শান্তি প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে নারীদের প্রতি জাতিসংঘের আহ্বান
১৪,মার্চ,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ আফগানিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়ায় নারীদের পূর্ণাঙ্গ, সমান এবং অর্থবহ অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির সহিংসতা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ না করে শুক্রবার (১২ মার্চ) পরিষদ এমন আহ্বান জানায়। পরিষদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা বলেছে, আফগানিস্তানের আস্থা থাকা শান্তি প্রক্রিয়ায় তাদের নেতৃত্ব অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে একটি টেকসই শান্তি অর্জিত হতে পারে। আর এ শান্তি প্রক্রিয়ার লক্ষ্য হচ্ছে একটি স্থায়ী ও ব্যাপক অস্ত্রবিরতি পালন নিশ্চিত করা। আফগানিস্তানে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানোর কঠোর নিন্দা জানিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ। এ ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো গ্রুপের নাম উল্লেখ না করে পরিষদ জানায়, এর সদস্যরা আফগানিস্তান ও এই অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদের হুমকির ব্যাপারে তাদের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা সহিংসতা হ্রাসসহ আস্থা গড়ে তোলার বিভিন্ন পদক্ষেপ খুঁজে বের করতে আলোচনার ব্যাপারে বিভিন্ন দলকে দৃঢ়ভাবে উৎসাহিত করে। আফগান সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টোনি ব্লিনকেনের একটি চিঠির ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন সম্প্রতি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নতুন সরকার গঠনসহ কাবুলের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ এবং তালেবানের কাছে একটি খসড়া শান্তি চুক্তিপত্র জমা দিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র তুরস্কে একটি আন্তঃআফগান বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছে এবং তারা জাতিসংঘের পৃষ্ঠপোষকতায় মন্ত্রী পর্যায়ের একটি সম্মেলনের আয়োজন করছে। আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ বিষয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি পোষণে আয়োজন করা এই সম্মেলনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ভারত, পাকিস্তান ও ইরান একত্রে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে।
করোনাভাইরাস: ইটালির প্রধানমন্ত্রীর নতুন ঢেউয়ের সতর্কবার্তা
১৩,মার্চ,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইটালিতেও করোনাভাইরাসের নতুন ঢেউয়ের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। সেজন্য সেখানে দোকান, স্কুল ও রেস্টুরেন্ট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘি নতুন ঢেউয়ের সতর্কবার্তা দিয়েছেন। ইস্টারের পরের তিনদিন ৩ থেকে ৫ এপ্রিল সেখানে পুরোপুরি শাটডাউন থাকবে। একবছর আগে ইটালিই প্রথম দেশব্যাপী লকডাউন জারি করে। আরও একবার দেশটি করোনাভাইরাসের প্রবল সংক্রমণের মুখোমুখি হচ্ছে। এরই মধ্যে সেখানে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে ১ লাখ মানুষ। ইউরোপের মধ্যে যুক্তরাজ্যের পরে সেখানেই আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এখন বিশ্বে একদিনে আক্রান্ত শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ব্রাজিল। একদিনে সেখানে আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ৮৪ হাজার মানুষ আর প্রাণ হারিয়েছে ২ হাজার ১৫২ জন। দেশটিতে মোট আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ১ কোটি ১৩ লাখের বেশি মানুষ আর প্রাণ হারিয়েছে ২ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি। তবে মোট আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একদিনে ৬৬ হাজার ৭০০ জন আক্রান্তে শনাক্তের মধ্যে দিয়ে সেখানে মোট আক্রান্ত শনাক্ত ২ কোটি ৯৯ লাখ মানুষ। একদিনে সেখানে প্রাণ হারিয়েছে ১ হাজার ৫০৫ জন, মোট প্রাণ হারিয়েছে ৫ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। চীনে করোনায় প্রথম রোগীর মৃত্যু হয় গত বছরের বছরের ৯ জানুয়ারি। ওই বছরের ১৩ জানুয়ারি চীনের বাইরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় থাইল্যান্ডে। পরে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে করোনা ছড়িয়ে পড়ে। করোনার প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৩০ জানুয়ারি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি চীনের বাইরে করোনায় প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে ফিলিপিন্সে। এরপর ২০২০ সালের ১১ মার্চ করোনাকে বৈশ্বিক মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বর্তমানে সারাবিশ্বে ১১ কোটি ৯৬ লাখ মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত আর প্রাণ হারিয়েছে ২৬ লাখ ৫১ হাজারের বেশি।
প্রাপ্তবয়স্ক সব নাগরিককে টিকা দেওয়ার নির্দেশ বাইডেনের
১২,মার্চ,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: যুক্তরাষ্ট্রের সব রাজ্যে আগামী ১ মের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক সব নাগরিককে টিকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেছেন, করোনার টিকা দেওয়া হলে আগামী ৪ জুলাই স্বাধীনতা দিবসে আমেরিকার মানুষ ছোট আকারে মিলিত হতে পারে। শুক্রবার (১২ মার্চ) বাইডেন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার প্রথম প্রাইমটাইম ভাষণে এমন মন্তব্য করেন। এ সময় বাইডেন বলেন, আমরা যদি ৪ জুলাইয়ের মধ্যে টিকা নিতে পারি, তা হলে আপনার নিজের, পরিবারের ও বন্ধুদের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে মিলিত হওয়ার ভালো সুযোগ আছে। শুধু স্বাধীনতা দিবস উদযাপনেই নয়; বরং করোনাভাইরাস থেকেও স্বাধীনতা অর্জনের জন্য সক্ষম হবে। ক্ষমতায় যাওয়ার ১০০ দিনের মধ্যে ১০০ মিলিয়ন আমেরিকানকে টিকা দেওয়ার কথা বলেছিলেন বাইডেন। তবে এবার তার ভাষণে তিনি বলেছেন, সেই টার্গেট ৬০ দিনেই অর্জিত হয়েছে। তিনি যে পরিকল্পনা নিয়েছেন, তাতে টিকাদান কেন্দ্র ও টিকা দেওয়ার জন্য জনবলও বাড়ানো হবে। এ ছাড়া কিছু ভ্রাম্যমাণ টিম গিয়ে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে টিকা প্রদান করবেন। তিনি স্বাস্থ্যবিধি মানা বিশেষ করে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, হাত ধোয়া ও মাস্ক পরতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
মিয়ানমারের সন্ত্রাসীর তালিকা থেকে আরাকান আর্মি বাদ
১১,মার্চ,বৃহস্পতিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মিয়ানমারের জান্তা সরকার রাখাইনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) নাম সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। এই গোষ্ঠীটি হামলা চালানো বন্ধ করে দেশজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করতে রাজি হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর সৃষ্ট বিক্ষোভ সামাল দিতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে প্রায় প্রতিদিনই সংগ্রাম করতে হচ্ছে। তার মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নিল দেশটির সামরিক জান্তা। দীর্ঘদিন ধরেই আরাকান আর্মি রাখাইন রাজ্যের বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসনের জন্য লড়াই চালিয়ে আসছিল। গত দুই বছরে বিদ্রোহী এ গোষ্ঠীটি মিয়ানমারের বিদ্রোহী বাহিনীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সমীহ জাগানো নাম হয়ে উঠেছে। দেশটির সেনাবাহিনী প্রায় ৭০ বছর ধরে বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর বিদ্রোহী বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে। এর আগে গত বছর সু চির ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) সরকার আরাকান আর্মিকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল। এ বিষয়ে মিয়ানমারের সরকার পরিচালিত মিরর ডেইলি লিখেছে, আরকান আর্মিকে ২০২১ সালের ১১ মার্চ থেকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর কারণ হিসেবে তাদের হামলা চালানো বন্ধ করে সামরিক জান্তার দেশব্যাপী চিরন্তন শান্তি প্রতিষ্ঠার দৃষ্টিভঙ্গীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আরাকান আর্মির অধিকাংশ সদস্যই রাখাইন নৃগোষ্ঠী ও স্থানীয় সংখ্যাগুরু বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। এর আগে আরাকান আর্মি নভেম্বরে সাময়িক অস্ত্রবিরতির বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। সন্ত্রাসী তালিকা থেকে বাদ পড়া নিয়ে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ করা হলেও গোষ্ঠীটি সাড়া দেয়নি। মিয়ানমারের প্রায় ২৪টিরও বেশি নৃগোষ্ঠীটির সশস্ত্র বাহিনীগুলো সামরিক অভ্যুত্থানের নিন্দা করেছে। তাদের কেউ কেউ অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থনও দেখিয়েছি। তবে আরাকান আর্মি জান্তাবিরোধী বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে কোনো বিবৃতি দেয়নি। রাখাইন রাজ্যেও অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভ তেমন একটা হয়নি। সূত্র : রয়টার্স
যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে তলব করল মিয়ানমার
১০,মার্চ,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও জোয়ার মিনকে তলব করেছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। দেশটির জান্তা সরকার বিরোধী বক্তব্য দেওয়ার জন্য তাকে তলব করা হয়েছ। কিছুদিন আগে ক্ষমতাচ্যুত ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চির মুক্তির দাবি জানিয়ে জান্তা সরকারের সমালোচনা করে মিন বলেন, দেশ বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং সেখানে গৃহযুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি দেশটির বেসামরিক সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। এর আগে জাতিসংঘ মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে সাহসী বক্তব্য রাখায় মিয়ানমারের বিশেষ দূত কিয়াউ মোয়ে তানকে বহিষ্কার করা হয়। সংস্থাটির এক অধিবেশনে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। মিয়ানমারে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করা সামরিক জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে এক মাসের বেশি সময় ধরে বিক্ষোভ করছে মিয়ানমারের জনগণ। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বেসামরিক সরকারের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন। এদিকে, মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) আরো এক নেতা পুলিশ হেফাজতে মারা গেছেন। পুলিশ হেফাজতে মারা যাওয়া এনএলডির ওই নেতার নাম জাউ মিয়াত লিন। বিক্ষোভের সময় ইয়াঙ্গুন থেকে গত সোমবার তাকে আটক করা হয়েছিলো। আটকের পরদিনই অর্থাৎ মঙ্গলবার পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু হয় তার। সর্বশেষ এই ঘটনাসহ অভ্যুত্থানের পর থেকে এ পর্যন্ত এনএলডির দুই নেতা কারা হেফাজতে মারা গেলেন। এছাড়া গত এক মাসের বেশি সময়ে ৬০ জনেরও বেশি অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভকারী নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন।
তিউনিশিয়ায় দুটি নৌকা ডুবে ৩৯ অভিবাসীর মৃত্যু
১০,মার্চ,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তিউনিশিয়া উপকূলে দুটি যাত্রীবোঝায় নৌকা ডুবে ৩৯ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ১৬৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ মার্চ) বিষয়টি নিশ্চিত করে এক বিবৃতিতে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ভূমধ্যসাগর দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের সময় তিউনিশিয়া উপকূলে নৌকা দুটি ডুবে যায়। মৃতরা সবাই আফ্রিকান নাগরিক। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ জেকরি বলেন, এ ঘটনায় কোস্টগার্ড ১৬৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করলেও আরও অনেকে নিখোঁজ থাকতে পারে। এ জন্য সাগরের স্ফ্যাক্স উপকূলে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে বাহিনীটির সদস্যরা। নিহত সকল অভিবাসী আফ্রিকান বলেই নিশ্চিত করেন তিনি। উল্লেখ্য, গত দুই মাসে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে প্রবেশ করেছে প্রায় চার হাজার অভিবাসী। এর মধ্যে তিউনিশিয়া দিয়েই ঢুকেছে এক হাজার। তিউনিশিয়ার বন্দর শহর স্ফ্যাক্সের নিকটবর্তী উপকূলরেখায় আফ্রিকা ও মধ্য প্রাচ্যের সংঘাত ও দারিদ্র্য থেকে পালিয়ে আসা এবং ইউরোপে আরও উন্নত জীবনের খোঁজে এটি একটি প্রধান প্রস্থানস্থানে পরিণত হয়েছে। এর আগে ২০১২-তে, প্রতিবেশী লিবিয়া থেকে ইউরোপের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার পরে তাদের নৌকা তিউনিসিয়ার উপকূলে ডুবে গেলে প্রায় ৯০ জন আফ্রিকান অভিবাসী ডুবে যায়। একটি মানবাধিকার গোষ্ঠী বলেছে যে, তিউনিসিয়ায় অর্থনৈতিক সঙ্কট বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এরই জেরে ২০২০ সাল পর্যন্ত ইতালির তীরে তিউনিসিয়ান অভিবাসীদের সংখ্যা পাঁচগুণ বেড়ে ১৩ হাজারে পৌঁছেছে। সূত্র রয়টার্স।
গিনির সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ২০
৮,মার্চ,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইকুয়েটোরিয়াল গিনির একটি সামরিক ঘাঁটিতে আকস্মিক ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন চার শতাধিক মানুষ। স্থানীয় সময় রোববার (৭ মার্চ) বিকেলে দেশটির বাটা শহরের একটি সামরিক ঘাটিতে হঠাৎ বিস্ফোরণে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় পুরো এলাকা। আহত হন চার শতাধিক মানুষ যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। আহতদের সেবায় দেশটির স্বেচ্ছাসেবী স্বাস্থ্যকর্মীদের এগিয়ে আসার এবং রক্তদানের আহ্বান জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ঘটনার পর এক বিবৃতিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট জানান, সেনাঘাঁটিতে ডিনামাইট ব্যবহারে গাফিলতির জন্যই ভয়াবহ ওই বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু জানা যায়নি। বিস্ফোরণের পর দেশটির রাজধানী মালাবোতে অবস্থান করা স্পেনের নাগরিকদের ঘরে থাকার অনুরোধ জানিয়ে কয়েক দফা জরুরি সতর্কতা জারি করে স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এদিকে এ দুর্ঘটনায় হতাহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন মালাবোতে অবস্থিত ইকুয়েটোরিয়ান গিনির ফরাসি দূতাবাস।
ভারতে আশ্রয় নেয়া পুলিশ সদস্যদের ফেরাতে মিয়ানমারের চিঠি
৭,মার্চ,রবিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চলমান সামরিক সরকারের নির্দেশ পালনে অস্বীকৃতি জানিয়ে আশ্রয়ের আশায় ভারতে পালিয়ে যাওয়া পুলিশ সদস্যদের ফেরত চেয়েছে মিয়ানমার। সম্প্রতি ওইসব পুলিশ সদস্য সপরিবারে তাদের দেশে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে ভারতকে পাঠানো এক চিঠিতে মিয়ানমার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট রাখার জন্য ওইসব কর্মকর্তাকে ফেরত পাঠাতে বলেছে। এর আগে, ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মিজোরামের চাম্পাই এবং সারচিপ জেলার সীমান্ত দিয়ে দেশটিতে প্রবেশ করেন মিয়ানমারের ১৯ পুলিশ সদস্য। স্পর্শকাতর ইস্যু হওয়ায় তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে তারা সবাই মিয়ানমার পুলিশের নিম্নপদস্থ সদস্য এবং ভারতে প্রবেশের সময় পুরোপুরি নিরস্ত্র ছিলেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। মিয়ানমার থেকে আরও অনেকে সীমান্ত পেরিয়ে আসতে পারেন বলে ধারণা ভারতীয় কর্তৃপক্ষের। দেশ দুটির মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬৪৩ কিলোমিটার অভিন্ন স্থলসীমান্ত রয়েছে। গত মাসে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই উত্তাল অবস্থা বিরাজমান মিয়ানমারে। বিক্ষোভ দমাতে মরিয়া নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৫৫ জন আন্দোলনকারী নিহত হয়েছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখনও বিক্ষোভকারীরা তাদের অবস্থানে অনড়। শনিবারও ইয়াঙ্গুনে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার শেল, রাবার বুলেট এবং স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। তবে নতুন করে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। গত ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের পরপরই মিয়ানমারের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, শ্রমিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের পেশাজীবীরা কাজে ইস্তফা দিয়ে রাজপথে বিক্ষোভ শুরু করেন। শান্তিপূর্ণ এই বিক্ষোভ অত্যন্ত সহিংসভাবে দমনের চেষ্টা চালাচ্ছে সামরিক সরকার।
স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণে খুশি ভারত
৬,মার্চ,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের জন্য জাতিসংঘের সুপারিশ লাভ করায় ভারত অত্যন্ত খুশি এবং অর্থনৈতিক উন্নতি হলেও প্রতিবেশীদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। খবর দ্য হিন্দু বিজনেস লাইনের। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব গত শুক্রবার সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বলেন, সম্প্রতি ঢাকায় এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের ভূয়সী প্রশংসা এবং গর্বপ্রকাশ করেছেন। শ্রীবাস্তব বলেন, এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণে আমরা খুশি এবং এই প্রবৃদ্ধির পথে তাদের সঙ্গে সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব অব্যাহত রাখব। বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিকের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে সাফটার (দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তি) অধীনে ভারতে যে শুল্ক ও কোটামুক্ত বাণিজ্য সুবিধা পেত, এলডিসি থেকে উত্তরণের পরও সেটি পাবে কি না জানতে চাওয়া হয়েছিল ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের কাছে। জবাবে তিনি বলেন, ভারত এবং বাংলাদেশ উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ কর্মকর্তাদের দ্বিপাক্ষিক বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির (সিইপিএ) সম্ভাবনা নিয়ে একটি যৌথ গবেষণা দ্রুত সমাপ্তের নির্দেশ দেন। গত ১৭ ডিসেম্বর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যকার একটি ভার্চুয়াল সম্মেলনে নতুন এই চুক্তির বিষয়টি সামনে আসে। শ্রীবাস্তব বলেন, ভারত-বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ভার্চুয়াল সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের দেওয়া শুল্কমুক্ত কোটামুক্ত সুবিধার প্রশংসা করেন। সাফটার ভিত্তিতে ২০১১ সাল থেকে ভারত বাংলাদেশকে এই সুবিধা দিচ্ছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতি সংক্রান্ত কমিটি (সিডিপি) বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সুপারিশ করেছে। নিয়ম অনুযায়ী, তিনটি শর্ত পূরণ হলে এবং পরপর দুটি পর্যালোচনায় এ মানদণ্ড ধরে রাখতে পারলে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পাওয়া যায়। শর্ত তিনটি হলো- মাথাপিছু আয় হতে হবে কমপক্ষে ১ হাজার ২৩০ মার্কিন ডলার, মানবসম্পদ সূচকে ৬৬ পয়েন্ট ও অর্থনীতির ভঙ্গুরতা সূচকে ৩২ বা তার নিচে থাকতে হবে। বাংলাদেশ এসব শর্ত ২০১৮ থেকেই পূরণ করে আসছে। সাধারণত প্রতি তিন বছর পরপর এই মানদণ্ড পর্যালোচনা করে সিডিপি। তবে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে দুই বছর বাড়িয়ে বাংলাদেশকে পরবর্তী পর্যালোচনার জন্য ২০২৬ সালের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ আগামী পাঁচ বছর উপরের তিনটি মান ধরে রাখতে পারলেই মিলবে উন্নয়নশীল দেশের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর