পদ্মা সেতুতে খরচ হচ্ছে না ২৯০১ কোটি, সফলতা মেট্রোরেলে
১২,ফেব্রুয়ারী,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পরিকল্পনা কমিশনে চাহিদাপত্র অনুযায়ী সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) পদ্মা বহুমূখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পে মাত্র ২ হাজার ৯৯ কোটি টাকা চেয়েছে সেতু বিভাগ, যেখানে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ ছিল ৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে পদ্মা সেতু প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার ৯০১ কোটি টাকা খরচই হচ্ছে না। পদ্মাসেতু ও মেট্রোরেলসহ মেগা প্রকল্পকে গুরুত্ব দিয়ে ২০২০-২১ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ রাখা হয় ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা। উন্নয়ন বাজেটে পদ্মাসেতু প্রকল্পে ৫ হাজার এবং চলমান মেট্রোরেল প্রকল্পে ৫ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। করোনা সঙ্কট কেটে সবকিছু স্বভাবিক অবস্থায় আসবে, এই আশা নিয়েই এডিপি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু করোনা মহামারি দীর্ঘদিন থাকায় পদ্মা সেতু প্রকল্পে খরচ হচ্ছে না ২ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। বরাদ্দ কমছে কর্ণফুলি টানেল প্রকল্পেও। তবে এডিপির অর্থ খরচে সফলতা দেখিয়েছে মেট্রোরেল প্রকল্প। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানায়, বর্তমানে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে পরিকল্পনা কমিশন। চলতি বছরের মার্চের শেষের দিকে চূড়ান্ত হবে আরএডিপি। অনেক মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের বাস্তবায়িত প্রকল্পে চাহিদার কথা পরিকল্পনা কমিশনে জানিয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারও চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বড় ধরনের কাটছাঁট হবে। মূলত বাস্তবায়ন না হওয়ায় এই কাটছাঁটে যাচ্ছে সরকার। তবে বাস্তবায়ন পরিস্থিতি সন্তোষজনক না হলেও নতুন প্রকল্প সংশোধিত এডিপিতে ঢুকিয়ে দেওয়ার পুরনো প্রয়াস আবারও দেখা গেছে। আর রাজনৈতিক চাপেই সংশোধিত এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রস্তাবনা পরিকল্পনা কমিশনে জমা পড়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও কৃষিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য খাতে আসতে পারে একগুচ্ছ নতুন প্রকল্প। এদিকে সংশোধিত এডিপিতে আট হাজার কোটি টাকা কাটছাঁট করছে সরকার। পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগ সংশোধিত এডিপি নিয়ে মূলত ব্যস্ত সময় পার করছে। পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগের যুগ্ম প্রধান (কৃষি, শিল্প ও সমন্বয় উইং) মো. ছায়েদুজ্জামান বলেন, অনেক আগে থেকেই আমরা আরএডিপি নিয়ে কাজ করছি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের চাহিদার কথা আমাদের কাছে উল্লেখ করছে। অনেক প্রকল্পে বরাদ্দ বেশি চাওয়া হচ্ছে আবার করোনার কারণে কিছু প্রকল্পে টাকা খরচ হচ্ছে না। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ব্যয় বৃদ্ধি ছাড়াই আবারও পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২১ সালের জুন মাসে। প্রস্তাব অনুযায়ী সময় বাড়ানো হলে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৩ সালের ৩০ জুন। এ পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে ৮৩ শতাংশ। প্রকল্পের ব্যয় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। বঙ্গবন্ধু টানেল: দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দ্বার চট্টগ্রাম বন্দরের লাইফলাইন খ্যাত কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু টানেলের দ্বিতীয় টিউবের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় এডিপি বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। তবে সংশোধিত এডিপিতে কমে দাঁড়াচ্ছে ১ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা। ফলে চলতি অর্থবছরে খরচ হচ্ছে না ১২৫ কোটি টাকা। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৬২ শতাংশ। পদ্মাসেতু রেল লিংক ও বঙ্গবন্ধু রেল সেতু প্রকল্পেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল নতুন এডিপিতে। এ খাতে রয়েছে সড়ক পরিবহন, সেতু বিভাগ এবং রেলপথ, নৌ, বেসামরিক বিমান পরিবহন। পদ্মা সেতু ও রেলসংযোগ, মেট্রোরেলসহ মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। মেট্রোরেল-৬ প্রকল্পের অগ্রগতি ভালো ছিল। তবে কোভিড-১৯ প্রকল্পের গতিরোধ করেছে। এরপর সব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন বর্ষ ২০২১ সালের বিজয় দিবসে বাংলাদেশের প্রথম উড়াল মেট্রোরেলের সম্পূর্ণ অংশ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এজন্য নতুন অর্থবছরে ৫ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। সংশোধিত এডিপিতেও খরচে সফলতা দেখিয়েছে প্রকল্পটি। আরএডিপিতে ৫ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা খরচ করতে পারবে বলে পরিকল্পনা কমিশনকে অবহিত করেছে মেট্রোরেল প্রকল্পের রাষ্ট্রায়ত্ত বাস্তবায়ন প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন বর্ষ ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মেট্রোরেল প্রকল্পের উদ্বোধন করা হবে। ঢাকার যানজট নিরসন ও নগরবাসীর যাতায়াত আরামদায়ক, দ্রুততর ও নির্বিঘ্ন করতে ২০১২ সালে গৃহীত হয় মেট্রোরেল প্রকল্প। ২৪ সেট ট্রেন চলাচল করবে। প্রত্যেকটি ট্রেনে থাকবে ৬টি করে কার। যাত্রী নিয়ে ঘণ্টায় ১শ কিলোমিটার বেগে ছুটবে এ ট্রেন। উভয়দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী বহনে সক্ষমতা থাকবে মেট্রোরেলের। প্রকল্পের মোট ব্যয় ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকার মধ্যে প্রকল্প সাহায্য হিসেবে ১৬ হাজার ৫৯৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ঋণ দিচ্ছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)। মেট্রোরেল প্রকল্পের সার্বিক গড় অগ্রগতি ৫৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ। সূত্র: বাংলা নিউজ
হাইকোর্ট নির্দেশ দিলে আল জাজিরার সম্প্রচার বন্ধ হবে : তথ্যমন্ত্রী
১২,ফেব্রুয়ারী,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আমরা গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। তবে হাইকোর্ট যদি আল জাজিরা বন্ধে নির্দেশ দেয়, তবে আদালতের নির্দেশনা আমাদের মানতে হবে। সেক্ষেত্রে আল জাজিরার সম্প্রচার বন্ধ করা হবে। শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তথ্যমন্ত্রী চট্টগ্রাম নগরের বাসায় সমসাময়িক বিষয় নিয়ে ব্রিফিং করেন। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল- হাইকোর্ট তথ্য মন্ত্রণালয়কে আল জাজিরার প্রতিবেদন ইউটিউব এবং ফেসবুকসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে বাদ দেয়ার জন্য বলেছিলেন, কিন্তু আপনারা এটি বাদ দিচ্ছেন না কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমরা চাইলে আল জাজিরার সম্প্রচার আমাদের দেশে বন্ধ করতে পারতাম। অনেক দেশে বন্ধ করা হয়েছে এবং বন্ধ রয়েছে। এমনকি ভারতেও কিছুদিনের জন্য বন্ধ ছিল। এখনও ৬-৭টি দেশে আলজাজিরার সম্প্রচার বন্ধ আছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার যেহেতু গণমাধ্যমের অবাধ স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে, এজন্য আমরা সেই উদ্যোগ (বন্ধের সিদ্ধান্ত) নেইনি। তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাধীনতার যেমন দরকার, দায়িত্বশীলতারও প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতা মানে এই নয় যে ভুল, মিথ্যা, পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অপরের স্বাধীনতা হরণ করে এমন সংবাদ পরিবেশন করা হবে। এটা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। আল জাজিরার রিপোর্ট একটি মিথ্যা বানোয়াট। কিছু কাট-পেস্ট করে রিপোর্টটি প্রকাশ করা হয়েছে। এটি ব্যক্তিগত আক্রোশের বশঃবর্তী হয়ে রিপোর্টটি প্রকাশ করা হয়েছে। বিএনপি নেতাদের টিকাগ্রহণ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেতারা করোনা টিকা নিয়ে অনেক অপপ্রচার চালিয়েছেন। তারা প্রথমে বলেছে- সরকার টিকা সময়মতো আনতে পারবে না। যখন সময়মতো টিকা চলে এলো, তখন বললেন- এটি নিলে কোনো কাজ হবে না। এই টিকা দিয়ে বিএনপি নেতাদের মেরে ফেলতে চাচ্ছেন। এ ধরণের কথাও বলেছেন তারা। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, নানা ধরণের প্রশ্ন তুলে, দায়িত্বহীন অনেক কথা বলে শেষ পর্যন্ত বিএনপির অনেক নেতা করোনা টিকা নিয়েছেন এবং নেয়ার পক্ষে কথাও বলেছেন। সেজন্য তাদেরকে সাধুবাদ জানাই। কথায় আছে না- গাধা জল ঘোলা করে খায়। টিকা নেয়ার ক্ষেত্রে বিএনপির ভূমিকাও সে রকমই। তিনি বলেন, আমরা চাই- তারা (বিএনপি নেতারা) টিকা নিয়ে সুস্থ ও সবল থাকুক। তারা বিরোধী দল, বিরোধীতার ভূমিকায় তারা আছেন। আজীবন আমাদের বিরোধীতা করুক। জিয়াউর রহমানের খেতাব প্রত্যাহার প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় জিয়াউর রহমানের ভূমিকা আসলে কি ছিল সেটি নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে। মুক্তিযোদ্ধার ছদ্মাবরণে তিনি প্রকৃতপক্ষে পাকিস্তানের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছিলেন। তার খেতাব বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তো হয়নি এখনও। এটা নিয়ে জামুকাতে আলোচনা হয়েছে মাত্র। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি তো বিরোধী দল, তারা বিক্ষোভ করতেই পারে। কিন্তু চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনসহ অন্যান্য যে সমস্ত ইস্যুতে তারা বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দিয়েছেন, তা হাস্যকর। হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ কিংবা পার্শ্ববর্তী দেশে যে ধরণের স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়, সেই নিরিখে চট্টগ্রাম সিটিতে একটা ভাল নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও কার্যত মাঠে ছিল না। ভোটের দিন তাদের কাউকে দেখা যায়নি। তথ্যমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মতো একটা গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে বিএনপির মহাসচিব কি চট্টগ্রাম এসেছিলেন? তিনি কি নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছিলেন? একটা মিটিং করেছেন? অথচ তাদেরতো প্রচারণা চালাতে কোনো অসুবিধা ছিল না। হাছান মাহমুদ বলেন, নির্বাচন কমিশনের নানা বাধ্যবাধকতার কারণে আমাদের দলের এমপি এবং মন্ত্রীদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা ছিল। মির্জা ফখরুল সাহেবসহ তাদের দলের নোতারা যারা প্রতিদিন নয়াপল্টনে কথা বলেন, তাদেরতো কোনো সমস্যা ছিল না। তারা কিন্তু আসেনি। অর্থাৎ তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে, কিন্তু মাঠে ছিল না, এটি তাদের ব্যর্থতা এবং দলীয় দুর্বলতা। এ কারণেই চট্টগ্রাম সিটিতে তারা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ১৯৯৪ সালে আমাদের প্রয়াত নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। তখন থেকেই বিএনপির পরাজয় শুরু। মাঝখানে একবার আওয়ামী লীগ থেকে মঞ্জুরুল আলম মঞ্জুকে হায়ার করে নিয়ে গিয়ে তারা জয় লাভ করেছিল। তারা কখনই এই শহরে জয়লাভ করেনি, বরাবরই আওয়ামী লীগই জয়লাভ করেছে। কারণ এটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। সুতরাং এ নিয়ে বিক্ষোভ করে কোনো লাভ নেই।
ডিএমপির যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার ২ কর্মকর্তার পদায়ন
১২,ফেব্রুয়ারী,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার দুজন কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ পদায়ন করা হয়। ডিএমপির যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার শামীমা বেগমকে যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার (ট্রান্সপোর্ট) এবং ডিএমপির যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার (ট্রান্সপোর্ট) অতিরিক্ত দায়িত্বে যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস) মঈনুল হককে যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
দেশের সব আন্দোলন-সংগ্রামে আনসার-ভিডিপি অংশ নিয়েছে
১১,ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের সব আন্দোলন-সংগ্রামে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) অংশ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় টাঙ্গাইলের সফিপুরে আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে আয়োজিত আনসার-ভিডিপির ৪১তম জাতীয় সম্মেলনে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ১৯৭১ এর ৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন সবাইকে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান, তখন আনসার-ভিডিপির সদস্যরাও মুক্তির সে সংগ্রামে অংশ নেন। শুধু তা-ই নয়, তারা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্রও দেন। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী 'মুজিববর্ষের উদ্দীপন, আনসার-ভিডিপি আছে সারাক্ষণ' এ স্লোগানটিকে মূলমন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করে বাল্যবিয়ে বন্ধ ও মাদক নির্মূলসহ বিভিন্ন কাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০১৪ সালে নির্বাচন ঠেকানোর নামে বিএনপি-জামায়াত যখন আগুন সন্ত্রাস চালিয়ে মানুষ হত্যা করেছিল, রেললাইন তুলে মানুষ হত্যার চেষ্টা করেছিল, সে পরিস্থিতি মোকাবিলায় আনসার-ভিডিপি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। তারা তখন সফলভাবে এ অগ্নিসন্ত্রাস মোকাবিলা করেন। আনসার-ভিডিপি সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা করোনা ভাইরাস মোকাবিলা করছি। প্রতিটি মানুষ যেন করোনা ভ্যাকসিন নেন, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। অনেকে ভয় পান, সুঁই ফোটাতেও ভয় পান, সে ক্ষেত্রে আপনারা গ্রামের মানুষকে উদ্বুদ্ধ করবেন। আমরা চাই, সবাই টিকা নিক, সুরক্ষিত থাকুক। দেশের মানুষ যাতে এ মহামারি থেকে মুক্তি পায়, সেজন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
চসিক মেয়রসহ কাউন্সিলররা শপথ নিলেন
১১,ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শপথ নিলেন চসিক মেয়রসহ কাউন্সিলররা শপথ নেন চসিক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের ভার্চুয়াল শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় গণভবন থেকে ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চসিকের নতুন মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীকে ভার্চুয়ালি শপথ পাঠ করান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে শপথ নেন সংরক্ষিত আসনের ১৪ জন এবং সাধারণ আসনের ৪০ জন কাউন্সিলর। তাদের শপথ পাঠ করান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের আয়োজনে এ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এরপর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন চসিক মেয়র।
মানবতাবিরোধী অপরাধ : ৩ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড, ৫ জনের ২০ বছর করে
১১,ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,নিউজ ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত হত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ, আটক, নির্যাতনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের ৯ আসামির মধ্যে ৩ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড, ৫ জনের ২০ বছর করে কারাদণ্ড ও আব্দুল লতিফ নামের একজনকে খালাস দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১২টার দিকে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান মো. বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন। সদস্য বিচারপতিরা হলেন- বিচারপতি আমির হোসেন ও বিচারপতি আবু আহমেদ জমাদার। রায়ে মো. সামসুজ্জামান ওরফে আবুল কালাম, এ এফ এম ফয়জুল্লাহ (পলাতক), আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডলকে (পলাতক) আমৃত্যু দণ্ড দেয়া হয়েছে। ২০ বছর করে সাজা দেয়া হয় মো. খলিলুর রহমান, মো. আব্দুল্লাহ, মো. রইছ উদ্দিন আজাদী ওরফে আক্কেল আলী, আলিম উদ্দিন খান (পলাতক) ও সিরাজুল ইসলাম তোতাকে। আব্দুল লতিফকে খালাস দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী প্রসিকিউটর মো. মোখলেসুর রহমান বাদল বলেন, এটিই প্রথম মামলা যেখানে একজন আসামিকে খালাস দিলেন ট্রাইব্যুনাল। আর এটিই প্রথম মামলা যেটিতে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়নি। আসামিদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় চারজনকে হত্যা ও ৯ জনকে আটক এবং নির্যাতনের চারটি অভিযোগ রয়েছে। ২০১৮ সালের ১৩ মার্চ তাদের বিচার শুরু হয়। বিচারকাজ শেষ হয় গতবছরের ২৬ জানুয়ারি। আসামিদের মধ্যে চারজন পলাতক ছিলেন। আজ পাঁচজনকে হাজির করা হয় ট্রাইব্যুনালে। তবে রায়ের দিন সকালে পলাতক এক আসামি আলিমুদ্দিন খান ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রায় ঘোষণার পর সে আসল আসামি কিনা যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। ২০১৪ সালের ১৬ অক্টোবর মামলার তদন্ত শুরু হয়ে ২০১৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি শেষ হলে ২০ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউনে জমা হয়। তদন্তে ৬০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হলেও ২৯ জনকে সাক্ষী করা হয়েছিল। এছাড়া জব্দ তালিকার সাক্ষী ছিলেন আরও দুজন। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ (আইও) মোট ১৮ জন সাক্ষী দেন আদালতে। অভিযোগ গঠনের পর ২০১৮ সালের ১০ মে থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শুরু হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ (আইও) মোট ১৮ জন সাক্ষী তাদের জবানবন্দি পেশ ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর যুক্তিতর্কের সমাপ্তির মধ্য দিয়ে ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্যে সিএভি অপেক্ষমাণ রাখেন।
বাংলাদেশ পুলিশে যুক্ত হচ্ছে দুটি অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার
১১,ফেব্রুয়ারী,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জননিরাপত্তা বিধানে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা আরও বাড়াতে বাংলাদেশ পুলিশে যুক্ত হচ্ছে দুটি অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার। হেলিকপ্টার দুটি গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট (জি টু জি) পদ্ধতিতে রাশিয়া থেকে কেনার জন্য বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের শাপলা কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশ পুলিশ এবং হেলিকপ্টার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জেএসসি রাশিয়ান হেলিকপ্টারর্সের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ এবং জেএসসি রাশিয়ান হেলিকপ্টারর্সের মহাপরিচালক আন্দ্রে আই. ভোগেনিস্কি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে সই করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন। অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশস্থ রাশিয়ান দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডিআইজি (লজিস্টিকস) তওফিক মাহবুব চৌধুরী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এবং রাশিয়া পরস্পর পরীক্ষিত বন্ধু ও বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম বাংলাদেশের সঙ্গে রাশিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে রূপপুর আণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, পুরাতন বিদ্যুৎকেন্দ্র সংস্কার, সেনাবাহিনী এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে রাশিয়া বিশেষভাবে সহযোগিতা করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ পুলিশে অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার সংযোজনের ফলে দেশে জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা বিধানের ক্ষেত্রে পুলিশের সক্ষমতা আরও বাড়বে, যা বাংলাদেশকে নিরাপদ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অনন্য মাত্রা যোগ করবে। সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দিন বলেন, দেশের জনগণের নিরাপত্তা বিধানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রথমবারের মতো পুলিশে দুটি হেলিকপ্টার সংযোজনের ফলে জনগণের নিরাপত্তা বিধানের ক্ষেত্রে আরও গতিশীলতা আসবে। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ পুলিশে হেলিকপ্টার সংযোজনের মধ্য দিয়ে পুলিশের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত এয়ার উইং চালুর স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। এর ফলে জরুরি অপারেশন পরিচালনায় পুলিশ সদস্যদের পরিবহন, খাদ্য ও ওষুধ সামগ্রী সরবরাহ এবং দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় পুলিশি কার্যক্রম সম্পাদনে পুলিশের সক্ষমতা আরও বাড়বে। তিনি বাংলাদেশ পুলিশে হেলিকপ্টার সংযোজনে অনুমোদন দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান। জেএসসি রাশিয়ান হেলিকপ্টারর্সের মহাপরিচালক আন্দ্রে আই. ভোগেনিস্কি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে রাশিয়ার সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পারষ্পারিক সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশকে হেলিকপ্টার সরবরাহের মাধ্যমে এ সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অর্থ-সম্পদলোভীরা টিকে থাকতে পারেনি: প্রধানমন্ত্রী
১০,ফেব্রুয়ারী,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: যুবলীগ নেতাদের সতর্ক করে দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করলে টিকে থাকা যায়। অর্থলোভে রাজনীতি করলে টিকে থাকা যায় না। বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ মিলনায়তনে যুবলীগের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। ১১ নভেম্বর যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হলেও মহামারির কারণে পিছিয়ে আজ এ আয়োজন করা হয়। প্রসঙ্গত, নানা বিতর্ক ছাপিয়ে ও শুদ্ধি অভিযানের পর যুবলীগের সপ্তম কংগ্রেসে নেতৃত্বে আসেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতার জ্যেষ্ঠ সন্তান শেখ ফজলে শামস পরশ ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মাইনুল হাসান খান নিখিল। তাদের নেতৃত্বে এটিই প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, যা আজ পালন করছে যুবলীগ। যুবলীগের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, শুধু বক্তৃতা-স্লোগান নয়, মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করতে হবে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে একজন মানুষও ক্ষুধার্ত থাকবে না। দারিদ্র্য থাকবে না। যেটা ছিল জাতির পিতার স্বপ্ন। সরকারের উন্নয়নের বিবরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ২১ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল, এরশাদ, জিয়া ও খালেদা জিয়া। প্রত্যেকে নিজেদের ভাগ্য নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। মানুষের জন্য কিছু করেননি। আওয়ামী লীগই মানুষের জন্য কাজ করেছে, করছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ ১০০ বছরেও ক্ষমতায় আসতে পারবে না। আমি নাকি বিরোধী দলের নেতাও হতে পারব না। এখন আমরা ক্ষমতায় আছি বলে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারছি। এ জন্য আমরা মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ। তাদের জন্যই কাজ করে যাচ্ছি। যুবকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি সময় অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে যুবলীগ। দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। দুর্যোগ আসবে, যাবে। নিজেদের শক্ত থাকতে হবে। মানুষের পাশে থাকতে হবে। মানুষকেও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। করোনায় আমাদের জনগণ ঐক্যবদ্ধ ছিল। তিনি বলেন, করোনায় যুবলীগ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। তারা খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, চিকিৎসা সহায়তা, অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে রোগীবহন, লাশ দাফন, কৃষকের ধানকাটা ও সবজি বাজারজাতকরণে সহায়তা এভং এই শীতে কম্বল বিতরণ করেছে। এ জন্য আমি তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আওয়ামী লীগ সভাপতি আরও বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কেউ গৃহহীন থাকবে না। এ জন্য আট লাখ মানুষকে ঘর করে দিচ্ছি। পরিকল্পনা করে এগিয়ে যাচ্ছি। সে অনুযায়ী কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণ সমাজের ব্যবসায় ও বিনিয়োগের ব্যবস্থা রেখেছি। সহজে তারা ঋণ নিতে পারে। তরুণদের ট্রেনিং দিলেই ভালো করবে। আমরা তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বনির্ভর করার চেষ্টা করছি। কারণ আমরা মনে করি, তারুণ্যই শক্তি। তিনি বলেন, অপপ্রচারে মনোযোগ দেয়া যাবে না। এত কিছু শুনলে সামনে এগোনো যায় না। যখন করোনার ভ্যাকসিন আসছে। নানাজন নানা কথা বলেছে, আমরা কিন্তু কোনো দিকে তাকাইনি। অ্যাডভান্স করে দিছি। যাতে অনুমোদন হলে আমরাই প্রথমে টিকা পাই। পেয়েছিও। ৪০ বছরের ওপর বয়সী ও মানুষের জন্য সবসময় কাজ করে এমন লোকদের আগে দিচ্ছি। যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান খান নিখিলের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন যুবলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ হুমায়ুন, যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ প্রমুখ।
প্রকাশক দীপন হত্যা : ৮ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড
১০,ফেব্রুয়ারী,বুধবার,নিউজ ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যা মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) আট সদস্যর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মুজিবুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মইনুল হাসান শামীম (২৪); সাংগঠনিক নাম সিফাত ওরফে সামির ওরফে ইমরান, মো. আ. সবুর (২৩); সাংগঠনিক নাম আ. সামাদ ওরফে সুজন ওরফে রাজু ওরফে সাধ, খাইরুল ইসলাম (২৪); সাংগঠনিক নাম জামিল ওরফে রিফাত ওরফে ফাহিম ওরফে জিসান, মো. আবু সিদ্দিক সোহেল (৩৪); সাংগঠনিক নাম সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব, মো. মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন (২৫); সাংগঠনিক নাম শাহরিয়ার, মো. শেখ আব্দুল্লাহ (২৭); সাংগঠনিক নাম জুবায়ের ওরফে জায়েদ ওরফে জাবেদ ওরফে আবু ওমায়ের, সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক (৫০); সাংগঠনিক নাম সাগর ওরফে ইশতিয়াক ওরফে বড় ভাই এবং আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব (২৮); সাংগঠনিক নাম আবির ওরফে আদনান ওরফে আব্দুল্লাহ। আজ সকালে বিশেষ ব্যবস্থায় এ মামলায় উপরোক্ত আট আসামির মধ্যে প্রথম ছয়জনকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হয়। মামলার শুরু থেকেই বাকি দুই আসামি পলাতক রয়েছেন। এর আগে ২৪ জানুয়ারি সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মুজিবুর রহমান রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য আজ দিন ধার্য করেছিলেন। ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর রাজধানীর শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেটের নিজ অফিসে খুন হন ফয়সাল আরেফিন দীপন। সেদিন বিকেলে তার স্ত্রী শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি ঢাকা দক্ষিণের সহকারী পুলিশ কমিশনার ফজলুর রহমান। চার্জশিটে আটজনকে অভিযুক্ত ও ১১ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুজিবুর রহমান আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হকসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।