীর্ঘ সেতু রানীগঞ্জ সেতুর নির্মাণকাজ পরিদর্শন শেষ এ কথা বলেন তিনি। করোনা পরিস্থিতির কারণে সেতুর নির্মাণকাজ পিছিয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনা পরিস্থিতি দেশের উন্নয়নকে পিছিয়ে দিয়েছিল আমরা এখন ঘুরে দাঁড়িয়েছি। ডিসেম্বর মাসের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ করে সুনামগঞ্জের সঙ্গে স্বল্প সময়ে রাজধানীর সড়ক যোগাযোগ স্হাপন করা হবে। একটি মহল দেশের সার্বিক উন্নয়নকে পছন্দ না করে উন্নয়ন নিয়ে নানা বিভ্রান্তি ছড়ায়, তাদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে। এ সময় সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম, জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আকমল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম উপস্থিত ছিলেন। জানা যায়, বিগত কয়েক বছর আগে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে পাগলা-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের কুশিয়ারা নদীর ওপর ৭০২.৩২ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০.২৫ মিটার প্রস্থ সেতুর কাজ শুরু হয়। ২০১৮ সালের ৩০ জুন সেতুর কাজ শেষ করার কথা থাকলেও এখনো সেতুর কাজ শেষ হয়নি। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরে মন্ত্রী জগন্নাথপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর