সোমবার, ডিসেম্বর ৬, ২০২১
৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ড ভোগান্তি থাকলেও উন্নয়ণ বেশী
০৫ ডিসেম্বর ২০২১, মো. এনামুল হক লিটন/সাহেনা আক্তার, চট্টগ্রাম, নিউজ একাত্তর ঃ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) ৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা, যানজটসহ আরো কিছু সমস্যার কারণে ভোগান্তি থাকলেও তুলনামূলকভাবে এই ওয়ার্ডের উন্নয়ণ অনেক বেশী। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা, মামলা পাল্টা মামলার ঘটনা এবং কিশোর অপরাধ এই ওয়ার্ডের একটি বড় সমস্যা। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বায়েজিদ বোস্তামী এবং পাঁচলাইশ মডেল থানা এলাকায় ওয়ার্ডটির অবস্থান। ওয়ার্ডটির আয়তন ৩.১৬ বর্গ কিলোমিটার। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের মোট জনসংখ্যা ১,২৫,৫১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬৪,৮৩২ জন এবং মহিলা ৬০,৬৮৫ জন। মোট পরিবার ২৪,৯৯৭টি। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মধ্যাংশে পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের অবস্থান। এর পশ্চিমে ২নং জালালাবাদ ওয়ার্ড ও ৮ নম্বর শুলকবহর ওয়ার্র্ড, দক্ষিণে ৮ নম্বর শুলকবহর ওয়ার্র্ড, পূর্বে ৪ নম্বর চান্দগাঁও ওয়ার্ড ও ৩ নম্বর পাঁচলাইশ ওয়ার্ড এবং উত্তরে ৩ নম্বর পাঁচলাইশ ওয়ার্ড অবস্থিত। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধিন, ৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডটির প্রশাসনিক কাঠামো হচ্ছে সিটি কর্পোরেশনের পাঁচলাইশ মডেল থানার আওতাধীন ও আংশিক বায়েজিদ বোস্তামী থানা। ওয়ার্ডটি ২৮৫ নম্বর চট্টগ্রাম-৮ জাতীয় নির্বাচনী এলাকার অংশ। এ ওয়ার্ডের উল্লেখযোগ্য এলাকা হল: নাসিরাবাদ, ষোলশহর, মোহাম্মদপুর, নাজিরপাড়া, হামজারবাগ, জঙ্গলপাড়া ও আলীনগর। ওয়ার্ডের শিক্ষা ব্যবস্থা বলতে ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ি সাক্ষরতার হার ৬৬.৪%। এ ওয়ার্ডে ২টি মাদ্র্রাসা, ৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম টেক্সটাইল ইনস্টিউট রয়েছে। এছাড়া এই ওয়ার্ডে চট্টগ্রামের একমাত্র রাষ্ট্রায়াত্ত আমিন জুট মিলসহ এছাড়া রয়েছে অসংখ্য শিল্প কারখানাও। সরেজমিনে ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও বাসিন্দাদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, একসময় ওয়ার্ডটি অবহেলিত থাকলেও বিগত ৫ বছরে ওয়ার্ডের ব্যাপক উন্নয়ণ হয়েছে। সাবের আহমেদ নামের ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা জানান, এক সময়ে এই ওয়ার্ডটি ছিল খুব অবহেলিত। বিগত পাঁচ বছরে ওয়ার্ডটিকে অনেক আধুনিকায়ন করেছেন, কাউন্সিলর আলহাজ্ব মো. মোবারক আলী। এবারও তিনি পূনরায় কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে এলাকার উন্নয়ণে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, কাউন্সিলর মো. মোবারক আলী পূনরায় নির্বাচিত হয়ে সার্বক্ষনিক ওয়ার্ডের খোঁজ খবর নিচ্ছেন। তবে ওয়ার্ডের বিভিন্নস্থানে মশার উপদ্রব বেশী বলে জানিয়েছেন, কয়েক এলাকার বাসিন্দারা। ওয়ার্ডের সচিব জানান, মশক নিধনসহ পরিছন্নতা অভিযান চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, ডোর টু ডোর কার্যক্রম আমাদের ওয়ার্ডে সবসময় সক্রিয়। ওয়ার্ড ঘুরে ভাঙ্গা ও আধা কাঁচা সড়কের দেখা না মিললেও মুরাদপুর থেকে হাটহাজারী সড়কের রৌফাবাদ হয়ে অক্সিজেন মোড় পর্যন্ত সড়কের বিভিন্নস্থানে ওয়াসার কাটাকাটির কারণে যানজটসহ মানুষকে ধূলাবালির র্দর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মানুষকে। ওয়াসা সূত্র জানায়, ওই এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য ৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের প্রত্যোকটি সড়ক কেটেছে তারা। ফলে ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়িতে মূল সড়ক থেকে অলিগলির এখন বেহাল অবস্থা। সরেজমিনে গতকাল মুরাদপুর থেকে বিবিরহাট, হামজারবাগ, আতুরার ডিপো, রৌফাবাদসহ আরো কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার এক পাশের প্রায় অর্ধেক সড়কই কাটা। কোথাও-কোথাও কাজ শেষ হলে, কোনো রকম প্রাথমিক মেরামত (রিপেয়ার) করে দিলেও ঢালাই না করার কারণে সড়কগুলো উচু-নিচু, টিলায় পরিণত হয়েছে। এ কারণে এই সড়ক দিয়ে যান যানচলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি ধূলাবালির দূর্ভোগসহ যানজট লেগেই থাকে। এতে করে মানুষের ভোগান্তির কোনো অন্ত থাকেনা। ওই সড়কের আশপাশের ব্যবসায়িরা জানান, ধূলাবালির নরক যন্ত্রনায় এখানে ব্যবসা করা দায় হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন সকাল-বিকাল পানি ছিঁটিয়েও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসা যাচ্ছে না। সোহেল নামের একজন শিক্ষার্থী জানান, আতুরার ডিপো থেকে হামজার বাগ আধা কিলোমিটারের পথ। এই দূরত্বে আসতে যেখানে সময় লাগার কথা ১০-১৫ মিনিট সেখানে এখন সময় লাগছে ৪০-৪৫ মিনিট। এরপর গাড়ী থেকে নামলে ধূলাবালি আর নোংরা পানির জন্য চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওয়াসার কাজের ধীর গতির কারণে দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার বাসিন্দারা ভোগান্তিতে রয়েছে। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) বজ্য ব্যবস্থাপনা স্থায়ি কমিটির চেয়ারম্যান ও ৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আলহাজ্ব মো. মোবারক আলী জানান, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য চট্টগ্রাম ওয়াসা মুরাদপুর থেকে অক্সিজেন পর্যন্ত সড়কের রাস্তা কাটাকাটি করছে। তাদের কাজ শেষ হলে আমরা প্রাথমিকভাবে সেই কাটা রাস্তাগুলো রিপেয়ার করে দিচ্ছি। পরবর্তীতে পুরোপুরী কাজ শেষ হলে, রাস্তা ঢালাই করা হবে। তখন যানজট ও ধূলাবালির দূর্ভোগ কমে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। কবে নাগাদ এই কাজ শেষ হবে জানতে মুঠোফোনে ওয়াসার প্রকল্প পরিচালকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। এছাড়া যানজট, কিশোর অপরাধ ও মাদকের আগ্রাসনের কথা জানিয়েছেন, স্থানিয়দের কেউ-কেউ। তবে কাউন্সিলর মো. মোবারক আলী জানান, আগে মুরাদপুর এলাকায় যানজট হতো বর্তমানে তেমন একটা যানজট হয়না। ওয়াসার কাজ চলমান থাকার যানজট কিছুটা বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মুরাদপুর সংলগ্ন ১ নম্বর রেলক্রসিং এলাকায় সন্ধ্যার পর ফুটপাতে বাজার বসে এ কারণে একটু যানজট হয়। কিশোর অপরাধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিশোর অপরাধ কিছুটা থাকতে পারে সেটিকে কিশোর গ্যাং বলা যাবেনা। কারন আমার ওয়ার্ডে কিছু পাহাড়ি ও বস্তি এলাকা আছে। বস্তি কেন্দ্রিক কিশোররা অপরাধে জড়াতে পারে। এছাড়া মাদক এই ওয়ার্ডে নির্দিষ্ট কোনো এলাকায় বিক্রি হয়না জানিয়ে তিনি বলেন, বহিরাগত কেউ অন্য এলাকা থেকে এসে কৌশলে মাদক বেচাকেনা করে বলে আমি শুনেছি। তবে এদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে। তিনি নিজেও মাদক থেকে যুব সমাজকে রক্ষায় বিভিন্ন ধেলাধুলাসহ নানা আয়োজন করেন বলে জানান। জানা গেছে, ওয়ার্ডের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনতে এ ওয়ার্ডে প্রথম চালু হয়েছে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পাইলট প্রকল্প। গত পহেলা ডিসেম্বর নবীনগরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র এই প্রকল্পের উদ্ভোধন করেন। প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন বাসা-বাড়ি থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্যের একটি অংশ ডাম্পিং করার আগে উৎপাদনশীল খাত হিসেবে চিহ্নিত করে ডাম্পিংয়ের পর রিসাইক্লিন করে বাকি বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করা হবে। এ লক্ষ্যে চসিকের পক্ষথেকে পরীক্ষামূলকভাবে ৮০টি বাড়ি ঘিরে এই প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন একটি মাত্রা যোগ হল বলে মন্তব্য করে কাউন্সিলর মো. মোবারক আলী বলেন, এই প্রকল্পে প্রতিটি বাড়িকে একই রঙে সাজিয়ে প্রতিটি গলি ও বাড়ির সামনে ময়লা ফেলার জন্য বিন বসানো হয়েছে। সেই সঙ্গে জনসচেতনতা ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে উদ্বুদ্ধকরণের জন্য দেয়ালে চিকা ও আলপনা আঁকা হয়েছে। জনগণ সচেতন হলে এই পাইলট প্রকল্প সফল হবে। এক প্রশ্নের জবাবে কাউন্সিলর আলহাজ্ব মো. মোবারক আলী জানান, ওয়ার্ডে বিগত সময়ে শতকোটি টাকা বাজেটে ১৩৫টি সড়কের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। আরো কিছু উন্নয়ন কাজ চলমান ও প্রক্রিয়াধিন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল ও ড্রেনের কাজ ৭০ ভাগ শেষ হয়েছে বলে জানিয়ে শিক্ষা খাতে আমুল পরিবর্তন আনতে নিরলস কাজ করে যাওয়ার পাশাপাশি চসিক মেয়রের নের্তৃত্বে চট্টগ্রামের উন্নয়ণ ও অগ্রগতির পথে যে যাত্রা তা আরো বেগবান করতে ৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডকে ঢেলে সাজাতে চাই উল্লেখ করে এ লক্ষ্যে তিনি ওয়ার্ডবাসীর সহযোগীতা কামনা করে বলেন, কাউন্সিলর হিসেবে আমি দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হওয়ার পর ওয়ার্ডের প্রতিটি এলাকা ঘুরে-ঘুরে পরিদর্শন করেছি এবং যেখানে সমস্যা ছিল সেখানে তাৎক্ষনিকভাবে সমাধানের পদক্ষেপ নিয়েছি। তিনি ওয়ার্ডটিকে ক্লিন ওয়ার্ডে হিসেবে গড়ে তুলতে এবং ঢেলে সাজাতে চান মন্তব্য করে পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডকে সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ, মাদক, জলাবদ্ধতামুক্ত, সুন্দর, আধুনিক ও নান্দনিক ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলতে ওয়ার্ডবাসীর সর্বাত্নক সহয়োগীতাও কামনা করেছেন।
ঝাউতলায় ট্রেনের সঙ্গে ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১০
৪ ডিসেম্বর ২০২১ , শনিবার , নিজস্ব সংবাদদাতা , নিউজ একাত্তর : নগরের খুলশী থানাধীন ঝাউতলা এলাকায় রেল ক্রসিং পার হতে গিয়ে ডেমু ট্রেনের সঙ্গে বাস ও সিএনজি অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় ২ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শনিবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে দশটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের একজন পুলিশ সদস্য। তার নাম মো. মনির। অপরজনের পরিচয় জানা যায়নি। চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী বলেন, সকালে রেলক্রসিংয়ে ডেমু ট্রেনের সঙ্গে ত্রিমুখী সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে ১ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছে। রেল সিগন্যাল অমান্য করার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যক্ষ্যদর্শীরা জানান, রেলওয়ের সিগনাল অমান্য করে রেল ক্রসিং পার হতে গিয়ে সিএনজি অটোরিকশা ও বাস ডেমু ট্রেনের সামনে পড়ে যায়। এতে সংঘর্ষ হয়। এসময় বাস ও সিএনজিতে থাকা যাত্রীরা মারাত্মক আহত হয়েছেন। পাঁচলাইশ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সাদেকুর রহমান বলেন, আহতদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পাইলট প্রকল্পের আওতায় আসছে চসিকের ৪১টি ওয়ার্ড
০৩ ডিসেম্বর ২০২১, সাহেনা আক্তার, চট্টগ্রাম, নিউজ একাত্তর ঃচট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ৪১টি ওয়ার্ডের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে বিশেষ পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী। প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে, যত্রতত্র ময়লা ফেলার প্রবণতা কমবে বলে মন্তব্য করে সিটি মেয়র বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন বাসা-বাড়ি থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্যরে একটি অংশ ডাম্পিং করার আগে উৎপাদনশীল খাত হিসেবে চিহ্নিত করে ডাম্পিংয়ের পর রিসাইক্লিন করে বাকি বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করা হবে। এ লক্ষ্যে চসিকের পক্ষথেকে পরীক্ষামূলকভাবে ৮০টি বাড়ি ঘিরে এক পাইলট প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি সফল হলে তা অনুসরণ করে ৪১টি ওয়ার্ডে এটি বাস্তবায়ন করা হবে। এর সুফল পাবে ৪১টি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। গত পহেলা ডিসেম্বর চসিকের ৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের নবী নগরে পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন করতে গিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি বলেন, নবীনগর এলাকায় ৮০টি বাড়িকে ঘিরে যে পাইলট প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন একটি মাত্রা যোগ হল। এই প্রকল্পে প্রতিটি বাড়িকে একই রঙে সাজিয়ে প্রতিটি গলি ও বাড়ির সামনে ময়লা ফেলার জন্য বিন বসানো হয়েছে। সেই সঙ্গে জনসচেতনতা ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে উদ্বুদ্ধকরণের জন্য দেয়ালে চিকা ও আলপনা আঁকা হয়েছে। জনগণ সচেতন হলে এই পাইলট প্রকল্প সফল হবে। পরীক্ষামূলকভাবে গৃহীত এই পাইলট প্রকল্প সফল হলে তা অনুসরণ করে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলরদের মাধ্যমে পরবর্তীতে বাস্তবায়ন করা হবে। নবীনগরে পাইলট প্রকল্প উদ্ভোধনি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ও ৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আলহাজ্ব মো. মোবারক আলী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চসিকের প্যানেল মেয়র ও ১৫ নম্বর বাগ মনিরাম ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. গিয়াস উদ্দিন, কাউন্সিলর আবদুস সালাম মাসুম, নূর মোস্তফা টিনু, সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জেসমিন পারভীন জেসি, মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, চসিকের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, ইপসার উপ-পরিচালক নাছিম বানু, সেভ দ্য চিল্ডেনের ম্যানেজার সাইমুন রহমান প্রমুখ।
লাল-সবুজের পতাকার সঙ্গে জীবন কাটিয়ে দিতে চাই
৩ ডিসেম্বর ২০২১ , শুক্রবার , নিজস্ব সংবাদদাতা , নিউজ একাত্তর : বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকার মূল নকশাকার ছাত্রনেতা শিবনারায়ণ দাস। ১৯৭০ সালের ৬ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলের একটি কক্ষে তিনি যে পতাকার নকশা এঁকেছিলেন, সেই পতাকাই ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় উত্তোলিত হয়। সবুজ জমিনের ওপর লাল সূর্যের মাঝে হলুদ রঙের বাংলার মানচিত্র খচিত পতাকার এই রূপটি ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারিভাবে গৃহীত হয়। তবে এর আগে ১২ জানুয়ারি পতাকা থেকে মানচিত্রটি সরিয়ে ফেলা হয়, ফুটিয়ে তোলার অসুবিধার কারণে। সবুজ রং বাংলাদেশের সবুজ প্রকৃতি ও তারুণ্যের প্রতীক, বৃত্তের লাল রং উদীয়মান সূর্য, স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারীদের রক্তের প্রতীক। একাত্তরে ত্রিশ লাখ শহীদের বিনিময়ে অর্জিত মহান স্বাধীনতার প্রতীক আমাদের জাতীয় পতাকা। শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার এ পতাকা সেলাই করে জীবন পার করছেন আবু খলিফা। চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানাধীন লয়েল রোডের সাফা কমপ্লেক্সে আবু খলিফার পতাকা বিতান নামের দোকানটি ছেয়ে আছে পতাকায়। আসছে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস, বিজয় দিবস, বিজয় Railly। তাই প্রতি বছরের ডিসেম্বর মাস এলেই আবু খলিফার ব্যস্ততা বেড়ে যায়। সকাল আটটা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত পতাকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটছে তার। বিভিন্ন আকারের বাংলাদেশি পতাকায় ভরিয়ে তুলছেন দোকান। আবু খলিফা বলেন, আমার নাম আবু আহমেদ। চট্টগ্রামে দর্জিদের খলিফা সম্বোধন করা হয়। তাই আমার নাম হয়ে গেছে আবু খলিফা। আশির দশকে ফেনীর লালপোল থেকে চট্টগ্রামে এসেছিলাম সিনেমা প্যালেস এলাকার আবদুল মান্নান অ্যান্ড সন্স নামের পতাকার দোকানে চাকরি নিয়ে। আমি দোকানে বেশিরভাগ পতাকা সেলাই করতাম। বাংলাদেশের জাতীয় দিবস, বিশ্বকাপ ফুটবল ও ক্রিকেটকে ঘিরে পতাকার চাহিদা ছিল বেশি। দোকানটি বন্ধ হয়ে গেলে নিজেই পতাকার দোকান খুলেছি। পতাকা সেলাই ও বিক্রি করেই সংসার চলে আবু খলিফার। এক মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন। এক ছেলেকে সৌদি আরব পাঠিয়েছেন। আরেক ছেলে পড়াশোনা করে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পতাকা তৈরি করি মনের তাগিদে। বিক্রি হবে কি হবে না জানি না। না হলেও দুঃখ নেই। ব্যবসা হয় বিশ্বকাপ ফুটবলের সময়। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ইতালি, জার্মানি, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের পতাকা ভালো বিক্রি হয়। টেরিবাজার থেকে পাইকারি কাপড় কিনে পতাকা তৈরি করি আমি। পলিয়েস্টার কাপড়ের পতাকায় খরচ কম পড়ে তাই বিক্রিও হয় বেশি। উন্নতমানের সুতোর কাপড়ের পতাকা বানাই অর্ডার পেলে। আমার তৈরি পতাকা নগরের রিয়াজউদ্দিন বাজার, বিভিন্ন উপজেলায় পাইকারি নিয়ে যান। অনেক মৌসুমি ফেরিওয়ালাও নিয়ে যায় ডিসেম্বরে। আবু খলিফা বলেন, পতাকা হচ্ছে সম্মান ও গর্বের। এই লাল-সবুজের পতাকার সঙ্গে জীবনটা কাটিয়ে দিতে চাই। পতাকা সবাই সেলাই করতে পারে না। সঠিক মাপের পতাকা না হলে আইনি ঝামেলা পোহাতে হয়। আমি দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও বৃত্তের সঠিক মাপের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি। সর্বনিম্ন ৩ টাকা থেকে ৩০০ টাকা দামের পতাকাও তৈরি করি। সূত্র: বাংলা নিউজ
শুদ্ধাচার চর্চা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব
১ ডিসেম্বর , বুধবার , নিজস্ব সংবাদদাতা , নিউজ একাত্তর : চা বোর্ড চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে সরকার ২০১২ সালে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করেছে। কর্মক্ষেত্রে শুদ্ধাচার চর্চা ও দুর্নীতি প্রতিরোধের মাধ্যমে রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। কর্মক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রত্যেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ওপর অর্পিত দায়িত্ব আইনকানুন মেনে যথাযথভাবে পালন করতে হবে এবং সেবাগ্রহীতাদের নির্ধারিত সময়ে সেবা দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশ চা বোর্ডের সভাকক্ষে মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বিষয়ক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কোর্সে তিনি এসব কথা বলেন। চা বোর্ডের ২০২১-২২ অর্থবছরের জাতীয় শুদ্ধাচার কর্মকৌশল বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বোর্ডের ১৫ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নেন। বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. আশরাফুল ইসলাম এবং বোর্ডের সদস্য (অর্থ ও বাণিজ্য) ও যুগ্মসচিব ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী প্রশিক্ষণ কোর্সে প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মক্ষেত্রে শুদ্ধাচার চর্চা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার নানা বিষয়ে বক্তব্য দেন। ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী বলেন, শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠায় আর্থিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত সময়ে বাজেট ও বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা প্রণয়ন, ব্যয়ের ক্ষেত্রে বাজেট কোড ও পিপিআরের নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। তিনি কর্মক্ষেত্রে উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিও গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশ চা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ রুহুল আমীন কোর্স পরিচালক এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম খান প্রশিক্ষণে কোর্স সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন।
যু্বলীগের বর্ধিত সভা: চট্টগ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশ
৩০নভেম্বর ২০২১, মঙ্গলবার , নিজস্ব সংবাদদাতা , নিউজ একাত্তর : বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে নগরের জামালখান ও আশপাশের এলাকায় তোরণ, ব্যানার আর ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। নেতা ও পদপ্রত্যাশীদের ছবিসহ এসব ব্যানারে কেন্দ্রীয় নেতাদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে । বর্ধিত সভা শুরুর আগে থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে মিছিলে মিছিলে নেতা-কর্মীদের স্লোগানে মুখর পুরো জামালখান এলাকা। বর্ধিত সভাকে সামনে রেখে উজ্জীবিত উত্তর, দক্ষিণ ও নগর যুবলীগের নেতা-কর্মীরা। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ ও উত্তর জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা সম্পন্ন করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। এতে উপস্থিত ছিলেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুর রহমান সোহাগসহ বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে তিনটায় নগর যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তাই এরই মধ্যে নেতা-কর্মীদের আনাগোনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে অনুষ্ঠিত স্থল। বর্ধিত সভায় উপস্থিত নগর যুবলীগের একাধিক নেতা বলেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগকে পুনরায় ক্ষমতায় আনতে যুবলীগকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। সংগঠনকে মজবুত, কলঙ্কমুক্ত, দুর্নীতি-অনিয়মমুক্ত করার জন্য কেন্দ্রীয় নেতারা আমাদের বার্তা দিয়েছেন। আগামী নির্বাচনের আগে ওয়ার্ড থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত যুবলীগকে শক্তিশালী করতে এখন থেকেই কাজ শুরু করতে হবে। জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১৩ জুলাই মহিউদ্দিন বাচ্চুকে আহ্বায়ক ও দেলোয়ার হোসেন খোকা, দিদারুল আলম, ফরিদ মাহমুদ ও মাহবুবুল হক সুমনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে তিন মাসের জন্য ১০১ সদস্যের চট্টগ্রাম নগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় কমিটি। দীর্ঘ সাড়ে ৮ বছর হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ হয়নি কমিটি। ৮ বছর ধরে যুবলীগের নতুন নেতৃত্ব যেমন গড়ে উঠেনি, তেমনি সাংগঠনিক কার্যক্রমও ঝিমিয়ে পড়েছে। নতুন নেতৃত্ব আশাহত হয়ে পড়েছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও নগর যুবলীগ নেতা মোহাম্মাদ আলমগীর টিপু বলেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দল গোছাতে এখন থেকে কাজ শুরু করেছি। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আমাদের সেই নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছি। যুবলীগের বর্ধিত সভায় কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম বলেন, যারা চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ ও দাগি অপরাধী তাদের যুবলীগ থেকে বাদ দিতে হবে। কমিটিতে এমন কোনো লোককে বসানো যাবে না যাতে করে বর্তমান পরিচ্ছন্ন যুবলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। যেসব ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেসব কমিটি দ্রুত করে কেন্দ্রকে জানাতে হবে। কমিটিতে পছন্দের মানুষ নয়, যোগ্য ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। যুবলীগকে জননেত্রী শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করতে হবে। যুবলীগে পরিচ্ছন্ন নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে, যোগ্যরাই দলে আসবে। তিনি বলেন, টাকা আর লবিং করে যারা যুবলীগের কমিটিতে আসার স্বপ্ন দেখছেন, তারা দিবাস্বপ্ন দেখছেন। তাদের এ স্বপ্ন কখনোই সফল হবে না। যুবলীগ করতে হলে শ্রম, মেধা, নিষ্ঠা ও সততার প্রয়োজন। যাদের এসব গুণাবলি থাকবে, তারাই আগামী দিনে যুবলীগে স্থান পাবেন। দুর্নীতি, অসদাচরণ যুবলীগে বরদাশত করা হবে না। শ্রম, মেধা, নিষ্ঠা কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়ন করতে যুবলীগকেই গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে। কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে যুবলীগকে সুসংগঠিত করতে হবে। যুবলীগের কমিটিতে ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। বর্ধিত সভা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের এ সফরের উদ্দেশ্য তৃণমূল বা ওয়ার্ড পর্যায়ে যুবলীগের পরিচ্ছন্ন নেতাদের তুলে আনা ও সাংগঠনিক ভিত শক্তিশালী করা।
ইডিইউর সেমিনারে বক্তারা: ই-কমার্স এক উজ্জ্বল বাস্তবতা
২৯নভেম্বর ২০২১, সোমবার , নিজস্ব সংবাদদাতা, নিউজ একাত্তর, চট্টগ্রাম : ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি (ইডিইউ) উদ্যোক্তাদের গড়ে তোলায় জোর দিচ্ছে। বিভিন্ন কেইস স্টাডি পড়ানোর পাশাপাশি কারিকুলামে এ ধরনের ব্যবসার নানা দিক নিয়ে পড়ানো হচ্ছে। এমনকি শিক্ষার্থীদের কেউ যদি এ ধরনের ব্যবসার নতুন আইডিয়া বা উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে, তাদেরকে আর্থিকসহ সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার জন্য ইডিইউ ফাউন্ড্রি নামের একটি কার্যক্রম আমরা হাতে নিয়েছি। রোববার (২৮ নভেম্বর) ইডিইউতে ই-কমার্স প্রসপেক্ট ইন বাংলাদেশ জব অ্যান্ড এন্ট্রপ্রেনরশিপ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চেয়ারম্যান সাঈদ আল নোমান। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনার কক্ষে বেলা সাড়ে ১১টায় শুরু হওয়া এ সেমিনারে ইডিইউর উপাচার্য প্রফেসর মু. সিকান্দার খান বলেন, আজকের দিনে ই-কমার্স এক উজ্জ্বল বাস্তবতা। কালের পরিক্রমায় আমরা এখন এমন এক সময়ে বাস করছি, যেখানে ই-কমার্সকে অস্বীকার করার উপায় নেই। অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়তো আরও জরুরি, কিন্তু গ্রাহকদের কাছে আস্থাবান হয়ে উঠতে হবে ই-কমার্সকে। ব্লেন্ডেড লার্নিং মেথডে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে সশরীরে উপস্থিত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা অনলাইন মাধ্যমেও যোগ দেয়। অতিথি বক্তা হিসেবে অনলাইনে উপস্থিত ছিলেন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন সভাপতি রাজিব আহমেদ। তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশে ই-কমার্স দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে। নতুন উদ্যোক্তা আসার পাশাপাশি বাড়ছে গ্রাহকের সংখ্যাও। করোনাকালীন সময়ে সাধারণ মানুষের সেবায় ই-কমার্সের অবদান অনেক। নিত্যপ্রয়োজনীয় থেকে শৌখিন সামগ্রী সবকিছুতেই সাধারণ মানুষ ই-কমার্সের দ্বারস্থ হয়েছেন। ফলে প্রায় লক্ষাধিক লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী দিনগুলোতে এ খাতে আরো সাফল্য আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অতিথি বক্তা কাকলীস অ্যাটায়ারের সত্ত্বাধিকারী কাকলী তালুকদার বলেন, ২০০০ সালে বাংলাদেশে ই-কমার্সের যাত্রা শুরু হলেও, তা শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়ায় ২০১৫ সালে। বাংলাদেশে বর্তমানে ৫ হাজার ওয়েবসাইটভিত্তিক ও প্রায় ৫০ হাজার ফেসবুকভিত্তিক ই-কমার্স ব্যবসা রয়েছে। গত ২০ বছরে এখন পর্যন্ত ১৬০.৫০ বিলিয়ন টাকার বিনিয়োগ ঘটেছে এবং ২০২৩ নাগাদ তা ২৫০ বিলিয়ন ছাড়িয়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আরিয়াস কালেকশনের সত্ত্বাধিকারী নিগার ফাতিমা বলেন, অনেকেরই ধারণা ই-কমার্স শুধু উদ্যোক্তাদেরই জন্য। কিন্তু এখানে অনেকেই তাদের ক্যারিয়ার গড়তে পারে। উন্নত শিক্ষায় দীক্ষিত গ্র্যাজুয়েটরা যোগ দিলে ই-কমার্স আরো লাভবান হবে। ডিজিটাল মার্কেটিং, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন, ফটোগ্রাফি, কায়েন্ট সার্ভিস, সাপ্লাই চেইন- এসব ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ তৈরি করছে ই-কমার্স। এসময় উপস্থিত ছিলেন ইডিইউর স্কুল অব বিজনেসের অ্যাসোসিয়েট ডিন প্রফেসর ড. রকিবুল কবির, ডিরেক্টর অব স্টুডেন্ট এফেয়ার্স অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর তাবাসসুম চৌধুরী প্রমুখ।
দুর্নীতি ও অসদাচারণ যুবলীগে বরদাস্ত করা হবে না : ব্যারিস্টার শেখ নাঈম
২৯নভেম্বর ২০২১, সোমবার , নিজস্ব সংবাদদাতা, নিউজ একাত্তর, চট্টগ্রাম : কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম বলেছেন, দুনীর্তি ও অসদাচারণ যুবলীগে বরদাস্ত করা হবে না। টাকা ও লবিং করে যারা চট্টগ্রামে যুবলীগের কমিটিতে আসার স্বপ্ন দেখছেন তারা দিবা স্বপ্ন দেখছেন। যুবলীগ করতে হলে শ্রম মেধা, নিষ্ঠা ও সততার দরকার। যাদের কাছে এসব গুণাবলি নেই, যারা কর্মীদের থেকে বিছিন্ন তারা কমিটিতে স্থান পাবে না। কারণ এসব গুণাবলি ধারণ করেই যুবলীগকে রাস্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। রবিবার বিকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে কেন্দ্রীয় নির্দেশে আয়োজিত চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সভায় দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সভাপতি আ ম ম টিপু সুলতান চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক পার্থ সারথি চৌধুরীর পরিচালনায় প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুর রহমান সোহাগ , বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম। বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মীর মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, সহ সম্পাদক নাসির উদ্দিন মিঠু, কার্যনির্বাহী সদস্য কায়কোবাদ ওসমানী, মোহাম্মদ আলী মিঠু, সদস্য মঈনুল ইসলাম মামুন, মুনায়েম খান, রেজাইল করিম বাপ্পী, চট্টগ্রাম জেলা যুবলীগের সহ- সভাপতি দিদারুল ইসলাম চৌধুরী, মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক রাজু দাশ হিরো, মহিলা সম্পাদিকা জান্নাতুল ফেরদৌস প্রমুখ। ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম বলেন, সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে যুবলীগকে সুসংগঠিত করতে হবে। যুবলীগের কমিটিতে ত্যাগী নেতা কর্মীদের মূল্যায়ণ করতে হবে। নিষ্ক্রিয় কর্মীদের এখানে স্থান হবে না। কমিটিতে এসব নিষ্ক্রিয় নেতাকর্মী ভুলক্রমে স্থান পেলেও কেন্দ্রের নজরে এলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের গুরুত্ব অনুধাবন করে একাধিক মেগা প্রকল্প দিয়েছেন : তাজুল ইসলাম
২৭নভেম্বর ২০২১, শনিবার, নিজস্ব সংবাদদাতা, নিউজ একাত্তর, চট্টগ্রাম: স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক গুরুত্ব উপলব্দি করে এখানে একাধিক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন । তিনি আরো বলেন, এসব প্রকল্প চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক গুরুত্বকে বাড়াবে এবং তার ব্যাপ্তি জাতীয় স্তর পেরিয়ে বৈশি^ক পর্যায় পর্যন্ত প্রসারিত হবে। তাজুল ইসলাম আজ সকালে নগরীতে জলাবদ্ধতা নিরসনে ৬ নং পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ডে বারইপাড়া খালখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ১৩ নং পাহাড়তলী ওয়ার্ডে আমবাগান সড়কের উন্নয়ন কর্মকান্ডের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। তাজুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে যখন ব্রত হয়েছিলেন তখন খুব বেশি সময় তিনি পাননি। ৭৫র ১৫ আগস্ট তাঁকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর ২১ বছর দেশ পাকিস্তানি ভাবধারায় পরিচালিত হয়েছে এবং আমরা গোলামে পরিণত হয়েছিলাম। এখন আমরা মুক্ত হয়েছি এবং বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে ফিরে এসে ঘোষণা করেছিলেন এত ধ্বংস ও মৃত্যুর পরও যে মাটি ও মানুষ পেয়েছি তা দিয়েই সোনার বাংলা গড়ে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চাই। আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর পিতার প্রত্যয় অনুযায়ী মাটি ও মানুষের সমন্বয়ে দেশকে বিশে^ উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করেছেন। তিনি আরো বলেন, সুশাসন ছাড়া কোন উন্নয়ন অর্থবহ ও জনকল্যাণমুখী হয় না। জনগণের আকাঙ্খা, চাওয়া-পাওয়ার সঠিক প্রতিফলনই হলো প্রকৃত, সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক উন্নয়ন। এই সত্যটা জনপ্রতিনিধিদের উপলব্ধি করে জনগণের সাথে মিশে যেতে হবে। মন্ত্রী বলেন, নগরীর মালিক সিটি কর্পোরেশন। নগরীর সকল উন্নয়নে সিটি কর্পোরেশনের সম্পৃক্ততা ও দেখ-ভালের দায়িত্বও তাদের থাকতে হবে। সিটি কর্পোরেশনের সক্ষমতার জন্য আয়ের পরিধি বাড়ানো প্রয়োজন। শুধুমাত্র সরকারি বরাদ্দে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই নিজেকে আয় বর্ধনের নতুন নতুন উপায় অন্বেষণ করতে হবে। তিনি আরো বলেন, যোগাযোগ খাত উন্নয়নের পূর্বশর্ত। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দর নগরী এখানে নতুন নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বে-টার্মিনাল হচ্ছে। কর্ণফুলীর তলদেশ দিয়ে ট্যানেল হয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম পরিণত হবে ওয়ান সিটি টু-টাউন হিসেবে। এ কারণে চট্টগ্রাম নগরীর সড়কগুলোর যোগাযোগের পরিধি ও গুরুত্ব বাড়বে। তাই নগরীর টেকসই সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন চসিককে প্রয়োজনীয় ব্যাক-আপ দিতে হবে। মন্ত্রী নগরীর খালগুলোর আবর্জনা অপসারণে একটি অত্যাধুনিক ও কার্যকর যান্ত্রিক সরঞ্জাম হুইল হারবার স্টার চসিককে দেবেন বলে আশ^াস দেন। চসিক মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম আজ চসিকের পুরাতন নগর ভবনের কে.বি আবদুস সাত্তার মিলনায়তনে চসিক কাউন্সিলদের সিটি কর্পোরেশন প্রশাসন অবহিতকরণ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সেরও উদ্বোধন করেন। বারইপাড়া খাল খনন ও আমবাগান সড়কের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে চসিক মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল আলম, প্যানেল মেয়র মো. গিয়াস উদ্দিন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর এম. আশরাফুল আলম, ওয়াসিম উদ্দিন চৌধুরী, মো. ইসমাইল, সংরক্ষিত কাউন্সিলর আঞ্জুমান আরা, শাহিন আক্তার রোজী, প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, নির্বাহী প্রকৌশলী ফরহাদুল আলম, সিদ্দিক প্রমুখ।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর