বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২১
বাংলাদেশের স্বাধিকার সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাস
১৭নভেম্বর,রবিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার। তিনি ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর ঢাকার পিজি হাসপাতালে (বর্তমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। জন্মস্থান টাঙ্গাইলের সন্তোষে সমাধিস্থ করা হয়।তার জন্ম ১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে। সিরাজগঞ্জে জন্ম হলেও ভাসানী জীবনের বড় অংশ কাটিয়েছেন টাঙ্গাইলের সন্তোষে। কৈশোর-যৌবন থেকেই জড়িত ছিলেন রাজনীতির সঙ্গে। দীর্ঘদিন তিনি তৎকালীন বাংলা-আসাম প্রদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি ছিলেন।দেশের নিপীড়িত ও নির্যাতিত মানুষের মুক্তির জন্য সারা জীবন আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছেন তিনি। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট গঠনকারী প্রধান নেতাদের মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশের স্বাধিকার-স্বাধীনতাসহ যে কোনো আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি রেখেছিলেন অগ্রণী ভূমিকা। এ কারণে পরিচিতি পান মজলুম জননেতা হিসেবে।মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মজলুম জননেতা ভাসানীকে নানা আয়োজনে স্মরণ করা হবে আজ।
আমি কি আমার স্বামীর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাবো না?
০৫অক্টোবর,শনিবার,বিশেষ প্রতিবেদন,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্বাধীন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নেওয়া মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধারা দেশের গর্ভ এবং রতoe এই কথাটি সরকার এবং দেশের সকলে স্বীকার করেন। কিন্তু এখনো আমরা দেখি যারা স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ গ্রহন করে যুদ্ধ করেছেন এবং শহীদ হয়েছেন তাদের মধ্যে অনেকে এখনো তাদের সম্মান ও স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। যদিও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অসংখ্য ভূয়া মুক্তিযোদ্ধারা স্থান নিয়ে স্বীকৃতি পেয়েছেন বিভিন্ন মহলে,বর্তমান সরকার এই ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে ইতি মধ্যে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের বিষয়ে গনমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। কে শুনে কার কথা স্বাধীনতা সংগ্রামে স্বামীকে হারিয়ে নুর জাহান বেগম তার ছেলে মেয়েকে নিয়ে অনাহাওে অতিব দুঃখে কষ্টে ছেলে মেয়েকে বড় কওে আজ সে সরকারের বিভিন্ন সংস্থায় ধর্না দিচ্ছেন। শুধু মাত্র তার স্বামীর শহীদের স্বীকৃতি অর্জনের জন্য। ফেনী জেলার ডমুরুয়া গ্রামের মৃত মনির উদ্দিন আহম্মদের পুত্র এ এস এম মহি উদ্দিন আহাম্মদ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময়ে রেলওয়েতে চট্টগ্রাম সি.আর,বি তে নিরাপত্তা প্রহরী (আর.এন.বি) পদে চাকুরীরত অবস্থায় স্বাধীনতার ডাকে ৮ই এপ্রিল ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনীর সাথে সি.আর.বি তে সম্মুখ যুদ্ধে নিহত হন। তার আর.এন.বি নং:- ই-ডব্লিউ/ম্যান সিরিয়াল নং: ৪২২৩ (সি.এম.ডব্লিউ/সি.আর.বি/আর.এন.বি)। বাংলাদেশ রেলওয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবার সম্মিলন পরিষদ কর্তৃক গত- ১৯৯৫ সালের অক্টোবরে সংবর্তি নামক ম্যাগাজিনে ১৬৪ নং ক্রমিকে শহীদ এ.এস.এম মহিউদ্দিন আহমদ এর নাম লিপি রয়েছে। এবং রেলওয়ে লিস্ট নং: ০৬ এর-৭২৯ নং এ ও এই শহীদের নাম রয়েছে। স্বাধীনতা সংগ্রামের পর জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ন্যাশনাল ব্যাংক অফ পাকিস্তান নামক ব্যাংকের মাধ্যমে শহীদ এ.এস.এম মহিউদ্দিন আহম্মদের স্ত্রী নুর জাহান বেগমকে ২,০০০/০০ টাকা (দুই হাজার টাকা) প্রদান করে ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত- ২৪ এপ্রিল ২০১৩ ইং তারিখে ঢাকা রেলওয়ে ষ্টেশন চত্বরে কমলাপুরে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রেলকর্মীদের স্বরনে স্মৃতিসৈৗধ সূর্যকেতন নামক যে স্মৃতিসৈৗধ নির্মান করেছেন সে খানে ও লিখিত ও উল্লেখিত ৩০ নং শহীদ ব্যক্তি হিসেবে স্থান পেয়েছেন এ.এস.এম মহিউদ্দিন আহম্মদের নাম। এই শহীদের স্ত্রী নুর জাহান বেগম তৎ কালিন (১৯৬৯) জাতীর জনকের নির্বাচনে তিনি বঙ্গবন্ধুর পক্ষে তার বাবার বাড়ী সিতাকুন্ড এলাকায় নির্বাচনী এজেন্ট ও ছিলেন। বর্তমানে নুর জাহান বেগম তার স্বামী শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য তিনি ইতিমধ্যে- ২০১৬ সালের ১৮ ডিসেম্বও মহাব্যবস্থাপক (পর্ব) বাংলাদেশ রেলওয়ে সি.আর.বি চট্টগ্রাম- ২০১৮ সালের ৭ আক্টোবর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, একই সালের ৮ আক্টোবর ও চলিত বছরের ১৩ মার্চ ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে স্বাক্ষাত চেয়ে এবং তার স্বামীকে শহীদের তালিকায় লিপি করার উদ্যেশ্যে আবেদন করে ও ব্যার্থ হয়েছেন নুর জাহান বেগমের স্বামী একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের তালিকায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্তির দাবীদার মর্মে ফেনী জেলার ২নং পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মানিক ও ফেনী-০২ এর বর্তমান সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী প্রত্যায়ন পত্র দিয়েছেন। উক্ত বিষয়ে বর্তমানে অসুস্থ ও ৭৫ বছর বয়স্ক নুর জাহান বেগম বলেন,আমি চরম অনিশ্চয়তা এবং আশংকার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি যে,আমি জীবিত অবস্থায় আমার স্বামীর শহীদ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়ে দেখে যেতে পারবো কি না। আমার একটি মেয়ে খোদেজা ভূইয়া ও একটি ছেলে মোঃ মাইন উদ্দিন তাদের বাবার এই সম্মান টুকু তারা আদৌ পাবে কি না। আমি বর্তমান খুবই অসুস্থ। আমি মনে করি আমার এই চরম দুর্দিনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে স্বাক্ষাত করতে পারলে বা তার সাহায্য ও সহযোগীতা পেলে আমার স্বামীর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির পাশাপাশি আমার এই দূরবস্থার পরিবর্তন হবে। আমার একমাত্র ছেলে বর্তমানে বেকার,বেচেঁ থাকার যে টুকু অবলম্ভন ছিলো তাও নেই। আমি আপনাদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাঁর কাছে আকুল আবেদন করছি,যেন মরে যাবার আগে অন্তত আমার স্বামীকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি টুকু প্রদান করা হয়।
আজ পবিত্র আশুরা
১০সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:মুসলিম বিশ্বে ত্যাগ ও শোকের একটি দিন পবিত্র আশুরা। কারবালায় হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হোসেনের মৃত্যুর দিনটি (১০ মহররম) বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা শোকের আবহে পালন করে। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশেও আজ মঙ্গলবার আশুরা পালিত হবে। পবিত্র আশুরা উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও রাজধানীর হোসেনি দালান ইমামবাড়া থেকে তাজিয়া মিছিল বের হবে। এতে অংশ নেবে হাজার হাজার মানুষ। তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতি সম্পন্ন। জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। গতকাল সোমবার ইমামবাড়ায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শত শত শিয়া মুসলিম কারবালার বিয়োগাত্মক ঘটনা স্মরণে ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালন করছে বিভিন্ন রীতি-নীতি। তাজিয়া মিছিল ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অনুষ্ঠান ঘিরে হোসেনি দালান এলাকা ও আশপাশে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। পুরো এলাকা ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকধারী অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীয় সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। এবার আশুরা উপলক্ষে হোসেনি দালানে প্রবেশের ক্ষেত্রে রয়েছে যথেষ্ট কড়াকড়ি। পুলিশের পাশাপাশি ইমামবাড়া কর্তৃপক্ষ প্রায় ২০০ স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। ইমামবাড়া সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টায় মিছিলটি হোসেনি দালান থেকে বের হয়ে বকশী বাজার লেন, কলপাড়, উমেশ দত্ত রোড, উর্দু রোড ঢাল, লালবাগ চৌরাস্তা, এতিমখানা রোড, আজিমপুর মেটারনিটি, নীলক্ষেত মোড়, সিটি কলেজ, ধানমণ্ডি-২, রাইফেলস স্কয়ার হয়ে ‘অস্থায়ী কারবালায়’ (বিজিবি সদর দপ্তরের গেটের উল্টো দিকে) মিছিলটি শেষ হবে। এ ছাড়া ১ মহররম থেকে প্রতিদিনই ভিন্ন ভিন্ন অনুষ্ঠান, তাজিয়া মিছিল, শোকসভা, শোক মজলিস, মর্সিয়া মাতম ও ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে অতিবাহিত করছে শিয়া মতাবলম্বীরা। এবার তাজিয়া মিছিলে দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি ইত্যাদি বহন এবং আতশবাজি ও পটকা ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। ইমামবাড়ার স্বেচ্ছাসেবক মাহফুজ আলী বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকে তাজিয়া মিছিলে অংশগ্রহণ করে আসছি। এবার মহরম উপলক্ষে অফিস থেকে পাঁচ দিনের ছুটি নিয়ে এসেছি। এটা আমাদের কাছে আলাদা গুরুত্ব বহন করে।’ ইমামবাড়ার মহররমকেন্দ্রিক নানা আয়োজন দেখতে আসা নাজমা বেগম বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকে মায়ের সঙ্গে এখানে আসতাম। এখনো নিয়মিত আসি।’ মিরপুর থেকে ঘুরতে আসা খোরশেদ আলম বলেন, ‘আমি প্রতিবছর আশুরার সময় এখানে আসি। এবারও এসেছি। এখানে এলে আলাদা কিছু অনুভব করি।’ স্কুলপড়ুয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী বলে, ‘আমরা বন্ধুরা মিলে ১ মহরম থেকে প্রতিদিন আসি। আগামীকাল (মঙ্গলবার) আবার আসব।’ হোসেনি দালান ইমামবাড়ার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মির্জা মো. নকি বলেন, ‘আবহাওয়া প্রতিকূলে থাকলেও সকাল ১০টায় তাজিয়া মিছিল বের হবে। চার শ বছরের ঐতিহ্য আমাদের এই মিছিল। প্রতিবছরের মতো এবারও তাজিয়া মিছিলে প্রায় ৩০-৪০ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করবে বলে আশা করছি।’ আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ে জানতে চাইলে চকবাজার মডেল থানার ওসি সোহরাব হোসেন বলেন, ‘বরাবরের মতো এবারও আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। আমরা পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এখানে কোনো অঘটন ঘটার সম্ভাবনা নেই।
জেনে নিন,ডেঙ্গুজ্বরে আপনার করণীয় কী ?
২৮জুলাই২০১৯,রবিবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম:শরীরে কোন লক্ষণ দেখলে আপনি বুঝবেন যে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন এবং সেক্ষেত্রে আপনার করণীয় কী হতে পারে? আসুন জেনে নেই ডেঙ্গুজ্বর সম্পর্কে ১০টি গুরুত্বর্পর্ণ তথ্য। বিবিসি। ১. ডেঙ্গুর লক্ষণগুলো : সাধারণভাবে ডেঙ্গুর লক্ষণ হচ্ছে জ্বর। ১০১ ডিগ্রি থেকে ১০২ ডিগ্রি তাপমাত্রা থাকতে পারে। জ্বর একটানা থাকতে পারে, আবার ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়ে দেবার পর আবারো জ্বর আসতে পারে। এর সাথে শরীরে ব্যথা মাথাব্যথা, চেখের পেছনে ব্যথা এবং চামড়ায় লালচে দাগ হতে পারে। তবে এগুলো না থাকলেও ডেঙ্গু হতে পারে। ২. জ্বর হলেই ডাক্তারের পরামর্শ নিন: এখন যেহেতু ডেঙ্গুর সময়, সেজন্য জ্বর হল অবহেলা করা উচিত নয়। জ্বরে আক্রান্ত হলেই সাথে-সাথে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। ৩. বিশ্রামে থাকতে হবে: জ্বর হলে বিশ্রামে থাকতে হবে। জ্বর নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করা উচিত নয়। একজন ব্যক্তি সাধারণত প্রতিদিন যেসব পরিশ্রমের কাজ করে, সেগুলো না করাই ভালো। পরিপূর্ণ বিশ্রাম প্রয়োজন। ৪. কী খাবেন: প্রচুর পরিমাণে তরল জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে। যেমন ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ফলের জুস এবং খাবার স্যালাইন গ্রহণ করা যেতে পারে। এমন নয় যে প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে, পানি জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে। ৫. যেসব ঔষধ খাওয়া উচিত নয়: ডেঙ্গু জ্বর হলে প্যারাসিটামল খাওয়া যাবে। স্বাভাবিক ওজনের একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন সর্বোচ্চ চারটি প্যারাসিটামল খেতে পারবে। চিকিৎসকরা বলছেন, প্যারাসিটামলের সর্বোচ্চ ডোজ হচ্ছে প্রতিদিন চার গ্রাম। কিন্তু কোন ব্যক্তির যদি লিভার, হার্ট এবং কিডনি সংক্রান্ত জটিলতা থাকে, তাহলে প্যারাসিটামল সেবনের আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে গায়ে ব্যথার জন্য অ্যাসপিরিন জাতীয় ঔষধ খাওয়া যাবে না। ডেঙ্গুর সময় অ্যাসপিরিন জাতীয় ঔষধ গ্রহণ করলে রক্তক্ষরণ হতে পারে। ৬. প্ল্যাটিলেট বা রক্তকণিকা নিয়ে চিন্তিত?: ডেঙ্গু জ্বরের ক্ষেত্রে প্ল্যাটিলেট বা রক্তকণিকা এখন আর মূল ফ্যাক্টর নয় । প্ল্যাটিলেট কাউন্ট নিয়ে উদ্বিগ্ন হবার কোন প্রয়োজন নেই। বিষয়টি চিকিৎসকের উপর ছেড়ে দেয়াই ভালো। সাধারণত একজন মানুষের রক্তে প্ল্যাটিলেট কাউন্ট থাকে দেড়-লাখ থেকে সাড়ে চার-লাখ পর্যন্ত। ৭. ডেঙ্গু হলেই কি হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়?: ডেঙ্গু জ্বরের তিনটি ভাগ রয়েছে। এ ভাগগুলো হচ্ছে এবি এবংসি,প্রথম ক্যাটাগরির রোগীরা নরমাল থাকে। তাদের শুধু জ্বর থাকে। অধিকাংশ ডেঙ্গু রোগী এ ক্যাটাগরির। তাদের হাসপাতালে ভর্তি হবার কোন প্রয়োজন নেই। বি ক্যাটাগরির ডেঙ্গু রোগীদের সবই স্বাভাবিক থাকে, কিন্তু শরীরে কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়। যেমন তার পেটে ব্যথা হতে পারে, বমি হতে পারে প্রচুর কিংবা সে কিছুই খেতে পারছে না। অনেক সময় দেখা যায়, দুইদিন জ্বরের পরে শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যায়। এক্ষেত্রে হাসপাতাল ভর্তি হওয়াই ভালো। সি ক্যাটাগরির ডেঙ্গু জ্বর সবচেয়ে খারাপ। কিছু-কিছু ক্ষেত্রে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউর প্রয়োজন হতে পারে। ৮. ডেঙ্গুর জ্বরের সময়কাল: সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ থাকে। কারণ এ সময়টিতে এডিস মশার বিস্তার ঘটে। কিন্তু এবার দেখা যাচ্ছে ডেঙ্গু জ্বরের সময়কাল আরো এগিয়ে এসেছে। এখন জুন মাস থেকেই ডেঙ্গুজ্বরের সময় শুরু হয়ে যাচ্ছে। ৯. এডিস মশা কখন কামড়ায়: ডেঙ্গু জ্বরের জন্য দায়ী এডিস মশা অন্ধকারে কামড়ায় না। সাধারণত সকালের দিকে এবং সন্ধ্যার কিছু আগে এডিস মশা তৎপর হয়ে উঠে। এডিস মশা কখনো অন্ধকারে কামড়ায় না। ১০. পানি জমিয়ে না রাখা: এডিস মশা ভদ্র মশা হিসেবে পরিচিত। এসব মশা সুন্দর-সুন্দর ঘরবাড়িতে বাস করে। এডিস মশা সাধারণত ডিম পাড়ে স্বচ্ছ পানিতে। কোথাও যাতে পানি তিন থেকে পাঁচদিনের বেশি জমা না থাকে। এ পানি যে কোন জায়গায় জমতে পারে। বাড়ির ছাদে কিংবা বারান্দার ফুলের টবে, নির্মাণাধীন ভবনের বিভিন্ন পয়েন্টে, রাস্তার পাশে পড়ে থাকা টায়ার কিংবা অন্যান্য পাত্রে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে।
অর্থ জমানোর কৌশল জানেন?
২২জুলাই২০১৯,সোমবার,অনলাইন ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অর্থ জমানোর ইচ্ছা সকলেরই। কিন্তু অনেকেই আছেন যারা অর্থ জমাতে পারে না। অর্থ জমাতে গেলে খরচ করার সময় কিছুটা সতর্ক হতে হয়। আবার নানা কৌশল প্রয়োগ করা যেতে পারে। পরিকল্পনা: দৈনন্দিন আপনার খরচ কত হয় তা একটু চিন্তা করুন। সেখান থেকে আপনি সামান্য কিছু খরচ কমিয়ে জমানো শুরু করলে এক বছর পরে আপনার জমানো টাকা কত হবে ভাবুন। সেটা পাঁচ বছর পর কত হতে পারে? সেজন্য ছোট্ট একটি পরিকল্পনা করুন। এছাড়া আপনার বড় কোনো খরচ থাকলে সেটা কীভাবে সামলাবেন ঠিক করে ফেলুন। আর বর্তমান আপনার যা আয় সেটা সামান্য হলেও কীভাবে বাড়ানো যায় সেই পরিকল্পনা করে এগোতে শুরু করুন। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট: আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা থাকলেই খরচ করতে হবে এমন নয়। খরচ করার আগে চিন্তা করুন আপনার জরুরী প্রয়োজন মেটানোর পর অ্যাকাউন্টে সর্বশেষ কত ছিল। সেটা পরবর্তী মাসে বাড়ে কিনা। প্রতি মাসে জরুরী প্রয়োজন মিটিয়ে সামান্য হলেও অ্যাকাউন্টে ব্যালান্স বাড়াতে থাকুন। ক্রেডিট কার্ডে সতর্কতা: ক্রেডিট কার্ড আপনাকে সব সময় ঋণী করে রাখে। তাই এই কার্ড অযথা ব্যবহার করবেন না। খুব জরুরী প্রয়োজন ছাড়া এড়িয়ে চলুন। ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কেনাকাটায় আপনাকে বেশিরভাগ সময় সুদ দিতে হবে। যা আপনার পকেট থেকে অহেতুক টাকা বের করে নেয়ার মতো। কেনাকাটার আগে ভাবুন: আপনার কোনো কিছু পছন্দ হয়েছে বলে সেটি কিন্তু মন চাইতে পারে। কিন্তু যেকোনো পছন্দের জিনিস কেনার আগে ভাবুন; এটি না কিনলে আপনার কোনো সমস্যা হবে কিনা বা এটি যে কাজে ব্যবহার করবেন সেই কাজ আপনি অন্য কোনো উপায় সারতে পারেন কিনা। যদি না কিনে পারা যায় তাহলে অহেতুক কেন পয়সা খরচ করবেন? পৃথিবীতে পছন্দের শেষ নেই। তাই পছন্দ হলেই যদি কিনতে থাকেন তাহলে আপনার কেনা কখনোই শেষ হবে না। ঋণ শোধ করুন: যদি আপনি ঋণী থাকেন তাহলে বছরের প্রথম থেকেই শোধ করা শুরু করুন। ঋণ মানুষের ব্যক্তিত্ব নষ্ট করে এবং হৃদয়কে ছোট করে দেয়। আপনি ঋণমুক্ত থাকলে স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করতে পারবেন। উপার্জন বাড়ানোর জন্য ব্যক্তিত্ব অন্যতম বিষয়। বিমা বা ডিপোজিট: বছরের শুরুতে একটি বিমা বা ডিপোজিট স্কিম শুরু করুন। সেটা আপনার সাধ্যমতো করুন। পরিমাণ যত ছোটই হোক এটি করলে আপনার সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে উঠবে। পরে এটিকে আপনি বাড়িয়ে ফেলতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান বেছে নিতে হবে।
পাঁচ দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন শুরু হচ্ছে রোববার
১২জুলাই২০১৯,শুক্রবার,বিশেষ প্রতিনিধি ,নিউজ একাত্তর ডট কম:দেশে প্রথমবারের মতো পাঁচ দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন শুরু হচ্ছে। ৩৩৩ প্রস্তাব নিয়ে ডিসি সম্মেলন শুরু হবে রোববার। এই প্রথম স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের জন্য থাকছে আলাদা আলাদা সেশন। প্রতি বছরের মতো এবারো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে সকাল ৯টায় সম্মেলন উদ্বোধন হবে। গতকাল সচিবালয়ে ,জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০১৯ নিয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ তথ্য জানান। এর আগে সাধারণত তিন দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন হতো। এবার ডিসি সম্মেলন ১৪ জুলাই শুরু হয়ে শেষ হবে ১৮ জুলাই। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকারের নীতিনির্ধারক ও জেলা প্রশাসকদের মধ্যে সরাসরি মতবিনিময় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়ার জন্য প্রতি বছর ডিসি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এবার জেলা প্রশাসক সম্মেলনে প্রথমবারের মতো প্রধান বিচারপতি, তিন বাহিনী প্রধান, জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে ডিসিদের বৈঠক হবে। তিনি বলেন, এবার সম্মেলনে মোট ২৯টি অধিবেশন হবে। এর মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে কার্য অধিবেশন ২৪টি। এ ছাড়া একটি উদ্বোধন অনুষ্ঠান, একটি মুক্ত আলোচনা, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও একটি সমাপনী অনুষ্ঠান হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ছাড়া মোট ৫৪টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ অংশগ্রহণ করবে। কার্য অধিবেশন গুলোতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সিনিয়র সচিব ও সচিবরা উপস্থিত থাকবেন। অধিবেশন গুলো হবে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে। কার্য অধিবেশনগুলোতে সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এবার ডিসি সম্মেলন উপলক্ষে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের কাছ থেকে ৩৩৩টি প্রস্তাব পাওয়া গেছে জানিয়ে শফিউল আলম বলেন, জেলা প্রশাসকদের তাৎক্ষণিক যদি কোনো প্রস্তাব থাকে সেটি অধিবেশনে উপস্থাপন হতে পারে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এ বছর সবচেয়ে বেশিসংখ্যক প্রস্তাব পাওয়া গেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ-সংক্রান্ত। এ বিভাগ-সংক্রান্ত প্রস্তাব ২৯টি। এরপর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় (২৬টি প্রস্তাব) ও ভূমি মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত (২০টি) প্রস্তাব পাওয়া গেছে। ১৬ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালনরত বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে দিকনির্দেশনা নেবেন জেলা প্রশাসকরা। ১৮ জুলাই বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ডেপুটি স্পিকারের (স্পিকার না থাকায়) সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ডিসিরা দিকনির্দেশনা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন শফিউল আলম। ১৭ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সকাল পৌনে ৯টা থেকে পৌনে ১০টা পর্যন্ত তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে ডিসিরা বৈঠক করবেন। ডিসি সম্মেলনের প্রধান আলোচ্য বিষয়গুলো তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ পুনর্বাসন কার্যক্রম, স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসৃজন, দারিদ্র বিমোচন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার, শিক্ষার মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ রোধ, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও সমন্বয়। এ বিষয়গুলো মূলত আলোচনায় স্থান পাবে।
১লা জানুয়ারি থেকে ৩০শে জুন পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২,৩২৯
৪জুলাই২০১৯,বৃহস্পতিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:গত ছয় মাসে সারা দেশে ২,১৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২,৩২৯ জন নিহত ও ৪,৩৬১ জন আহত হয়েছেন। নিহতের তালিকায় ২৯১ নারী ও ৩৮১ শিশু রয়েছে। চলতি বছরের ১লা জানুয়ারি থেকে ৩০শে জুন পর্যন্ত জাতীয় মহাসড়ক, আন্ত:জেলা সড়ক ও আঞ্চলিক সড়কসহ সারা দেশে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। গণমাধ্যমকর্মীদের সংগঠন শিপিং এন্ড কমিউনিকেশন রিপোর্টার্স ফোরামের (এসসিআরএফ) জরিপ ও পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ২২টি বাংলা ও ইংরেজি জাতীয় দৈনিক, ১০টি আঞ্চলিক সংবাদপত্র এবং আটটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সংবাদ সংস্থার তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, জানুয়ারিতে ৩৮৩টি দুর্ঘটনায় ৫৩ নারী ও ৭১ শিশুসহ ৪১১ জনের প্রাণহানি এবং ৭২৫ জন আহত হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ৪০১টি দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত হয়েছে যথাক্রমে ৪১৫ জন ও ৮৮৪ জন। এই মাসে নিহতের তালিকায় ৫৮ নারী ও ৬২ শিশু রয়েছে। মার্চে ৩৮৪টি দুর্ঘটনায় ৪৬ নারী ও ৮২ শিশুসহ ৩৮৬ জন নিহত ও ৮২০ জন আহত হয়েছে। এপ্রিলে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩২৭টি। এতে ৩৪০ জন নিহত ও ৬১০ জন আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৩৮ নারী ও ৫৩ শিশু রয়েছে। মে মাসে ২৯৭টি দুর্ঘটনায় ৪৭ নারী ও ৪৪ শিশুসহ ৩৩৮ জন নিহত হয়েছে। এ সময়ে আহত হয়েছে ৫০৪ জন। জুনে দুর্ঘটনার সংখ্যা ৩৬৭। এতে ৪৩৯ জন নিহত ও ৮১৮ জন আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা যথাক্রমে ৪৯ ও ৬৯।
বাংলাদেশের গণমাধ্যম খুব বেশি স্বাধীন নয়,ফ্রিডম হাউজের প্রতিবেদন
৮জুন২০১৯,শনিবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম:রাজনৈতিক স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থা ফ্রিডম হাউজ সমপ্রতি বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই পর্যবেক্ষণ সংস্থা বিশ্বের দেশগুলোতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর ০ থেকে ৪ পয়েন্ট ধরে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। এতে বাংলাদেশ পেয়েছে ১ পয়েন্ট। অপরদিকে গণমাধ্যমের সবথেকে বেশি স্বাধীনতা নিশ্চিতকারী দেশগুলো পেয়েছে ৪ পয়েন্ট। এর মধ্যে রয়েছে সুইডেন, যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, উরুগুয়েসহ মোট ২৬টি দেশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত পেয়েছে ২ পয়েন্ট, পাকিস্তান ১ পয়েন্ট, নেপাল ২ পয়েন্ট, ভুটান ২ পয়েন্ট, আফগানিস্তান ২ পয়েন্ট, মালদ্বীপ ১ পয়েন্ট ও শ্রীলঙ্কা ২ পয়েন্ট। বাংলাদেশের বিষয়ে এই প্রতিবেদনে বলা হয়, এদেশের গণমাধ্যম খুব বেশি স্বাধীন নয়। এতে চিত্রগ্রাহক শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তারের কথা উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের খবর প্রচার করায় ও তাদের পক্ষে কথা বলায় শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বাংলাদেশে ব্লগার হত্যা ও তাদের লেখালেখির ওপর কড়াকড়ির সমালোচনা করেছে ফ্রিডম হাউজ। সংস্থাটির দাবি, বাংলাদেশের সাংবাদিকরা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা হারানো, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের ভয়ে সেলফ-সেন্সরশিপের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। ফ্রিডম হাউজের গবেষণা ও বিশ্লেষণ বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক সারাহ রেপুচ্চি গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে নিম্নমুখী রাস্তার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি এ গবেষণায় উঠে আসা প্রধান দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। এতে তিনি লিখেছেন, গত এক দশকে বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের স্বাধীনতা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় সংকুচিত হয়েছে। বিশ্বের প্রভাবশালী গণতন্ত্রগুলোতে পপুলিস্ট নেতাদের উত্থান হয়েছে। যারা মুক্ত গণমাধ্যমের গলা চিপে ধরছে। তবে, বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের স্বাধীনতা শুধু সংকুচিতই হয়নি কিছু দেশে এ অবস্থার উন্নতিও লক্ষ্য করা গেছে বলে জানিয়েছে ফ্রিডম হাউজ। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে- ইথিওপিয়া, মালয়েশিয়া, আর্মেনিয়া, ইকুয়েডর ও গাম্বিয়া। এই ৫টি দেশকে অন্ধকারে আলোর পথযাত্রী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সারাহ রেপুচ্চি। এ ছাড়া, আরব বসন্তের পর মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পূর্বের তুলনায় বেড়েছে বলে জানিয়েছে ফ্রিডম হাউজ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে কর্তৃত্ববাদী সরকার ও প্রভাবশালী মহলের চাপেই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দিনদিন হুমকির মুখে পড়ছে। সাংবাদিকরা নানান ধরনের বাধার মুখোমুখি হচ্ছেন। তাদের ওপর গ্রেপ্তার ও নির্যাতন বাড়ছে বলেও জানানো হয়েছে ওই প্রতিবেদনে। তবে দুর্বল গণতন্ত্র ও নতুন গণতন্ত্রের দেশগুলোতে সবথেকে বেশি চাপের মুখে রয়েছেন তারা। এ ছাড়া চীন ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে শোচনীয় বলে উল্লেখ করেছে ফ্রিডম হাউজ। তাদের তালিকায় চীন পেয়েছে শূন্য পয়েন্ট। সংস্থাটির দাবি, চীন ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশের সরকার তাদের গণমাধ্যমগুলোকে নিজস্ব মতামত চাপিয়ে দিচ্ছে। চীনে সরকারের মতবাদ প্রকাশে সাংবাদিকদের ওপর চাপ দেয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে এ প্রতিবেদনে। এ ছাড়া চীনের প্রতি সংবাদ সেন্সরের অভিযোগও আনে ফ্রিডম হাউজ। ইউরেশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর বিষয়ে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের তুলনায় এ অঞ্চলের দেশগুলোতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ১১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিকদের নানা সুবিধা থাকা সত্ত্বেও তারা কিছুটা চাপ অনুভব করেন বলে এই প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়। এ নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
ইসলামে সাংবাদিকতা একটি আমানত
৪জুন২০১৯,মঙ্গলবার,অনলাইন ডেক্স,নিউজ একাত্তর ডট কম: সাংবাদিকতা এক মহান, মহৎ, মর্যাদাশীল ও দায়িত্বপূর্ণ পেশা। সত্য প্রকাশে আপসহীনতাই একজন আদর্শ সাংবাদিকের মৌলিক বৈশিষ্ট। নতজানু সাংবাদিক দেশ, জাতি ও গণমাধ্যমের বড়শত্রু। সাংবাদিকতা শব্দটি এসেছে সংবাদ থেকে, যার ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো নিউজ আর আরবি প্রতিশব্দ হলো খবর, হাদিস, কিসসা বা নাবা। এই নাবা থেকেই নবী; নবী শব্দের অর্থ সংবাদদাতা, সংবাদ বাহক, দূত ইত্যাদি। এই দৃষ্টিতে প্রত্যেক নবীকেই একেকজন সাংবাদিক বলা যায়।সূত্রঃ আমাদের সময় ।কোরআন ও হাদিসে নাবা শব্দটি অনেকবার এসেছে। ৩০তম পারার প্রথম সূরাটির নাম আন-নাবা তথা সংবাদ। মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) এর যত বাণী রয়েছে সেগুলোকে খবর বা সংবাদ বলা হয়েছে। তিনি সাহাবিদের উপদেশ দিতে গিয়ে এভাবে উল্লেখ করেছেন,আমি কী তোমাদেরকে এমন সংবাদ দিব না যার ওপর আমল করলে তোমরা জান্নাতে যেতে পারবে?যেহেতু প্রত্যেক নবী-রাসূল আল্লাহর দেয়া সংবাদ পৃথিবীর মানুষদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন সেহেতু তাঁরা মূলত ইসলামি সাংবাদিকতা তথা ইসলামের সংবাদ কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আরো বুঝা গেল, সাংবাদিকতা এক মহান, মহৎ, মর্যাদাশীল ও দায়িত্বপূর্ণ পেশা। ইসলামি সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি- ইসলামে সাংবাদিকতার গুরুত্ব অপরিসীম। দাওয়াত তথা আল্লাহর দিকে মানুষকে আহ্বান করা ইসলামের অন্যতম ইবাদত। আর সাংবাদিকতা কিছুতেই দাওয়াত বিমুক্ত হতে পারে না। তাই ইসলামে সাংবাদিকতার মূল ভিত্তি তিনটি- (এক) দাওয়াত ইলাল খাইর তথা কল্যাণের পথে আহ্বান। (দুই) সৎ, সত্য ও ন্যায়ের আদেশ। (তিন) অসৎ, অসত্য ও অন্যায় থেকে বাধা প্রদান। ইসলামি সাংবাদিকতার নীতিমালা- আমানত বা বিশ্বস্ততা রক্ষা করা: ইসলামে সাংবাদিকতা একটি আমানত। আর এর দাবী হচ্ছে, যেকোনো তথ্য ও সংবাদকে বস্তুনিষ্ঠভাবে গণমাধ্যমে তুলে ধরা। নিজস্ব চিন্তা কিংবা দল-মতের রংচং মাখিয়ে সংবাদকে আংশিক বা পুরোপুরি পরিবর্তন করে উপস্থাপন করা ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম। আল্লাহ বলেন, হে ইমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো।(সূরা আল আহজাব-৭০) আমানতের খেয়ানত ইসলামে কঠোরভাবে নিষেধ আল্লাহ বলেন, হে ঈমানদারগণ! খেয়ানত করোনা আল্লাহর সঙ্গে ও রাসূলের সঙ্গে এবং খেয়ানত করো না নিজেদের পারস্পরিক আমানতে জেনে-শুনে। (সূরা আল আনফাল-২৭) খবরের সত্যতা যাচাই: ইসলামে সততা ও সত্যবাদীতার গুরুত্ব অপরিসীম। মিথ্যা বলা মহাপাপ বা কবিরা গুনাহ। আনাস (রা.) বলেন, রাসূল (সা.)-কে কবিরা গুনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বললেন, আল্লাহর সঙ্গে কাউকে অংশীদার সাব্যস্ত করা, মা-বাবার অবাধ্য হওয়া। কাউকে হত্যা করা আর মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া। (বুখারি) তাই সংবাদের তথ্য যাচাই ও সত্যতা নিরুপণ করা সাংবাদিকের অপরিহার্য কর্তব্য। শোনা কথা বা ব্যক্তি বিশেষের দেয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করে সংবাদ পরিবেশন জায়েয নয়। মহান আল্লাহ বলেন, হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী তোমাদের কাছে কোনো বার্তা নিয়ে আসে, তোমরা তা পরীক্ষা করে দেখবে। যাতে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি সাধনে প্রবৃত্ত না হও এবং পরে যাতে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য তোমাদের অনুতপ্ত হতে না হয়। (সূরা আল হুজুরাত-৬) প্রিয়নবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন,যা শুনবে, তা-ই (যাচাই করা ছাড়া) প্রচার করা মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য যথেষ্ট। (মুসলিম শরিফ) তথ্য গোপন রোধ: ব্যক্তি স্বার্থ, দলীয় স্বার্থ কিংবা নিজস্ব চিন্তা-চেতনা বিরোধী হওয়ায় অনেকে প্রাপ্ত তথ্য গোপন করে থাকে। নিউজ রুমে অনেক নিউজ কিল করা হয়। এটি ইসলাম সমর্থন করেনা। সত্য ও সাক্ষ্য গোপন করা আল কোরআনের দৃষ্টিতে অসুস্থ মনমানসিকতার পরিচায়ক। আল্লাহ বলেন, আর তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না, আর যে ব্যক্তি তা গোপন করে, অবশ্যই তার অন্তর পাপী। (সূরা আল বাকারা-২৮৩) প্রিয় নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন,আল্লাহ ওই ব্যক্তির চেহারা উজ্জ্বল করুন; যে আমার কথা শুনে অতঃপর তা হুবহু ধারণ করে অবিকল অন্যের কাছে পৌঁছে দেয়।(তিরমিজি শরিফ) ব্যক্তিস্বার্থে কাউকে দোষারোপ করা যাবে না: আক্রোশ তাড়িত হয়ে কাউকে হেয় করার মানসে তার ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা খুবই অন্যায়। আল্লাহ তায়ালা বলেন,হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর উদ্দেশে সাক্ষ্যদানের ব্যাপারে নীতিবান থাকবে এবং কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ তোমাদের কখনো যেন সুবিচার বর্জনে প্ররোচিত না করে।(সূরা মায়েদা : ৮) ব্যক্তি অধিকার ও জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট না হলে কারো দোষ-ক্রটি জনগণের সামনে তুলে ধরার অনুমতি ইসলাম দেয় না। বরং প্রিয় নবী (সা.) মানুষের ব্যক্তিগত দোষ-ক্রটি গোপন রাখতে উৎসাহ দিয়েছেন। আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,যে দুনিয়াতে কোনো বান্দার দোষ গোপন রাখে, আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন তার দোষ গোপন রাখবেন।(মুসলিম ও বুখারি) মনে রাখা দরকার, কোনো ব্যক্তির দোষ তার অগোচরে বর্ণনা করার নাম হলো গীবত। গীবত বা পরনিন্দা মহাপাপ। কোরআনে একে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। হাদিস শরীফে গীবতকে ব্যাভিচারের চেয়েও মারাত্মক বলা হয়েছে। আর অপবাদের গুনাহ এর চাইতেও ভয়াবহ। অতএব প্রত্যেক সাংবাদিককে কারো ব্যাপারে নেতিবাচক সংবাদ প্রচার করার আগে অনেকবার চিন্তা করা উচিত। তবে ব্যক্তির দোষ-ত্রুটি যদি এমন পর্যায়ের হয় যে, তার দ্বারা অন্য ব্যক্তি, সমাজ কিংবা রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে তার অত্যাচার, দুর্নীতি ও প্রতারণা থেকে জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে তার আসল চেহারা তুলে ধরতে অসুবিধা নেই। এ বিষয়ে ইসলাম বিশেষ ছাড় দিয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন,আল্লাহ মন্দ কথার প্রচার-প্রসার পছন্দ করেন না, কিন্তু যার ওপর জুলুম করা হয়েছে (তার কথা ভিন্ন)।-(সূরা নিসা-১৪৮) তাফসিরবিদ আল্লামা মুজাহিদ (রহ.) বলেন, এ আয়াতের উদ্দেশ্য হলো, নিপীড়িত জনতার সপক্ষে গিয়ে জালিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা এবং বিষয়টি জনসম্মুখে প্রকাশ করা বৈধ। সত্য প্রকাশে আপোস নয়: অপশক্তির কাছে মাথা নত না করে নির্ভীকচিত্তে সংবাদ পরিবেশন করাই ইসলামের দাবি। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন,অত্যাচারী শাসকের সামনে ন্যায়বিচারের বাণী তুলে ধরা বড় জিহাদ।(তিরমিজি) মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.) তার সাথীদের এই আদর্শেই গড়ে তুলেছিলেন। হজরত মুয়াজ (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) আমাকে বলেছেন,হে মুয়াজ, তুমি সত্যই বলবে, যদিও তা তিক্ত হয়। আল্লাহর ব্যাপারে কোনো নিন্দুকের নিন্দাকের নিন্দা যেন তোমাকে প্রভাবিত না করে। মহান আল্লাহ বলেন,যারা অত্যাচার করেছে, তোমরা তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়ো না; অন্যথায় জাহান্নামের আগুন তোমাদের স্পর্শ করবে। (সূরা হুদ- ১১৩) তাই পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ বর্জন এবং নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন সাংবাদিক সমাজের কর্তব্য। অনুমান নির্ভর সংবাদ নয়: কোনো বিষয়ে সংবাদ পরিবেশনের আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সঠিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা ইসলামী শরীয়ার অন্যতম বিধান। সুস্পষ্ট প্রমাণ ছাড়া শুধু অনুমান ও জনশ্রুতি নির্ভর সংবাদ পরিবেশন করা প্রচলিত ও ইসলামী সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী। এ বিষয়ে আল্লাহর নির্দেশ,যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ করো না; নিশ্চয়ই কান, চোখ, অন্তর- এগুলোর প্রতিটি সম্পর্কে কৈফিয়ৎ তলব করা হবে।(সূরা বনি ইসরাঈল-৩৬) হে মুমিনগণ! তোমরা অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাক। নিশ্চয় কতক ধারণা গোনাহ।(সূরা আল হুজরাত-১২) গুজব ও মিডিয়া সন্ত্রাস কাম্য নয় সংবাদ কখনো গুজবের জন্য হতে পারেনা, এবং তা হতে পারেনা কাউকে বিভ্রান্ত বা প্রতারণা করার জন্য। গুজব ও মিডিয়া সন্ত্রাসের কারণে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে , সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হয় এবং দেশ জুড়ে দেখা দেয় বিশৃংখলা। তাই এটা সম্পূর্ণ বর্জনীয়। আল্লাহ বলেন,এবং পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করতে প্রয়াসী হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ অনর্থ সৃষ্টিকারীদেরকে পছন্দ করেন না। (সূরা কাসাস ৭৭) ইসলাম সাংবাদিকের সত্য বলার অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। তাই সত্য প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে জাতির বিবেক সাংবাদিকদের ভূমিকা হবে আপোসহীন। উচ্চারিত হবে তাদের কন্ঠে তাদেরই অগ্রজ সাংবাদিক বিদ্রোহী কবির শ্লোগান অসত্যের কাছে কভু নত নাহি হবে শীর, ভয়ে কাঁপে কাপুরুষ লড়ে যায় বীর।একজন মুসলিম সাংবাদিক ইসলামী বিধি-বিধানের আলোকে সংবাদ কার্যক্রম পরিচালনা করলে তা হবে ইবাদত এবং ইহপরকালীন জীবনের মুক্তির কারণ। এর ব্যতিক্রম হলেই একজন সংবাদকর্মী হয়ে যাবেন দুনিয়া ও আখেরাতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ। আল্লাহ আমাদের সকলকে বুঝার ও মানার তাওফিক দান করুন। আমিন।

বিশেষ প্রতিবেদন পাতার আরো খবর