ইসরাইলের সঙ্গে চুক্তি ইরান বিরোধী নয়: আমিরাত
১৬আগস্ট,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইসরাইলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করার সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই ইরানকে মোকাবেলা করার জন্য নয় বলে জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। একই সঙ্গে দেশটি এই চুক্তির বিষয়ে তুরস্কের সমালোচনাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। খবর খালিজ টাইমসের। আমিরাতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ড. আনোয়ার মোহাম্মদ গারগাস বলেন, এই চুক্তিটি ইরানের বিষয় নয়। বরং এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আমিরাতের সঙ্গে ইসরাইলের শান্তি চুক্তি। এটি কোনোভাবেই ইরানের বিরুদ্ধে দল পাকানোর বিষয় নয়। ড. আনোয়ার মোহাম্মদ গারগাস সম্প্রতি ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দেশ দুটি মিলে ইরানকে মোকাবেলা ও আরও একঘরে করার চেষ্টা করেছিলেন, তখন আমিরাত তার নিকটতম প্রতিবেশীকে উস্কে দেয়নি। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে আমাদের খুবই জটিল সম্পর্ক রয়েছে। কিছু কিছু বিষয়ে আমাদের উদ্বেগ রয়েছে, তবুও আমরা অনুভব করি এগুলো কূটনৈতিকভাবে সমাধান করা উচিত। এদিকে, এই শান্তি চুক্তিকে কেন্দ্র করে আমিরাত থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নিতে পারে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেসেপ তাইয়েপ এরদোগান। একই সঙ্গে শুক্রবার তিনি বলেন, এই চুক্তি ফিলিস্তিনি অধিকারকে ঘায়েল করেছে। এ বিষয়ে আমিরাতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, তুরস্কের এই হুমকি গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ তারা নিজেরাই ইসরাইলের সঙ্গে বিভিন্ন বাণিজ্যিক সম্পর্ক জড়িয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, তুরস্কে প্রতি বছর কমপক্ষে অর্ধ লাখ ইসরাইলি পর্যটক ভ্রমণে যায়। একই সঙ্গে দেশ দুটির মধ্যে দুই বিলিয়ন ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য রয়েছে। তিনি বলেন, এই চুক্তির আওতায় ইসরাইল আপাতত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন বন্ধ রাখার কথা দিয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে আমরা একটি গ্রহণযোগ্য আলোচনার সুযোগ পেয়েছি। যেটা ফিলিস্তিনিদের অধিকারকে সংরক্ষণ করবে। আর এই শান্তি চুক্তি করার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ইসরাইলের বিমান, প্রযুক্তি ও পর্যটন বিষয়ে ব্যাপক বিভিন্ন দক্ষতা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে না ফেরার দেশে ১ লাখ ৭১ হাজার মানুষ
১৫আগস্ট,শনিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: লাগামহীন করোনায় সবচেয়ে ক্ষতির মুখে পড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সংক্রমণের হার আগের মতোই ঊর্ধ্বমুখী। প্রতিদিনই দেশটিতে অর্ধ লক্ষের বেশি মানুষের শরীরে শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি সহস্রাধিক মানুষের প্রাণ কাড়ছে ভাইরাসটি। গত একদিনেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। তবে কমেছে সুস্থতার সংখ্যা। ফলে, নাগরিকদের জীবন বাঁচাতে কার্যকরি ভ্যাকসিনের অপেক্ষায় দিন গুণছে দেশটির সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ১২০ জনের প্রাণ কেড়েছে করোনা। এতে করে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৩৫ জনে ঠেকেছে। একই সময়ে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে ৬০ হাজার ৬০০ জনের দেহে। এ নিয়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫৪ লাখ ৭৬ হাজার ২৬৬ জনে দাঁড়িয়েছে। তবে সুস্থতার হার কমলেও এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের অর্ধেক রোগী স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছেন। যার সংখ্যা ২৮ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি শিকাগোর এক বাসিন্দার মধ্যে প্রথম করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এরপর থেকে ক্রমান্বয়ে ভয়ানক হতে থাকে পরিস্থিতি। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ধারণা ইতোমধ্যে তাদের দেশের অন্তত ২০ মিলিয়ন (দুই কোটি) মানুষ করোনার শিকার হয়েছেন। দ্য সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) বলছে, প্রকৃত তথ্য হলো, প্রকাশিত সংখ্যার অন্তত ১০ গুণ বেশি মানুষ করোনার ভয়াবহতার শিকার। এর মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থা এখন ক্যালিফোর্নিয়ায়। প্রাণহানি তুলনামূলক কম হলেও এ শহরে করোনার শিকার ৬ লাখ ১৩ হাজারের বেশি মানুষ। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১১ হাজার ১৪৮ জনের। ফ্লোরিডায় সংক্রমণ এক লাফে ৫ লাখ ৬৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। ইতোমধ্যে সেখানে ৮ হাজার ৯৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনায়। সংক্রমণ আশঙ্কাজনকহারে দীর্ঘ হয়েই চলেছে টেক্সাসে। এ শহরে আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লাখ ৪৯ হাজার। যেখানে প্রাণহানি ঘটেছে ৯ হাজার ৭৩৬ জনের। প্রাণহানিতে শীর্ষ শহর নিউইয়র্কে আক্রান্ত ৪ লাখ ৫৪ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে ৩২ হাজার ৮৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। জর্জিজায় করোনা রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ৩২ হাজারের কাছাকাছি। মৃত্যু হয়েছে সেখানে ৪ হাজার ৫৭৩ জন মানুষের। আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়ে গেছে ইলিনয়েসে। যেখানে এখন পর্যন্ত করোনার ভুক্তভোগী ২ লাখ ৪ হাজার। এর মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ৭ হাজার ৯৩২ জন। নিউ জার্সিতে করোনার শিকার প্রায় ১ লাখ ৯২ হাজার মানুষ। এর মধ্যে প্রাণহানি ঘটেছে ১৫ হাজার ৯৭৩ জনের। বর্তমানে সেখানে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে ভাইরাসটি। এছাড়া, অ্যারিজোনা, ম্যাসাসুয়েটসস, পেনসিলভেনিয়া, উত্তর ক্যারোলিনা, লুসিয়ানা, টেনেসি ও অ্যালাবামার মতো শহরগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে।
ইরানের চারটি জাহাজ আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্র
১৪আগস্ট,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করায় এই প্রথমবারের মতো ইরানের ৪টি জ্বালানীবাহী জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কোনো রকম বল প্রয়োগ ছাড়াই জাহাজগুলো জব্দ করা হয়েছে বলে দাবি যুক্তরাষ্ট্রের। জব্দ হওয়া জাহাজগুলো হলো, লুনা, পান্ডি, বেরিং এবং বেলা। খবর ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’র। ভেনেজুয়েলাগামী ইরানের এ জাহাজগুলো জব্দ করার জন্য গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রে একটি মামলা দায়ের করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু হিসেবে বিবেচিত এই দুই দেশকে অর্থনৈতিক চাপে রাখার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন মামলাটি দায়ের করে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মামলাটি করে ইরান জ্বালানী বিক্রি করে যে রাজস্ব আদায় করে সেটি বন্ধ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। গত ২০১৮ সালের মে মাসে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরানের ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরান বলছে, শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশে তারা পরমাণু কার্যক্রম চালাচ্ছে।
প্রথমবারের মতো লকডাউনে ভুটান
১৩আগস্ট,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিদেশফেরত এক নাগরিকের দেহে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর দেশজুড়ে প্রথমবারের মতো লকডাউন দিয়েছে ভুটান। সম্প্রতি কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ওই ব্যক্তি রাজধানী থিম্পুর অনেক বাসিন্দার সংস্পর্শে আসেন এবং গত সোমবার তিনি করোনায় পজিটিভ শনাক্ত হন। এ নিয়ে দেশটিতে কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা ১১৩-তে দাঁড়িয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। খবর রয়টার্স হিমালয়ের এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। মার্চে ট্যুরিজমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পাশাপাশি বিদেশফেরত প্রত্যেককে তিন সপ্তাহের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে রাখার নির্দেশনা দিয়েছিল ভুটান কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন কুয়েত থেকে আসা ২৭ বছর বয়সী এক নারী। সোমবার একটি ক্লিনিকে করা শনাক্তকরণ পরীক্ষায় তার দেহে এ ভাইরাসের উপস্থিতি মেলে। এর পরপরই দেশজুড়ে লকডাউনের ঘোষণা দেয় কর্তৃপক্ষ। সংক্রমণের বিস্তৃতি ও রোগটি থেকে নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষিত রাখতে সবাইকে ঘরে থাকতে বলা হচ্ছে। ঘোষিত লকডাউনে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস ও বাণিজ্যিক স্থাপনা বন্ধ থাকবে। স্থগিত করা হয়েছে সব ধরনের পরীক্ষাও। আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে থাকা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজ নিজ ক্যাম্পাসের মধ্যেই থাকতে বলা হয়েছে। সীমান্ত সিল করে দেওয়া হয়েছে, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দেশটির একমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটিও। বাণিজ্যিক যাতায়াত বন্ধ থাকলেও বিভিন্ন দেশে আটকেপড়া ভুটানের নাগরিকদের নিয়ে আসতে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আর দেশটিতে ঢোকার সব প্রবেশপথে যাচাই-বাছাই, পর্যবেক্ষণ ও শনাক্তকরণ পরীক্ষার ওপর জোর দিতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
করোনায় দেউলিয়া যেসব বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড
১২আগস্ট,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা মহামারির ধাক্কায় বিপর্যস্ত বিশ্ব বাণিজ্য। নিরবে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে ছোট ছোট কোম্পানিগুলো। এমনকি অনেক বড় প্রতিষ্ঠানও নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করছে। ইতিমধ্যে মহামারি আকার ধারণ করা করোনা ভাইরাসে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে টিকে থাকার লড়াই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। করোনার কোপে বিশ্ব অর্থনীতি টালমাটাল। বিশ্বব্যাপী বহু কোম্পানি কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। কেউ কেউ কর্মীদের বেতন দেওয়া বন্ধ করেছে। কেউ কোম্পানি বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। বিশ্ব এখনও এই করোনা সংকটের পরিস্থিতির মাঝামাঝিতে অবস্থান করছে। পুরো পরিস্থিতি অনুধাবন আর আসল ধাক্কাটি সম্ভবত টের পাওয়া যাবে আগামী বছরে। অনেক জায়গাতেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো দুয়ার এখনও বন্ধ। এমন পরিস্থিতিতে কত প্রতিষ্ঠানে চিরতরে হারিয়ে যাবে আর কতগুলো শেষ পর্যন্ত ফিরবে তা অনিশ্চিত। তারপরও ইতিমধ্যে অনেক বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে গেছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ভিক্টোরিয়া সিক্রেট, জারা, জেসিপেনি, নাইকি, শ্যানেল ও রোলেক্স-এর মতো বিশ্বখ্যাত সব ব্রান্ড। ভিক্টোরিয়াস সিক্রেট একটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক নারীদের পোষাক, ল্যানজারি, ও সৌন্দর্যবর্ধনকারী পণ্য নির্মাতা, বিপণন, ও বিক্রয় প্রতিষ্ঠান। বিশ্বখ্যাত এই প্রতিষ্ঠানটি দেউলিয়া ঘোষণা করেছে। পৃথিবীর বিখ্যাত চেইন ষ্টোর ZARA তাদের ১২শ আউটলেট বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া করোনার ধাক্কায় এবার ১১৮ বছরের পুরোনো মার্কিন চেইন ডিপার্টমেন্ট স্টোর জেসি পেনি দেউলিয়া হওয়ার পথে। ইতিমধ্যে নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণার জন্য আবেদন করেছে তারা। দেউলিয়া আইনে সুরক্ষা পেতে আবেদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিম্যান মার্কাসের মতো বৃহৎ ডিপার্টমেন্ট স্টোর। বিখ্যাত পারফিউম ব্র্যান্ড শ্যানেল এবং বিখ্যাত ঘড়ি রোলেক্স তাদের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। বিখ্যাত জুতা কোম্পানি নাইকি (Nike) প্রথম পর্বের পর দ্বিতীয় পর্ব লে অফ করার জন্য তৈরি হচ্ছে। বিখ্যাত আবাসন ব্যবসা এয়ারবিএনবি-এর মালিক বলেছে, তাদের ১২ বছরের পরিশ্রম মাত্র ছয় সপ্তাহে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। বিখ্যাত কফি শপ স্টারবাক তাদের ৪০০ দোকান বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে.......! এছাড়া এই পরিস্থিতিতে ছোট ছোট কোম্পানীগুলো রয়েছে বেশ বিপদে। করোনার কারণে সবচেয়ে বড় লোকসান পড়েছে খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠানগুলো। যুক্তরাষ্ট্রে ফ্যাশন পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান জে ক্রু নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করেছে। হংকং এবং জার্মান ভিত্তিক ফ্যাশন পণ্য বিক্রেতা এসপ্রি বলেছেন, এশিয়া থেকে সব স্টোর তারা গুটিয়ে নিবে। অনলাইন বেচাকেনা জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় কোভিড-১৯ এর ধাক্কা লাগার আগে থেকেই অবশ্য এই কোম্পানিগুলো অস্তিত্ব সংকটে ভুগছিল। মহামারি তা আরো ত্বরান্বিত করছে মাত্র। এই করোনাকালীন সময়ে ধস নেমেছে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়। বিভিন্ন জায়গায় রেস্টুরেন্টগুলো তাদের চেয়ার গুটাতে শুরু করেছে। বলা হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত এই ব্যবসায় শুধু দেশীয় কিংবা আন্তর্জাতিক চেইনগুলোই হয়তো টিকে থাকবে। তবে কিছু বড় চেইনও নড়বড়ে অবস্থানে রয়েছে। যেমন ভাপিয়ানোর মত জনপ্রিয় চেইনটি জার্মানিতে দেউলিয়া আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মারিদো নামের আরেকটি কোম্পানি তাদের তৃতীয় রেস্টুরেন্ট বন্ধ করেছে।
লেবাননের বিস্ফোরণে নিখোঁজ রাশেদের মৃতদেহ মিলল হাসপাতালে
১০আগস্ট,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর যে বাংলাদেশি নিখোঁজ ছিলেন তাকে একটি হাসপাতালে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা জানানো হয়েছে, মৃত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ রাশেদ। বাংলাদেশি শ্রমিক মোহাম্মদ রাশেদ বিস্ফোরণের পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন, জানিয়ে দূতাবাসের হেড অব চ্যান্সেরি ও ফার্স্ট সেক্রেটারি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, তাকে হারুন হাসপাতালে শনিবার মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। রাশেদের পাসপোর্টের তথ্য থেকে জানা গেছে, তিনি নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা। বৈরুতে গত মঙ্গলবার ভয়াবহ দুটি বিস্ফোরণ হয়। এই ঘটনায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২১ সদস্যসহ মোট ১০৮ জন প্রবাসী আহত হন। মারা গেছেন ৫ জন। আহত বাংলাদেশি প্রবাসীরা দেশটির তিনটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বিস্ফোরণের ওই ঘটনায় বিভিন্ন দেশের ১৫৮ জন নিহতের পাশাপাশি ৬ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। এমন দুর্ঘটনার জন্য দেশটির সাধারণ মানুষ সরকারকে দায়ী করে রাস্তায় নেমেছে। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন লেবানিজ আর্মির অবসরপ্রাপ্ত কয়েক জন অফিসার। তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দখলের ঘোষণাও দিয়েছেন।
মানবিক সংকটের মুখে লেবানন: জাতিসংঘ
০৯আগস্ট,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে খাদ্য সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া ও দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে জানিয়ে দেশটিতে মানবিক সংকট তৈরি হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করছে জাতিসংঘ। খবর বিবিসি। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, লেবানন প্রায় ৮৫ শতাংশ খাদ্যশস্য আমদানি করে। সংস্থাটি এরই মধ্যে বৈরুতবাসীর জন্য পাঁচ হাজার প্যাকেট খাদ্যদ্রব্য পাঠিয়েছে। প্রতি প্যাকেটে পাঁচ সদস্যের পরিবার একমাস চলতে পারবে। এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, লেবাননের ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থা বিস্ফোরণের কারণে আরো ভেঙে পড়েছে। বিস্ফোরণে তিনটি হাসপাতাল সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ডব্লিউএইচওর গুদামে রাখা ১৭ কনটেইনার ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামও বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়ে গেছে। বহিঃসংশ্লিষ্টতার সন্দেহ প্রেসিডেন্টের: বৈরুতে বিস্ফোরণের ঘটনায় বাইরের সংশ্লিষ্টতা থাকার সম্ভাবনা দেখছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন। বিস্ফোরণটির সঙ্গে বোমা হামলা বা বাইরের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখার কথা বলেছেন তিনি। স্থানীয় গণমাধ্যমে শুক্রবার প্রেসিডেন্ট আউন বলেন, বিস্ফোরণের কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রকেট বা বোমা অথবা অন্য তত্পরতার মধ্য দিয়ে বাইরের হস্তক্ষেপ থাকতে পারে এতে। তবে বিস্ফোরণের কারণ গাফিলতি কিংবা দুর্ঘটনা কিনা, তা-ও দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। গণমাধ্যমে প্রেসিডেন্টের দেয়া এ বক্তব্য নিশ্চিত করেছে তার কার্যালয়। ক্ষোভে ফুঁসছে লেবাননবাসী: লেবাননের কর্মকর্তারা বিস্ফোরণের জন্য বন্দরের গুদামে হাজার হাজার টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট নিরাপদে না রাখাকে দুষছেন। বিপজ্জনক এ পদার্থের গুদাম নিরাপদে কেন রাখা হলো না? এর জন্য দায়ী কে? এমন নানা প্রশ্নের জবাব চেয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফুঁসছে লেবাননবাসী। প্রেসিডেন্ট আউন এর আগে বলেছিলেন, মারাত্মক বিস্ফোরক পদার্থ বন্দরের গুদামে অনিরাপদভাবে বছরের পর বছর ধরে মজুদ করে রাখা হয়েছিল। প্রাথমিক একটি তদন্তে ওই বিস্ফোরকের মজুদ নিয়ে গাফিলতিকে দোষারোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা। আগের অবস্থায় ফেরার আশা নেই: লেবাননে বিস্ফোরকের গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত রাজধানী বৈরুতে তছনছ হয়ে যাওয়া জীবন আবার আগের অবস্থায় ফেরার আশা দেখছেন না অসহায় হয়ে পড়া বাসিন্দারা। গত মঙ্গলবার বৈরুতের বন্দর এলাকায় বিস্ফোরণটি ঘটে। এতে শহরটির অর্ধেকই ধূলিসাৎ হয়েছে। প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৪৫ জন। লাখো মানুষ বাস্তুহারা হয়েছে। ধ্বংস হয়েছে খাদ্যদ্রব্যের মজুদ। যতদূর চোখ যায় কেবল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ধ্বংসস্তূপ। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে আবার নিজেদের বাড়িঘর নতুন করে তোলার চেষ্টা করছে বৈরুতবাসী। কিন্তু আগের অবস্থা আর ফিরে পাওয়ার আশা নেই অনেকের। কেবল বৈরুতের বাসিন্দারাই নন, বিশ্লেষকরাও বলছেন, এ নগরী আর কখনই আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না। আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বৈরুতের সহযোগী অধ্যাপক করিম মাকদিসি বলেন, বিস্ফোরণের পর বৈরুত আবার সেই আগের অবস্থায় ফিরে যাবে বলে আমি মনে করি না। বিশ্বের সঙ্গে লেবাননের যোগাযোগের প্রাণকেন্দ্র একেবারেই ধ্বংস হয়ে গেছে।
কেরালার প্লেন দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ২০
০৮আগস্ট,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতের কেরালার কোঝিকোড় বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি এক্সপ্রেস প্লেন। ১৮৪ জন যাত্রী ও ৬ জন ক্রুসহ দুবাই ফেরত ফ্লাইটটি অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে খাদে পড়ে দুই টুকরো হয়ে যায়। এতে দুই পাইলটসসহ ২০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক যাত্রী। শুক্রবার (৭ আগস্ট) স্থানীয় সময় রাত ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস-সহ ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো। বিজেপির সংসদ সদস্য কে জে আলফন্স প্রথম টুইটে জানান, পাইলটসহ একজন ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। পরে পুলিশ ২০ জন নিহত হওয়ার খবর জানায়। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সিভিল অ্যাভিয়েশন রেগুলেটর ডিজিসিএ এর ডিরক্টরেট জেনারেল অরুণ কুমার বলেন, এটা দুবাই থেকে কোঝিকোডে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি এক্সপ্রেস ফ্লাইট ছিল। অতিরিক্ত গতির ল্যান্ডিংয়ের কারণে রানওয়ে থেকে ছিটকে খাদে পড়ে প্লেনটি। এটি দুই খণ্ড হয়ে ভেঙে পড়লেও আগুন ধরেনি। যেটা জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা বাড়ায়। আমাদের উদ্ধারকারী দল এখনো ঘটনাস্থলে রয়েছে। চূড়ান্ত তালিকা বের করার চেষ্টা চলছে। প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে রানওয়েতে অবতরণের সময় ছিটকে পড়ে প্লেনটির সামনের দিকটি প্রায় সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে যায়। প্লেনটি বন্দে ভারত প্রকল্পের অংশ যা করোনা ভাইরাস মহামারির সময়ে বিদেশ থেকে ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনার উদ্দেশে চলাচল করছে। সিভিল অ্যাভিয়েশন রেগুলেটর ডিজিসিএ বলছে, দুর্ঘটনার সময় প্লেনটি রানওয়ে থেকে ছিটকে ৩০ ফুট গভীর খাদে পড়ে যায়। ফ্লাইটটিতে ১৭৪ জন্য পূর্ণবয়স্ক, ১০ জন শিশু, দুই জন পাইলট ও চারজন ক্রু ছিল। যদিও প্রথমে সব মিলিয়ে ১৯২ জন ছিল বলে জানায় সংবাদ মাধ্যমগুলো। নিহতদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে। পাইলট উইং কমান্ডার দীপক বসন্ত শেঠ ভারতীয় বিমানবাহিনীর ফাইটার প্লেনের সাবেক পাইলট ছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন ক্যাপ্টেন অখিলেশ কুমার। দুজনই এ দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হলেও এটির রানওয়ে আকারে খুব বড় নয়। এমনকী রানওয়ের শেষ প্রান্তেও জায়গা কম। এ কারণে অনেক বড় এয়ারক্রাফট এই বিমানবন্দরে তাদের ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ রেখেছে নিরাপত্তাজনিত কারণে। প্লেনটি অবতরণের আগে কয়েকবার আকাশে চক্কর দেয় বৈরী আবহাওয়ার কারণে। দুর্ঘটনার পর ভারতের প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কেরালার মুখ্যমন্ত্রী, কংগ্রেস সংসদ সদস্য রাহুল গান্ধী, দিল্লি মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ায় নৌকাডুবিতে ৭ উদ্ধারকর্মী নিহত
০৭আগস্ট,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দক্ষিণ কোরিয়ায় বন্যার পানিতে নৌকা উল্টে গিয়ে সাতজন উদ্ধারকর্মী নিখোঁজ হয়েছেন। গতকাল রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা ইওনহাপের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। খবর রয়টার্স। গত কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে বন্যা ও ভূমিধস হয়েছে। নতুন করে আরো বন্যা দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কিছু অংশে টানা ৪৪ দিন ধরে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ২০১৩ সালের পর এটা সবচেয়ে দীর্ঘ বর্ষা মৌসুম। ইওনহাপ সংবাদ সংস্থা জানায়, গতকাল উদ্ধারাভিযান চালানোর সময় রাজধানী সিউলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় চুনচেওন শহরে তিনটি নৌকা উল্টে যায় এবং স্রোতে ভেসে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নৌকার কিছু আরোহী নিখোঁজ রয়েছে এবং এখনো হতাহতের খবর নিশ্চিত হয়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যান্য অঞ্চলে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া নিখোঁজ রয়েছে ১১ জন। গত কয়েক দিনেই ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সিউলের হান নদী পানিতে ফুলেফেঁপে উঠেছে। ফলে বেশ কয়েকটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। নদীপথের কিছু মহাসড়কও বন্ধ করা হয়েছে। বুধবার কিছু বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী চুং সাই-কিয়ু। বেশ কয়েকটি প্রদেশকে বিশেষ দুর্যোগ অঞ্চল ঘোষণার পরামর্শকে সমর্থন জানিয়েছেন তিনি। ইওনহাপ বলছে, শুক্রবারের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। চিহ্নিত অঞ্চলগুলোতে অধিক সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর