ট্রাম্প ইস্যুতে পশ্চিমা দূতাবাসগুলোকে কড়া বার্তা জয়ের
০৯,জানুয়ারী,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বাকস্বাধীনতা নিয়ে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দূতাবাসগুলোর কাছ থেকে ভণ্ডামিপূর্ণ বক্তব্য দেখতে চান না বলে মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। মিথ্যাচার ও বিপজ্জনক পোস্টে বিভ্রান্ত ছড়ানোর অভিযোগে ট্রাম্পের টুইটার ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট বাতিলের ইস্যুতে এমন কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, আমি চাই ঢাকায় অবস্থিত মার্কিনসহ পশ্চিমা দূতাবাসগুলো আমার এই মেসেজ আমলে নেবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধে প্রতিষ্ঠানগুলোর পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের বাকস্বাধীনতার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা বলেও উল্লেখ করেন জয়। নিজের ফেসবুক ভেরিফায়েড অ্যাকউন্টে শনিবার (৯ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে জানান, যারা আমাদের ডিজিটাল সুরক্ষা আইন সম্পর্কে অভিযোগ করে আসছে, বিষয়টি তাদেরও খেয়াল করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের সরকার প্রাইভেট কোম্পানিকে আদেশ জারির ক্ষমতা দেয়। বাংলাদেশে আমরা মনে করি এই সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত আদালতের, প্রাইভেট কোম্পানির নয়। তিনি আরো বলেন, প্রত্যেকেরই স্বাধীন মতপ্রকাশের অধিকার আছে। কিন্তু সেই স্বাধীনতা তখনই শেষ হয়ে যায়, যখন মিথ্যা প্রচার করে অন্যদের কষ্ট দেয়। কাউকে কষ্ট দেওয়ার অধিকার কারো নেই। গত বুধবার (৬ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে সমর্থকদের হামলার জেরে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের টুইটার, ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করে দেওয়া হয়। এর একদিন পর টুইটার অ্যাকাউন্ট পুনরায় চালু হলেও অ্যাকাউন্টটি পুরোপুরি বাতিল করা হয়। বাংলাদেশের নতুন আইন অনুযায়ী ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত বা প্রচারিত কোনো তথ্য-উপাত্ত দেশের সংহতি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ বা জনশৃঙ্খলা ক্ষুণ্ণ করলে বা জাতিগত বিদ্বেষ ও ঘৃণা সৃষ্টি করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা ব্লক বা অপসারণের জন্য টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিকে অনুরোধ করতে পারবে। এর পরই অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
আমরা সংবাদপত্রে খবর হতে চাই না : আইজিপি
০৮,জানুয়ারী,শুক্রবার,আহমেদ হোসেন ভূইয়া,ঢাকা,নিউজ একাত্তর ডট কম: সাংবাদিকদের কাছে আমরা গঠনমূলক সমালোচনা চাই ক্রিয়েটিভ রিপোর্ট চাই না, বস্তুনিষ্ঠ ফ্যাক্ট নির্ভর রিপোর্ট চাই। রিপোর্টে আমরা কোন সাহিত্য রচনা প্রত্যাশা করি না। ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি), বাংলাদেশ ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার) শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২০ এ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন। ক্র্যাব সভাপতি আবুল খায়েরের সভাপতিত্বে রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ ক্র্যাব চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- Rab মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বিকু। সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যগণ এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের- ওপেনিয়ন বিল্ডার আখ্যায়িত করে আইজিপি বলেন, সাংবাদিকদের ওপর সমাজের গতি প্রকৃতি নির্ভর করে। সাংবাদিকদের একটি রিপোর্ট মুহূর্তের মধ্যে মানুষের মনে গভীরভাবে রেখাপাত করতে পারে। সেজন্য আপনাদের কলমের ক্ষমতা মাথায় রাখতে হবে। সাংবাদিক এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য অর্থাৎ ল এনফোর্সমেন্ট প্র্যাকটিশনাররা একই প্ল্যাটফর্মে কাজ করে। আপনারা আমাদের গঠনমূলক সমালোচনা করবেন। আইজিপি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে সুসংহত করার জন্য বিগত দিনে যে আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে সেখানে রাজনীতিবিদ ও দেশের আপামর জনগণের সাথে সাংবাদিকরাও সমানতালে কাজ করেছেন। আমাদের স্বাধীনতা পূর্ব এবং স্বাধীনতা উত্তরকালে সাংবাদিকরা তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। আইজিপি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর 'রূপকল্প- ২০৪১' বাস্তবায়নের আর ২১ বছর বাকি রয়েছে। আমরা ২০৪১ সালে উন্নত দেশে পরিণত হবো। উন্নত দেশের উপযোগী পুলিশ গড়তে আমরা কাজ শুরু করেছি। আমরা পুলিশকে দুর্নীতিমুক্ত, মাদকমুক্ত করতে চাই। 'পুলিশ ব্রুটালিটি' নিয়ে আমরা সংবাদপত্রে খবর হতে চাই না। তিনি বলেন, আমরা ভালো কাজে আপনাদের উৎসাহ চাই, সহযোগিতা চাই। কোন পুলিশ সদস্য খারাপ কাজ করলে বস্তুনিষ্ঠ ফ্যাক্ট তুলে ধরুন। ওই সদস্যকে আমরা কোন ছাড় দিব না। আগামীতে দেশের প্রয়োজনে, রাষ্ট্রের প্রয়োজনে, গণমানুষের প্রয়োজনে, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সুবর্ণ সময় রেখে যাওয়ার লক্ষ্যে পুলিশ এবং সাংবাদিক হাতে হাত ধরে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আইজিপি। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় ভিন্ন মত ও পথ থাকবে। কিন্তু জাতীয় অর্জন, রাষ্ট্র ও সমাজের ক্ষেত্রে ১৬ কোটি মানুষের ৩২ কোটি হাত একসাথে থাকতে হবে। Rab মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, পুলিশ এবং সাংবাদিকতা উভয় পেশাই ঝুঁকিপূর্ণ। সাংবাদিকরা ঝুঁকি নিয়ে করোনাকালে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে তথ্য দিয়ে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সাথে Rabর পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ পেশাগত সম্পর্ক আগামীতে আরও সুদৃঢ় হবে। সভাপতির বক্তব্যে ক্র্যাব সভাপতি আবুল খায়ের বলেন, পুলিশ মানবিকতার ঊর্ধ্বে উঠে করোনাকালে জনগণকে সেবা দিয়েছে। পুলিশের সাথে সাংবাদিকদের সৌহার্দ্যপূর্ণ পেশাগত সম্পর্ক রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।
অনেক দূর এগিয়েছি, যেতে হবে বহুদূর
০৮,জানুয়ারী,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: টানা তৃতীয় মেয়াদে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেয়া ভাষণে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা ২০২১ সালের আগেই উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছি। প্রত্যাশিত লক্ষ্যে পৌঁছতে আমরা পথ-নকশা তৈরি করেছি। আমরা আজ অনেক দূর এগিয়েছি সত্য, আমাদের আরও বহুদূর যেতে হবে। হতে পারে সে গন্তব্য পথ মসৃণ, হতে পারে বন্ধুর। বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল, রেডিওসহ গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব আজ চোখে পড়ার মতো: প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের যে মহাসড়ক বেয়ে দুর্বার গতিতে ধাবিত হচ্ছে তা যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত হতে না পারে, সেদিকে আপনাদের সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। উন্নয়নের পথে সব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে আমরা বদ্ধপরিকর। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর গত ১২ বছরে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে একটি আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। আর্থ-সামাজিক এবং অবকাঠামো খাতে বাংলাদেশের বিস্ময়কর উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। দ্য ইকোনমিস্ট-এর ২০২০ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী ৬৬টি উদীয়মান সবল অর্থনীতির দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান নবম এবং ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৪তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই বাংলাদেশকে একটি আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। তবে মাঝে ২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সে প্রচেষ্টায় ছেদ পড়েছিল। বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ আজ একটি সমীহের নাম। জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনসহ আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব আজ চোখে পড়ার মতো। তিনি বলেন, ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে উচ্চ মধ্যম-আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে হবে উচ্চ আয়ের সমৃদ্ধশালী-মর্যাদাশীল দেশ। আমরা ২০২১ সালের আগেই উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছি। প্রত্যাশিত লক্ষ্যে পৌঁছতে আমরা পথ-নকশা তৈরি করেছি। রূপকল্প ২০৪১-এর কৌশলগত দলিল হিসেবে দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-২০৪১ প্রণয়ন করা হয়েছে। আমরা আজ অনেক দূর এগিয়েছি সত্য, আমাদের আরও বহুদূর যেতে হবে। দুর্নীতিবাজ যে দলেরই হোক, ছাড় দেয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঙালি বীরের জাতি। পথ যত কঠিনই হোক, আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে। আমরা যদি পরিশ্রম করি, সততা-দেশপ্রেম নিয়ে দায়িত্ব পালন করি, তাহলে সফলকাম হবোই। প্রধানমন্ত্রী এ সময় সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ-মাদক এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার সরকারের অভিযান অব্যাহত রাখার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছি। দুর্নীতিবাজ যে দলেরই হোক আর যত শক্তিশালীই হোক, তাদের ছাড় দেয়া হচ্ছে না এবং হবে না। এ ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশন স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছে। আইনের শাসন সমুন্নত রেখে মানুষের নাগরিক এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে যা যা করা প্রয়োজন আমরা তা করবো। তিনি আরও বলেন, আমরা কঠোর হস্তে জঙ্গিবাদের উত্থানকে প্রতিহত করেছি। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ পারস্পরিক সহনশীলতা বজায় রেখে বসবাস করে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন। দ্রুত টিকা নিয়ে আসতে সব ধরনের চেষ্টা করছি: ভাষণের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের উন্নয়ন অভিযাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে এবং বৈশ্বিক মহামারির অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে জাতির সামনে হাজির হয়েছেন তিনি। সরকারপ্রধান বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে এক গভীর সঙ্কটের মধ্য দিয়ে আমাদের ২০২০ সাল অতিক্রম করতে হয়েছে। সেই সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান এবং উপর্যুপরি বন্যা আমাদের অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। আমরা সেসব ধকল দৃঢ়তার সঙ্গে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু করোনাভাইরাসজনিত সঙ্কট থেকে বিশ্ব এখনো মুক্ত হইনি। সরকার ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে বাংলাদেশে এখনো সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার অনেক কম। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনার টিকা দেয়া শুরু হওয়ায় যে আশার সঞ্চার হয়েছে, সে কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশেও আমরা দ্রুত টিকা নিয়ে আসার সব ধরনের চেষ্টা করছি। টিকা আসার পর পরই চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ সম্মুখসারীর যোদ্ধাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে করোনাভাইরাস বিষয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে জনগণের প্রতি তার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি করোনাকালে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সরকারি উদ্যোগ, দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের চিত্র, মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গেরও উল্লেখ করেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের তাদের দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, জনগণের সরকার হিসেবে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা আমাদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য বলেই আমি মনে করি। গত এক যুগে আমরা জনগণের জন্য কী করেছি, তা মূল্যায়নের ভার আপনাদের। আমার পরম সৌভাগ্য যে, আপনাদের সবার সঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালন করতে পারছি এবং মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছি। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং আদর্শকে ধারণ করে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্য-নিরক্ষরতামুক্ত একটি অসাম্প্রদায়িক কল্যাণকামী বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। শেখ হাসিনা টানা তৃতীয়বারের মতো এবং সব মিলিয়ে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি। এর আগে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তার দল আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে।
জাতির পিতার সমাধিতে বেসামরিক বিমান মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত সচিবের শ্রদ্ধা
০৭,জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত সচিব মোঃ মোকাম্মেল হোসেন। বৃহস্পতিবার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব জাতির পিতার সমাধি সৌধের বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর তিনি ফাতেহা পাঠ করে বঙ্গবন্ধু ও পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন। দোয়া শেষে মোঃ মোকাম্মেল হোসেন বঙ্গবন্ধু ভবনে রক্ষিত পরিদর্শন বইতে মন্তব্য করে স্বাক্ষর করেন। এ সময় তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা সহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। উল্লেখ্য, বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১০ম ব্যাচের সদস্য মোঃ মোকাম্মেল হোসেন গত ৫ জানুয়ারি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে যোগদান করেন।
ডিএমপির ২ অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারের পদায়ন
০৭,জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) পদমর্যাদার দুজন কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হয়েছে। বুধবার (৬ জানুয়ারি) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ পদায়ন করা হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদরদফতর ও প্রশাসন বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. সাইফুল ইসলামকে (ইন্টারনাল ওভারসাইট) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গোয়েন্দা-মিরপুর বিভাগে পদায়ন করা হয়েছে। একই আদেশে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদরদফতর ও প্রশাসন বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন) সৈয়দ রফিকুল ইসলামকে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (অতিরিক্ত দায়িত্বে) ইন্টারনাল ওভারসাইট হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
ভাস্কর্য নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির অবসান শিগগির : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
০৬,জানুয়ারী,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে যারা নোংরামি করছে তারা ভুল করছে। ভাস্কর্য নিয়ে এই ভুল বোঝাবুঝির অবসান শিগগিরই হবে। মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের এক আলোচনা সভায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ভাস্কর্য রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সবার, দেশের জনগণের এবং আমাদের সরকারের। আপনারা দেখেছেন, কারা এটা (ভাঙচুর) করেছে। আমরা সবগুলোকে অ্যারেস্ট করেছি। তিনি বলেন, শুধু বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নয়, কুষ্টিয়াতে বাঘা যতীনের ভাস্কর্যও ভাঙা হয়েছে। তাদেরও আমরা চিহ্নিত করেছি এবং তাদের নামে মামলা হয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, যাতে জন্ম-জন্মান্তরে, প্রজন্মের পর প্রজন্ম চিনতে পারে, জানতে পারে এই বাঘা যতীন কে ছিলেন কিংবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু তিনি যে শুধু বাংলাদেশের নেতা নন, সারা বিশ্বে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি তাকে যেন হৃদয়ে ধারণ করতে পারি, সেই কারণে ভাস্কর্য আমরা তৈরি বা স্থাপন করি। তিনি বলেন, এগুলো হলো ইতিহাসে সংস্কৃতির একটা অংশ। বাংলাদেশ যে শুধু বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য আছে, তা নয় আরো অনেক ভাস্কর্য রয়েছে। সারা পৃথিবীতে মুসলিম চিন্তাবিদ বা লিডারদের ভাস্কর্য অনেক জায়গায় রয়েছে। মুসলিম তারকাদের ভাস্কর্য রয়েছে। আমরা মনে করি, ভাস্কর্য কোনো পূজার জিনিস নয়। স্মৃতি ধরে রাখার জিনিস, হৃদয়ে ধারণ করার জিনিস। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা সবাইকে আহ্বান করব, আপনারা আইন হাতে তুলে নেবেন না। এই কাজটি যারা করছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরিয়ে দেবেন। আর এ দেশের জনগণ অনেক সংস্কৃতিমনা। কাজেই এ দেশের জনগণ কোনোদিন কোনো ভাস্কর্য ভাঙেনি। এগুলো ষড়যন্ত্র, এরা চিহ্নিত ষড়যন্ত্রকারী, তাদেরই একটা অপপ্রয়াস। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি, সহসভাপতি ও সংসদ সদস্য আসলামুল হক এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য আলহাজ হাবিব হাসান এমপি, সহসভাপতি মিজানুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এদেশের মানুষও কিন্তু মানুষ, কর্মকর্তাদের প্রধানমন্ত্রী
০৬,জানুয়ারী,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রবাসী কর্মীদের যথাযথ মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিবাসন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এদেশের মানুষও কিন্তু মানুষ, সেভাবে তাদের মর্যাদা দিতে হবে। বুধবার (৬ জানুয়ারি) বেলা সোয়া ১১টার দিকে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ২০২০ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানের গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি একটা অনুরোধ করবো, আমাদের এ শ্রমিক অভিবাসনের সঙ্গে যারা জড়িত, বিশেষ করে রিক্রুটিং এজেন্ট থেকে শুরু করে আমাদের মন্ত্রণালয়, তাদের প্রতি আমার অনুরোধ, এদেশের মানুষও কিন্তু মানুষ, সেভাবে তাদের মর্যাদা দিতে হবে। সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দিয়ে সরকার প্রধান বলেন, যারা বিদেশে যেতে চান, তাদের কর্মসংস্থান ঠিক মতো হচ্ছে কিনা, তাদের নিরাপত্তা ঠিক মতো হচ্ছে কিনা, বিশেষ করে মেয়েরা, যারা যান, তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে সবাইকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এক্ষেত্রে আমাদের প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কর্মরত যারা এবং বিদেশে কর্মী পাঠানোর যেসব সংগঠন আছে, তাদের আমি দায়িত্বশীলভাবে ভূমিকা পালন করার অনুরোধ করবো। কারণ, দায়িত্বটা আপনাদের ওপরই বর্তায়।
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কেনিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যশালায় নাটক
০৫,জানুয়ারী,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে বাঙালি-সুইডিশ কবি ও নাট্যকারের লেখা বঙ্গবন্ধু বিষয়ক নাটক কেনিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে, নাট্যশালায় এবং বাসে মঞ্চায়িত হতে যাচ্ছে। জানা গেছে, কেনিয়ার অর্থায়নে পরিচালিত শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপিঠ কিসি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলার পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে এবছরের (২০২১) জানুয়ারি থেকে বছরব্যাপী বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা আনিসুর রহমানের মহাকাব্যিক স্বগতসংলাপ- আমি শেখ মুজিব নাটকটির সঙ্গে আরো দুটি নাটক পড়ানো হবে। অপর নাটক দুটি হচ্ছে- দাবিত ইসাক এবং মন্ত্রী ও হায়েনা। এবছর অক্টোবরে নাটকটি কিসি বিশ্বদ্যালয়ের মূল মিলনায়তনে, কিসট্রেক নাট্যশালায়, গ্যাটে ইনস্টিটিউট নাইরোবি, কিসি ও নাইরোবি শহরের বাসে- আমি শেখ মুজিব এপিক মনোলগটি মঞ্চায়িত হবে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কেনিয়ার নাট্যকলার শিক্ষক, কবি ও নাট্যনির্দেশক ক্রিস্টোফার ওকেমওয়া নাটকটির নির্দেশনা দিচ্ছেন। কিসট্রেক থিয়েটার ইন্টারন্যাশনাল এবং কিসি বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে নাটকটি প্রযোজনা করছে। এ প্রসঙ্গে ক্রিস্টোফার ওকেমওয়া বলেন, এই তিনটি নাটকে মানবাধিকার লঙ্ঘনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। মানবাধিকার একটি চিরন্তন বিষয়। নাটক তিনটি কেনিয় সমাজের জন্যে প্রাসঙ্গিক এবং লেখাগুলোতে নাট্যকলার শিক্ষার্থীদের জন্যে প্রয়োজনীয় বিষয়বস্তু রয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি জাতির আধুনিক রূপকার, একটি রাষ্ট্রের স্থপতি। প্রত্যন্ত জনপদ টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নিয়ে কিভাবে তিনি ধাপে ধাপে বাঙালির জাতিরাষ্ট্রের স্থপতি হলেন, দেশ ও দেশের মানুষকে মুক্তির পথ দেখালেন, তার অনেকটা নানাভাবে উঠে এসেছে এই নাটকে। বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় তার মনের কী অবস্থা, তা কিছুটা ঘটনা পরম্পরায়, কিছুটা কল্পনায়, গদ্যে পদ্যে মিলিয়ে লেখা এপিক মনোলগ- আমি শেখ মুজিব। লেখক আনিসুর রহমান বলেন, মহাকাব্য ও মঞ্চনাটকের বৈশিষ্ট্য অক্ষুন্ন রেখে গত সংলাপটিতে ভারতবর্ষের বিশ শতকের ইতিহাসের ঘটনাক্রম এবং বাংলাদেশের জন্মের গল্প উপজীব্য হয়েছে । তিনি জানান, মহাকাব্যের নায়ক বঙ্গবন্ধুর প্রয়াণের মধ্য দিয়ে স্বাগত সংলাপটি শেষ হয়েছে। এর আগে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে নেপালের শীর্ষস্থানীয় নাট্যশালা ওয়ান ওয়ার্ল্ড থিয়েটার নাটকটি নেপালি ও ইংরেজি ভাষায় মঞ্চে আনে। এপিক মনোলগটির মূল বাংলা ভাষ্য ২০১৬ সালে প্রথম প্রকাশ পায়। বাংলাদেশের অনন্যা প্রকাশনী পরে এটি বই আকারে প্রকাশ করে। ইতোমধ্যে এপিক মনোলগটি কয়েকটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং নাট্যকলার পাঠ্যসূচিত অন্তর্ভুক্ত ও মঞ্চায়িত হয়েছে। আমি শেখ মুজিব- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রিটেনের ওয়েলস বিশ্ববিদ্য্যালয়, সুইডেনের লুন্দ বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিকস একেডেমিসহ নানা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যসূচি আর সেমিনার কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বইটির ইংরেজি সংস্করণ ইউরোপ এবং আমেরিকা থেকে একযোগে প্রকাশের পথে। সুইডেনের নামকরা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান স্মক্কাডল থেকে এপিক মনোলগটির সুইডিশ সংস্করণ প্রকাশ হয় গতবছর। এই সংস্করণে প্রচ্ছদে ব্যবহৃত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি এঁকেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন চিত্রশিল্পী নিসার হোসেন। সুইডিশ লেখক সংঘের পরিচালনা পরিষদের সদস্য, এপিক মনোলগটির লেখক, ১৯৭৮ সালে টাঙ্গাইলের মধুপুরের দিগরবাইদ গ্রামে জন্ম নেওয়া আনিসুর পড়াালেখা করেছেন ঢাকা ও স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষা, সাহিত্য, ইতিহাস, চলচ্চিত্র, নাটক ও সুইডেনের দূরদর্শন সংস্কৃতি নিয়ে। আনিসুরের লেখা ইংরেজি, সুইডিশ, নেপালি, নরওয়েজিয়ান, ড্যানিশ, স্প্যানিশ, জর্জিয়ান, সার্বিয়ান, তুর্কি, আর্মেনিয়, ফার্সিসহ নানা ভাষায় অনূদিত ও সমাদৃত হয়েছে।
ভ্যাকসিন কিনতে ৪৩১৪ কোটি টাকা অনুমোদন
০৫,জানুয়ারী,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রকল্পের আওতায় করোনা ভ্যাকসিন ক্রয়, সংরক্ষণ ও সরবরাহ বাবদ মোট ৪ হাজার ৩১৪ কোটি ৪৯ লাখ ১৭ হাজার টাকা চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত ৩ হাজার ৩০ কোটি টাকা খরচ হবে ভ্যাকসিন কিনতে, বাকি অর্থ পর্যায় ক্রমে খরচ হবে প্রকল্পের আওতায়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-ডিসেম্বরের মধ্যে ভ্যাকসিন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে পরিকল্পনা কমিশনকে অবগত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে, কোনো দেশ থেকে ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হবে তা এখনো জানা যায়নি। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আওতায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস প্রথম সংশোধিত প্রকল্পের আওতায় এমন উদ্যোগ নেওয়া হবে। মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। সভায় প্রকল্পটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। মূলত ভ্যাকসিন কেনার জন্যই চলমান প্রকল্পের আওতায় এই অর্থ অনুমোদন দেওয়া হয়। ভ্যাকসিন কেনাসহ একনেক সভায় এ দিন মোট ৬টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গণভবন থেকে সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। অন্যদিকে শেরে-বাংলা নগরে মন্ত্রিসভা কমিটি পরিষদ (এনইসি) সম্মেলনকক্ষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। প্রকল্পের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটা আমাদের জন্য অন্যতম মাইলকফলক। বিশ্বব্যাংক টিকা কেনা প্রকল্পে ৫০ কোটি ডলার দিয়েছে, এটা ইতিবাচক। টিকা কেনা প্রকল্প অনুমোদনের মাধ্যমে দেশের মানুষের মধ্যে ইমিউনিটি সিস্টেম বাড়ছে। টিকা কেনা প্রকল্প অনুমোদনের মাধ্যমে মেঘলা দিন কেটে যাচ্ছে, আমরা আলোর মুখ দেখছি। দেশের অর্থনীতি সচল হবে। আমরা বিশ্বাস করি প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমাদের দেশের অর্থনীতি আগের অবস্থানে ফিরে আসবে। মানুষের জীবন যাত্রার মানোন্নয়ন হবে করোনা ভীতি কেটে যাবে। তিনি বলেন, ভ্যাকসিন দেওয়ার অনুমোদিত নীতিমালা সর্বসাধারণের বোধগম্যভাবে সারসংক্ষেপ আকারে প্রণয়ন এবং ভ্যাকসিনেশন প্রক্রিয়ার একটি সহজবোধ্য ফ্লো-চার্ট ডিপিপিতে সংযুক্ত করতে হবে। প্রতিটা উপজেলায় ভ্যাকসিন দেওয়ার বিষয়ে প্রচারের জন্য ব্যানার, মাইকিং ও প্রকাশনা খাতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখতে নির্দেশ দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। প্রকল্পের আওতায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার জন্য একটি করে মোট দুটি মোবাইল ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ভ্যানের সংস্থান রাখতে বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দ্বৈততা পরিহারপূর্বক গঠিত ১০ শয্যার ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট এবং ১০টি জেলায় মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যাবস্থপনা প্ল্যান্ট স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, করোনা মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের জরুরি ঋণ ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ১৮ এপ্রিল প্রকল্পটির অনুমোদন হয়েছিল। সেই সময় প্রকল্পটি খুব জরুরি বিবেচনায় দ্রুত অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সমগ্র বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত ও মৃত্যু ক্রমশ বাড়তে থাকায় কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি), বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ১০ কোটি ডলারের লেন্ডিং করতে সম্মত হয়েছে, যা এ প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যয় করা হবে। তাছাড়া প্রকল্প সংশোধনের প্রধান কারণ হিসেবে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ক্রয় বাবদ কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করণ করা হয়েছে। প্রকল্পটিতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ হাজার ৭৮৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১৭২ কোটি ৪৫ লাখ এবং বিশ্বব্যাংক ও এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) ঋণ ৬ হাজার ৬১৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

জাতীয় পাতার আরো খবর