মিয়ানমারে অভ্যুত্থান: জাতিসংঘের নিন্দা আটকে দিলো চীন
৩,ফেব্রুয়ারী,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে নিন্দা প্রকাশ আটকে দিল চীন। সোমবারের ওই অভ্যুত্থান নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক বসে মঙ্গলবার। সেখান থেকে নিন্দা জানিয়ে একটিম যৌথ বিবৃতি দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু সে উদ্যোগকে আটকে দিয়েছে চীন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবারের বৈঠক শেষে একটি যৌথ নিন্দা প্রস্তাবে আসতে ব্যর্থ হয় পরিষদ। এর কারণ, এমন প্রস্তাবে সমর্থন দেয়নি চীন। এমন যৌথ বিবৃতিতে চীনের সমর্থন প্রয়োজন। কারণ, নিরাপত্তা পরিষদের একজন স্থায়ী সদস্য হওয়ার কারণে তার আছে ভেটো দেয়ার ক্ষমতা। নিরাপত্তা পরিষদে এই আলোচনা শুরুর আগে মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ক্রিস্টিন শ্রানার সামরিক অভ্যুত্থানের কড়া নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি নভেম্বরের নির্বাচনের ফল নিয়ে মন্তব্য করেছেন। বলেছেন, নির্বাচনে অং সান সুচির দলের ভূমিধস বিজয় হয়েছে- এটা স্পষ্ট। সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ইলিয়ট প্রাসে-ফ্রিম্যান বলেছেন, (চীনের এই) পররাষ্ট্রনীতি গ্যাসলাইটিংয়ের সমতুল্য। দৃশ্যত জোরালো সমর্থন না হলেও মিয়ানমারের জেনারেলদের অভ্যুত্থানে চীনের নীরব সমর্থনের ইঙ্গিত দেয়। এই অভ্যুত্থান মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ইস্যু এমনটা ভাবধারা দেখাচ্ছে চীন। তিনি মনে করেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ থেকে কোনো বিবৃতি দেয়া হলেও তাতে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পরিবর্তন এনে দিতো না। তবে এটা হতো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রথম সমন্বিত পদক্ষেপ। যা এখন আর আসছে বলে মনে হয় না।
মিয়ানমারে ২৪ মন্ত্রী বরখাস্ত, জায়গা নিচ্ছেন সেনা কর্মকর্তারা
২,ফেব্রুয়ারী,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের প্রথমে দিনেই অং সান সু চির সরকারের অধিকাংশ মন্ত্রীকে বরখাস্ত করে নতুন লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নতুন মন্ত্রীদের অধিকাংশই জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং বিবিসি বার্মিজ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সু চি সরকারের অন্তত ২৪ জন মন্ত্রী, উপমন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে নতুন ১১ মন্ত্রীকে। নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনই সেনাসমর্থিত দল ইউএসডিপির সদস্য। জানা গেছে, ইউএসপিডির অন্যতম নেতা উনা মং লউন হয়েছেন মিয়ানমার জান্তা সরকারের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি গত নভেম্বরের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তবে জিততে পারেননি। গত ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) পেয়ছিল ৮৩ শতাংশ আসন। ২০১১ সালে সামরিক শাসন শেষ হওয়ার পর দেশটিতে এটি দ্বিতীয় নির্বাচন ছিল। এতে এনএলডি ৪৭৬টির মধ্যে ৩৯৬টি আসনে জয় পায়। অন্যদিকে, সেনাসমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি পায় মাত্র ৩৩টি আসন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে সু চির দল আরেক দফায় পাঁচ বছরের জন্য দেশ শাসনের সুযোগ পায়। তবে ভোটের ফলাফল মেনে নেয়নি সামরিক বাহিনী। তারা সুপ্রিম কোর্টে দেশটির প্রেসিডেন্ট এবং নির্বাচন কমিশনের প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। এরপর সোমবার সকালে সু চি, দেশটির প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে আটক করে অভ্যুত্থান ঘোষণা করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। সকাল থেকে জরুরি অবস্থা জারির পর রাজধানী নেপিদোতে মোবাইল ফোন ও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং রেডিওর প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন মায়াবতির সম্প্রচার চালু রয়েছে। নতুন মন্ত্রীদের নিয়োগের খবরও তারাই প্রচার করেছে। টেলিভিশনটির এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গত ৮ নভেম্বরের বহুদলীয় সাধারণ নির্বাচনে যে ভোটার তালিকা ব্যবহার করা হয়েছে তাতে গড়মিল পাওয়া গেছে। এ বিষয়টির সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছে ইউনিয়ন নির্বাচন কমিশন। এতে আরও বলা হয়, ভোটার তালিকা নিয়ে জালিয়াতি করা হয়েছে, যার ফলে গণতন্ত্র নিশ্চিত সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে অস্বীকৃতি জানানো এবং উচ্চ ও নিম্নকক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে পার্লামেন্ট। মিয়ানমার সেনাবাহিনী বলছে, এই সমস্যার সমাধান না হলে এটি গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করবে। আইন অনুযায়ী, এই সমস্যার অবশ্যই সমাধান করতে হবে। একারণে ২০০৮ সালের সংবিধানের ৪১৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। আগামী এক বছর এই জরুরি অবস্থা বহাল থাকবে।
সেনা অভিযানে সু চি ও মিয়ানমারের রাষ্ট্রপতি আটক
১,ফেব্রুয়ারী,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মিয়ানমারের রাষ্ট্রপতি উইন মিন্ট, ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চিসহ শাসক দলের শীর্ষ কয়েকজন নেতাকে আটক করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। সোমবার (০১ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সেনাবাহিনীর অভিযানে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন দলের এক মুখপাত্র। ক্ষমতাসীন দলের মুখপাত্র মায়ো নিউন্ট সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, অং সান সু চি, রাষ্ট্রপতি উইন মিন্ট এবং অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের সোমবার ভোরে আটক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমি জনগণকে উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া না দেখানোর আহ্বান জানাই। তারা যেন আইন অনুসারে প্রতিক্রিয়া জানায়। বিবিসির দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সংবাদদাতা জোনাথন হেড বলেছেন, রাজধানী নেপিটো এবং প্রধান শহর ইয়াঙ্গুনের রাস্তায় সৈন্যরা নেমে পড়েছে। বিবিসির বার্মিজ সার্ভিসের খবরে বলা হয়েছে, নেপিটোয় টেলিফোন ও ইন্টারনেট লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। সেনা সদস্যরা বেশ কয়েকটি অঞ্চলের মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করেছে বলে জানিয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। দেশটির সামরিক বাহিনী গত বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ব্যাপক ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তোলে। সেনাবাহিনী নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে সোমবার বসতে যাওয়া সংসদ অধিবেশন বাতিলের দাবি জানায়। অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) নভেম্বরের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পায়। তবে সেই নির্বাচনে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের ভোটারদের ভোট বঞ্চিত করার সমালোচনা করেছিল মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো। সেনাবাহিনী সমর্থিত বিরোধী জোট নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তোলে। তাদের দাবি নির্বাচনে ৮.৬ মিলিয়ন ভোট কারচুপি হয়েছে। গত সপ্তাহে সামরিক মুখপাত্র মেজর জেনারেল জাও মিন তুন বলেন, সেনাবাহিনীর প্রধান মিন অং হ্লাইয়াং যৌক্তিকভাবে নির্বাচনের জালিয়াতিকে চিহ্নিত করেছেন।
বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেবে আরব আমিরাত
৩১,জানুয়ারী,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির মানুষকে নাগরিকত্ব দিতে যাচ্ছে। শনিবার (৩০ জানুয়ারি) দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। খবর আল জাজিরার। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী শেখ মাকতুম বিন রশিদ আল মাকতুম বলেছেন, বিনিয়োগকারী, বিশেষ মেধাসম্পন্ন ব্যক্তি, কর্মদক্ষ, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, লেখক, চিত্রশিল্পী, ও তাদের পরিবারদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। এই লক্ষ্যে গত বছরের নভেম্বরে বিদেশিদের শতভাগ মালিকানার সুবিধা দিতে আইন সংশোধন করে দেশটি। আর এবারে নির্দিষ্ট কয়েক ধরনের বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ঘোষণা দিলো তারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ মাকতুম আরও বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মন্ত্রিসভা, স্থানীয় আমির আদালত এবং নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা যাচাই-বাছাই শেষে কারা নাগরিকত্ব পাবেন সেটি ঠিক করবেন। আরব আমিরাত সরকার জানিয়েছে, দেশটিতে অবস্থানরত মেধাবী ও দক্ষ বিদেশিদের নাগরিকত্ব প্রদানের লক্ষ্যেই নাগরিকত্ব আইনের সংশোধন করা হয়েছে। এর ফলে আমিরাতে আরও বেশি মেধাবী ও দক্ষ লোকজনকে আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে। সংশোধিত আইন অনুযায়ী নির্বাচিত বিদেশিরা নিজেদের বর্তমান নাগরিকত্ব বহাল রেখেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে পারবেন। প্রসঙ্গত, আরব আমিরাতে নাগরিকের সংখ্যা খুবই কম। দেশটিতে বিপুল সংখ্যক বিদেশিরা কাজ করেন। এদের মধ্যে বেশিরভাগই দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের।
কৃষি আইনের পক্ষেই বক্তব্য দিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি
২৯,জানুয়ারী,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সংসদের যৌথ অধিবেশনে কৃষি আইনের পক্ষে জোর সাফাই গেয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। বাজেট অধিবেশনের শুরুতে সংসদের যৌথ অধিবেশনে ভারতের রাষ্ট্রপতির ভাষণের বেশিরভাগ অংশ জুড়ে ছিল কৃষি আইন এবং কৃষকদের জন্য মোদি সরকার কী কী করেছে, তার বর্ণনা। খবর আনন্দবাজারের। কৃষি আইন নিয়ে যে দেশটির সরকার পিছু হটবে না, রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে কৌশলে তা আরও একবার যেন বুঝিয়ে দিতে চাইল মোদি সরকার। শুক্রবার থেকে দেশটির সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। ১ ফেব্রুয়ারি বাজেট পেশ করবেন ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। শুক্রবার সেই অধিবেশনের শুরুতে বক্তৃতায় কৃষি আইনে নিয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি বলেন, নতুন ৩টি আইনের ফলে দেশের ১০ কোটিরও বেশি মানুষ উপকৃত হবেন। কয়েকটি রাজ্য সরকারও কৃষি আইনের প্রশংসা করেছেন। প্রজাতন্ত্র দিবসে কৃষকদের ট্রাক্টর Railly তে দিল্লি জুড়ে অশান্তি ছড়িয়ে পড়েছিল। রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল বহু এলাকা। লালকেল্লায় ঢুকে পতাকা উত্তোলনের ছবি দেখা গিয়েছিল। কৃষকদের সেই আন্দোলনের নিন্দা জানিয়ে ভারতের রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রজাতন্ত্র দিবসে কৃষকরা ট্রাক্টর Railly করেছেন। সেই আন্দোলনে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। লালকেল্লায় জাতীয় পতাকার অবমাননা করা হয়েছে। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। সংবিধান, যার জন্য আমরা প্রজাতন্ত্র দিবস পালন করি, আমাদের স্বাধীনতার কথা বলে। কিন্তু এটাও বলে যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিশ্চিত করা নাগরিকদের দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, কৃষকদের রোজগার নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী- কিসান সম্মান নিধি প্রকল্প চালু করেছে। কৃষি খরচের দেড় গুণ ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) দেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সুফল বিকাশ যোজনার সুবিধাও পেয়েছেন কৃষকরা। ২০২০ সাল প্রায় পুরো বছরই করোনার প্রকোপ ছিল ভারতে। ওই ভারতের রাষ্ট্রপতি মনে করেন, সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তে দেশে করোনার সংক্রমণ রুখে দিয়ে ফের ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে অর্থনীতি। করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে সারা বিশ্বকে পথ দেখিয়ে নজির সৃষ্টি করেছে ভারত সরকার। করোনার টিকাদান কর্মসূচিও সফল ভাবে চলছে দেশে।
দিল্লিতে কৃষক-পুলিশ সংঘর্ষে ২২ মামলা
২৭,জানুয়ারী,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: কৃষকদের ট্রাক্টর মিছিলকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সংঘাত-সংঘর্ষ-সহিংসতায় পুলিশের তিন শতাধিক সদস্য আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ২২টি মামলা করেছে দিল্লি পুলিশ। দ্য হিন্দু। সংঘর্ষের ঘটনায় কৃষকেরাও আহত হয়েছেন। তবে ঠিক কতজন কৃষক আহত হয়েছেন, তা সুনির্দিষ্ট করে জানা যায়নি। মঙ্গলবার ছিল ভারতের ৭২তম প্রজাতন্ত্র দিবস। বিতর্কিত তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে এদিন নয়াদিল্লির রাজপথে ট্রাক্টর মিছিল করার পূর্বঘোষণা ছিল দেশটির আন্দোলনরত কৃষকদের। কৃষকদের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নয়াদিল্লিতে নজিরবিহীন সংঘাত-সংঘর্ষ-সহিংসতা হয়। রাজপথে প্রজাতন্ত্র দিবসের বার্ষিক প্যারেড চলাকালেই সীমান্তে অবস্থানরত কৃষকদের একাংশ ব্যারিকেড ভেঙে রাজধানীতে ঢুকে পড়েন। কেউ পায়ে হেঁটে ঢোকেন, কেউ ট্রাক্টর নিয়ে। এই নিয়ে বিভিন্ন স্থানে কৃষকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষের মধ্যেই একদল কৃষক রাজধানীর কেন্দ্রে পৌঁছে যান। তাঁরা লালকেল্লায় উঠে পড়েন। পরে অবশ্য লালকেল্লা থেকে কৃষকদের হটিয়ে দেয় পুলিশ। গতকালের ঘটনায় এক কৃষক মারা যান। পুলিশ বলছে, তিনি ট্রাক্টর উল্টে মারা গেছেন। কিন্তু আন্দোলনকারীদের একাংশের ভাষ্য, পুলিশের গুলিতে ওই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ বলছে, গতকাল ৮টি বাস ও ১৭টি ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, সহিংসতার ঘটনায় পুলিশের করা মামলায় বেশ কিছু কৃষকনেতাকেও আসামি করা হয়েছে। এই সহিংসতার ঘটনায় প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে বলেও সূত্র জানায়। এদিকে সহিংস ঘটনার পরদিন কৃষকনেতারা আন্দোলনকারী কৃষকদের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অনুরোধ জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, তাঁদের আন্দোলনের পথ দীর্ঘ। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ভারতের পার্লামেন্ট ভবন অভিমুখে কৃষকদের পদযাত্রার কর্মসূচি রয়েছে। তবে গতকালের সহিংস ঘটনার পর কৃষকদের এই কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে কৃষকনেতারা আজ সিংঘু সীমান্তে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। এদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গতকাল একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে দিল্লিতে আধা সামরিক বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
করোনা ব্যর্থতায় সরে যাচ্ছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী
২৬,জানুয়ারী,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইতালিতে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই দেশটির প্রধানমন্ত্রী গিসেপে কন্তে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। এক বিবৃতিতে কন্তে জানিয়েছেন, তিনি মঙ্গলবার পদত্যাগ করবেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতার পর নতুন সরকার গঠনের চেষ্টা চলছে। বিবিসি। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী কন্তে। তার কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তিনি ওই বৈঠকে তার নিজের ইচ্ছার কথা মন্ত্রীদের কাছে ব্যক্ত করবেন। এরপরেই হয়তো তিনি প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেলার কার্যালয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিতে যাবেন। করোনা মহামারির কারণে দেশজুড়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার বিরুদ্ধে লড়াই করতে কন্তে হয়তো নতুন সরকার গঠনের পরামর্শ চাইতে পারেন। ইতালিতে করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৮৫ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। দেশের অর্থনীতিতে ধস নেমে এসেছে। গত ১৩ জানুয়ারি সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাত্তিও রেনজি তার ইটালিয়া ভিভা পার্টিকে দল থেকে প্রত্যাহারের পর থেকেই ক্ষমতাসীন জোট ভেঙে পড়েছে। গত সপ্তাহে পার্লামেন্টের আস্থা ভোটে কোনমতে টিকে গেছেন কন্তে। কিন্তু সিনেটের উচ্চ কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। ফলে তার সরকার বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে পদত্যাগ করেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী মাত্তিও রেনজি। সংবিধান সংস্কারের পরিকল্পনা করেছিলেন রেনজি। ওই পরিকল্পনার ওপর গণভোটে শোচনীয় পরাজয় দেখে আকস্মিক পদত্যাগ করেন তিনি। মাত্র মাত্র আড়াই বছর ক্ষমতায় থাকার পর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন রেনজি। করোনার কারণে শুরু থেকেই ইতালিতে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এক বছরের বেশি সময় আগে চীনে করোনার প্রাদুর্ভাবের পর পরই ইতালিতে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। তারপর থেকেই ইতালি যেন এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সে সময় ইতালিতে সংক্রমণ ও মৃত্যু ছিল সবচেয়ে বেশি। ওয়ার্ল্ডোমিটারের পরিসংখ্যান বলছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ২৪ লাখ ৭৫ হাজার ৩৭২। এর মধ্যে মারা গেছে ৮৫ হাজার ৮৮১ জন। ইতোমধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠেছে ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮৬১ জন। বর্তমানে সেখানে করোনার অ্যাক্টিভ কেসের সংখ্যা ৪ লাখ ৯১ হাজার ৬৩০।
বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ব্রাজিলের ৪ ফুটবলারসহ নিহত ৬
২৫,জানুয়ারী,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ব্রাজিলে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে লাস পালমাস নামক একটি ক্লাবের চার খেলোয়াড় ও সভাপতি নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় বিমানটির পাইলটও নিহত হয়েছেন। খবর ডেইলি মিররের। রোববার (২৪ জানুয়ারি) লুজিমাঙ্গুয়েস নামক স্থানে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আজ সোমবার রাতে ভিলা নোভা ক্লাবের বিপক্ষে তাদের খেলার কথা ছিল। এই ঘটনার পর ম্যাচটি স্থগিত করা হয়েছে। বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই ক্লাবটির সভাপতি লুকাস মেইরা, ফুটবলার লুকাস প্রাক্সেদেস, গুইলহেরমে নোয়ি, রানুলি, মার্কাস মোলিনারি ও পাইলট ওয়াগনার মাচাদো নিহত হয়েছেন। লাস পালমাসের পক্ষ থেকে এক বার্তায় জানানো হয়েছে যে, ক্লাবটি ভিলা নোভার বিপক্ষে বিমানে করে খেলতে যাচ্ছিল। বেসরকারি সংস্থার এই বাণিজ্যিক বিমানটি উড্ডয়ন করতে গিয়ে রানওয়ের শেষ প্রান্তে ভূপাতিত হয়। এতে বিমানটিতে থাকা সবাই প্রাণ হারান। বিমানটি ৮০০ কিলোমিটার দূরের গইয়ানিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে যাচ্ছিল। সেখানে কোপা ভার্দের শেষ ষোলোর ম্যাচে সোমবার ভিলা নোভার মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল তাদের। যে চারজন খেলোয়াড় মারা গেছেন তারা চলতি বছর (২০২১) পালমাসে যোগ দিয়েছেন। তার মধ্যে প্রাদেস, নোয়ি ও রানুলে গেল সপ্তাহে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। লাস পালমাম ব্রাজিলের চতুর্থ টায়ারের একটি দল। এই ঘটনায় তারা গভীর শোক প্রকাশ করেছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে। পাশাপাশি তাদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছে।
রাশিয়ায় নজিরবিহীন বিক্ষোভ, গ্রেফতার তিন হাজার
২৪,জানুয়ারী,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাশিয়ায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনির সমর্থনে বিক্ষোভ করেছে হাজার হাজার মানুষ। বিক্ষোভ থেকে ৩ হাজারের বেশি জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে বলে জানিয়েছেন পর্যবেক্ষকরা। খবর রয়টার্স। সাম্প্রতিক সময়ে প্রেসিডেন্ট পুতিনের বিরুদ্ধে হওয়া অন্যতম এই বিক্ষোভ Raillyতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ উপস্থিত থাকলেও হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। বিক্ষোভকারীদের শারীরিকভাবে মস্কোর দাঙ্গা পুলিশ নির্যাতন করছে, এমনও দেখা গেছে। প্রেসিডেন্ট পুতিনের সমালোচকদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তি অ্যালেক্সি নাভালনি গত রোববার গ্রেফতার হওয়ার পর বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। মস্কো, সেইন্ট পিটার্সবার্গ, সাইবেরিয়াসহ প্রায় ১শ শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে মানুষ। কিশোর, ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে বয়স্ক ব্যক্তিরা পর্যন্ত বিক্ষোভে অংশ নেয়। তারা নাভালনির মুক্তি দাবি করেন। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, মস্কোর Raillyতে অন্তত ৪০ হাজার মানুষ অংশ নেয়। তবে রাশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা ৪ হাজার। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রাশিয়ায় এই মাত্রার বিক্ষোভ আগে কখনো দেখা যায়নি। আর মস্কোতে গত দশ বছরের মধ্যে এত বড় পরিসরে বিক্ষোভ হয়নি। Railly পর্যবেক্ষণের কাজ করে থাকে এমন একটি বেসরকারি সংস্থা ওভিডি ইনফো, তারা জানিয়েছে প্রায় ৩,১০০ মানুষকে আটক করা হয়েছে। যার মধ্যে ১,২০০ জনের বেশি মস্কো থেকে। বিক্ষোভের মধ্যে নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়াকেও কিছুক্ষণের জন্য আটক করে পুলিশ। তিনি ওই ঘটনার একটি ছবিও তাঁর ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন। এ বিষয়ে ক্রেমলিন কোনো মন্তব্য করেনি। উল্লেখ্য, গত আগস্টে রাশিয়ার বিরোধী নেতা নাভালনির ওপর স্নায়ু বিকল করার বিষাক্ত রাসায়নিক প্রয়োগ করা হয়। তারপর থেকে তিনি চিকিৎসার জন্য জার্মানিতে ছিলেন। গত রোববার বার্লিন থেকে মস্কোতে ফেরার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর ৩০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে তাকে। মূলত এই ৩০ দিন বিচারকার্য শুরু হওয়ার আগে তাকে রিমান্ডে রাখা হবে। প্যারোলের শর্ত ভাঙ্গার অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয় তাকে। তবে নাভালনি দাবি করেছেন যে, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। এদিকে রাশিয়ায় শনিবার (২৩ জানুয়ারি) মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ বিঘ্নিত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে, তবে বিক্ষোভের সাথে এই ঘটনার সম্পর্ক আছে কিনা জানা যায়নি। সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ টিকটকে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে সমর্থন করে অসংখ্য ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে এবং নাভালনি সম্পর্কে ভাইরাল মেসেজ শেয়ার করা হয়েছে। রাশিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয় অভিভাবকদের অনুরোধ জানিয়েছে যেন তারা তাদের সন্তানদের কোনো বিক্ষোভে অংশ নিতে না দেয়।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর