উপকূলরক্ষী বাহিনীর ক্ষমতা বাড়িয়েছে চীন
০২,মে,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতের সঙ্গে চীনের বৈরী সম্পর্কের মধ্যেই উপকূলরক্ষী বাহিনীর ক্ষমতা বাড়াল চীন। সম্প্রতি দেশটির উপকূলরক্ষী বাহিনীর ক্ষমতা বাড়াতে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার নিজেদের উপকূলরক্ষী বাহিনীর ক্ষমতা বাড়াতে নতুন আইন প্রণয়ন করেছে চীন। বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের এক বৈঠকে ওই সর্বশেষ আইনটি পাস হয়েছে। সেপ্টেম্বর থেকেই এই আইন কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। এই নতুন আইনে আন্তর্জাতিক জলসীমায় চীনের দাবি করা জলরাশি থেকে বিদেশি জাহাজ বা নৌকাগুলোকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিতে পারবে কমিউনিস্ট দেশটির উপকূলরক্ষী বাহিনী। পূর্ব চীন সাগরে জাপানের সেনকাকু দ্বীপকে বরাবরই নিজেদের বলে দাবি করে আসছে বেইজিং। এবার নতুন আইন পাশ হওয়ায় সেখানে চীনের উপকূলরক্ষী বাহিনী আগ্রাসী হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের। গত ফেব্রুয়ারি মাসে অনুপ্রবেশ করলে বিদেশি যানগুলোর ওপর হামলা চালানোর অধিকার দিয়ে নিজেদের উপকূলরক্ষী বাহিনীকে আরও আগ্রাসী করে তুলেছে শি জিনপিংয়ের প্রশাসন। সাগরে চীনা নৌবহরের আগ্রাসী কার্যকলাপের কথা মাথায় রেখে গত মার্চে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের উপকূলরক্ষী বাহিনীর মধ্যে। তাইওয়ানে যুক্তরাষ্ট্রের ডি ফ্যাক্টো দূতাবাস আমেরিকান ইন্সটিটিউট থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে উপকূলরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, তথ্যের আদানপ্রদান ও কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়টি রয়েছে। গত বছর চীনের ওপর চাপ বাড়িয়ে তাইওয়ানকে মিসাইল দেওয়ার কথা ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। সেসময় ১০০টি হারপুন ক্ষেপণাস্ত্র বা কোস্টাল ডিফেন্স সিস্টেম বিক্রির সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেয় তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এই অস্ত্র চুক্তি যে চীনের উপর চাপ বাড়িয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এর আগে গত ১০ আগষ্ট চীনের আপত্তি থাকলেও তাইওয়ান সফরে গিয়েছিলেন মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী অ্যালেক্স আজার।
৬.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো জাপান
০১,মে,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাপানের উত্তরপূর্বাঞ্চলে আঘাত হেনেছে ৬ দশমিক ৮ মাত্রার প্রবল শক্তিশালী ভূমিকম্প। বাংলাদেশ সময় শনিবার (১ মে) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ভয়াবহ এ কম্পনে কেঁপে ওঠে দেশটি। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখনো সুনামির কোনো সতর্কতা জারি হয়নি। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, আজ সকালে দেশটির রাজধানী টোকিও পর্যন্ত ভূকম্পন অনুভূত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ (ইউএসজিএস) জানায়, মিয়াগি শহরের ইশিনোমাকি উপকূলে প্রশান্ত মহাসাগরের ৪৭ কিলোমিটার গভীরে ছিলো এ ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল। ওই এলাকার কাছেই আরেক কেন্দ্র থেকে ২০১১ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পটি সৃষ্টি হয়েছিল, যার ফলে সৃষ্ট সুনামিতে ১৮ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিলো। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা জানায়, আজকের ভূমিকম্পে সুনামির আশঙ্কা দেখা যায়নি। তবে পশ্চিম উপকূলের অনেক অংশে ভারী কম্পন অনুভূত হয়, এমনকি কেঁপে ওঠে টোকিও শহরও। এএফপিকে স্থানীয় সরকারের মুখপাত্র তোমোকি সাওয়াতা বলেন, আমরা এখনো তথ্য সংগ্রহ করছি। তবে এখন পর্যন্ত হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। গত মার্চে জাপানের উত্তর-পশ্চিম উপকূলে আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিলো। রিখটার স্কেলে ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিলো ৭ দশমিক ২। তখন সুনামির সতর্কতা জারি করেছিলো কর্তৃপক্ষ। তবে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।
জরুরি ব্যবহারে মডার্নার টিকার অনুমোদন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার
০১,মে,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে ব্যবহারে মডার্নার তৈরি টিকার অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট পাঁচটি টিকার অনুমোদন দিল সংস্থাটি। গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে ডব্লিউএইচও বলেছে, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুততম সময়ে যত বেশি সম্ভব ওষুধ, টিকা ও ডায়াগনস্টিক সহজলভ্য করাই তাদের লক্ষ্য। সংস্থাটির সহকারী মহাপরিচালক মারিয়াঞ্জেলা সিমাও বলেছেন, ভারতসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে টিকা সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এ কারণে আরও বেশি টিকা সহজলভ্য করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। করোনাভাইরাসের ভয়াবহ সংক্রমণের মুখে গত মার্চ থেকে বিদেশে টিকা রফতানি বন্ধ রেখেছে ভারত। এ অবস্থায় চলতি সপ্তাহে মার্কিন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি মডার্না ঘোষণা দিয়েছে, ২০২২ সালের মধ্যে তারা ৩০০ কোটি ডোজ পর্যন্ত টিকা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। গত জানুয়ারিতেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার টিকাদান সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ গ্রুপ (এসএজিই) ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে মডার্নার টিকা ব্যবহারের সুপারিশ করেছিল। মডার্নার মতো এমআরএনএ প্রযুক্তিতে তৈরি ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা গত বছরের শেষদিকে জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দেয় ডব্লিউএইচও। এরপর থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকা-এসকে বায়ো, সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া এবং জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকার নাম ওই তালিকায় যোগ করেছে জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থাটি। চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোফার্ম ও সিনোভ্যাকের টিকার বিষয়টি এখনো পর্যালোচনা করছে ডব্লিউএইচও। আগামী সপ্তাহের শেষদিকে এর সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
ইসরায়েলে ধর্মীয় উৎসবে পদদলিত হয়ে নিহত ৪৪
৩০,এপ্রিল,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইসরায়েলে একটি ধর্মীয় উৎসবে পদদলিত হয়ে শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) ৪৪ জন নিহত হয়েছেন। জরুরি সেবাকর্মীরা উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছে। এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, মেরন পর্বতের পাদদেশে লাগ বি ওমের নামের এই ধর্মীয় উৎসবে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গতবছর করোনাভাইরাসের বিধিনিষেধের কারণে এই ধর্মীয় উৎসব বন্ধ ছিল। তবে এ বছর সফলভাবে ভ্যাকসিন কার্যক্রম পরিচালনা করায় এবং করোনা নিয়ন্ত্রণে চলে আসায় এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে এটি ছিল বড় গণজমায়েত। প্রথম দিকে মনে হয়েছিল, উৎসবস্থলে স্টেডিয়ামের কোনো অংশ ভেঙে পড়ায় এই ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু পরবর্তীতে জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, সেখানে পদদলিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এদিকে ইসরায়েলের উদ্ধার সেবা বিভাগের মুখপাত্র এএফপিকে বলেছেন, ঘটনাস্থলেই ৩৮ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া হাসপাতালে মারা গেছেন বেশ কয়েকজন। জিআইভি হাসপাতালের একটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছেন, তারা ৬টি লাশের তথ্য রেকর্ড করেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই ঘটনাকে বড় বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং আহতদের জন্য দোয়া করছেন। ইসরায়েল দেশটির অর্ধেকেরও বেশি মানুষ করোনার ভ্যাকসিন প্রদান করেছে। তবে গণজমায়েতের বিষয়ে বিধিনিষেধ ছিল। কর্তৃপক্ষ ১০ হাজার মানুষের জমায়েতের অনুমোদন দিয়েছিল। তবে আয়োজকরা জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ৬৫০টিরও বেশি বাসে করে ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। অনুষ্ঠানের নিরাপত্তায় প্রায় ৫ হাজার পুলিশ মোতায়েন ছিল।
চন্দ্রজয়ের অভিযানের সদস্য মাইকেল কলিন্স আর নেই
২৯,এপ্রিল,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার অ্যাপোলো-১১র চন্দ্রজয়ের অভিযানের অন্যতম সদস্য মাইকেল কলিন্স আর নেই। ক্যানসারের সঙ্গে লড়ে ৯০ বছর বয়সে বুধবার (২৮ এপ্রিল) তিনি মারা যান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার ওয়েবসাইটে মাইকেল কলিন্সের মৃত্যুতে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, টুইটারে মাইকেল কলিন্সের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টে এক বিবৃতিতে কলিন্সের পরিবার বলেছে, মাইক সব সময়ই নম্রতা আর কমনীয়তার সঙ্গে জীবনের চ্যালেঞ্জগুলো গ্রহণ করেছেন। তিনি একইভাবে তার জীবনের শেষ চ্যালেঞ্জটিও গ্রহণ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে ১৯৬৯ সালের ১৬ জুলাই মনুষ্যবাহী মহাকাশযান উৎক্ষেপণের মাধ্যমে শুরু হয় নাসার অ্যাপোলো-১১ অভিযানের চূড়ান্ত পর্ব। ২০ জুলাই চাঁদের বুকে পা রেখে ইতিহাস গড়েন এই অভিযানের তিন নভোচারীর একজন নীল আর্মস্ট্রং। এর কিছুদিন পর চাঁদের বুকে দ্বিতীয় মানব হিসেবে পা রাখেন বাজ অলড্রিন। সে সময় চাঁদের চারপাশ ঘিরে কক্ষপথে মূল মহাকাশযান কমান্ড মডিউল কলাম্বিয়া নিয়ে একা চক্কর দিচ্ছিলেন মাইকেল কলিন্স। এই তিন নভোচারী আট দিন মহাকাশে কাটিয়ে ২৪ জুলাই পৃথিবীতে ফিরে আসেন।
তীব্র ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল আসাম
২৮,এপ্রিল,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ভারতের উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলা। কম্পন অনুভূত হয়েছে দক্ষিণবঙ্গেও। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৬.৪। অসমের গুয়াহাটির কাছে শোনিতপুরে ভূপৃষ্ঠের থেকে ২১.৪ কিলোমিটার নীচে ভূমিকম্পের উৎসস্থল বলে জানা গেছে। বুধবার সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে শোনিতপুরে প্রথম কম্পন অনুভূত হয়। এরপরে আবারও ৭টা ৫৪ মিনিট নাগাদ কম্পন অনুভূত হয়। উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং, কালিম্পং প্রভৃতি জেলায় কেঁপে ওঠে পায়ের তলার মাটি। এ ছাড়া মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলাতেও কম্পন অনুভব করেন বাসিন্দারা। এমনকি কলকাতাতেও মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সাতসকালে কম্পন শুরু হতেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে। অনেকেই বাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। বেশ কিছু জায়গায় বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে বলে খবর। বেশ কয়েকটি বাড়ি ও রাস্তাতেও ফাটল ধরেছে অনেক জায়গায়। তবে ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনও জানা জায়নি।
ভারতের অবস্থা হৃদয়বিদারকের চেয়েও বেশি কিছু : ডব্লিউএইচও প্রধান
২৭,এপ্রিল,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঊর্ধ্বগতিতে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান টেড্রোস আধানম ঘেব্রিয়াসুস। সতর্কবাণী উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ভারতের রেকর্ড সংক্রমণ হৃদয়বিদারকের চেয়েও বেশি কিছু। এই সঙ্কট মোকাবিলায় দেশটির পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। রোববার (২৬ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি। করোনাভাইরাস সংক্রমণের জেরে যখন ভারতের হাসপাতালগুলোর অবস্থা নাজেহাল, তখন এসব কথা বললেন তিনি। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ভারতীয় হাসপাতালগুলো করোনা রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। দেখা দিয়েছে তীব্র অক্সিজেন সঙ্কট। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে রোগীদের স্বজনরা হাসপাতালের বেড এবং অক্সিজেনের সহায়তা চেয়ে মর্মস্পর্শী পোস্ট দিচ্ছেন। এমন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আরও এক সপ্তাহ লকডাউনের মেয়াদ বাড়িয়েছে রাজধানী দিল্লি। টেড্রোস বলেন, জরুরি সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে ডব্লিউএইচও তার সবটুকু করছে। অন্যান্য সহায়তার পাশাপাশি হাজার হাজার অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর পাঠাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, জানান তিনি। ডব্লিউএইচও জানায়, ইতোমধ্যে তারা ভারতে বিভিন্ন প্রোগ্রামের ২৬০০ বিশেষজ্ঞ পাঠিয়েছে। নতুন করে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কেন্দ্রস্থল হয়ে ওঠায় ভারত সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। বাড়িতেও মাস্ক পরে থাকার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সেবা দিতে ফেরানো হচ্ছে অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসকদেরও। সহায়তার হাত বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যও। আরও কয়েকটি রাষ্ট্র সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। সহায়তার হাত বাড়িয়েছে সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগলও।
ইন্দোনেশিয়ার নিখোঁজ সাবমেরিনটি তিন টুকরা, সবাই নিহত
২৬,এপ্রিল,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কয়েকদিন আগে নিখোঁজ হওয়া ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর সাবমেরিনটিকে তিন খণ্ডের টুকরা অবস্থায় সমুদ্রের নীচে পাওয়া গেছে। ডুবোজাহাজটিতে যে ৫৩ জন ক্রু ছিলেন তাদের সবাই মারা গেছেন। রোববার (২৫ এপ্রিল) দেশটির সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারা বলেছেন, সাবমেরিনটির কাছ থেকে সবশেষ যে বার্তা পাওয়া গেছে তাতে জানা যায় এটি সমুদ্রের আটশ মিটার গভীরে ডুবে গেছে। সিঙ্গাপুরের কাছ থেকে ধার নেওয়া একটি উদ্ধারকারী যানের সাহায্যে ছবি তুলে তারা এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন। সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে গতকাল রোববার জানানো হয় যে, জাহাজের কিছু ভগ্নাবশেষ ও জায়নামাজের মতো কিছু জিনিস উদ্ধার করার পর তারা নিশ্চিত হন যে জাহাজটি ডুবে গেছে। স্ক্যান থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, সাবমেরিনটি সমুদ্রের সাড়ে আটশ মিটার গভীরে নিমজ্জিত অবস্থায় রয়েছে। সচল অবস্থায় এত গভীরে যাওয়ার সক্ষমতা এই সাবমেরিনের নেই। নৌবাহিনীর প্রধান ইওদো মারগোনো রোববার বলেছেন, জাহাজ থেকে ভেসে আসা আরও কিছু জিনিস উদ্ধার করা হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে সাবমেরিনের নোঙর এবং ক্রুদের নিরাপত্তা স্যুট। তিনি বলেন, কেআরআই নানগালা ভেঙে তিন টুকরো হয়ে গেছে। জাহাজের খোল, জাহাজের পেছনের অংশ এবং জাহাজের মূল অংশ- সব আলাদা হয়ে গেছে। প্রধান অংশও ভেঙে গেছে বলেন তিনি। সাবমেরিনটি মহড়া চালানোর সময় গত বুধবার নিখোঁজ হয়ে যায়। তখন কর্মকর্তারা বলেছিলেন, জাহাজটি যখন নিখোঁজ হয়ে যায় তখন তাতে তিনদিনের অক্সিজেন মজুদ ছিল। এর আগে শনিবার (২৪ এপ্রিল) নৌবাহিনীর প্রধান ইওদো মারগোনো বলেছিলেন, যেখান থেকে সাবমেরিনটি নিখোঁজ হয়েছে তার কাছেই এর কিছু অংশ পাওয়া গেছে। তিনি বলেছেন, স্ক্যান করে দেখা গেছে ডুবোজাহাজটি সমুদ্রের যতোটা গভীরে চলাচল করতে পারে, এটি তার চেয়েও অনেক গভীরে তলিয়ে গেছে। একারণেই তারা সাবমেরিনটি ডুবে যাওয়ার কথা ঘোষণা করছেন। বালি দ্বীপের কাছে সমুদ্রে গত বুধবার মহড়ায় অংশ নেয় কেআরআই নাংগালা-৪০২ নামের এই সাবমেরিনটি। এসময় এটি ডুব দেওয়ার জন্য অনুমতি চাইছিল। জার্মানির তৈরি এই সাবমেরিনটি ৪০ বছরেরও বেশি পুরনো। ১৯৭০ এর দশকের শেষের দিকে তৈরি করা হয়েছিল এটি। তবে ২০১২ সালে এতে কিছু কাজ করা হয়। ইন্দোনেশিয়ার পাঁচটি সাবমেরিন আছে। দেশটির ইতিহাসে এই প্রথম কোনও সাবমেরিন নিখোঁজ হলো এবং শেষ পর্যন্ত সেটি আর ফিরে এলো না।
ইন্দোনেশিয়ায় নিখোঁজ সাবমেরিনের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে
২৪,এপ্রিল,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইন্দোনেশিয়ায় নিখোঁজ সাবমেরিনের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির নৌবাহিনীর প্রধান ইয়ুডো মারগোনো। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। খবর সিএনএনের। সমুদ্রে ছয়টি ধ্বংসাবশেষের টুকরা পাওয়া গেছে যা বুধবার বালি সাগরে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া সাবমেরিনটির বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এগুলো সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। ইয়ুডো জানান, এসব ধ্বংসাবশেষের মধ্যে রয়েছে এক বোতল গ্রিজ, একটি টর্পেডো লাঞ্চারের অংশ, একটি ধাতব টিউবের অংশ, জায়নামাজ ও জ্বালানি। এগুলো সমুদ্রে একটি জায়গায় ভাসতে দেখা যায় যেখানে পানির গভীরতা ৮৫০ মিটার। সাবমেরিনটিতে যে পরিমাণ অক্সিজেন ছিল তাতে আরোহীদের শনিবার সকাল পর্যন্ত বেঁচে থাকার কথা। এই সময়ের মধ্যে উদ্ধার করতে না পারায় ৫৩ জন আরোহীর সকলেই মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইয়ুডো জানান, কেআরআই নাংগালা-৪০২ সাবমেরিনটিতে করে আগে যারা মিশনে গিয়েছেন তারা নিশ্চিত করেছেন এই ধ্বংসাবশেষগুলো ওই সাবমেরিনেরই। সাবমেরিনের পেরিস্কোপে আরোহীরা যে গ্রিজ ব্যবহার করতেন তার সঙ্গে খুঁজে পাওয়া বোতলের গ্রিজ মিলে গেছে। ইয়ুডো বলেন, সাবমেরিনে বিস্ফোরণ হয়েছে এমনটা মনে করা হচ্ছে না। তবে পানির প্রচণ্ড চাপে হয়তো এতে কোনো ফাটল তৈরি হয়েছে আর সেখান থেকেই এই ধ্বংসাবশেষগুলো বেরিয়ে পড়েছে। বুধবার সকালে টর্পেডো মহড়ার অনুমতি চাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই হঠাৎ করে সাবমেরিনটি নিখোঁজ হয়ে যায়। এরপর সাগরে ব্যাপক অনুসন্ধান তৎপরতা শুরু হয়। কমপক্ষে ৬টি যুদ্ধ জাহাজ, একটি হেলিকপ্টার ও ৪০০ উদ্ধারকর্মী এ অনুসন্ধানে অংশ নিয়েছে। সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া সাহায্যের জন্য জাহাজ পাঠিয়েছে। উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও। দেশটির পি-৮ পসাইডন সাবমেরিন অনুসন্ধানী বিমান দিয়ে নিখোঁজ সাবমেরিনের খোঁজ করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া শব্দতরঙ্গ ব্যবহারে সক্ষম জাহাজ ও একটি হেলিকপ্টার দিয়ে উদ্ধারে সহায়তা করছে। সাবমেরিনটি জার্মানির তৈরি। ইন্দোনেশিয়ায় ব্যবহৃত প্রথম পাঁচটি সাবমেরিনের একটি হলো এটি। ৭০ এর দশকের শেষের দিকে এটি তৈরি করা হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর