ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হলেন ফরিদুল হক
২৫নভেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়া জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফরিদুল হক খান দুলালকে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তাকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী করে বুধবার (২৫ নভেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফরিদুল হক খান প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। নতুন একজন যুক্ত হওয়ার পর মন্ত্রিসভায় এখন ২৫ জন মন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী ও তিনজন উপমন্ত্রী। ফরিদুল হক খান আওয়ামী লীগ থেকে মনোনীত জামালপুর জেলার ইসলামপুরের টানা তিনবারের সংসদ সদস্য। তিনি ইসলামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ফরিদুল হক। ফরিদুল হক ১৯৫৬ সালের ২ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তানের জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার উত্তর সিরাজাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মো. হবিবর রহমান খান ও মায়ের নাম মোসাম্মৎ ফাতেমা খানম। তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন।
মিরপুরে বস্তিতে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে
২৫নভেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীর মিরপুরের কালশী বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন বাউনিয়াবাদের সি ব্লকে একটি বস্তিতে আগুন লেগেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় ৩ টা ১০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) দিনগত রাত ২ টা ১০ মিনিটে ওই বস্তিতে এই আগুনের সূত্রপাত ঘটে। ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার মো. কামরুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ১২টি ইউনিট কাজ করে। পরে ৩ টা ১০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে প্রাথমিকভাবে তা জানা সম্ভব হয়নি। উল্লেখ্য, একই বস্তিতে ২০১৯ সালের গত ২৬ ডিসেম্বরে রাত ১২ টা ৫০ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিলো। ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট টানা এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে রাত ১ টা ৫০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। ওই আগুনে বস্তির শতাধিক ঘর ভস্মীভূত হয়েছিল। বস্তির পাশে একটি ভাঙ্গারির দোকান থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়েছিলো। বস্তির বাসিন্দারা তখন জানিয়েছিলো, ষড়যন্ত্র করে তাদের বস্তিতে আগুন দেওয়া হয়েছিলো সে সময়।
চলমান কাজ শেষ করে পরের কাজ পাবে ঠিকাদার: প্রধানমন্ত্রী
২৪নভেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চলমান কাজ শেষ করার পরই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরবর্তী কাজ পাবে বলে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ নির্দেশনা দেন তিনি। সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সামনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরেন পরিকল্পনা বিভাগের সিনিয়র সচিব আসাদুল ইসলাম। এক ঠিকাদারের একাধিক কাজ পাওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে সিনিয়র সচিব বলেন, আমাদের অনেক প্রকল্পে বিশেষত নির্মাণ প্রকল্পে দেরি হয়ে যায়। এই দেরির একটা কারণ হলো এক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অনেকগুলো কাজ পেয়ে থাকে। মুষ্টিমেয় প্রতিষ্ঠান কাজ করে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কে কতগুলো কাজ পেয়েছে, কাজ সময়মতো শেষ করেছে কি না, কোন সময় শেষ করেছে এসবের একটা তালিকা সব মন্ত্রণালয় তৈরি করবে এবং তা প্রকাশ করতে হবে। চলমান কাজ শেষ করলে পরের কাজ পাবে। এর দুটি উদ্দেশ্য; একটা হলো আমাদের নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে নির্মাণ কাজের জন্য, মুষ্টিমেয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমিত থাকব না। দ্বিতীয়ত সময়মতো আমাদের নির্মাণ কাজ শেষ হবে। সড়কের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে সচিব আরও বলেন, রাস্তা বাড়ানো হচ্ছে। রাস্তাকে টেকসই এবং ভালো রাখার জন্য রাস্তার পাশে জলাধার কিংবা বৃষ্টির পানি নামার ব্যবস্থা করতে হবে। রাস্তার পাশে গাছ লাগাতে হবে। বিশেষত হাইওয়ের পাশে বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষত যারা লং ড্রাইভ করেন বা দীর্ঘসময় ধরে রাস্তায় থাকেন তাদের বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের- খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পেরও অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ প্রকল্প সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে আসাদুল ইসলাম বলেন, এ প্রকল্প সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এখানে যারা জলবায়ু উদ্বাস্তু কিংবা বিমানবন্দর সম্প্রসারণ করার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের তালিকা করতে হবে। তাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। ওখানে যে আবাসন তৈরি হয়েছে, সেই আবাসনে তাদের পুনর্বাসন করতে হবে। তালিকাভুক্তদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। কারণ, এমনও হতে পারে সরকারি আবাসন তৈরি হয়েছে দেখে অন্যান্য জায়গা থেকে লোকজন এসে সেখানে আবাসনের জন্য চেষ্টা করতে পারে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ) (২য় পর্যায়) প্রকল্পের বিষয়ে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে সচিব বলেন, আমাদের জাতীয় পরিচয়পত্র, ভোটার তালিকা, অন্যান্য রেজিস্ট্রেশন বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ করছে। এটার যেন একটা সমন্বিত কাঠামো দাঁড়ায় সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। ফলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এটা নিয়ে কাজ করছে। এনআইডি রেজিস্ট্রেশন, সবার আইডেন্টিটি যেন থাকে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু ভোটার তালিকা নয়। যেখানে এ কাজটা সমন্বিত হয়, সবার জন্য সুবিধার হয় এবং কার্যকরভাবে করা যায়, সেরকম একটা প্রতিষ্ঠানে এটা ব্যবস্থাপনার জন্য তিনি দায়িত্ব দিয়েছেন।
বেগম পাড়ার সাহেবদের ধরা হবে: কাদের
২৪নভেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কানাডার বহুল আলোচিত- বেগমপাড়ার. সাহেবদের ধরা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বেগমপাড়ার সাহেবদের ধরতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুদককে এ ব্যাপারে সার্বিক তদন্ত করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। গত কয়েকদিন আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেন, কানাডার বেগমপাড়ায় যারা অর্থপাচার করেছেন, তাদের মধ্যে সরকারি আমলার সংখ্যা বেশি। ওবায়দুল কাদের বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি নজরে আনার পর থেকেই সক্রিয় হয়েছে সরকার। দুদকের তদন্তে যাদের নাম আসবে তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্যের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা অর্থপাচার করেছেন, তাদের পরিচয় অর্থপাচারকারী। এর মধ্যে যদি কোনো সরকারি কর্মকর্তা থাকেন, সরকারের কাছের লোক থাকেন, তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না। সম্প্রতি ডিআরইউয়ের মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন জানান, কানাডার বেগমপাড়ায় বেশ কিছু বাংলাদেশি বাড়ি গাড়ি করেছেন। তারা অর্থপাচারকারী। এদের বেশিরভাগই সরকারি আমলা। মন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পর উচ্চ আদালত তাদের নাম জানতে চেয়েছেন।
দৈনিক সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুনীরুজ্জামানের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
২৪নভেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দৈনিক সংবাদ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনীরুজ্জামানের মৃত্যুতে শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) সকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক শোক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। শোক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এর আগে আজ সকাল সোয়া ৭টার দিকে রাজধানীর মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান খন্দকার মুনীরুজ্জামান। তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তিনি করোনায় সংক্রমিত হয়ে গত ৩১ অক্টোবর রাতে তাকে রাজধানীর মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়ে। করোনা থেকে তিনি সেরেও উঠেছিলেন। কিন্তু করোনা পরবর্তী নানা জটিলতায় তিনি মারা গেছেন। তিনি স্ত্রী ও এক ছেলে রেখে গেছেন। তার স্ত্রী ডা. রোকেয়া এবং একমাত্র পুত্রও খ্যাতিমান চিকিৎসক।
পুড়ে ছাই হয়ে গেছে সাততলা বস্তির ৬০-৭০টি ঘর
২৪নভেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাজধানীর মহাখালীর সাততলা বস্তিতে লাগা আগুনে ৬০-৭০টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় এখনো হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। বর্তমানে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী ভলান্টিয়ার ও বস্তির বাসিন্দারা কাজ করছে। সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের ঢাকা বিভাগের উপ-পরিচালক (অপারেশন) দেবাশীষ বর্ধন বলেন, রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুম। প্রথম রেসপন্স করে ফায়ার সার্ভিসের তেজগাঁও স্টেশন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত কাজ শুরু করেন তারা। সর্বমোট ২০০ ফায়ার কর্মী ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট অথবা গ্যাস লিকেজ থেকে এই আগুনের সূত্রপাত ঘটতে পারে। তিনি আরও বলেন, এ বস্তিতে ছোট ছোট প্রচুর ঘর রয়েছে এখনই নির্দিষ্টভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, নানাবিধ কারণে বস্তিতে আগুন লাগতে পারে। রাজধানীর প্রায় বস্তিতে অবৈধ বিদ্যুৎ-গ্যাস সংযোগ থাকে। বৈদ্যুতিক গোলযোগ, গ্যাস লাইন লিকেজ বা সিলিন্ডার লিকেজ, সিগারেটের আগুন থেকে অথবা মশার কয়েল থেকেও আগুনের সূত্রপাত ঘটতে পারে। তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বলা যাবে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ১৫ মে সাততলা বস্তিতে আগুন লাগে। ওই আগুনে বস্তির ২০টি ঘর পুড়ে যায়। এর পরের বছর আবারও ১১ ডিসেম্বর রাতে আগুন লাগে এ বস্তিতে।
তথ্য-অর্থের নিরাপত্তা দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ: পলক
২৩নভেম্বর,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বর্তমান বিশ্বে সব নাগরিক ও রাষ্ট্রের তথ্য ও অর্থের নিরাপত্তা দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইসিটি বিভাগের অধীন সাইবার ইন্সিডেন্স রেস্পন্স টিম (সিআইআরটি) গঠন করা হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। সোমবার (২৩ নভেম্বর) নিরাপদ তথ্য সেবার প্রত্যয় নিয়ে বাংলাদেশ ডাটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেডের (বিডিসিসিএল) সঙ্গে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) সঙ্গে সেবা সংক্রান্ত এক চুক্তি সই হয়। চুক্তিপত্রে বাংলাদেশ ডাটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেডের পক্ষে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইদুর রহমান এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম সাজেদুর রহমান খান ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পক্ষে মো. সাঈদ নূর আলম নিজ নিজ পক্ষে সই করেন। এতে অনলাইনে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, সব নাগরিক ও রাষ্ট্রের তথ্য ও অর্থের নিরাপত্তা দেওয়া এখন বিশ্বের বড় চ্যালেঞ্জ। এসব প্রতিরোধে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইসিটি বিভাগের অধীন সাইবার ইন্সিডেন্স রেসপন্স টিম (সিআইআরটি) গঠন করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত ও ডাটা সুরক্ষায় কাজ করতে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তথ্য ও অর্থের সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা ব্যাপকভাবে দেখা দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ডেটা সাইনটিস্ট তৈরির জন্যও আইসিটি বিভাগ কাজ করছে। প্রযুক্তির কল্যাণে দ্রুত ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে। সরকারের বিভিন্ন সার্ভিস বাড়ছে। এখন সরকারের ন্যাশনাল পোর্টালে ৪৩ হাজার ওয়েবসাইট রয়েছে। এগুলো ডেটা সেন্টারে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। মাইগভ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনে ৬৪০টিরও বেশি সার্ভিস দেওয়া হচ্ছে। কোভিড মহামারিতে সবকিছু বন্ধ থাকার পরেও ৮ মাসে ১০ লাখের বেশি ই-নথি সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের সব কাজ ই-নথির মাধ্যমে সচল ছিল বলেও তিনি জানান। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আগামীদিনে তথ্য সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণে বাংলাদেশ বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে। নিরাপত্তার স্বার্থেই দেশের তথ্য দেশেই সংরক্ষণের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন তথ্যের ব্যবহার ও সংরক্ষণের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি এর নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য ও অর্থ সংরক্ষের জন্য সাইবার ইন্সিডেন্স রেসপন্স টিম প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সার্ট গঠনে ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সি সার্বিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
বৈদেশিক সহায়তা : ৮৪ থেকে অনুদান নেমেছে ৩ শতাংশে
২৩নভেম্বর,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ায় বৈদেশিক সহায়তায় অনুদানের পরিমাণ ন্যূনতম পর্যায়ে নেমে এসেছে। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বৈদেশিক সহায়তায় অনুদানের পরিমাণ ছিল ৮৪ থেকে ৮৬ শতাংশ, বাকিটা ছিল ঋণ। এখন সেই অনুদানের পরিমাণ নেমেছে ৩ শতাংশে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের বৈদেশিক সহায়তা সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করার প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। সোমবার (২৩ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। গণভবনপ্রান্ত থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বৈদেশিক সহায়তার অবস্থা কী সে বিষয়ে ছিল এই উপস্থাপনাটি। সেখানে ১৯৭১-৭২ থেকে এই পর্যন্ত ২০১৯-২০ অর্থবছর পর্যন্ত যদি একটা তুলনা করি সেখানে দেখা যাবে, ১৯৭১-৭২ অর্থবছর আমাদের বৈদেশিক সহায়তার মধ্যে গ্র্যান্ট (অনুদান) ছিল সর্বোচ্চ ৮৪/৮৫/৮৬ শতাংশ, ঋণ ছিল ৬ থেকে ৮ শতাংশ। ম্যাক্সিমামটাই (বেশিরভাগ) দান হিসেবে আসত। তিনি বলেন, ২০০৯-১০ অর্থবছরের দিকে গিয়ে অনুদান এসেছে ৩০ শতাংশের মতো, ৭০ শতাংশের মতো আসল ঋণ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে অনুদান আসছে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশের মতো, আর ৯৫ শতাংশই আসছে ঋণ হিসেবে। আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা কিন্তু এটা থেকে বোঝা যাচ্ছে, কীভাবে শিফট হয়ে যাচ্ছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে অনুদান আরও কমে গেছে, ২-৩ শতাংশের মধ্যে রয়েছে, ৯৭ শতাংশেই আসছে ঋণ হিসেবে। আমরা আর দানের ওপর নির্ভর করছি না। আমরা আমাদের নিজস্ব দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সবচেয়ে মজার বিষয় হলো আমরা রি-পেমেন্টের ক্ষেত্রে কোনো দিনই ডিফল্ডার হইনি। এটা একটা বড় সাকসেস। তিনি বলেন, ১৯৯৭-৯৮ সালে আমাদের (বৈদেশিক সহায়তার) ডিসবার্সমেন্ট (অর্থছাড়) ছিল ৭৪৮ মিলিয়ন ডলার, তখন আমাদের জিডিপির ৩০ দশমিক ৪৭ শতাংশ ছিল ঋণের পরিমাণ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে আমাদের ডিসবার্সমেন্ট হচ্ছে সাত হাজার ১২১ মিলিয়ন ডলার, কিন্তু এটা আমাদের জিডিপির মাত্রা ১৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এর মধ্যে আমাদের ডমেস্টিক ইনভেস্টমেন্ট অনেক বেড়ে গেছে। এত টাকা বাড়ার পরও জিডিপির সঙ্গে এর অনুপাতটা অনেক কমে এসেছে। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের ৪৪ হাজার ২৩ মিলিয়ন ডলার। এটা জিডিপির ১৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ। ঋণের মধ্যে ৩৭ শতাংশ বিশ্বব্যাংকের, ২৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ এডিবির, জাপানের জাইকার ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ, চীনের ৬ দশমিক ৮১, রাশিয়ার ৬ দশমিক ১৪, ভারতের এক দশমিক ৩ এবং অন্যান্য ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। এই হচ্ছে আমাদের বৈদেশিক ঋণ। ১৯৮৯-৯০ অর্থবছরে আমাদের এডিপি (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) পাঁচ হাজার ১০৩ কোটি টাকা ছিল জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এর মধ্যে বৈদেশিক সাহায্য ছিল তিন হাজার ২৫৬ কোটি টাকা। এর মানে এডিপির ৬৩ শতাংশ ছিল বৈদেশিক সহায়তা। ২০০৯-১০ অর্থবছরে এডিপির বরাদ্দ ২৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বৈদেশিক সহায়তা ছিল ১১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এডিপিতে ফরেন এইডের কন্ট্রিবিউশন ছিল ৩৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ। তিনি বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আমাদের এডিপি হছে এক লাখ ৭৬ হাজার ৬২০ কোটি টাকা, বৈদেশিক সাহায্য আসছে ৫১ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা। বৈদেশিক সাহায্য বেড়েছে কিন্তু পার্সেন্টেজ নেমে এসেছে ২৯ দশমিক ২৫-এ। আমাদের নিজস্ব বিনিয়োগ এত বেড়েছে যে, বাইরের ঋণ এলেও এটা শতাংশের হারে অনেক নিচে। খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমাদের ঝুঁকি নেই। বৈদেশিক ঋণ যখন জিডিপির ৪০ শতাংশ বা এর বেশি হয়ে যায় তখন ঝুঁকি থাকে। আমাদের জিডিপির তুলনায় বৈদেশিক ঋণ হলো ১৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ। আমরা অনেক সেফটিতে আছি আল্লাহর রহমতে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করছি জিডিপির ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০ শতাংশ পর্যন্ত সেফটি রেঞ্জ। আমরা অনেক নিচে আছি।
শহিদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা প্রণয়ণে কমিটি গঠন
২৩নভেম্বর,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সরকার শহিদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা প্রণয়ণের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে গবেষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষকে সভাপতি করে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। আজ সোমবার মন্ত্রণালয়টির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়। কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে অতিরিক্ত সচিব মো. শহীদুল হক ভূঁঞা সদস্য এবং উপসচিব রথীন্দ্র নাথ দত্ত সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া গবেষক সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুনতাসির মামুন, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেজবাহ কামাল, গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘরের ট্রাস্টি ড. চৌধুরী শহীদ কাদের, জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের (নিপসম) পরিচালক ড. বায়েজিদ খুরশীদ রিয়াজ এবং গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘরের গবেষক গাজী সালাউদ্দিন। বীর মুক্তিযোদ্ধা সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা গবেষক লে. কর্ণেল কাজী সাজ্জাদ জহির (বীরপ্রতীক)। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যাচাই-বাছাই করে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের নাম, পিতার নাম, ঠিকানাসহ মতামত প্রদানে কাজ করবে এই কমিটি। মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের মধ্যে কারা শহিদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন, তার সংজ্ঞা নির্ধারণ করবে। বিভিন্ন গবেষণা গ্রন্থ, পত্রিকা কাটিং, টিভি রিপোর্ট, অন্যান্য সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই বাছাই করে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা প্রস্তুত করবেন। এ ছাড়া কমিটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা, জেলা, উপজেলা ও অন্যান্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের আবেদন যাচাই বাছাই করবে ও শহিদ বুদ্ধিজীবী তালিকায় অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করবে।