মঙ্গলবার, মে ১৮, ২০২১
চট্টগ্রাম জেলার চার থানার ওসিকে বদলি
০৫নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম জেলার চার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বদলি করা হয়েছে। ওসি বদলি হওয়া চার থানা হলো-হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, পটিয়া ও আনোয়ারা। বুধবার (৪ নভেম্বর) পুলিশ সদর দফতরের এক আদেশে তাদের বদলি করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক। বদলি হওয়া চার ওসি হলেন- হাটহাজারী থানার ওসি মাসুদ আলম, ফটিকছড়ি থানার ওসি মো. বাবুল আকতার, পটিয়া থানার ওসি মো. বোরহান উদ্দিন ও আনোয়ারা থানার ওসি দুলাল মাহমুদ। পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক বলেন, পুলিশ সদর দফতর থেকে হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, পটিয়া ও আনোয়ারা থানার ওসিদের বদলির আদেশ হয়েছে। তাদের বিভিন্ন ইউনিটে বদলি করা হয়েছে।
অপহরণের ঘটনায় থানায় মামলা করলেন সাংবাদিক সরওয়ার
০৫নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অপহরণের শিকার হওয়ায় চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী থানায় মামলা করেছেন সাংবাদিক সরওয়ার। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে তিনি নিজে থানায় গিয়ে মামলাটি দায়ের করেন। কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে বলে তিনি জানান। মামলা দায়েরকালে তার সঙ্গে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ আলী, সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইসলামসহ সিইউজে নেতৃবৃন্দ থানায় উপস্থিত ছিলেন। মোহাম্মদ মহসিন বলেন, অপহরণের ঘটনায় সাংবাদিক গোলাম সরওয়ার থানায় এসে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, নিউজ করার কারণে তাকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়েছে। মামলায় তিনি অজ্ঞাতনামা ছয়জনকে আসামি করেছেন। গোলাম সরওয়ার সাপ্তাহিক আজকের সূর্যোদয় পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এর আগে গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তিনি। এরপর থেকে তার আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে কোতোয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন পত্রিকাটির সহকারী সম্পাদক জুবায়ের সিদ্দিকী। নিখোঁজের চার দিন পর রবিবার (০২ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে সীতাকুণ্ডের কুমিরার হাজীপাড়া ব্রিজ ঘাট এলাকায় তাকে পাওয়া যায়। এরপর তাকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে আজ বুধবার দুপুরে তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান। এরপর দুপুর ২টায় চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে গোলাম সরোয়ার সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি মোবাইলের কল লিস্ট সঠিকভাবে চেক করে ঘটনা তদন্তের দাবি জানান। গোলাম সরওয়ার বলেন, আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। ঘটনার কয়েক দিন আগে একটা অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে বলে, ওয়া নিউজগান গরি ভালা ন গরো। মোবাইলের কল লিস্ট সঠিকভাবে চেক করে ঘটনা তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।
দুর্দিনে শেখ হাসিনার ছায়াসঙ্গী ছিলেন আখতারুজ্জামান বাবু: মাহবুবুল আলম হানিফ
০৫নভেম্বর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ এমপি বলেছেন, ৭৫-এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যখন বাংলাদেশে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে নির্মূল করার চেষ্টা করা হয়েছিল, আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছিল, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার, গুপ্ত হত্যা, বিনা বিচারে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা, বিনা বিচারে জেল দিয়ে নির্যাতনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার প্রয়াস ছিল সেই সময়ের ক্ষমতাসীনদের। সেই সময়ে যখন আওয়ামী লীগের অসহায় অবস্থা ছিল, তখন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এসে দলের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। তখন জননেত্রী শেখ হাসিনার সাথে ছায়ার মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন আখতারুজ্জামান বাবু ভাই। দলের প্রয়োজনে তাঁকে হাত খুলে সাহায্য করতে দেখেছি। দলের জন্য খরচ করতে দেখেছিলাম। তখন থেকেই আদর্শিক নেতা হিসেবে আমরা তাঁকে স্মরণ করতাম। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রয়াত আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুভাই সদা সদালাপী মানুষ ছিলেন, দানশীল ছিলেন। সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল, একদিকে তিনি রাজনীতিবিদ ছিলেন, আরেক দিকে ছিলেন প্রতিষ্ঠিত সফল ব্যবসায়ী। বাংলাদেশে সাধারণত ব্যবসায়ীরাই ব্যবসায়ী হন। রাজনীতিকে তারা ব্যবসায়ীক কাজে লাগান। এখানে বাবু ভাই ছিলেন ভিন্ন প্রকৃতির। তিনি ব্যবসার পাশাপাশি রাজনীতিকে আদর্শ হিসেবে নিয়েছিলেন। জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করেছেন। আওয়ামী লীগের অনেকের কাছেই তিনি ছিলেন অনেকটা ত্রাণকর্তার মতো। আজকাল বাবু ভাইয়ের মতো মানুষদের অভাব অনুভব করি। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন এমপি, মরহুমের সন্তান ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন, মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী, চসিক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এম এ সালাম, সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান, মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, আবুল কালাম চৌধুরী, অ্যাডভোকেট এ কে এম সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান চেমন আরা তৈয়ব, শাহাজাদা মহিউদ্দিন, অ্যাডভোকেট মির্জা কছির উদ্দিন, অ্যাডভোকেট জহির উদ্দিন, প্রদীপ দাশ, খোরশেদ আলম, আবু জাফর, বোরহান উদ্দিন এমরান, ডা. তিমির বরণ চৌধুরী, গোলাম ফারুক ডলার, অ্যাডভোকেট আবদুল হান্নান চৌধুরী মঞ্জু, আবদুল কাদের সুজন, নুরুল আবছার চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আবদুর রশিদ, অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক, বিজয় কুমার বড়ুয়া, নাছির আহমদ চেয়ারম্যান, সেলিম নবী, বিজন চক্রবর্ত্তী, দক্ষিণ জেলা যুবলীগ সভাপতি আ ম ম টিপু সুলতান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক পার্থ সারথী চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি মো. জোবায়ের, সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী গালিব, দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শামীমা হারুন লুবনা প্রমুখ। স্মরণসভায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, চট্টগ্রামে আসতে হয় রাজনীতি শিখতে, জানতে। চট্টগ্রামে আসলে জাতীয় রাজনীতির সিগন্যাল পাওয়া যায়। এটি বঙ্গবন্ধু বুঝতেন বলেই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, বার্তা পাঠিয়েছেন- চট্টগ্রাম জাগলেই বাংলাদেশ স্বাধীন হবে। এটা ইতিহাসে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করে গেছেন। চট্টগ্রামের মানুষ বীরসন্তান। তিনি বলেন, বাবু ভাই রাজনীতিবিদ ছিলেন। ৭৫র বঙ্গবন্ধুর হত্যার পরে টাকার জন্যে, ব্যবসার জন্যে কতজনের বিচ্যুতি হয়েছে। কিন্তু বাবু ভাই বঙ্গবন্ধুর রক্তের সাথে বেঈমানি করেননি। যে কারণে বাবু ভাই সকলের মাঝে আদর্শ হয়ে আছেন, আইডল হয়ে আছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্যের পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হয়েছেন। যে কারণে আজকে তিনি স্মরণীয়, বরণীয় হয়ে আছেন। বাবু ভাই চট্টগ্রামের মানুষের হৃদয়ে প্রতিষ্ঠিত সত্য, সেই নাম মুছে যায়নি, মুছে যাবে না, তিনি চিরদিন বেঁচে থাকবেন মানুষের মনে। বাবু ভাই গভীর হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন। তাঁর হৃদয়ে মানুষের ভালোবাসা ছিলো। বাবু ভাই চট্টগ্রামের হলেও তিনি বাংলাদেশ জয় করেছেন। ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন, আমার বাবা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ৮ বছর আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু এই সময়ে বাবার অনুপস্থিতি আমি অনুভব করিনি। তিনি জনপথে জনরবে সবার হৃদয়ে আজ পর্যন্ত বেঁচে আছেন। তাঁর প্রত্যেকটা কর্ম প্রত্যেক কিছু দিয়ে আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন। তিনি যে নেই, সেটা মনে হয় না। মনে হয় বাবা বিদেশে গিয়েছেন। একজন নাগরিক হিসেবে বলতে চাই, তাঁর আদর্শকে বুকে ধারণ করে রাখতে পারি। পিতার ত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে আমার বাবাকে জেলে দিয়েছিলেন। এরশাদ সময়ে বাবা জেলে ছিলেন। আজকের তরুণ প্রজন্মকে আখতারুজ্জামান বাবুর আদর্শ ধারণ করার আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ, তাঁর সুযোগ্য কন্যা আমাদের মহান নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজকে বাংলাদেশকে একটি অবস্থানে নিয়ে এসেছেন। কর্ণফুলীর তলদেশে টানেল হবে সেটা ছিল একটা স্বপ্ন। কাল্পনিক চিন্তা ছিল আমাদের। শুধু বাংলাদেশে নয়, দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম টানেল হচ্ছে চট্টগ্রামে। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। চট্টগ্রামসহ সারাদেশে অবিশ্বাস্য উন্নয়ন চলছে। আমরা প্রত্যেকটি সূচকে ইতিবাচক উন্নতির দিকে যাচ্ছি। যে কারণে বিশ্বের দরবারে আমাদের একটি সম্মানজনক অবস্থান তৈরি হয়েছে। শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, আখতারুজ্জামান চৌধুরী এমন একজন নেতা, যিনি বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে, বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পরে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে আওয়ামী লীগের জন্য নিজের যা কিছু ছিল সবকিছু বিলিয়ে দিয়েছিলেন। তৃণমূল থেকে দলের সভাপতিমন্ডলী থেকে শুরু করে প্রত্যেক নেতাকর্মীর হৃদয়ে আখতারুজ্জামান চৌধুরী স্থান করে নিয়েছে। যতদিন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি থাকবে, ততদিন আওয়ামী লীগের প্রত্যেক নেতাকর্মীর হৃদয়ে তিনি বেঁচে থাকবেন।
ওরা আমাকে মেরেছে নিউজের কারণেই: গোলাম সরওয়ার
০৪নভেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: পুরো শরীরে এখনও ব্যথা। কাটিয়ে উঠতে পারেননি নির্যাতনের ধকল। সাংবাদিক নেতাদের কাঁধে ভর করে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) কার্যালয়ে এসেছিলেন সাংবাদিক গোলাম সরওয়ার। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। এর আগে রোববার (১ নভেম্বর) রাত পৌনে ৮টার দিকে সীতাকুণ্ডের কুমিরা বাজারস্থ খালের পাশে অর্ধউলঙ্গ অবস্থায় পাওয়া যায় সাংবাদিক গোলাম সরওয়ারকে। তাকে উদ্ধার করার পর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে তিনি সিইউজে কার্যালয়ে আসেন। গোলাম সরওয়ার আজকের সূর্যোদয় চট্টগ্রাম ব্যুরোর স্টাফ রিপোর্টার এবং অনলাইন পোর্টাল সিটি নিউজ বিডি ডটকমের নির্বাহী সম্পাদক ও প্রকাশক। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ওরা আমাকে দফায় দফায় পিটিয়েছে। অনলাইন পোর্টালে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কয়েকটি নিউজ করেছিলাম। এরপর আমার মোবাইলে বেশ কয়েকবার অজ্ঞাত ব্যক্তির ফোন এসেছিল। কেউ যেন বলেছিল, নিউজগান গরি ভালা ন গরো। এসব ফোনকল চেক করা যেতে পারে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) সকাল থেকে নিখোঁজ ছিলেন গোলাম সরোয়ার। তিনি বলেন, ওরা ইচ্ছেমতো পিটিয়ে বলেছে-আর নিউজ করবি কি-না বল? আমি ওদের বারবার বলেছি, নিউজ করবো না, প্লিজ আমাকে ছেড়ে দেন। তারপরও পিটিয়েছে। চোখে হাত দিতে দেয়নি। ওরা বলাবলি করছিল, এটাকে স্যাম্পল হিসেবে নিয়েছি। মেরে ফেলার দরকার নাই। সাইজ করো। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে গোলাম সরোয়ার বলেন, আমি এখনও মানসিকভাবে অসুস্থ। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম আমি। আর্থিকভাবেও স্বচ্ছল নই। কারও বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেইনি। তবে আমি বিচার চাই। ওরা আমাকে মেরেছে নিউজের কারণেই। তবে কোন নিউজের কারণে মেরেছে, সেটা নিশ্চিত নই। অপহরণ হওয়ার পর থেকে চট্টগ্রামসহ দেশের সাংবাদিক সমাজ তাকে উদ্ধারে রাজপথে সরব থাকায় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন গোলাম সরোয়ার। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইউজে সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, গোলাম সরওয়ারের কাছ থেকে অপহরণের বিষয়ে যেসব বক্তব্য পাওয়া গেছে তা পেশাদার সাংবাদিকদের জন্য আতঙ্কের বিষয়। আমরা তাকে বলেছি, তিনি যদি মামলা করতে চান, তাহলে সিইউজে তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে এবং তার পাশে থাকবে। সিইউজের সাধারণ সম্পাদক ম শামসুল ইসলাম বলেন, অপহরণকারীদের শনাক্ত করা ও গ্রেফতারের বিষয়ে পুলিশ কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভিরকে আমরা স্মারকলিপি দিয়েছি। এরই মধ্যে সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি পুলিশের দুইটি টিম কাজ করছে বলে তিনি আমাদেরকে জানিয়েছেন। এসময় সিইউজে ও প্রেসক্লাব নেতা সহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বহদ্দারহাটের ত্রাস হামকা রাজু আটক
০৪নভেম্বর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নগরের বহদ্দারহাট এলাকার সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাংলিডার মো. রাজু বাদশা প্রকাশ হামকা রাজুকে (৩০) আটক করেছে Rapid Action Battalion (Rab)। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) ভোররাতে চাঁন্দগাও থানাধীন বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে হামকা রাজুকে আটক করে Rab-7 এর একটি দল। আটক হামকা রাজু চাঁন্দগাও থানাধীন বহদ্দারহাট কসাইপাড়া এলাকার জয়নাল আবেদীন জুনুর ছেলে। তার বিরুদ্ধে কিশোরগ্যাং পরিচালনা ও কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে Rab। Rab-7 এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. মাহমুদুল হাসান মামুন নিউজ একাত্তরকে বলেন, বহদ্দারহাট এলাকার সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাংলিডার মো. রাজু বাদশা প্রকাশ হামকা রাজুকে আটক করা হয়েছে। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে চাঁন্দগাও থানায় হস্তাস্তর করা হয়েছে। Rab-7 এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহেল মাহমুদ বলেন, হামকা রাজুর বিরুদ্ধে ছিনতাই, হত্যাচেষ্টাসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে কিশোরগ্যাং পরিচালনা ও কিশোর গ্যাংয়ের মাধ্যমে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। নগরজুড়ে মোটর সাইকেলে ঘুরে ভাসমান ছিনতাই চক্রের দলনেতা ছিল মো. রাজু বাদশা প্রকাশ হামকা রাজু। বহদ্দারহাট এলাকায় চাঁদাবাজি, বাড়াইপাড়ায় জুয়ার আসর ও ইয়াবা বিক্রির বিভিন্ন স্পট পরিচালনা করে আসছিল দীর্ঘদিন। সম্প্রতি চাঁদার জন্য খাজা রোডে একটি টেক্সি স্ট্যান্ডে হামলা চালায় হামকা রাজু ও তার গ্রুপ। সিএনজি অটোরিকশা চালককে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেয় হামকা রাজু। হামকা রাজু ছাড়াও বহদ্দারহাট এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদকসহ নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত ধামা জুয়েল, ল্যাংড়া রিফাত, রনি সরকার, ইমন বড়ুয়া (বর্তমানে কারাগারে আছে), ফ্রুট সোহেল ও রুবেল।
আ জ ম নাছির হাসপাতালে ভর্তি
০৩নভেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে তাকে চট্টগ্রাম নগরের পার্ক ভিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পার্ক ভিউ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ডা. রেজাউল করিম। জানা গেছে, এক সপ্তাহ ধরে হাল্কা অসুস্থ বোধ করছিলেন আ জ ম নাছির উদ্দীন। এসময় তিনি বাসায় অবস্থান করছেন। কিন্তু বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে আজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সিটি স্ক্যানসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় তার ফুসফুসের ১০ ভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে তাঁর করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
মানুষ তার কাজের মাধ্যমেই সকলের হৃদয়ে বেঁচে থাকে: রেজাউল করিম চৌধুরী
০৩নভেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগ মনোনীত চসিক মেয়র পদপ্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা এম. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, অতিক্ষুদ্র এই মানবজীবনে মানুষ তার কাজের মাধ্যমেই সকলের হৃদয়ে বেঁচে থাকেন। জগতের সকল সৃষ্টিকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। মৃত্যুর পর মানুষের সাথে শুধু তার আমল ছাড়া আর কিছুই যাবে না। যে ব্যক্তি মানুষের জন্য ভাবেন, মানুষের জন্য কাজ করেন, সে ব্যক্তি মৃত্যুর পরও তার সেই কাজের মাধ্যমে মানুষের মাঝে আজীবন বেঁচে থাকেন। সোমবার (২ নভেম্বর) রাতে আছাদগঞ্জ শুটকি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মরহুম ফরিদ আহমেদ (সাহেব মিয়া)র স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, আমরা সবাই মানুষ, কিন্তু দায়িত্বশীল মানুষ কয়জন এটা ভাবা দরকার? যারা দায়িত্ব নিয়ে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পেরেছেন, সংগঠন, সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজ করে গেছেন, তাদেরকে এই দুনিয়া সবসময় তাদের কর্মের কারণে স্মরণ করবে। আর যারা দায়িত্ব নিয়ে সঠিকভাবে দায়িত্বপালন করেননি, তাদেরকে এই দুনিয়া ভুলে যেতে বেশিদিন সময় লাগবে না। আছাদগঞ্জ শুটকি ব্যবসায়ী সমিতির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সত্যপ্রিয় বড়ুয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আছাদগঞ্জ শুটকি ব্যবসায়ী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ আহম্মদ ছায়েদ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতি সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এএইচএম জিয়া উদ্দিন, ৩৫নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নুরুল হক, খাতুনগঞ্জ আড়তদার সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, আছাদগঞ্জ শুটকি ব্যবসায়ী আড়তদার সমিতির সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম, ৩৪নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ মনোনীত কাউন্সিলর প্রার্থী পুলক খাস্তগীর, ৩৪নং পাথরঘাটা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহবায়ক আসফাক আহমদ, ফজলে আজিজ বাবুল, আনিসূল ইসলাম ইমন, বোয়ালখালী আওয়ামী লীগ নেতা ইদ্রিস আলম, আছাদগঞ্জ শুটকি ব্যবসায়ী আড়তদার সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন শিকদার, আছাদগঞ্জ শুটকি ব্যবসায়ী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির।
মাস্কবিহীন দেখলে তাৎক্ষণিক জরিমানা: প্রশাসক সুজন
০৩নভেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন শীত মৌসুমে করোনা সংক্রমন বৃদ্ধির আশংকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে মাস্ক বিহীন কাউকে রাস্তায়, বাজারে, শপিংমলে বা যানবাহনে চলাচল করতে দেখা গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক জরিমানা করা হবে। তিনি বলেন, আমরা যদি সচেতন না হই তাহলে কোভিড-১৯ এর সাথে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া যুক্ত হয়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। তাই মশক প্রজননের উৎস ও উৎপত্তির স্থান নির্মূলে চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগ শীঘ্রই ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নেবে। তিনি আজ সকালে টাইগারপাসস্থ নগর ভবনে চসিক বিভাগীয় প্রধান ও প্রকৌশলীদের সাথে অনুষ্ঠিত মশক নিধন ও কোভিড-১৯ প্রতিরোধ বিষয়ক সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। প্রশাসক বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় যে সকল স্থানে বাঁধ দিয়ে পানি আটকে দেয়া হয়েছে সেখানেই মশক প্রজনন ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। তাই পানি যাতে জমে না থাকে সে জন্য পানি চলাচলের বিকল্প পথ তৈরির ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি নগরবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, প্রতিটি বাসা-বাড়ি দোকান-পাট ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বাসস্ট্যান্ড রেলস্টেশন ও বিমান বন্দর পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান ও কর্তৃপক্ষকে নিজ নিজ উদ্যোগে করতে হবে। কাঁচা বাজার, মাছ-মাংসের দোকানে বিক্রেতাদের অবশ্যই গ্লাভস পরিধাণ করতে হবে। মসজিদ -মন্দির-গীজা-প্যাগোডায় যারা নামাজ ও প্রার্থনা করতে আসবেন তাদের প্রত্যেককে মাস্ক পরতে হবে। উপাসনালয়ে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রার্থনার সময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। সভায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রধান ও বিভাগীয় প্রধানদের সদস্য করে মশক নিধন কার্যক্রম ও কোভিড-১৯ বিষয়ক একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। এ সময় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, সচিব আবু সাহেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্ণেল সোহেল আহমদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলম, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আলী, অতিরিক্ত প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোরশেদুল আলম চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মুজিববর্ষের উপহার: নতুন ঘর পাচ্ছেন ১৩৭৪ গৃহহীন পরিবার
০৩নভেম্বর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মুজিববর্ষে চট্টগ্রামের ১ হাজার ৩৭৪টি গৃহহীন পরিবারকে নতুন ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছে সরকার। চট্টগ্রামের ৮ উপজেলায় যাদের জমি এবং ঘর নেই- স্থানীয় প্রশাসনের তত্বাবধানে তাদের এসব ঘর মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গুচ্ছগ্রাম (২য় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া, পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী এবং ফটিকছড়িতে ১ হাজার ৩৭৪টি গৃহহীন পরিবারকে নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে। এর মধ্যে রাঙ্গুনিয়ায় ৬৫টি, পটিয়ায় ৫০২টি, চন্দনাইশে ৫টি, সাতকানিয়ায় ১৩৪টি, লোহাগাড়ায় ১৮টি, বাঁশখালীতে ২৫টি এবং ফটিকছড়িতে ৬০০টি গৃহহীন পরিবার ২ শতাংস খাস জমির বন্দোবস্তসহ দুই কক্ষ বিশিষ্ট সেমিপাকার এসব নতুন ঘর পাবেন। প্রথম পর্যায়ে ১ হাজার ৩৭৪টি গৃহহীন পরিবারের মধ্যে ২৩৮টি পরিবারকে আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে ২ শতাংস জমি বন্দোবস্তসহ নতুন ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হবে। বাকিরা পর্যায়ক্রমে সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত ও নতুন সেমিপাকা ঘর পাবেন। এই সময়ে নতুন ঘর পাওয়াদের মধ্যে রাঙ্গুনিয়ার ১০টি, পটিয়ার ৬০টি, চন্দনাইশের ৫টি, সাতকানিয়ার ২৫টি, লোহাগাড়ার ১৮টি, বাঁশখালীর ২৫টি এবং ফটিকছড়ির ৭০টি গৃহহীন পরিবার রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে ২৩৮টি পরিবারকে নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) অনুকূলে ৪০ কোটি ৬ লাখ ৯৮ হাজার টাকা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। ইটের দেওয়াল, কংক্রিটের মেঝে এবং টিনের ছাউনি দিয়ে তৈরি এসব সেমিপাকা ঘরে ২টি শয়ন কক্ষ, ১টি খোলা বারান্দা, ১টি রান্না ঘর এবং ১টি শৌচাগার থাকবে। চট্টগ্রামের ৮ উপজেলার মধ্যে মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে সবচেয়ে বেশি ঘর পাচ্ছেন ফটিকছড়ি উপজেলার গৃহহীন মানুষেরা। এই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সায়েদুল আরেফীন জানান, সরকারি নির্দেশনা পেয়ে ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের জন্য নতুন ঘর নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। তিনি বলেন, উপজেলার যেসব সরকারি খাস জমিতে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ করা হবে, সেসব জমি ঘর নির্মাণের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে ফটিকছড়ি উপজেলার গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ কাজ শুরু হবে। সরকার নির্দেশিত সময়েই ঘর নির্মাণ করে গৃহহীনদের বুঝিয়ে দেওয়া হবে। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এসএম জাকারিয়া জানান, মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে সরকার ক ক্যাটাগরিতে যারা ভূমিহীন ও গৃহহীন তাদের এবং খ ক্যাটাগরিতে যাদের ভূমি আছে কিন্তু গৃহ নেই তাদের নতুন ঘর তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, ক ক্যাটাগরির অন্তর্ভূক্ত ভূমিহীন এবং গৃহহীন চট্টগ্রামের ১ হাজার ৩৭৪টি পরিবারের তালিকা আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলাম। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ২৩৮টি পরিবারকে জমি ও ঘর নির্মাণ করে দিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাকিদের পর্যায়ক্রমে জমি বন্দোবস্তসহ ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে। মুজিববর্ষে দেশের সব গৃহহীন মানুষের জন্য ঘর তৈরি করে দিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগ নিয়েছেন। চট্টগ্রামে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে। যোগ করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের এই কর্মকর্তা। ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দেশে একজন মানুষও যাতে গৃহহীন না থাকেন- সেই লক্ষ্যে কাজ করছে ভূমি মন্ত্রণালয়। আগামী ২ মাসের মধ্যে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে প্রায় ৩ হাজার ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে বন্দোবস্তসহ নতুন ঘর করে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে প্রাথমিকভাবে এসব পরিবার জমি বন্দোবস্তসহ নতুন ঘর পাবেন। পর্যায়ক্রমে সব ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে এর আওতায় আনা হবে। ভূমিহীন ও গৃহহীন সব মানুষের জন্য ঘর তৈরি করে দেওয়ার যে যুগান্তকারী উদ্যোগ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা নিয়েছেন মুজিববর্ষেই সেটি বাস্তবায়ন করবো আমরা। সূত্র: বাংলা নিউজ

সর্বশেষ সংবাদ