২৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন: নিরাপত্তার চাদরে নগরী
২৬,জানুয়ারী,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সিটি কর্পোরেশনের আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে চট্টগ্রাম মহানগরীকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। শুধু সিএমপির পুলিশই নয়, চট্টগ্রাম রেঞ্জের এক হাজারসহ সারাদেশ থেকে আনা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ। পুলিশের পাশাপাশি Rab ও বিজিবি টহল থাকবে নগর জুড়ে। ইতোমধ্যে ২৫ প্লাটুন বিজিবি নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে। নগরীর সাড়ে ৭৩৫টি ভোট কেন্দ্রে প্রায় সাড়ে চৌদ্দ হাজার লোকবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে দায়িত্ব পালন করবে। এর বাইরেও বিপুল সংখ্যক পুলিশ স্বাভাবিক পুলিশি কার্যক্রমে নিয়োজিত থাকবে। বিজিবি, Rab, পুলিশ এবং আনসার সদস্যসহ আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বিপুল সংখ্যক ফোর্সের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে সুরক্ষিত নগরী। চট্টগ্রাম নগর পুলিশ (সিএমপি) সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বহুল প্রত্যাশার নির্বাচনকে ঘিরে নগরজুড়ে সর্বাত্মক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরীর ৭৩৫টি ভোট কেন্দ্রের প্রতিটির ব্যাপারেই সর্বাত্মক সতর্কতা অবলম্বন করে নিরাপত্তা ছক তৈরি করা হয়েছে। এরমধ্যে ৪২৯টি ভোটকেন্দ্রকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে নিরাপত্তা বলয়ে ঢেকে ফেলা হচ্ছে। এগুলোর প্রতিটিতে ৬ জন করে পুলিশ, দুইজন পিসি এপিসি এবং দশজন আনসার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। এর বাইরে ৩০৬টি কেন্দ্রের প্রতিটিতে ৪ জন পুলিশ, পিসি এপিসি ২ জন এবং ১০ জন আনসার মোতায়ন করা হচ্ছে। এর বাইরে ১৪০টি স্ট্রাইকিং ফোর্স গঠন করা হয়েছে। এগুলোতে ৪১০ জন পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সদস্যরা থাকবেন। ৪১টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে ১২ জন করে Rab সদস্যের টহল দলের পাশাপাশি ২৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়ন থাকছে। নির্বাচন উপলক্ষে ৪১০টি মোবাইল টিম, ১৪০ স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং ৭৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকছেন। প্রতি ওয়ার্ডে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ থাকবেন। বিজিবির প্রতি প্লাটুনের সাথে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। Rab সদস্যদের সাথেও তিনজন ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। গতকাল থেকে শুরু করে চারদিন আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশাল বহর নগরীতে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করবে। ১৪ হাজার ৩৭০ জন ফোর্সের এই নিরাপত্তা ছাদর নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলেও সিএমপির শীর্ষ একজন কর্মকর্তা জানান। তিনি বলেন, ভোটে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সুযোগ কাউকে দেয়া হবে না। কেন্দ্র দখল বা ভোটকেন্দ্রে যেতে কাউকে বাধা দেয়া হলে পরিণতি খারাপ হবে। নগর পুলিশের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা গতকাল আলাপকালে বলেন, ভোটোৎসবের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন। উৎসবের এই আমেজ কাউকে নষ্ট করতে দেয়া হবে না। যে কোনো মূল্যে সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে বলে তারা উল্লেখ করেন।
করোনা: ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে নতুন আক্রান্ত ৬৮
২৬,জানুয়ারী,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১ হাজার ৬১৭টি নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৬৮ জনের। এ নিয়ে চট্টগ্রামে মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ৩২ হাজার ৭৩৮ জন। এ সময়ে নতুন করে করোনায় মৃত্যুবরণ করেনি কেউ। মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি ) সকালে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এইদিন কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ ল্যাব ও চট্টগ্রামে ৮টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাব ৮৪টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসে (বিআইটিআইডি) ৮৫৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে শনাক্ত হয় ১০ জন। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) ল্যাবে ৪৬৭টি নমুনা পরীক্ষা করে ১০ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) ল্যাবে ২৮টি নমুনা পরীক্ষা করে ৫ জনের করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তাছাড়া, ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল ল্যাবে ৭২টি নমুনা পরীক্ষা করে ১০ জন, শেভরণ ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরিতে ৭১টি নমুনা পরীক্ষা করে ৭ জন এবং চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল ল্যাবে ১৬টি নমুনা পরীক্ষা করে ৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। জেনারেল হাসপাতালের রিজিওনাল টিবি রেফারেল ল্যাবরেটরিতে (আরটিআরএল) ৮টি নমুনা পরীক্ষা করে ৬ জনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। আবার কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবে চট্টগ্রামের ১৭টি নমুনা পরীক্ষা করে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব মেলেনি। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি জানান, গত ২৪ ঘণ্টার নমুনা পরীক্ষায় ৬৮ জন নতুন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। এইদিন নমুনা পরীক্ষা করা হয় ১ হাজার ৬১৭টি। এর মধ্যে নগরে ৫৮ জন এবং উপজেলায় ১০ জন।
রেজাউলের সমর্থনে মহানগর আওয়ামী লীগের মিছিল
২৫,জানুয়ারী,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা এম রেজাউল করিম চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে মিছিল করেছে মহানগর আওয়ামী লীগ। সোমবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে নগরের বহদ্দারহাট এলাকায় মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের নেতৃত্বে এ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে অংশ নেন মেয়র পদপ্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা এম রেজাউল করিম চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান, প্রচার সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চন্দন ধর, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আবদুল কাদের সুজন, আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া উপ-কমিটির সদস্য মামুন চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা কৃষকলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতারা রেজাউল করিম চৌধুরীর পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন। ২৭ জানুয়ারি নির্বাচনে শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থীকে ভোট দিতে আহ্বান জানান তারা।
চসিক নির্বাচন: আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও প্রদর্শনে নিষেধাজ্ঞা
২৫,জানুয়ারী,সোমবার,নিউজ ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে ২৫ জানুয়ারি ভোর ৬টা থেকে ২৯ জানুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও প্রদর্শনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সোমবার (২৫ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহ মো. আব্দুর রউফ এ তথ্য জানান। তিনি জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে চট্টগ্রামে আগামী চারদিন আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। যারা এ আদেশ লঙ্ঘন করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, আগামী ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন। ৪১টি ওয়ার্ডে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৭৩৫টি। মোট ভোটার সংখ্যা ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৬ জন। এদের মধ্যে নারী ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৬৭৩ জন এবং পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ৯২ হাজার ৩৩ জন।
জনগণের ভালোবাসার প্রতিক নৌকা,মিষ্টি কুমড়া ও বই মার্কা- নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু
২৫,জানুয়ারী,সোমবার,সৃজন দত্ত,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রচারণার শেষ দিনে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা ব্যাস্ত সময় পার করেছেন। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রচারনা চালিয়েছেন প্রার্থীরা। সিটি কর্পোরেশনের ১০ নং উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী ড. আলহাজ্ব নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু ও তার নির্বাচনি এলাকার সকলের সাথে মতবিনিময়ের মাধ্যমে নৌকা, মিষ্টি কুমড়া ও বই মার্কার সমর্তনে বিরামহীন প্রচারনা চালিয়েছেন। এই সময় তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন কেন্দ্রিক কোনো ধরনের সহিংসতা চাই না। যে কোন ধরনের সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই নির্বাচনী উৎসবের আমেজকে ব্যাহত করে। সহিংসতার ঘটনায় নাগরিকদের মনে চরম উদ্বেগ-আতঙ্ক দেখা দেয়, যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। নির্বাচনের পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি আরো বলেন, আমি আশাবাদী যে, ২৭ জানুয়ারির চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হবে, যারা এই নির্বাচনে প্রতিযোগিতা করছেন তাদের সবাইকে সহনশীল হতে হবে। আমি আশাকরি আগামী ২৭ শে জানুয়ারী নগরবাসী উন্নয়নের প্রতিক নৌকা, ১০ নং ওয়ার্ডের জনগণের ভালোবাসার প্রতিক মিষ্টি কুমড়া ও বই মার্কায় তাদের মূল্যবান ভোট প্রদান করবেন।
গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের মুক্তি না দিলে নির্বাচন কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি: ডা. শাহাদাত
২৫,জানুয়ারী,সোমবার,রাশেদুল আজিজ,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: ১৯ জানুয়ারি থেকে গ্রেপ্তার হওয়া নেতাকর্মীদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহার না হলে চট্টগ্রাম নির্বাচন কার্যালয়ে কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে অবস্থান কর্মসূচিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন চসিক নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। সোমবার (২৫ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় নাসিমন ভবনে নগর বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবের রহমান শামীম, নগর বিএনপির সদস্যসচিব আবুল হাশেম বক্কর, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান প্রমুখ। ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে করোনাকালীন সময় থেকে আমরা মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়েছি। গত ১০ মাস ধরে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। অথচ নির্বাচনের ঠিক দুইদিন আগে মাস্তান, চাঁদাবাজ ও ইয়াবা ব্যবসায়ী দিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ ঘোলাটে করার পাঁয়তারা চলছে। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কিছু অতি উৎসাহী পুলিশের দ্বারা শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের মধ্যে মারামারিতে তিনজন নিহত হয়েছে। আমাদের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। প্রচার গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের হয়রানি চলছে। কিন্তু এসব বিষয়ে গতকাল সিইসির কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য আশা করেছিলাম। ডা. শাহাদাত বলেন, গত ৭ দিন ধরে যে বিষয়টি লক্ষ্য করছি- কিছু গায়েবি ও সাজানো মামলা করা হয়েছে প্রতিটি থানায়। যে মামলাগুলো ২০১৮ সালের নির্বাচনের ঠিক ছয় মাস আগে থেকে দেখেছি। ১৯ জানুয়ারি থেকে প্রতিটি থানায় ১০টির বেশি মামলা করেছে। এক হাজারের অধিক আসামি করা হয়েছে। ৬৯ জনের অধিক গ্রেপ্তার করা হয়েছে গতকাল রাত পর্যন্ত। পুলিশের হয়রানি থেকে মহিলা, শিশুরা পর্যন্ত বাদ যাচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, রবিবার রাতে বাকলিয়া থানায় নেত্রী মুন্নি ও তার ১২ বছরের শিশুকে ধরে নিয়ে গেছে। নাগরিক ঐক্য পরিষদের বীর মুক্তিযোদ্ধা একরামুল করিমকে রবিবার রাতে বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায় চকবাজার থানা পুলিশ। সঙ্গে তার ছেলেকেও ধরে নিয়ে যায়। অথচ তার ছেলে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। ডা. শাহাদাত বলেন, চট্টগ্রামের নির্বাচন কর্মকর্তাকে আমরা এ পর্যন্ত ৪০টি অভিযোগ দিয়েছি। এসবের কোনো সমাধান হয়নি। গত ৭ দিন ধরে যেসব মিথ্যা মামলা হয়েছে, এই মিথ্যা মামলায় যাতে গ্রেপ্তার করা না হয় সেজন্য কমিশনকে বলেছি। আমাদের দাবি, এসব মামলা প্রত্যাহার করা হোক। যারা গ্রেপ্তার হয়েছে তাদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হোক। তিনি বলেন, যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের মুক্তির জন্য নির্বাচন কমিশনে যাবো। রাত ১১টায়, এরপর ভোর রাতে আরও ৮-১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সবমিলিয়ে গতকাল ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সম্পূর্ণ তালিকা আমাদের কাছে আছে। এই তালিকা নিয়ে আমরা চট্টগ্রাম নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে যাবো। দাবি আদায়ে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে ডা. শাহাদাত বলেন, মিত্যা মামলায় গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের মুক্তি না দিলে আমরা সব কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবো। নেতা-কর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে, এই আশ্বাস নির্বাচন কর্মকর্তারে কাছে চাই। একটা সময় বেঁধে দেবো নেতাকর্মীদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহার করার জন্য। যদি প্রতিশ্রুতি দেন, তাহলে অবস্থান কর্মসূচি করবো না। অন্যথায় আমরা অবস্থান নেবো।
রিয়াজ-ফেরদৌস-পূর্ণিমাদের নৌকা স্লোগানে মুখর চট্টগ্রাম
২৫,জানুয়ারী,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: তারা সবাই ঢাকাই সিনেমার তারকা। নানা চরিত্রে অভিনয় করে কখনও হাসান, কখনও কাঁদান মানুষকে। তবে সোমবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামে তাদের দেখা মিললো ভিন্ন চরিত্রে। জয় বাংলা, জিতবে এবার নৌকা, শেখ হাসিনার সালাম নিন, নৌকা মার্কায় ভোট দিন স্লোগান দিয়ে তারকারা মুখর করে তুললেন নগরের কাজীর দেউড়ি, জামাল খান, আন্দরকিল্লা এলাকা। এ সময় সেলফি তুলে ভক্তদের আবদার মেটানোর পাশাপাশি চাটগাঁইয়া ভাষায়, গানের সুরে নৌকায় ভোট চেয়ে লিফলেট বিতরণ করেন তারা। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর পক্ষে চিত্রনায়ক রিয়াজ, ফেরদৌস, সায়মন, চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা, অরুণা বিশ্বাস, অভিনেত্রী বিজরী বরকতুল্লাহ, তানভীন সুইটি ভোট চেয়ে এই প্রচারণা চালান। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট চট্টগ্রাম জেলার উদ্যোগে এই নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হয়। প্রচারণায় চিত্রনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ সিদ্দিক বলেন, প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামকে দুই হাত ভরে দিয়েছেন। চট্টগ্রামে বিশাল উন্নয়নযজ্ঞ চলছে। বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকার প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়ী করতে হবে। তিনি বলেন, বিমানবন্দর থেকে হোটেলে আসার রাস্তা দেখে আমি বিস্মিত হয়েছি। যে রাস্তা দিয়ে এসেছি তা বাংলাদেশের রাস্তা মনে হয়নি। মনে হয়েছে ইউরোপ-আমেরিকার রাস্তা। অনেকে আমার এই মন্তব্য নিয়ে সমালোচনা করেছেন। তাদের বলবো- আপনারা বাইরে থেকে সমালোচনা করবেন না। চট্টগ্রামে আসুন। চট্টগ্রামে সরকার কি কি উন্নয়ন করেছে তা দেখে যান। এই সরকারের সময়ে করা চট্টগ্রামের উন্নয়ন দেখলে আপনারাও আমার মতো বলতে বাধ্য হবেন। যোগ করেন বাংলা সিনেমার এই নায়ক। ভক্তদের উদ্দেশে ফেরদৌস আহমেদ বলেন, আমি শেখ হাসিনাকে ভালোবাসি। আমি নৌকাকে ভালোবাসি। আপনাদের প্রতি অনুরোধ, আপনারাও শেখ হাসিনাকে ভালোবেসে নৌকায় ভোট দিন। নৌকার প্রার্থী রেজাউলকে জয়ী করুন। চিত্রনায়িকা দিলারা হানিফ রীতা পূর্ণিমা বলেন, আমি চট্টগ্রামের মেয়ে। গত এক যুগে চট্টগ্রামের পরিবর্তন আমি নিজ চোখে দেখেছি। উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকার প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে। রেজাউল ভাইকে জয়ী করতে হবে।
ভোটকেন্দ্রে থাকবে নিরাপত্তা বাহিনীর ১৪,৩৭০ সদস্য
২৫,জানুয়ারী,সোমবার,নিউজ ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারণা শেষ হচ্ছে আজ। এখন ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি চলছে কেন্দ্রে কেন্দ্রে। আজ নগরীর ৭৩৫টি ভোট কেন্দ্রে শুরু হচ্ছে ইভিএম সচেতনতায় মক ভোটিং। এবারের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় পুলিশ, Rab, বিজিবি, আনসার মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থাকবেন ১৪ হাজার ৩৭০ জন। এছাড়াও ২০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। ইতোমধ্যে ৩০৬টি সাধারণ ও ৪২৯টি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন। এসব কেন্দ্রে কোথায় কি পরিমাণ পুলিশ ও আনসার সদস্য নিয়োজিত থাকবে তাও নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকাল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে মতবিনিময় শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা সাংবাদিকদের বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আছে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ভোটকেন্দ্রগুলো ভোটগ্রহণের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, এখনো পর্যন্ত ভোটের পরিস্থিতি ভালো আছে। ছোটখাট কিছু ঘটনা ঘটলেও তা কমে এসেছে। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যেখানেই সমস্যা হচ্ছে সেখানেই নজরদারি বাড়ানোর কথা বলেছি। এখন ভোটগ্রহণের পূর্ণ প্রস্তুতি চলছে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় পুলিশ, আনসার, Rab ও বিজিবি সদস্য মিলিয়ে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে। ম্যাজিস্ট্রেট, মোবাইল টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্সও ভোটের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করবে। জানা যায়, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৭৩৫টি ভোটকেন্দ্রকে ঘিরে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে মোবাইল ফোর্স, প্রতি তিনটি সাধারণ ওয়ার্ডে একটি স্ট্রাইকিং ফোর্স, প্রতি থানায় একটি করে রিজার্ভ স্ট্রাইকিং, প্রতিটি ওয়ার্ডে Rabর একটি টিম, প্রতি দুটি সাধারণ ওয়ার্ডে এক প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে। নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে ৩০৬টি সাধারণ ও ৪২৯টি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণ ৩০৬টি কেন্দ্রে একজন উপ-পরিদর্শক অথবা সহকারী উপ-পরিদর্শক ও তিনজন কনস্টেবল মিলিয়ে পুলিশের চারজন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। গুরুত্বপূর্ণ ৪৩৯টি কেন্দ্রে একজন উপ-পরিদর্শক অথবা সহকারী উপ-পরিদর্শক ও পাঁচজন কনস্টেবল মিলিয়ে পুলিশের ছয়জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ৭৩৫টি ভোটকেন্দ্রে পুলিশ থাকবে তিন হাজার ৭৯৮জন। এছাড়াও মোবাইল টিমের সাথে ৪১০জন ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের সাথে ১৪০জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। সবমিলিয়ে ভোটের মাঠেই পুলিশ থাকবে চার হাজার ৩৪৮জন। আনসারের দুইজন অস্ত্রসহ পিসি-এপিসি ও দশজন লাঠিসহ অঙ্গীভূত আনসার মিলিয়ে প্রতিটি কেন্দ্রে মোট ১২জন করে দায়িত্ব পালন করবেন। সে হিসেবে আট হাজার ৮২০জন আনসার সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। ৪১টি ওয়ার্ডের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমান টিম হিসেবে ৪১ প্লাটুনে ৪৯২জন Rab সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতি প্লাটুনে ৩০জন হিসেবে ২৫টি বিজিবির টিম নির্বাচনী মাঠে থাকবেন। এছাড়াও ৬৯জন ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাচনে। এদিকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচারণা শেষ হচ্ছে আজ। নির্বাচনে অংশ নেওয়া সাতজন মেয়র প্রার্থীসহ ৪১টি সাধারণ ও ১৪টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডেও ২৩৬জন কাউন্সিলর প্রার্থী ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। শেষ সময়ে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণায় সময় পার করছেন। নির্বাচনী মাঠে যেখানেই ঘাটতি লক্ষ্য করছেন সেখানেই দৌঁড়ঝাপ করছেন প্রার্থীরা। প্রচারণার মাঠে দাপট রেখেই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নির্বাচনী মাঠে লড়তে চায় সকল প্রার্থী। আজকে রাতে ভোটের প্রচারণা শেষ হলে ঘরে বসেই নির্বাচনী কর্মযজ্ঞে মাতবেন প্রার্থীরা।
সদরঘাট ঘাট গুদাম শ্রমিক লীগের জনসভা
২৫,জানুয়ারী,সোমবার,নিউজ ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: স্ট্র্যান্ড রোডস্থ মাঝির ঘাটে আওয়ামীলীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর সমর্থনে সদরঘাট ঘাট গুদাম শ্রমিক লীগের উদ্যোগে শনিবার সকালে শ্রমিক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন, মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী। ইদ্রিস হাওলাদের সভাপতিত্বে ও নাসির উদ্দিন চৌধুরীর সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন আলাউদ্দিন মিয়া, তোফায়েল আহমেদ, মুশিকুর রহমান, আশকার ইবনে শায়েক খাজা, বিএম মো. জাফর, সুলতান আহম্মদ, মো. মহিউদ্দিন, লুৎফর রহমান, মিরণ হোসেন মিলন, উজ্জ্বল বিশ্বাস, মো. জাহাঙ্গীর, নুরুল আলম লেদু, হারুণুর রশিদ রণি, জাহাঙ্গীর বেগ, শাহ আলম ভুঁইয়া, ওমর ফারুক প্রমুখ।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর