জনগণের সম্পৃক্ততাই ক্যারাভান কর্মসূচির সফলতা: সুজন
২২,অক্টোবর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেছেন, জনগণের সম্পৃক্ততাই ক্যারাভান কর্মসূচির সফলতা। এ কর্মসূচি আমি নগরীর অলিগলিতে ছড়িয়ে দিতে চাই। যেসব এলাকা দীর্ঘদিন ধরে সিটি কর্পোরেশনের সুবিধাবঞ্চিত ছিল ক্যারাভানের কারণে সেসব এলাকার জনসাধারণ এখন নাগরিক সুবিধা পেতে শুরু করেছে। প্রশাসক বলেন, নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে এবং পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ বাসযোগ্য নগরী গড়ার প্রত্যয়ে আমি অঙ্গীকারাবদ্ধ। জনতার আস্থার প্রতিদান দেওয়ার জন্য চাই জনসম্পৃক্ততা। তিনি আজ বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে বহদ্দারহাটস্থ খাজা রোড থেকে বলির হাট পর্যন্ত চসিকের প্রকৌশল, বিদুৎ ও পরিচ্ছন্ন বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত টিম নিয়ে নগর সেবায় ক্যারাভান কার্যক্রমে উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশে এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ক্যারাভান কর্মসূচির সাথে সম্পৃক্ত কর্পোরেশনের সব বিভাগকে আমি এক ছাতার নিচে নিয়ে এসেছি যাতে করে যেখানেই সমস্যা সেখানেই সমাধান করা যায় এবং এতে আমার এ কর্মসূচি ক্রমেই সফলতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। মাদক ও সন্ত্রাসের সাথে জড়িতরা কোন অবস্থাতেই ছাড় পাবে না। এ ব্যাপারে আমাদের জিরো টরালেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছি। জলাবদ্ধতা এ নগরীর একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক দিকনির্দেশনা এবং কার্যকরী পদক্ষেপের ফলে আমরা অচিরেই এ সমস্যা হতে মুক্ত হতে পারবো। সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত হলে নগরীর জলাবদ্ধতা আর থাকবে না বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি উপস্থিত বেশিরভাগ জনসাধারণের মুখে মাস্ক না দেখে তাদেরকে সতর্ক করেন। জনসাধারণকে তাৎক্ষণিক মাস্ক পরিয়ে দেন এবং তাদের মাঝে সাবানও বিতরণ করেন। ক্যারাভান চলাকালে প্রশাসক স্থানীয় কবরস্থান জিয়ারত করেন এবং খালাসী পুকুর পাড় জামে মসজিদে আসরের নামাজ আদায় করেন। খাজা রোডের ক্যারাভান চলাকালীন সময়ে রাস্তার উভয়পাশে দাড়িয়ে শতশত নারী পুরুষ প্রশাসকের এহেন উদ্যোগকে স্বাগত জানান। এসময় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা মো. শাহাবুদ্দীন, মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নোমান চৌধুরী, শহিদুল আলম, ফরহানুল আলম রাকিব, মো. তাসিন, ইরফানুল আলম, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সিদ্দিক, মির্জা ফজলুল কাদের, প্রকৌশলী তৌহিদুল আলম, মোরশেদুল আলম চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
করোনা: চট্টগ্রামে আক্রান্ত ১১০ জন
২২,অক্টোবর,বৃহস্পতিবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: গত ২৪ ঘন্টায় চট্টগ্রামে ৯৮৬টি নমুনা পরীক্ষা করে নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ১১০ জন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ২০ হাজার ৪৬৫ জন। এইদিনও করোনায় কারও মৃত্যু হয়নি। বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এইদিন কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবসহ চট্টগ্রামে ৮টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে ৫৩টি নমুনা পরীক্ষা করে ৯ জন করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসে (বিআইটিআইডি) ৩৬১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে শনাক্ত হয় ২০ জন। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) ল্যাবে ৩৭৮টি নমুনা পরীক্ষা করে ৪৫ জন করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) ল্যাবে ৫১টি নমুনা পরীক্ষা করে ৯ জনের করোনা ভাইরাস পাওয়া গেছে। ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল ল্যাবে ৬২টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৫ জন, শেভরণ ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরিতে ৩৩টি নমুনা পরীক্ষা করে ৭ জন এবং চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল ল্যাবে ১২টি নমুনা পরীক্ষা করে ৪ জন করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। এইদিন জেনারেল হাসপাতালের রিজিওনাল টিবি রেফারেল ল্যাবরেটরিতে (আরটিআরএল) কোনো নমুনা পরীক্ষা করা হয়নি। এছাড়া, কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবে চট্টগ্রামের ৩৬টি নমুনা পরীক্ষা করে ১ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের অস্তিত্ব মিলেছে। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি জানান, গত ২৪ ঘণ্টার নমুনা পরীক্ষায় ১১০ জন নতুন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। এইদিন নমুনা পরীক্ষা করা হয় ৯৮৬টি। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে নগরে ৯৫ জন এবং উপজেলায় ১৫ জন।
শুধু বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ ও বঙ্গকন্যার জয়গানে বিভোর ছিলেন ডা. জাকেরিয়া চৌধুরী
২১,অক্টোবর,বুধবার,মুহাম্মদ মহরম হোসাইন,নিউজ একাত্তর ডট কম: সবাই পদপদবী ও চেয়ারের পাগল। রাজনীতি করলে পদ পেতে হবে ক্ষমতার স্বাদ ভোগ করতে হবে এমনটাই এখন রাজনীতির রেওয়াজ। পদ ও চেয়ারের জন্য কত বাঘা বাঘা নেতা ক্ষনিকের মধ্যে রাতের অন্ধকারে ডিগবাজি খেয়েছে তার কোন ইয়ত্তা নেই। বর্তমান রাজনীতে এটা চলমান প্রক্রিয়া বলা যায়। তবে রাজনীতিকে যারা আলোকিত করেছেন তারাই এখন অন্ধকারে। এইসব রাজনৈতিক ব্যক্তিরা নিজের পকেটের টাকা খরচ করে রাজনীতি করেছেন মানুষের সেবা করার জন্য। আর এই সেবাকে ওনারা ইবাদত হিসেবে গণ্য মনে করতেন। তেমননি একজন রাজনীতিবিদ হলেন ডা. এ.এম.এম. জাকেরিয়া চৌধুরী। যিনি আপাদমস্তক ছিলেন বঙ্গবন্ধু প্রেমী। কোন লোভ লালসা তাকে জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। ৬৬ ছয় দফা আন্দোলনে ডা. এ.এম.এম. জাকেরিয়া চৌধুরী গ্রেফতার হন। প্রখ্যাত আইনজীবী উইলিয়ামস এর নেতৃত্বে আগরতলা মামলা পরিচালনায় আওয়ামী লীগ কর্মীদের সংগৃহিত মামলার অর্থ জননেতা এম এ আজিজের নিদের্শনায় বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী হাতে পৌঁছে দেন তিনি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ডা. এ.এম.এম. জাকেরিয়া চৌধুরী উনবিংশ শতাব্দীর চল্লিশ দশক থেকে ২০১৩ সালের ২১ অক্টোবর পর্যন্ত আমৃত্যু বঙ্গবন্ধুর অাদর্শকে বুকে ধারন করে মানবতার কল্যাণে কাজ করে গেছেন। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম ডাঃ জাকেরিয়া চৌধুরী। দেশ প্রেমিক প্রচারবিমুখ, নিলোভ এ মানুষটি বাঙালী জাতির ক্রান্তিকাল এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের দুসময়ে আওয়ামী লীগের অগ্রসেনানী হিসেবে কাজ করেন। কখন পদপদবীর জন্য লালায়িত ছিলেন না। দল থেকে ছিলনা কোন চাওয়া পাওয়ার। শুধু বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ ও বঙ্গকন্যার জয়গানে ছিলেন বিভোর। এই আলোকিত মানুষটি ২০১৩ সালের ২১শে অক্টোবর মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ডাকে সারা দিয়ে আমাদের ছেড়ে পড়পাড়ে পাড়ি জমান। আজ এই মানবতাবাদী লোকটির ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী। পরপারে ভালো থাকবেন হে মানবতার ফেরিওয়ালা। রাজনীতিবিদ, সমাজসেবী ডা: এ.এ.এম জাকেরিয়া চৌধুরীর অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার বিগত ২০১৯ সালের ২২ অক্টোবর নগরীর ঐতিহ্যবাহী কাজির দেউড়ি চত্বরকে ডা. এ.এম.এম.জাকেরিয়া চৌধুরী চত্বর হিসেবে উদ্বোধনের মাধ্যমে নামকরণ করেন। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ডা. এ.এম.এম.জাকেরিয়া চৌধুরী ১৯২৬ সালের ২৩শে এপ্রিল চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ডাবুয়ার এক মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবারে তার জন্ম এবং বিশিষ্ট আইন বিশারদ দোস্ত মোহাম্মদ চৌধুরীর বংশধর। বাবা মরহুম আলহাজ্ব গোলাম রহমান চৌধুরী ছিলেন তদান্তিন বৃটিশ ও পাকিস্তান শাসনামলে জরিপ কমকতা'। মা মরহুমা ছবিলা খাতুন ছিলেন গৃহিণী। ডা. জাকেরিয়া ১৯৫০ সালের ২০শে জুন আছিয়া খাতুনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি ১০ ছেলে ২ কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন।
ঈদে মিলাদুন্নবী হয়ে উঠুক মুক্তির হাতিয়ার- সাহেনা আক্তার
২১,অক্টোবর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ১৯ অক্টোবর থেকে রবিউল আউয়াল মাসের গণনার পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ৩০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ-এ মিলাদুন্নবী। পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের এই দিনেই নশ্বর পৃথিবীতে রহমতের ফুলগুধারা ও মুক্তির দূত হয়ে আসা হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিবস। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনোপলক্ষ্যে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে আমরা ধর্মপ্রাণ-মুসলিম উম্মাহ ও নবীপ্রেমী মানুষ পালন করি পবিত্র জশনে জুলুছে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী। এদিনে নবীপ্রেমে মোহিত আমাদের কন্ঠ গেয়ে ওঠে মোহাম্মদ মোস্তফা সাল্লে ওয়ালা, তুমি বাদশাহর বাদশা, কামলি ওয়ালা। জানাই হাজার সালাম, মোস্তফা জানে রহমত, পে-লাখো সালাম। শময়ে বয্মে হেদায়াত পে-লাখো সালাম। পবিত্র এ দিনেই আমাদের সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ (দ.)-এর পবিত্র ওফাত দিবস। ৬৩ বছর বয়সের এই দিনেই তিনি ইন্তেকাল করেন। চৌদ্দ শত বছর পূর্বে ৫শ ৭০ খৃষ্টাব্দের এ দিনেই সুব্হে সাদেকের সময় মক্কা নগরীর সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশে মা আমেনার কোলে আসেন আমাদের প্রাণ প্রিয় নবী (দ.) এই ধরাকে আলোকিত করে। তিঁনি বিশ্বমানবতার মুক্তির দিশারী নবী কুলের শিরোমণি সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ (স:)। তাইতো জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন, তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে মধু পূর্ণিমারই সেথা চাঁদ দোলে। তিনি ছিলেন সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মহাপুরুষ। তিনি মুসলিম উম্মাহ তথা সমগ্র বিশ্বের মানব জাতির কল্যাণ ও রহমত স্বরূপ। যার গুন ও মহিমা গাঁথা এ বিশ্বের শেষ দিন পর্যন্ত লক্ষ কোটি অযুত-নিযুত প্রাণে প্রতিটি মূহূর্তে প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরবে। জশনে জুলুছে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী ২০২০ হবে প্রাচীন ধারাবাহিকতায় ৪৭ তম মিলাদুন্নবী। মহান ও মহামান্বিত এই দিনটিতে নবীপ্রেমী লাখো-লাখো জনতা ঈমানী উদ্দীপনায় জেগে ওঠে নারায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবার, নারায়ে রেসালাত ইয়া রাসুল্লাহ, নারায়ে গাউসিয়া ইয়া গাউসুল আযম দস্তগীর (রাহ.) শাহেন শাহ সিরিকোট শ্লোগানে মুখরিত ধ্বণির মাধ্যমে আওলাদে রাসুলকে সামনে রেখে প্রিয় নবী (দ.)র প্রতি তাজিম ও শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলীয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই জশনে জুলুছে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবীতে চট্টগ্রামের প্রতিটি প্রান্ত থেকে দলে-দলে ক্লান্তিহীন পাঁয়ে হেঁটে এবং যানবাহনের মাধ্যমে উৎসব মূখর আনন্দঘন পরিবেশে হামদ্, নাত, দুরুদ শরীফ, ধর্মীয় গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিয়ে লাখো মুসলিম জনতা আওলাদে রাসুল সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহর (মু.জি.আ.) নেতৃত্বে নবীর প্রতি মহব্বত-শ্রদ্ধা নিবেদন ও তাজিমের উদ্দেশ্যে ছুটে আসবে। হাতে থাকবে বর্ণাঢ্য ফেস্টুন ও প্লাকার্ড। আলোক সজ্জায় সজ্জিত হয়ে উঠবে চারপাশ। বর্ণনাতীত এমন মুসলিম জনসমুদ্র দেখে মনে হবে যেন আসমান হতে জমিনে ফেরেস্তারাই নেমে এসেছে পবিত্র মিলাদুন্নবীর প্রিয় নবী-শ্রেষ্ঠ নবীর জন্নদিন আনন্দে শরীক হতে। যে নবীকে কেন্দ্র করেই এত সবকিছুর সৃষ্টি। যে নবীকে উদ্দেশ্য করে সৃষ্টিকর্তা পরম করুনাময় আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন, আমি যদি মুহাম্মদকে সৃষ্টি না করতাম, তবে আমি আদমকে সৃষ্টি করতাম না। আর সৃষ্টি করতাম না জান্নাত ও জাহান্নাম। এবং আল্লাহর রাসূল (স:) ইরশাদ করেছেন, আমি তখনও নবী ছিলাম, যখন আদম (আ:) ছিলেন রুহ এবং দেহের মধ্যে (মুসনাদ আহমদ)। পবিত্র জশনে জুলুসে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবীর মত ধর্মীয় কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে মুসলিম জমানের সংস্কারের মত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা বা অবদান রেখে গেছেন মুর্শিদে কেবলা আওলাদে রাসূল হযরতুল আল্লামা হাফেজ ক্বারী সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়ব শাহ্। ১৯৭৪ সালে ১২ রবিউল আউয়াল এ জশনে জুলুছে ঈদ-এ-মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম উদযাপন করার জন্য গাউসে জামান মুজাদ্দিদে জমান রাহনুমায়ে শরীয়ত ও তরীক্বত, হাদীয়ে দ্বীনো মিল্লাত, আওলাদে রাসূল, হযরতুল আল্লামা আলহাজ্ব হাফেজ ক্বারী সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি নির্দেশ প্রদান করেছিলেন, চট্টগ্রামের বলুয়ার দীঘিরপাড়স্থ খানকায়ে কাদেরিয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া আনজুমান ট্রাস্টের সিনিয়র সহ সভাপতি আলহাজ্ব নুর মুহাম্মদ সওদাগর আল কাদেরী (রাহমাতুল্লাহি আলাইহি) কে। তাঁর নেতৃত্বেই বন্দর নগরী চট্টগ্রামে সর্বপ্রথম জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া ময়দানে জামায়েত হয়ে আলোচনা, মিলাদ-মাহফিল ও আখেরী মুনাজাতের মাধ্যমে পালিত হয় জশনে জুলুছে পবিত্র ঈদ-এ-মিলদুন্নবী। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ট ও শান্তির ধর্ম ইসলাম ধর্ম। ইসলাম আল্লাহ তায়ালার মনোনীত একমাত্র দ্বীন বা আদর্শ ব্যবস্থা। বিপথগামী মানুষের হেদায়াতের জন্যই আল্লাহ মহামানব বা পয়গম্বর মানে আল্লাহর রাসুল প্রেরণ করেছেন। এবং বান্দাদের হেদায়াতের জন্য পয়গম্বরদের উপর নাযিল করেছেন আল্লাহর বাণী বা আসমানী কিতাব। আসমানী কিতাব পবিত্র কুরআনের দুটি আয়াতে উল্লেখ আছে, (১) তার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক, যেদিন সে জন্মগ্রহণ করে, যেদিন সে মৃত্যুবরণ করে এবং যেদিন সে জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত হবে। (২) আমার জন্নদিনে আমার উপর সালাম বর্ষিত হোক, সালাম বর্ষিত হোক যেদিন আমি মৃত্যুবরণ করবো, আর সালাম বর্ষিত হোক, যেদিন আমি জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত হবো। সুতরাং জন্মদিবসে সালাম পাঠ করা যেমন আল্লাহর সুন্নত, তেমনি নবীর সুন্নত। কিন্তু দু:খজনক সত্য এই যে, যে নবী বিশ্বমানবের জন্য চিরশান্তির ও নাজাতের পয়গাম বহন করে এনেছেন সেই নবীর প্রতি প্রেম নিবেদন, নবীর জন্ম-মৃত্যু দিবসে নবীকে স্মরণ করাসহ নবীর প্রতি সালাম, দুরুদ প্রেরণ ও শ্রদ্ধা নিবদনে একশ্রেণীর নবী বিদ্বেষী মহল জশনে জুলুছের বিরোধীতা করেন। অথচ জুলুশের গুরুত্ব বৈশিষ্ট্য ও প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন আর উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন বলেই তো স্বাধীনতা উত্তর এই বাংলাদেশ তথা মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য আওলাদে রাসুল হযরতুল আল্লামা হাফেজ ক্বারী সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ্ জশনে জুলুশের নির্দেশ প্রদান করেছিলেন। কেননা আমাদের প্রিয় নবী সর্বকালের সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ট নবী হযরত মুহাম্মদ (স:)।
নজরদারিতে কিশোর গ্যাংয়ের আশ্রয়দাতারা,সিএমপিতে যুক্ত হচ্ছে- সেফ সিটি কনসেপ্ট
২১,অক্টোবর,বুধবার,মো. এনামুল হক লিটন,নিউজ একাত্তর ডট কম: চট্টগ্রাম পুলিশ বাহিনীতে এবার পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)র ১৬টি থানার আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি তথা পুলিশের সাথে জনগণের দূরত্ব ঠেকাতে নতুন সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর বেশকিছু প্রশংসনীয় উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। এরমধ্যে সেফ সিটি কনসেপ্ট অন্যতম। এছাড়া বিট পুলিশিং ও কমিউনিটি পুলিশিংয়ের পাশাপাশি থানায় সেবার মান বৃদ্ধি ও থানাগুলোকে দালালমুক্ত করতে থানায় সিসি টিভি ক্যামেরা স্থাপণ করে সরাসরি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর। তিনি বলেন, জনসংখ্যা অনুপাতে পুলিশের সংখ্যা অনেক কম হলেও সীমিত জনবল নিয়েই থানাগুলোতে সেবার মান বৃদ্ধির নানা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। সিএমপি কমিশনার সম্প্রতি নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইনের মাল্টিপারপাস শেডে মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা বন্ধে কিশোর গ্যাংয়ের আশ্রয়দাতাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে এমন ঘোষনায় কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সফলতা মিলেছে এমন আভাস পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে। অপরদিকে থানাগুলোতে সেবার মানও আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কেউ-কেউ। ইতিমধ্যে বিট পুলিশিং ও কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে স্ব-স্ব দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করেছেন। এর আগে থানাগুলোতে লিগ্যাল ডেলিভারি সিস্টেম চালু ছিল। গতকাল সিএমপির বাকলিয়া, চাঁন্দগাও, চকবাজার ও বায়েজিদ বোস্তামী থানায় সরেজমিনে গিয়ে বেশকিছু পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়েছে। পরিচয় গোপন করে কৌশলে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার সাথে আলাপ করে জানা যায়, সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত লম্বা টানা সময় ডিউটি করতে গিয়ে তাদের অনেকটা মানসিক চাপের পাশাপাশি শারিরীকভাবেও দূর্বল হয়ে পরতে হয়। এছাড়া টানা ১২ ঘন্টা ডিউটি এবং আসা-যাওয়ায় আরো দুই ঘন্টা যোগ করলে, একজন পুলিশের ডিউটি গড়ে ১৪-১৬ ঘন্টা পর্যন্ত বর্তায়। পুলিশের এক সহকারি উপ পুলিশ পরিদর্শক নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে বলেন, ১২-১৪ ঘন্টা ডিউটিতো আছেই বাৎসরিক কোনো ছুটি পুলিশ বাহিনীতে নেই। অথচ বিডিআর, সেনা, নৌবাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীতে বাৎসরিক তিন মাস ছুটি থাকে। এতকিছুর পরও আমাদের সেবা দেয়ার কাজটি চালিয়ে যেতে হয়। থানাগুলোতে সেবার মান বৃদ্ধি পেলেও বৃদ্ধি পায়নি থানায় পুলিশ থাকার ব্রাকগুলোর মান। এখনো বিভিন্ন থানার ব্রাকগুলোতে পুলিশকে থাকতে হচ্ছে গাদাগাদি করে। পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, লম্বা টানা ডিউটি এবং ব্রাকে পুলিশ সদস্যদের গাদাগাদি করে থাকাসহ বিভিন্ন কারণে পুলিশ অসুস্থ হয়ে পড়লে, তাদের প্রথমে পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কোনো জটিল সমস্যা দেখা দিলে সেই অসুস্থ পুলিশকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চমেকে প্রেরণ করা হয়। পুলিশের নিজস্ব কোনো মেডিকেল কলেজ না থাকাতে এই বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। পুলিশের এসব অভ্যন্তরিন সমস্যা থাকার পরও নতুন সিএমপি কমিশনার যোগদানের পর থেকে সিএমপির প্রতিটি থানার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ব্যাপক তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। থানাগুলোর আশপাশে সোর্স-দালালচক্রের শোরগোল অনেকটা কমে গেছে। এতে করে থানায় আগত বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আসা সেবা প্রার্থীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মেয়ে নিখোঁজ হওয়ায় বিষয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় সাধারণ ডায়েরী করতে আসা রৌফাবাদ এলাকার ষাটর্ধো এক ব্যক্তি বলেন, জীবনের এই প্রথম থানায় আসলাম। পুলিশের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ শুনেছি, কিন্তু থানায় এসে তা মনে হয়নি। থানার আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ে জানতে চাইলে, বায়েজিদ বোস্তামী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রিটন সরকার বলেন, আমার থানায় সেবা প্রার্থী যে কেউ সরাসরি আমার কাছে আসতে পারে। আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ তথা অপরাধ দমন এবং অপরাধি গ্রেপ্তারে আমি সর্বদা প্রস্তুত। প্রসঙ্গত : বায়েজিদ বোস্তামী থানায় ওসি প্রিটন সরকার যোগদানের পরথেকে থানার আইন-শৃঙ্খলার ব্যাপক উন্নতির পাশাপাশি বেশকিছু অপরাধি গ্রেপ্তার, অস্ত্র-মাদক উদ্ধার ও বিশেষ করে চলতি বছরের জুন মাসে বায়েজিদ বোস্তামী থানাসহ বিভিন্ন থানার ৯টি সিরিয়াল শিশু ধর্ষণ মামলার আসামীকে সনাক্ত ও মামলার তথ্য উদঘাটন করেছেন। এ কারণে তিনি তৎকালিন সিএমপি কমিশনারের পক্ষ থেকে পূরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। সবমিলিয়ে নতুন সিএমপি কমিশনারের যোগদানে চট্টগ্রাম পুলিশ বাহিনীতে পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। এতে করে জনমনে অনেকটা স্বস্থি ফিরে এসেছে। পুলিশের এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক উন্নতি হবে এমনটা মনে করছেন অভিজ্ঞ ও সচেতন মহল।
২২ বছরে ৩০ বার জেলে যান ইকবাল
২১,অক্টোবর,বুধবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মো. ইকবাল হোসেন প্রকাশ ডাইল ইকবাল। পুলিশের তালিকায় তিনি একজন মাদকের গডফাদার। তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মামলাও। গত ২২ বছরে ৩০ বার গ্রেফতার হয়ে জেলে গেছেন ইকবাল। মাদকসহ নানা ঘটনায় গ্রেফতার হয়ে কারাগারে গেলেও জামিনে বের হয়ে ফের একই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন তিনি। মাদকের এ গডফাদার পুলিশি গ্রেফতার এড়াতে তার বাড়িতে লাগিয়েছেন সিসিটিভি ক্যামেরা। ভবনের তৃতীয় জানালা কেটে তৈরি করেছেন পালানোর বিশেষ পথ। কিন্তু এতো কিছুর পরেও পুলিশের কাছে ধরা পড়েছেন ইয়াবাসহ। কোতোয়ালী থানা পুলিশ মো. ইকবাল প্রকাশ ডাইল ইকবালকে এসি দত্ত লেইন থেকে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ৫০ পিস ইয়াবা। বুধবার (২১ অক্টোবর) ইকবালকে গ্রেফতারের বিষয়টি কোতোয়ালী থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। গ্রেফতার ডাইল ইকবাল কোতোয়ালী থানাধীন এসি দত্ত লেইনের শফি সওদাগরের ছেলে। তার বিরুদ্ধে দুই ডজনের অধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, এসি দত্ত লেইন এলাকা থেকে ৫০ পিস ইয়াবাসহ মো. ইকবাল প্রকাশ ডাইল ইকবালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইকবাল কোতোয়ালী এলাকার মাদকের গডফাদার। তাকে আমরা খুঁজছিলাম। ওসি মহসীন বলেন, ডাইল ইকবাল গত ২২ বছরে ৩০ বার গ্রেফতার হয়ে কারাগারে গেছেন। তার বিরুদ্ধে দুই ডজনের অধিক মামলা রয়েছে। ইকবাল গ্রেফতার এড়াতে তার বাড়িতে লাগিয়েছেন সিসিটিভি ক্যামেরা। ভবনের তৃতীয় জানালা কেটে তৈরি করেছেন পালানোর বিশেষ পথ।
রিকশা চালকের ছদ্মবেশে সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
২০,অক্টোবর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: রিকশা চালক ও যাত্রী বেশে তাকে কাটগড় থেকে মাদকের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে টিম কোতোয়ালী। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯ টার দিকে পতেঙ্গা থানার কাটগড় এলাকা থেকে সাজাপ্রাপ্ত আসামি আবু বক্কর সিদ্দিক মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে এএসআই সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের এই টিম। এই টিমে ছিলেন রমেশ বড়ুয়া ও নুরুন নবী নামের আরও দুই এএসআই। মঙ্গলবার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর কথাও জানান কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন। ওসি মোহাম্মদ মহসীন জানান, ছদ্মবেশ নেয়ার কারণ হলো তিন বছর আগে থেকে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা। ২০১১ সালে বাকলিয়া থানার একটি মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হন কোতোয়ালী থানার ঘাটফরহাদবেগ এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিক মামুন। ২০১৭ সালে বিচারে তার ৫ বছরের সাজা হয়। কিন্তু সে নিজ বাড়িতেও নেই, অনেক দিন ধরে লাপাত্তা। আমরাও পিছু ছাড়িনি তার। নতুন করে খবর পেয়ে একটি টিম রেডি করি। তিনি বলেন, এএসআই সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের টিমকে ছদ্মবেশে কৌশলে তাকে গ্রেপ্তার করতে বললাম। গত তিন দিন আগে থেকে সম্ভাব্য সব স্থানে অভিযান চালিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। অবশেষে কৌশল পরিবর্তন করে। পরে খবর পেয়ে পতেঙ্গার কাটগড় এলাকায় সে যেখানে বাসা নিয়েছে আমরা তিনজন রিকশা চালক আর যাত্রীর বেশে সোমবার দুপুর থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান নেওয়ার পরে রিকশার পাশ দিয়েই হেটে বাসায় যাওয়ার সময় ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি আবু বক্করকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট নিরসনে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান চট্টগ্রাম চেম্বারের
২০,অক্টোবর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শতবর্ষী বাণিজ্য সংগঠন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুবুল আলম নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট প্রত্যাহারে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এ আহ্বান জানান। চেম্বার সভাপতি বলেন, সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে নৌযান শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করছে। চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে শিল্পের কাঁচামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে। লাইটারেজ জাহাজ চলাচল না করায় সারাদেশে এসব কাঁচামাল ও পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বন্দরে জাহাজজট নতুনভাবে সংকট তৈরি করছে। জাহাজের টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম বৃদ্ধি এবং ডেমারেজ চার্জসহ পণ্য আমদানি-রফতানি ব্যয় বাড়বে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং সাধারণ ভোক্তাদের অতিরিক্ত মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী কিনতে হবে। বিশ্ব মহামারী করোনা ভাইরাসের এ সময়ে আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত সাধারণ মানুষ আরো চাপের মুখে পড়বে। অর্থনীতির গতিধারা পুনরুদ্ধারে কার্যক্রম পরিচালনাকারী ব্যবসায়ীরা নতুন করে অস্তিত্বের সংকটে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেবে বলে মনে করেন চেম্বার সভাপতি। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এ ধরনের ধর্মঘট অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি ক্ষতিকর। এতে করে শিল্পোৎপাদন ব্যাহত হবে এবং সারা দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। ফলে বাজার অস্থিতিশীল হবে এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বেড়ে যাবে যা সামষ্টিক ও ব্যাষ্টিক উভয় পরিসরে অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। করোনা মহামারীর আগ্রাসন থেকে ধীরে ধীরে অর্থনীতির চাকা পুনরুদ্ধারে চলমান আমদানি-রফতানি বাণিজ্য নির্বিঘ্ন রাখা, বন্দরে জাহাজজট নিয়ন্ত্রণ রাখা, শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ অব্যাহত রাখা এবং আমদানি করা ভোগ্যপণ্য চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সারাদেশে পরিবহন স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে ব্যবসায়ী সমাজের পক্ষ থেকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম।
নদীতে ভাসছে অচল পণ্যবাহী জাহাজ
২০,অক্টোবর,মঙ্গলবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বেতন-ভাতার সুযোগ-সুবিধাসহ ১১ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে অনির্দিষ্টকালের জন্য নৌযান ধর্মঘট চলছে। ফলে শত শত অচল পণ্যবাহী জাহাজ ভাসছে কর্ণফুলী নদীতে। বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকা এ ধর্মঘটে আজ মঙ্গলবার সকাল ৭টার পর থেকে কোনো লাইটারেজ জাহাজ বহির্নোঙরে যায়নি। এমনকি আগে থেকে পণ্য খালাসে থাকা জাহাজগুলোও খালাস শেষ না করে ঘাটে ফিরে এসেছে। চট্টগ্রাম জেলা নৌশ্রমিক অধিকার সংরক্ষণ ঐক্য পরিষদের সহ-সভাপতি মো. নবী আলম বলেন, গত ১৩ অক্টোবর রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম অধিদফতরের সামনে নৌশ্রমিক অধিকার সংরক্ষণ ঐক্য পরিষদের মানববন্ধন থেকে এই ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়। এর আগে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করেছে নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন। আমরা করোনার কারণে আমাদের দাবি নিয়ে কথা বলিনি। কিন্তু মালিকপক্ষ আমাদের শুষে নিচ্ছে। এভাবে হলে তো আমরা বাঁচবো না। নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন দাবি-দাওয়া বাস্তবায়নের জন্য ২০১৫ সাল থেকে আন্দোলন করে আসছেন তারা। এগুলোর কয়েকটি দাবি পূরণ হলেও অমীমাংসিত ১১ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে ২০১৮ সালে শ্রম অধিদফতরে আবেদন করেন ফেডারেশন নেতারা। যার অনুলিপি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, নৌযান মালিকদের বিভিন্ন সংগঠনসহ সংশ্নিষ্ট সব দপ্তরে দেয়া হয়। বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মো. শাহ আলম ভূঁইয়া জানান, ২০১৮ সালে প্রথমে ১১ দফা দাবি তোলা হয়। এরপর নৌযান শ্রমিকেরা গতবছর তিনবার এই দাবিতে কর্মবিরতি পালন করে। প্রতিবারই সরকার ও মালিকপক্ষ প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভঙ্গ করে। শ্রমিকরা বারবার আন্দোলন করলেও তাদের ভাগ্যে প্রতিশ্রুতি ছাড়া কিছুই জোটেনি।

নিউজ চট্টগ্রাম পাতার আরো খবর