রাসেলের জন্মদিনকে জাতীয় দিবস ঘোষণার দাবি পলকের
১৮,অক্টোবর,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শহীদ শিশু শেখ রাসেলের জন্মদিন ১৮ অক্টোবরকে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। রোববার (১৮ অক্টোবর) আগারগাঁওয়ের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শেখ রাসেলের ৫৭তম জন্মবার্ষিক উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ দাবি জানান পলক। শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদের উদ্যোগে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ কেন্দ্র করে এ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। অনুষ্ঠানে আজকের শিশুদের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী পলক বলেন, আমাদের আজকের শিশুদের আগামী দিনের ডিজিটাল বাংলাদেশের যোগ্য নেতা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরিকল্পনায় আইসিটি বিভাগ সারা বাংলাদেশে আট হাজার শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব প্রতিষ্ঠা করেছে। সেখানে শিশুরা প্রযুক্তিগত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ভবিষ্যৎ পৃথিবীর জন্য তৈরি হচ্ছে। সারা দেশে আরও পাঁচ হাজার শেখ রাসেল ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাব এবং তিনশ স্কুলে স্কুল অব ফিউচার স্থাপনের জন্য প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি সদ্য স্বাধীন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য শিশু অধিকার আইন করে গিয়েছিলেন এবং সংবিধানে প্রতিটি শিশুর শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য শিক্ষাকে অবৈতনিক করে গিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পিতার দর্শন বুকে ধারণ করে প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ, আধুনিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার নিরন্তর প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন। এ বাংলাদেশের মাটিতে আর যেন কখনো শেখ রাসেলের মতো নিরাপরাধ শিশুকে জীবন দিতে না হয়, সে জন্য প্রত্যেক শিশুকে প্রস্তুত হতে হবে। অনুষ্ঠানে আলোচনা পর্ব শেষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ল্যাপটপ বিতরণ করা হয়।
ঘরে থেকেই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে শিক্ষার্থীদের : প্রধানমন্ত্রী
১৮,অক্টোবর,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্কুল বন্ধের এই সময়ে শিক্ষার্থীদের ঘরে থেকেই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র শহীদ শেখ রাসেলের ৫৭তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। গণভবন থেকে শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্স, ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজ প্রাঙ্গণ এবং বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের শিশুরা দেশপ্রেমিক হবে, মানুষের মতো মানুষ হবে। মানুষের সেবা করবে এবং নিজেদের উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে। আধুনিক শিক্ষায় সুশিক্ষিত হবে। করোনাভাইরাসের কারণে স্কুল বন্ধ। এটা সত্যি যেকোনো একজন শিশুর জন্য খুব কষ্টকর। কিন্তু হয়তো এই অস্বাভাবিক অবস্থা থাকবে না। তবু আমি তাদের বলব যে মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করতে হবে। তিনি বলেন, আমি জানি করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, এটা যে কোনো শিশুর জন্য কষ্টকর। ঘরে বসে পড়াশোনা করা, যে যা করতে পারে সেটাও তাদের করতে হবে। যেন যখন স্কুল খুলে তখন তারা আবার সবকিছুই করতে পারে। আমি অভিভাবকদের বলব, যার যার নিজের ছেলেমেয়ের অন্যান্য এক্সাসাইজ ও খেলার ব্যবস্থা করতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সবাই যেন সুরক্ষা মেনে চলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার একটাই লক্ষ্য যে, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এই দেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। ৩০ লাখ শহীদ রক্ত দিয়েছে। দুই লাখ মা-বোন যে অবদান রেখেছে, সে কথা আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে। অনেক রক্তের মধ্য দিয়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। এই স্বাধীনতার সুফল প্রত্যেক মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছাবে। আমি কবি সুকান্তের ভাষায় এটিই বলতে চাই, এই বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার অঙ্গীকার। তিনি বলেন, রাসেল আজ আমাদের মাঝে নেই। একটা ছোট শিশু ছিল কিন্তু সেই শিশুটাকে বাঁচতে দেয়া হয়নি। তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটুক, সেটাই আমরা চাই। আমাদের প্রত্যেকটা শিশু লেখাপড়া শিখে আগামী দিনে এই দেশের কর্ণধার হবে। সুন্দরভাবে বাঁচবে সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। শেখ হাসিনা বলেন, ওই স্কুলের ছাত্রছাত্রী যুগ যুগ ধরে যারা পড়াশোনা করবে, অন্তত তারা এইটুকু জানবে, এই টুকু শিখবে; একটা ছোট শিশু ছিল এই স্কুলে। কিন্তু সেই শিশুটাকে বাঁচতে দেয়া হয়নি। তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটুক, সেটাই আমরা চাই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা করার একটা উদ্দেশ্যই ছিল যে এদেশের শিশুদের সঠিকভাবে গড়ে তোলা। দেশপ্রেমিক করা, দেশের সেবার করার মনোভাব যেন তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে। তারা যেন সুনাগরিক হয়ে গড়ে ওঠে, সেদিকে চিন্তা করেই এই সংগঠনটা তৈরি করা হয়েছিল। আজকে সারাদেশব্যাপী এই সংগঠনের অনেক ছেলেমেয়ে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকে জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। অনেকে রাজনীতিতেও যথেষ্ট অবদান রেখে যাচ্ছে। সেই ছোট্ট শিশু থেকে তারা এখন অনেকেই বড় হয়েছে। অনেকেই বিভিন্ন কর্মস্থলে যোগ দিয়েছে। লাইভে কেন মাস্ক পরে নেই সে বিষয়ে তিনি বলেন, আমি হয়তো মাস্ক পরে বলছি না, কারণ আমার এখানে কেউ নেই। যারা আছে তারা অনেক দূরে। আবার বেশি লোক থাকলে আমিও সেখানে মাস্ক পরি। সবাইকে বলব, যেখানে মানুষ বেশি সেখানে মাস্ক পরে থাকতে হবে। শরীরের প্রতি যত্ন নিতে হবে। শহীদ শেখ রাসেলকে নিয়ে তৈরি এনিমেটেড ডকুমেন্টরি বুবুর দেশ প্রদর্শনীর উদ্বোধন, শেখ রাসেলের জীবনীর ওপর প্রকাশিত বই- শেখ রাসেল আমাদের আবেগ, আমাদের ভালবাসা এর মোড়ক উন্মোচন ও ছবি প্রদর্শনীর উদ্বোধন; ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে শহীদ শেখ রাসেলের ম্যুরাল উন্মোচন ও শহীদ শেখ রাসেল ভবন উদ্বোধন; শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের কার্যক্রম সংক্রান্ত ভিডিও চিত্র অবলোকন স্মৃতির পাতায় শেখ রাসেল শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন, এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীদের পুরস্কার বিতরণ, শিক্ষাবৃত্তি প্রদান এবং দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে ল্যাপটপ বিতরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ রাসেলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত
১৮,অক্টোবর,রবিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে শহীদ শেখ রাসেলের ৫৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ডাক অধিদফতর ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকিট, ১০ টাকা মূল্যমানের একটি উদ্বোধনী খাম ও পাঁচ টাকা মূল্যমানের একটি ডাটাকার্ড প্রকাশ করেছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার রোববার (১৮ অক্টোবর) তার দফতর থেকে স্মারক ডাকটিকিট ও উদ্বোধনী খাম অবমুক্ত এবং ডাটাকার্ড প্রকাশ করেন। এ উপলক্ষে একটি বিশেষ সিলমোহর ব্যবহার করা হয়। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্মারক ডাকটিকিট ও উদ্বোধনী খাম রোববার ঢাকা জিপিওর ফিলাটেলিক ব্যুরো থেকে বিক্রি করা হবে। পরবর্তী সময়ে অন্যান্য জিপিও এবং প্রধান ডাকঘরসহ দেশের সব ডাকঘর থেকে স্মারক ডাকটিকিট বিক্রি করা হবে। উদ্বোধনী খামে ব্যবহারের জন্য চারটি জিপিওতে বিশেষ সিলমোহরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শেখ রাসেল ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবনে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শেখ রাসেলকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
বিকাশের দোকান থেকেই গ্রাহকের নম্বর সংগ্রহ করে প্রতারকরা
১৭,অক্টোবর,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশ প্রতারণা চক্রের সদস্যরা চারটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রতারণা করে থাকে। শুরুতে গ্রাহকের ফোন নম্বর সংগ্রহ করতে বিভিন্ন দোকানে গ্রাহক সেজে অবস্থান নেয় মাঠ পর্যায়ের সদস্যরা। তারা কৌশলে দোকানের বিকাশ লেনদেনের খাতার ছবি তুলে দ্বিতীয় গ্রুপের কাছে পাঠিয়েই প্রতারণার শুরু করেন। সেসব নাম্বার ধরে বিকাশের দোকানি সেজে কিংবা কাস্টমার কেয়ার কর্মকর্তা সেজে ফোন দিয়ে কৌশলে হাতিয়ে নেওয়া হয় গ্রাহকের টাকা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানী ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিকাশ প্রতারণা চক্রের প্রধানসহ নয়জনকে আটক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের সোশ্যাল মিডিয়া ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম। আটকরা হলেন সাইফুল ইসলাম (২২), লিটন হোসেন (২৩), জুবায়ের শেখ (২২), গোলাম কিবরিয়া মন্ডল (১৯), ইমরান মোল্লা (২৩), শাওন হোসাইন মন্ডল (১৮), মিনজারুল ইসলাম মোল্লা (২৫), আশরাফ মোল্লা (২৬) ও সাগর আহম্মেদ (২৫)। এসময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন মডেলের পাঁচটি মোবাইল ফোন, ১০টি সিমকার্ড ও একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়। আটকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে ডিএমপির উপ-কমিশনার (ডিসি) ওয়ালিদ হোসেন জানান, বিকাশ প্রতারক চক্রের সদস্যরা প্রধানত চারটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রতারণা কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করে থাকে। প্রথম গ্রুপ মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন বিকাশের দোকানে টাকা বিকাশ করার কথা বলে অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে লেনদেনকৃত বিকাশ খাতার ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপে দ্বিতীয় গ্রুপের কাছে এলাকা উল্লেখ করে পাঠিয়ে দেয়। দ্বিতীয় গ্রুপ সেসব নম্বরে বিকাশ দোকানদার সেজে কল করে জানতে চায়, পাঠানো টাকা তারা পেয়েছেন কিনা এবং ক্যাশ আউট করেছেন কিনা। প্রতারণার ছলে বলতে থাকেন, আমার দোকান থেকে একই সময়ে কয়েকটি নাম্বারে পাঠানো টাকা নিয়ে অভিযোগ আসায় কয়েকটি নম্বরের সঙ্গে আপনার নম্বরও লক হয়ে গেছে। আপনাকে বিকাশ আফিস থেকে ফোন করে আনলক করে দেবে। কিছুক্ষণ পরেই তৃতীয় গ্রুপ বিকাশ কাস্টমার কেয়ার অফিসার পরিচয় দেয়। অনলাইন ভিত্তিক বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে বিকাশ অফিসের নম্বর ক্লোনিং করে ফোন দেওয়ায় গ্রাহক সহজে বিষয়টি বুঝতে পারে না। ফোনে বিভিন্ন কথার ছলে ওটিপি এবং বিকাশ পিনকোড নিয়ে নেয়। এরপর গ্রাহকের বিকাশ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে এবং অ্যাকাউন্ট আনলকের জন্য বিভিন্ন পরিমাণ টাকা দাবি করে। এভাবে হাতিয়ে নেওয়া টাকা সর্বশেষ অর্থাৎ চতুর্থ গ্রুপের কাছে পাঠানো হয়। যারা বিভিন্ন হাত বদল করে ক্যাশ আউট করে, ফলে প্রতারকদের অবস্থান শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। আটকদের বিরুদ্ধে রমনা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান ডিসি ওয়ালিদ হোসেন।
হোসনে আরা চৌধুরীর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক
১৭,অক্টোবর,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুনির চৌধুরীর মা হোসনে আরা চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আজ এক বার্তায় শেখ হাসিনা মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোক-সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। উল্লেখ্য, হোসনে আরা চৌধুরী শুক্রবার বিকাল ৫ টা ১০ মিনিটে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন (ইন্না রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি পরিবার-পরিজনসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
সুস্থ আছেন তথ্যমন্ত্রী
১৭,অক্টোবর,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। করোনা আক্রান্ত হলেও সুস্থ আছেন তিনি। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে তথ্যমন্ত্রীর জনসংযোগ কর্মকর্তা মীর আকরাম উদ্দীন আহম্মদ এ তথ্য জানান। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। সকলের দোয়া চেয়েছেন তিনি। করোনাভাইরাস পরীক্ষার নমুনা দেয়ার পর শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে তথ্যমন্ত্রীর রিপোর্ট পজিটিভ আসে।
গুজবের মূল উৎস ফেসবুক
১৬,অক্টোবর,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: যেসব সাংবাদিক কভিড-১৯ মহামারীর সংবাদ সংগ্রহের কাজ করেছেন তাদের অধিকাংশের মতে, মহামারীকালে গুজবের মূল উৎস হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। কভিড-১৯ এবং সাংবাদিকতার এ আন্তর্জাতিক জরিপে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাও শীর্ষ উৎসগুলোর তালিকায় রয়েছেন। এ জরিপে অংশ নিয়েছেন বিভিন্ন দেশের ১ হাজার ৪০৬ জন সাংবাদিক। জরিপের অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের ৬৬ শতাংশই মনে করেন ফেসবুক হচ্ছে গুজবের মূল উৎস। এমনকি ৮২ শতাংশ সাংবাদিক বলেছেন তারা ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামকে গুজবের ব্যাপারে রিপোর্ট করেছিলেন। কিন্তু তাদের অর্ধেকই মত দিয়েছেন যে বিপরীতে যে প্রতিক্রিয়া তারা পেয়েছেন তাতে তারা সন্তুষ্ট নন। এছাড়া টুইটার, ইউটিউব ও গুগল সার্চেও নিয়মিতভাবে কভিড-১৯-সংক্রান্ত গুজব ছড়ানো হয়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ভোটে ৪২ শতাংশ নিয়ে এ তালিকার দ্বিতীয় স্থানে আছে টুইটার। তিন নম্বরে থাকা হোয়াটসঅ্যাপ পেয়েছে ৩৫ শতাংশ ভোট। এ জরিপটি পরিচালিত হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর জার্নালিস্ট (আইসিএফজি) ও কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির টু সেন্টার ফর ডিজিটাল জার্নালিজম দ্বারা। এ জরিপে অংশ নেয়া সাংবাদিকদের প্রায় অর্ধেকই হচ্ছেন যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, নাইজেরিয়া ও ব্রাজিলের।- বণিক বার্তা
শনিবার দেশব্যাপী নারী নির্যাতনবিরোধী সমাবেশ করবে পুলিশ
১৬,অক্টোবর,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে দেশব্যাপী সমাবেশ করবে বাংলাদেশ পুলিশ। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেশব্যাপী ৬ হাজার ৯১২টি বিট পুলিশিং এলাকায় ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন বিরোধী এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশের সকল বিটে একযোগে একই সময়ে শনিবার সকাল দশটায় ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন বিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশে সংশ্লিষ্ট বিট এলাকার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, মসজিদের ইমামসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করবেন। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন বিরোধী পোস্টার, লিফলেট, প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে জনসাধারণকে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাবেন এবং এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধের বিরুদ্ধে সচেতন করবেন। প্রতিটি সমাবেশ স্ব স্ব বিটের ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। দেশের সামাজিক শৃঙ্খলা এবং জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা বিধানকল্পে ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনায় অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ পুলিশ।
আসুন ঐক্যবদ্ধভাবে বিশ্বকে ক্ষুধামুক্ত করি: প্রধানমন্ত্রী
১৬,অক্টোবর,শুক্রবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিশ্বকে ক্ষুধামুক্ত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনা। বিশ্ব সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, আসুন এই বিশ্বকে আমরা ক্ষুধামুক্ত করি। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০২০ উপলক্ষে কৃষি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে এ আহ্বান জানান তিনি। বাংলাদেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, একটি মানুষ না খেয়ে কষ্ট পাবে না, একটি মানুষ গৃহহীন থাকবে না, প্রত্যেকটা মানুষ চিকিৎসা সেবা পাবে, কোনো মানুষ পুষ্টিহীনতায় ভুগবে না, আমাদের বিশাল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা সহযোগিতা করছি। তিনি বলেন, খাদ্যের সাথে সাথে পুষ্টির নিশ্চয়তা হয়, মানুষজন সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়- সেটাই আমাদের লক্ষ্য। জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ আমরা কায়েম করব। প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা যাতে নিশ্চিত থাকে সে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। প্রতিটি মানুষের ঘরে খাবার পৌঁছানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দরিদ্র যারা আমরা তাদের মাঝে বিনা পয়সায় খাবার বিতরণ করে যাচ্ছি, এটা আমরা অব্যাহত রাখব। ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয়ের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ সম্পর্কে আমাদের একটাই চিন্তা জাতির পিতা চেয়েছেন ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে, আমরা সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ আমরা তা অর্জন করতে পারব। বাংলাদেশের মানুষের লড়াকু মনোভাবের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত সাহসী, তারা যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করার ক্ষমতা রাখে। আমরা করোনার সাথে সাথে ঝড়-বন্যা সবই মোকাবিলা করে যাচ্ছি। এভাবেই আমাদের বাঁচতে হবে। প্রতি ইঞ্চি জমি উৎপাদনে ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক ইঞ্চি জমিও কেউ ফেলে রাখবেন না, গাছ লাগান, ফল লাগান, তরিতরকারি লাগান যে যা পারেন কিছু লাগিয়ে নিজের উৎপাদন বাড়ান। তিনি বলেন, আজকে আপনারা জানেন করোনাভাইরাস সারা বিশ্বকে নাড়া দিয়েছে। যখনই করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে তখনই আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি খাদ্য উৎপাদনে। শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে, খাদ্যের নিশ্চয়তাটা থাকতে হবে। কারণ, করোনাভাইরাসের কারণে সমগ্র বিশ্বে স্থবির একটা দুর্ভিক্ষের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। বাংলাদেশে যেন তার প্রভাব না হয়, আমাদের দেশের মানুষ যেন কোনোরকম কষ্ট ভোগ না করে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছি। কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। সেমিনারে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন মহাব্যবস্থাপক কিউ ইউ ডনিউ ভিডিও বার্তায় বক্তব্য দেন। গণভবন প্রান্তে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল প্রান্তে কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য মতিয়া চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিবসহ ঊর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় পাতার আরো খবর