চীনের গবেষণাগার থেকে করোনা ছড়ায়নি : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
১০,ফেব্রুয়ারী,বুধবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনাভাইরাসের উৎস সন্ধানে চীনের উহানে অবস্থানকারী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বিশেষজ্ঞ দল গবেষণাগার থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান পিটার বেন এমবারেক বলেন, উহানের কোনো গবেষণাগার থেকে ভাইরাস ছড়িয়েছে এটা খুবই অসম্ভব। ভাইরাসের উৎস চিহ্নিত করতে আরও অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি। আরেক বিশেষজ্ঞ জানান, অনুসন্ধানের নজর এখন দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দিকে যেতে পারে। ডব্লিউএইচওর বিশেষজ্ঞ দলটি এখন তাদের মিশনের শেষের দিকে রয়েছে। এক সংবাদ সম্মেলনে ড. এমবারেক বলেন, অনুসন্ধানে নতুন তথ্য বের হয়েছে কিন্তু প্রাদুর্ভাবের চিত্রে কোনো নাটকীয় পরিবর্তন আসেনি। তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের উৎস চিহ্নিত করতে অনুসন্ধানের নজর ছিল বাদুড়ের প্রাকৃতিক আবাসস্থলের দিকে। কিন্তু এটা (উৎস) উহানেই হয়েছে এমন সম্ভাবনা কম। এমবারেক বলেন, প্রাণির সূত্র বের করার কাজ এখনো চলছে কিন্তু একটি মধ্যবর্তী প্রজাতি থেকে তা মানুষের শরীরে এসেছে এমন সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, ডিসেম্বরে প্রথম করোনা শনাক্ত হওয়ার আগে থেকেই উহানে ভাইরাস ছড়াচ্ছিল এমন কোনো প্রমাণ তারা পাননি। চীনের স্বাস্থ্য কমিশনের বিশেষজ্ঞ লিয়াং ওয়ানিয়ান বলেন, উহানে শনাক্ত হওয়ার আগেই হয়তো করোনাভাইরাস অন্য অঞ্চলে ছিল। কোল্ড চেইন- সংক্রমণ বা হিমায়িত খাদ্য পরিবহণ ও বিক্রির মাধ্যমে ভাইরাস ছড়িয়েছে কিনা তা জানতে আরও তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে বিশেষজ্ঞ দলটি। বিশেষজ্ঞ দলের আরেক সদস্য পিটার ড্যাসজ্যাক বলেন, ভাইরাসের উৎস খুঁজতে অনুসন্ধান এখন পূর্ব এশিয়ার দিকে স্থানান্তরিত হতে পারে। তিনি বলেন, আমরা চীনে অনেক কাজ করেছি এবং আপনি যদি তা চিহ্নিত করেন তবে তা সীমান্তের দিকে ইঙ্গিত করতে শুরু করে। এবং আমরা জানি যে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার পুরো অঞ্চলের মধ্যে সীমান্তের অপর দিকটিতে খুব কম নজরদারি রয়েছে। চীন অনেক বড় একটি জায়গা এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াও অনেক বড়। হুয়ানানের সামুদ্রিক খাদ্যের সাপ্লাই চেইন অনেক বড় ছিল, এগুলো অন্য দেশ থেকে আসতো, এগুলো চীনের অনেক অংশ থেকেও আসতো। তাই এর সূত্র অনুসরণ করতে কিছু কাজ করতে হবে, বলেন পিটার। এখন মূল নজর এই সাপ্লাই চেইনগুলোর ওপরেই থাকবে বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, বেইজিং এর সঙ্গে বেশ কয়েক মাসের আলোচনার পর গত জানুয়ারিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মিশন শুরু হয়। মিশনে বিশেষজ্ঞদের পরিদর্শন চীনা কর্তৃপক্ষের ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণের আওতায় ছিল।
অঝোরে কাঁদলেন নরেন্দ্র মোদি
৯,ফেব্রুয়ারী,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ভারতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা গোলাম নবী আজাদের বিদায় উপলক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অঝোরে কাঁদলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। খবর এনডিটিভির। মঙ্গলবার রাজ্যসভায় সামনাসামনি বসা বিরোধী নেতা আজাদকে প্রশংসার বন্যায় ভাসিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নরেন্দ্র মোদি। দুজনে গুজরাট এবং জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন কিছু ঘটনার স্মৃতিচারণও করেন তিনি। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি গোলাম নবী আজাদকে বহু বছর ধরে চিনি। আমরা একসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম। আমি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে থেকেই আমরা মতবিনিময় করেছি, তখন আজাদ সাহেব রাজনীতিতে খুব বেশি সক্রিয় ছিলেন। তার একটা আসক্তি রয়েছে, যা অনেকেই জানেন না- বাগান করা। বক্তব্যে ২০০৭ সালে জম্মু-কাশ্মীরে গুজরাটের একদল পর্যটকের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাও উল্লেখ করেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি জানান, ওই ঘটনা জানাতে প্রথমেই তার কাছে ফোন করেছিলেন আজাদ। সেসময় কাশ্মীরি মুখ্যমন্ত্রীর চোখের পানি থামছিল না বলেও জানান এ বিজেপি নেতা। মোদি বলেন, কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলার কারণে গুজরাটের মানুষজন আটকে গেলে জনাব আজাদ এবং প্রণব মুখার্জির প্রচেষ্টার কথা আমি কখনো ভুলব না। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই রাতে গোলাম নবী আমাকে ফোন করেছিলেন। তাকে এমন চিন্তিত মনে হচ্ছিল, যেমনটা মানুষ নিজের পরিবারের জন্য হয়। তিনি ওই ধরনের অনুভূতি দেখিয়েছিলেন। এটা বলতে গিয়েই অঝোরে কেঁদে ফেলেন নরেন্দ্র মোদি। কান্না থামাতে কিছুক্ষণের জন্য থামতে হয় তাকে। এসময় ডেস্ক চাপড়ে মোদিকে সাধুবাদ জানান সংসদের অন্য নেতারা। তিনি বলেন, ক্ষমতা আসে আর যায়। তবে সেটি কীভাবে সামলাতে হয়.. এটুকু বলে আবারো থামেন মোদি এবং গোলাম নবী আজাদকে স্যালুট করে সম্মান জানান। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজ্যসভায় মেয়াদ শেষ হচ্ছে বর্ষীয়ান নেতা আজাদের। তার উদ্দেশে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আপনাকে অবসর নিতে দেব না। আমি আপনার উপদেশ নেওয়া চালিয়ে যাব। আপনার জন্য আমার দরজা সবসময় খোলা।
মিয়ানমার সেনাপ্রধানের প্রতিশ্রুতি
৯,ফেব্রুয়ারী,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মিয়ানমারে বিক্ষোভ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। সোমবার বিক্ষোভকারীদের সতর্ক করে সেনাবাহিনী বলেছে, যারা আইন ভঙ্গ করে বিক্ষোভ করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে শিগগিরই নতুন নির্বাচনের আয়োজন করে বিজয়ী দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন দেশটির বর্তমান শাসক ও সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং। সোমবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) প্রথমবারের মতো জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন। একই সাথে গত বছরের নভেম্বরের অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ তোলেন তিনি। প্রসঙ্গত, সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে দেশটির সাধারণ মানুষ যখন ক্রমেই কঠোর আন্দোলনের দিকে যাচ্ছে, তখনই এমন ঘোষণা দিলেন মিন অং। ভাষণে মিন অং হ্লাইং বলেন, আগের সময়ের চেয়ে এবারের সামরিক সরকার একেবারেই আলাদা। পূর্বের সামরিক শাসনের তুলনায় এই সামরিক সরকার সত্য ও শৃঙ্খলাবদ্ধ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে। উল্লেখ্য, গত ১ ফেব্রুয়ারি ভোরে মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান হয়। সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনী দেশটির নির্বাচিত স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে। সামরিক বাহিনী দেশটিতে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করেছে। একই সঙ্গে তারা দেশটির সু চি, প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ রাজনীতিক নেতাদের আটক করেছে। সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকেই মিয়ানমারে বিক্ষোভ দানা বাধে। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে দেশটির সেনাবাহিনী ফেসবুক ও টুইটারের পর ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ করে দেয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও দেশটির মানুষ সেনাশাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে আসেন। এরই ধারাবাহিকতায় দেশটির সবচেয়ে বড় শহর ইয়াঙ্গুনে সোমবার ১০ হাজারের বেশি মানুষ জান্তা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ বের করেন। গণআন্দোলনের তৃতীয় দিনে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে জটিলের দিকে মোড় নিচ্ছে। সু চির মুক্তি এবং সামরিক সরকার ক্ষমতা না ছাড়লে সামনে বড় ধরনের কর্মসূচির দিকে যাচ্ছে মিয়ানমারের নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণে সামরিক সরকারের অধীনে নতুন করে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি এলো।
নিজেদের তৈরি চালকবিহীন বৈদ্যুতিক বাসের পরীক্ষা চালাল তুরস্ক
৯,ফেব্রুয়ারী,মঙ্গলবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নিজেদের তৈরি চালকবিহীন বৈদ্যুতিক বাসের পরীক্ষা চালিয়েছে তুরস্ক। গত ১ ফেব্রুয়ারি দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের উপস্থিতিতে এ পরীক্ষা চালানো হয়। এ সময় তুরস্কের শিল্প ও প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা বারানক উপস্থিত ছিলেন। এরদোয়ান বৈদ্যুতিক বাসের পরীক্ষার সময় তার টুইটার অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, আমরা তুরস্কের তৈরি চালকবিহীন বাসে করে মন্ত্রিসভার বৈঠকে যাচ্ছি। এটি তুর্কি প্রকৌশলীদের দ্বারা তৈরি বিশ্বের প্রথম উত্পাদিত চতুর্থ স্তরের চালকবিহীন বৈদ্যুতিক বাস। এ প্রসঙ্গে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি যে ব্যাপক উত্পাদন দিয়ে এটি বিশ্বজুড়ে তুরস্ক ও তুর্কি ব্র্যান্ডের সুনাম বৃদ্ধি করবে। আতাক ইলেকট্রিক নামের বাসটিতে বিএমডব্লিউ ২২০-কেডব্লিউএইচ লি-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। দুই চার্জের মাঝামাঝি সময়ে এটি ৩০০ কিলোমিটার (১৮৬ দশমিক ৪ মাইল) পর্যন্ত রেঞ্জ অতিক্রমে সক্ষম। সরাসরি বিদ্যুতে চার্জ হতে সময় লাগবে তিন ঘণ্টা। ২৭ দশমিক ২ ফুট (৮ দশমিক ৩ মিটার) দৈর্ঘ্যের বাসটিতে ৫০ যাত্রী বসতে পারবেন। উৎপাদক প্রতিষ্ঠান কারসান জানিয়েছে, এরই মধ্যে তারা ব্যাপকভিত্তিক উৎপাদন শুরু করেছে। এ প্রসঙ্গে কারসান চিফ এক্সিকিউটিভ (সিইও) ওকান বাস বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত ছিল, আমাদের রাষ্ট্রপতি খুব উচ্ছ্বসিত ছিলেন। বিশেষত তুরস্কের এই সরঞ্জামটি কেবল এখানে উত্পাদিত হয়নি, তুর্কি প্রকৌশলীদের দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। গত মাসেই নিজেদের তৈরি বৈদ্যুতিক বাসের পরীক্ষা চালায় তুরস্কের আরেক প্রতিষ্ঠান অটোকার।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে আবারো যোগ দিচ্ছে বাইডেনের প্রশাসন
৮,ফেব্রুয়ারী,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তিন বছর পর পুনরায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে যোগ দিচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন। মানবাধিকার কাউন্সিল চরম ইসরাইলবিরোধী বলে সংস্থাটির বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে ২০১৮ সালে এটি ত্যাগ করেছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সোমবার( ৮ ফেব্রুয়ারি) জেনেভাভিত্তিক জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে পর্যবেক্ষক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পুনরায় যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিনকেন। বাইডেন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেছেন, কাউন্সিলে গঠনমূলক পরিবর্তন ও পরিবর্ধন আনার সর্বোত্তম পন্থা হলো এতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে যুক্ত থাকা। তিনি আরও বলেন, আমরা জানি, বিশ্বজুড়ে যারা নৈরাজ্য ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ফোরাম হয়ে ওঠার মতো যোগ্যতা মানবাধিকার কাউন্সিলের রয়েছে। আমরা সংস্থাটির সঙ্গে যুক্ত থেকে নিশ্চিত করতে চাই এটি যেন সেই যোগ্যতার প্রমাণ দিতে পারে।
ভারতে তুষারধস : মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফিরলেন ১৬ শ্রমিক
৮,ফেব্রুয়ারী,সোমবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তুষারধসের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৪ জন। এছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১৭০ জনের বেশি। ধারণা করা হচ্ছে তাদরে কেউ বেঁচে নেই। তবে এর মধ্যেই একটি সুরঙ্গ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১৬ শ্রমিককে। উদ্ধারের পর আবেগ-উচ্ছাসে নতুন জীবন পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করেছেন তারা। আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, রোববার (৭ ফেব্রুয়ারি) ভারতের উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় তুষারধসের ঘটনা ঘটে। জোশীমঠের কাছে ওই তুষারধসের জেরে ধোলিগঙ্গায় জলস্তর প্রবলভাবে বেড়ে যায়। তীব্র জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যায় অনেকগুলো গ্রাম। এমনকি সেতুও ভেঙে পড়ে। এতে ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আর নিখোঁজ হন আরও ১৭০ জনের বেশি। তারা সবাই তপোবন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ করছিলেন। তীব্র জলোচ্ছ্বাসের সময় বিদ্যুৎপ্রকল্পে সুরঙ্গের মধ্যে কাজ করছিলেন ১৬ জন শ্রমিক। পানিতে সুড়ঙ্গের মুখ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কর্মীদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়। ওই কর্মীদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেন উদ্ধারকারীরা। কয়েক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় তারা একে একে সব কর্মীকেই জীবিত উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর কর্মীরা উচ্ছ্বাস ধরে রাখতে পারেননি। ভিডিওতে দেখা যায়, মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে উচ্ছ্বাসে নিজের দু হাত প্রসারিত করতে দেখা যায় একজনকে। আবগেঘন এই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
সেনা অভ্যুত্থান: জোরদার হচ্ছে মিয়ানমারের আন্দোলন
৬,ফেব্রুয়ারী,শনিবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে কারাবন্দি অং সান সু চিসহ অন্যান্যদের মুক্তির দাবিতে দেশটিতে চলমান আন্দোলন ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। গত সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) সেনা অভ্যুত্থানের পরপরই প্রথম প্রতিবাদ এসেছিল চিকিৎসাকর্মীদের কাছ থেকে। এরপর থেকে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ইয়াঙ্গুনের ড্যাগন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে জড়ো হন কয়েকশ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। সেখানে তারা সু চির পক্ষে তাদের সমর্থন জানিয়ে লাল পতাকা বহন করেন। এ সামরিক অভ্যুত্থান চাই না, সু চি মা জিন্দাবাদ স্লোগান দেন তারা। আমরা আমাদের প্রজন্মকে এ ধরনের সামরিক স্বৈরাচারের যাঁতাকলে ভুগতে দেব না; বলে বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানায় এক বিক্ষোভকারী। শিক্ষার্থীরাসহ সরকারি ও বেসরকারি বহু কর্মী এ আন্দোলনে যোগ দিয়েছে। শুক্রবার সর্বশেষ আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন শিক্ষকরা। সোমবার মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয় সেনাবাহিনী এবং অং সান সু চি-সহ অন্য রাজনীতিক নেতা ও কয়েকশ আইনপ্রণেতাকে আটক করে। এরপর অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারা একটি সুপ্রিম কাউন্সিলও গঠন করে। এরপর বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারি) যোগাযোগের সরঞ্জাম অবৈধভাবে আমদানির অভিযোগে সু চির বিরুদ্ধে মামলা করে দেশটির পুলিশ। এ অভিযোগ প্রমাণিত হলে সু চির সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে জানিয়েছে তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) সদস্যরা।
সু চির প্রধান সহযোগী গ্রেফতার
৫,ফেব্রুয়ারী,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিল অং সান সু চির অন্যতম সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। মিয়ানমারের রাজনৈতিক নেতা উইন হাতেইন শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ভোরে তার বোনের বাসা থেকে গ্রেফতার হন। সু চিকে গ্রেফতার করে সামরিক শাসন জারি করায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের হুমকি-ধামকির মধ্যেই নতুন করে এই শীর্ষ রাজনীতিককে আটক করেছে। সু চির দল এনলডি জানিয়েছে, ইয়াঙ্গুনে তার বোনের বাসায় রাত্রিযাপন করছিলেন। ওখান থেকেই তাকে ধরে নাইপিদোর পুলিশ স্টেশনে নেওয়া হয়েছে। ৭৯ বছর বয়সী সু চির এই সহযোগীকে এর আগেও দীর্ঘ সময় কারাগারে কাটাতে হয়। উইন হাতেইনকে সু চির ডান হাত হিসেবেও বিবেচিত। গ্রেফতারের আগে এক গণমাধ্যমকে তিনি বলেছিলেন, সামরিক অভ্যুত্থান কোনো জ্ঞানসম্পন্ন কাজ নয়, সামরিক শাসনে দেশকে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে নেওয়া হবে, এর বিরুদ্ধে জনতাকে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখনই সময়। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির তথ্যমতে, গত সোমবার সামরিক অভুত্থ্যানের পর এ পর্যন্ত ১৩০ জনের বেশি রাজনৈতিক ও আইনপ্রণেতাকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ অবস্থায় মিয়ানমারের পরিস্থিতি দিন দিন আরো নাজুকের দিকে যাচ্ছে। সামারিক শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের ভেতর ক্ষোভের জন্ম হচ্ছে, অনেককে রাস্তায় প্রতিবাদ জানাতেও দেখা গেছে। শুধু সু চির সহযোগীদেরই আটক করা হচ্ছে না, দেশটির অনেক জায়গায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন খুবই বিরক্ত মিয়ানমারে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে। সামরিক বাহিনীকে অবশ্যই ক্ষমতা ছেড়ে রাজবন্দিদের মুক্তি দেওয়া উচিত মনে করছেন বাইডেন। গত বছরের নভেম্বরের অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় পায় সু চির দল এনএলডি। নির্বাচনে ভুরাডবি হয় সেনাসমর্থিত দলের। সু চির বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ তোলে পুনরায় নির্বাচনের আহ্বান জানান সেনাবাহিনী। এমকি ক্ষমতা নিয়ে চলে বনিবনা না হওয়ায় গত সোমবার ভোরে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে সু চিসহ অনেক আইন প্রণেতাকে গ্রেফতার করে সেনারা। দীর্ঘ ১০ বছর পর আবারো মিয়ানমার জান্তা সরকারের অধীনে ফিরে গেল। অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়ে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞারও হুমকি দিয়েছে বাইডেন প্রশাসন।
স্বার্থে আঘাত না এলে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যাবে না চীন
৫,ফেব্রুয়ারী,শুক্রবার,আন্তর্জাতিক ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মিয়ানমারের একটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রের মতামত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, স্বার্থে আঘাত না এলে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানকারীদের রক্ষা করবে চীন। দ্য ইরাবতীতে প্রকাশিত একটি মতামত প্রতিবেদনে পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাতা প্রধান সম্পাদক অং জো এ দাবি করেন। তিনি বলেন, মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান ব্যর্থ করতে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিলেও মিয়ানমারের সরকার কে হবে, তা নিয়ে চীনের কোনো মাথাব্যথা নেই। চীন শুধু ওই অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা করতে আগ্রহী। সে স্বার্থে আঘাত না আসা পর্যন্ত সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেবে না চীন। সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেনাবাহিনী দেশটির নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং অং সান সু চি-সহ অন্য রাজনীতিক নেতা ও কয়েকশ আইনপ্রণেতাকে আটক করে। এরপর অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারা একটি সুপ্রিম কাউন্সিলও গঠন করেছে। ওই কাউন্সিলের নেতৃত্বে রয়েছেন প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হলাইং। মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বসলেও চীনের সমর্থন না থাকায় অভ্যুত্থানের নিন্দা করে কোনো বিবৃতি দিতে পারেনি। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্যের একজন হওয়ায় যে কোনো বিবৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে চীনের সমর্থন প্রয়োজন হয়।

আন্তর্জাতিক পাতার আরো খবর