মঙ্গলবার, মে ১৮, ২০২১
লকডাউন কার্যকর করতে গিয়ে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়েছে- কাউন্সিলর মঞ্জুর
০৮,জুলাই,বুধবার,রাজিব দাশ,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: সংক্রমিতের হার কমে আসায় নগরীর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ড এখন ইয়েলো জোন ক্যাটাগরিতে চলে এসেছে।এর আগে রেড জোন ঘোষণা করে ওয়ার্ডটিতে লকডাউন কার্যকর করা হয়।গত ১৩ জুন পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও ঢাকা শহরে প্রতি লাখ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সর্বশেষ ১৪ দিনে ৬০ জন সংক্রমিত হওয়া এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করেছে করোনা প্রতিরোধে সেন্ট্রাল কমিটি। ওই দিন পর্যন্ত সর্বশেষ ১৪ দিনে উত্তর কাট্টলীতে করোনা সংক্রমিত ছিলেন ১০১ জন, যা প্রতি লাখ জনসংখ্যার হিসাবে ১৪৫ দশমিক ৫ শতাংশ। ওয়ার্ডটির মোট জনসংখ্যা ৮০ হাজার ২৯০ জন। লকডাউন কার্যকরের আগে উত্তর কাট্টলীতে সংক্রমিতদের মধ্যে ৯৮ জন সুস্থ হয়েছেন এবং তিনজন মারা গেছেন।গত ১৬ জুন সিভিল সার্জন প্রজ্ঞাপন জারি করে উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডকে রেড জোন ঘোষণা করে। ওইদিন রাত ১২টায় অর্থাৎ ১৭ জুন থেকে কার্যকর করা হয় লকডাউন। সিটি কর্পোরেশন লকডাউনের সার্বিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। কাউন্সিলর নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্ র উদ্যোগে বন্ধ করা হয় ওয়ার্ডের ১৪টি প্রবেশ পথ। এছাড়া খোলা হয় কন্ট্রোল রুম, যেখানে ফোন করলে স্থানীয়দের প্রত্যাশিত সেবা দেওয়া, ওই এলাকায় ছয় হাজার পরিবারে বিতরণ করা হয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার। কাউন্সিলর নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্ ব্যক্তিগত তহবিল থেকে প্রতিদিন দুই হাজার পরিবারে রান্না করা খাবার বিতরণ, দৈনিক ৪ মণ মাছও বিতরণ করেন তিনি। সেখনে দায়িত্ব পালন করেন ২৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক। এর মধ্যে ১৭ জন ছিলেন প্রশিক্ষিত। তারা করোনা শনাক্তদের সংস্পর্শে আসা ৩৮ জনকে চিহ্নিত করে আইসোলেশনে পাঠান। গত ১৭ জুন থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত ২০ দিনে ২৪৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এতে ২১ জন পজিটিভ হয়েছে, যা প্রতি লাখ জনগোষ্ঠীর বিপরীতে ৩০ দশমিক ২৫ শতাংশ। এর আগে ৩১ মে থেকে ১৩ জুন পর্যন্ত চৌদ্দ দিনে ১০১ জন করোনা পজেটিভ শনাক্ত করা হয় ওয়ার্ডটিতে, যা প্রতি লাখ জনগোষ্ঠীর বিপরীতে ১৪৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এই তথ্য চট্টগ্রাম সিভিল সার্জনের। এ পরিসংখ্যান প্রমাণ করে, সংক্রমণের হার কমেছে উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডে।২০২০ সালের ইপিআই মাইক্রোপ্ল্যান হিসাবে উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডের জনসংখ্যা ৬৯ হাজার ৬২১ জন। এদিকে দৃশ্যত লকডাউনের সুফল হিসেবে উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডের সংক্রমিতের হার কমে এলেও এর পেছনে কারণ কাউন্সিলর নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্রর তৎপরতা । কাউন্সিলর নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্রর তৎপরতায় মূলত লকডাউনের প্রকৃত সুফল পাওয়া গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।লকডাউন শুরুর দিন থেকে ওয়ার্ডটিতে প্রবেশের পথ বন্ধ ,এরপর টানা ১৭ জুন থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত কঠোর নজরদারির মাধ্যমে ওয়ার্ডে কাউকে প্রবেশ এবং বের হতে দেয়া হয়নি, বন্ধ রাখা হয় দোকানপাট, ওয়ার্ডটিতে বিদ্যমান ছয়টি গার্মেন্টসও বন্ধ রাখা হয়। মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন বলেন, লকডাউনের উদ্দেশ্য সংক্রমণের বিস্তার রোধ করা ও কমিয়ে আনা। কাট্টলিতে সংক্রমণের হার কমেছে। পরিসংখ্যানগতভাবেও সেটা প্রমাণিত। জনস্বার্থ বিবেচনায় লকডাউন জবরদস্তি নয়, এটি সেবামূলক দায়বদ্ধতা। সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জুর সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানে লকডাউন চলাকালে সংশ্লিষ্ট সকলেই সাধারণ মানুষের মন জয় করে নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছেন।এলাকাটি আবাসিক এবং এখানে গার্মেন্টসসহ ছোট-বড় শিল্প-কারখানা রয়েছে। তাই প্রথমদিকে লকডাউন কার্যকর করতে গিয়ে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। তবে দুই-একদিন পর থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ ও আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবকরা এলাকাবাসীর চাহিদার সাথে সম্পৃক্ত হয়ে সেবা দিতে সচেষ্ট হওয়ার পর একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। যারা নিম্ন আয়ের তাদের কাছে আমরা খাবার বিতরণ করেছি। আমাদের কাউন্সিলর মঞ্জু রান্না করা খাবার বিতরণ করেছেন, তাজা মাছও বিতরণ. ছয় হাজার পরিবারকে পাঁচ কেজি করে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তার চাল দিয়েছি। সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, অবশ্যই সুফল পেয়েছি। লকডাউন কার্যকরের আগে সেখানে ১০১ জন সংক্রমিত ছিল। এরমধ্যে তিনজন মারা গেছেন। বাকিরা সুস্থ হয়েছেন। কাউন্সিলর নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু বলেন, লকডাউন সফল হয়েছে। চট্টগ্রামের মধ্যে আক্রান্তের হার কম এমন ছয়টি ওয়ার্ডের মধ্যে অবস্থান করছে উত্তর কাট্টলী। অথচ লকডাউনের আগে সর্বোচ্চ আক্রান্তের তালিকায় দ্বিতীয় ছিল। এখন আমরা ইয়েলো জোনে চলে এসেছি।তিনি বলেন, একজন সুস্থ মানুষকে ঘরের মধ্যে আবদ্ধ করে রাখা খুবই কঠিন। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা, সিটি মেয়রের নির্দেশনা, এলাকাবাসীর সহযোগিতা ও নিজের মনোবল দিয়ে চেষ্টা করেছি। মানুষকে বুঝিয়েছি। এসময় নিম্ন আয়েরর লোকজনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সহায়তার পাশাপাশি দৈনিক দুই হাজার জনকে রান্না করা খাবার বিতরণ করেছি। ১০৫টি ভ্যান গাড়ি দিয়ে তরি-তরকারি, শাক-সবজি, মাছ-মাংসের হোম ডেলিভারি সার্ভিস দিয়েছি। যাদের প্রয়োজন হয়েছে বিনামূল্যে অঙিজেন সরবরাহ করেছি। সিটি কর্পোরেশনের একটি এবং আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগে আরো অ্যাম্বুলেন্স দিয়েও সার্বক্ষণিক সেবা দিয়েছি।কাউন্সিলর নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু বলেন, সংক্রমণ কমে আসছে-এটা অবশ্যই সুফল। যে উদ্দেশ্যে লকডাউন করা সেটার প্রতিফলন হয়েছে। এটা আমাদের ধরে রাখতে হবে। তবে লকডাউন কার্যকর করতে গিয়ে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়েছে। সব মিলিয়ে কষ্ট হলেও আমরা সফল হয়েছি বলা যায়।তিনি বলেন, এ ওয়ার্ডে আছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন এবং বেশ কয়েকটি গার্মেন্টস। অবশ্য তাদের বুঝিয়ে বন্ধ রাখতে পেরেছি। দোকানপাট সবকিছু বন্ধ ছিল। মানুষকে বুঝিয়েছি ঘরে থাকার জন্য। তারা সহযোগিতা করেছেন। তিনি জানান, ১০৫টি ভ্যানগাড়ি দিয়ে স্থানীয়দের নিত্যপণ্য হোম ডেলিভারি দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। যাদের প্রয়োজন হয়েছে বিনামূল্যে অঙিজেন সরবরাহ করেছি। সিটি কর্পোরেশনের দুটি এবং আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়েও সার্বক্ষণিক সেবা দিয়েছি।এদিকে লকডাউনের শেষ দিন গতকাল সকালে উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডের সিটি গেট সংলগ্ন একটি কমিউনিটি সেন্টারে খতমে কোরান ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে চসিক। এতে অতিথি ছিলেন মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন। উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর নিছার উদ্দিন আহমদ মঞ্জু, কাউন্সিলর আবিদা আজাদ, মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আলী হাসান, সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আরিফ, পাহাড়তলী থানার ওসি(তদন্ত) রাশেদুল হক, আকবরশাহ থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি সোলতান আহমদ চৌধুরী, আবু সুফিয়ান, ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী, সহ সভাপতি লোকমান আলী, সহ সম্পাদক রোকন উদ্দিন চৌধুরী, যুবলীগের আবুল কালাম আবু, মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ ও ১০ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন মসজিদের ইমামগণ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, ১৩ জুন করোনা প্রতিরোধে গঠিত কেন্দ্রীয় টেকনিক্যাল কমিটির দ্বিতীয় সভায় উত্তর কাট্টলীসহ চসিকের ১০টি ওয়ার্ডকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। উত্তর কাট্টলী ছাড়া অন্য ওয়ার্ডগুলো হচ্ছে ১৪ নং লালখান বাজার, ১৬ নং চকবাজার, ২০ নং দেওয়ান বাজার, ২১ নং জামালখান, ২২ নং এনায়েত বাজার, ২৬ নং উত্তর হালিশহর, ৩৭ নং উত্তর মধ্যম হালিশহর, ৩৮ নং দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর ও ৩৯ নং দক্ষিণ হালিশহর। ১০টি ওয়ার্ডের তালিকা চট্টগ্রাম শহরে করোনা প্রতিরোধে গঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে প্রেরণ করে লকডাউন কার্যকর করতে বলা হয়। এর প্রেক্ষিতে ১৪ জুন টাইগারপাসে চসিকের অস্থায়ী কার্যালয়ে বৈঠকে বসে ব্যবস্থাপনা কমিটি। লকডাউন কার্যকরের সিদ্ধান্ত দেন কমিটির সভাপতি সিটি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন।
ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সক্রিয় জালনোট প্রতারক চক্র
০৮,জুলাই,বুধবার,রাজিব দাশ,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুরহাটকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়েছে জালনোট প্রতারক চক্র। বাজারে জালনোট ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে একাধিক চক্র। পশুরহাটের বেপারীরা এ চক্রের প্রধান টার্গেট। জালনোট প্রতারক চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতারের পর এমন তথ্য জানতে পেরেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) নগর গোয়েন্দা পুলিশের বন্দর বিভাগ ডবলমুরিং থানাধীন চৌমুহনী এলাকা থেকে ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকার জালনোটসহ প্রতারক চক্রের সদস্য মো. শাহ আলমকে (৬৫) গ্রেফতার করে। এসব জালনোটের পরিমাণ মোট ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। গ্রেফতার মো. শাহ আলম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা মন্দবাগ এলাকার আলফু মিয়ার ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানাধীন চৌমুহনী সুলতান কলোনিতে থাকেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (বন্দর) মোহাম্মদ আবুবকর সিদ্দিক নিউজ একাত্তরকে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চৌমুহনী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকার জালনোটসহ শাহ আলম নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শাহ আলম গত দুই বছর ধরে জালনোট বাজারে ছেড়ে প্রতারণা করে আসছিলেন বলে স্বীকার করেছেন। মোহাম্মদ আবুবকর সিদ্দিক বলেন, ঈদুল আজহার কোরবানির পশুরহাটকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়েছে জালনোট প্রতারক চক্রটি। তাদের টার্গেট মূলত পশুরহাটের বেপারীরা। বাজারে জালনোট ছড়িয়ে দিতে একাধিক চক্র কাজ করছে বলে তথ্য পেয়েছি। তাদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, পশুরহাটের বেপারী ও অন্যান্য ব্যবসায়ীদের লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। নোট দেখে লেনদেন করতে হবে। সন্দেহজনক কিছু দেখলে পুলিশকে জানাতে অনুরোধ করে অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (বন্দর) মোহাম্মদ আবুবকর সিদ্দিক।
২০ হাজার ইয়াবাসহ Rab-7 এর হাতে আটক ১
০৭জুলাই,মঙ্গলবার,রাজিব দাশ,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: নগরের বাকলিয়া থানাধীন শাহ আমানত সেতু সংলগ্ন রাজবাড়ি কমিউনিটি সেন্টারের সামনে অভিযান চালিয়ে মো. নুরুল আফসার (২৭) নামে এক ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আটক করেছে Rapid Action Battalion (Rab)। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোরে তাকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে মোট ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিউজ একাত্তরকে জানান Rab-7 এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. মাহমুদুল হাসান মামুন। ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ট্রাকও জব্দ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। আটক মো. নুরুল আফসার কক্সবাজার জেলার চকরিয়া ফাসিয়াখালী নতুন পাহাড় এলাকার মো. বাহাদুর আলমের ছেলে। Rab-7 এর সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাশকুর রহমান নিউজ একাত্তরকে বলেন, চকরিয়া থেকে ট্রাকে ইয়াবা নিয়ে চট্টগ্রাম শহরে আসছিল নুরুল আফসার। চট্টগ্রামে এসব ইয়াবা আরেকজনের কাছে বিক্রির কথা ছিল তার।
চট্টগ্রামে আরও ২৯৭ জন করোনা আক্রান্ত, ৩ জনের মৃত্যু
০৭জুলাই,মঙ্গলবার,রাজিব দাশ,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে নতুন করে ২৯৭ জনের শরীরের করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যুবরণ করেছেন ৩ জন। এ নিয়ে চট্টগ্রামে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১০ হাজার ৪৭৭ জন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ৬টি ল্যাবে মোট ১ হাজার ৩৬০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এরমধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ল্যাবে ২০১টি নমুনা পরীক্ষা করে ৫১ জন করোনা পজেটিভ রোগী শনাক্ত হয়। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসে (বিআইটিআইডি) ১৭৬টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে শনাক্ত হয় আরও ১৫ জন। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) ল্যাবে ৫১৫টি নমুনা পরীক্ষা করে ১১১জন করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিভাসু) ২০৫টি নমুনা পরীক্ষা করে ৪৪ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস পাওয়া যায়। এছাড়া বেসরকারি ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল ১৫৯টি নমুনা পরীক্ষা করে ৪২ জন এবং শেভরণ ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরিতে ১০৪টি নমুনা পরীক্ষা করে ৩৪ জন শনাক্ত হয়। এইদিন কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ল্যাবে চট্টগ্রামের কোনও নমুনা পরীক্ষা করা হয়নি। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৩৬০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নতুন আক্রান্ত হয়েছে ২৯৭ জন। এদের মধ্যে নগরে ২২৯ জন এবং উপজেলায় ৬৮জন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৩ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৪৯ জন।
শেরে মিল্লাত মুফতি ওবাইদুল হক নঈমীর বিদায়
০৬জুলাই,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত বাংলাদেশের চেয়ারম্যান, প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ আল্লামা মুফতি ওবাইদুল হক নঈমী ইন্তেকাল করেছেন( ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজেউন)। তিনি এশিয়ার প্রখ্যাত দ্বীনি প্রতিষ্ঠান জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসার প্রধান মুহাদ্দিস ছিলেন। তিনি জামেয়া ও আঞ্জুমানের প্রতিষ্ঠাতা শাহসুফি মাওলানা সৈয়দ আহমদ সিরিকোটি (রঃ), আল্লামা গাজী আজিজুল হক শেরে বাংলা (রঃ), পীরে কামেল আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তৈয়ব শাহ (রঃ), আল্লামা সৈয়দ মুহাম্মদ তাহের শাহ (মা.), ইমামে আহলে সুন্নাত কাযী নুরুল ইসলাম হাশেমি (রঃ) প্রমুখ অলিয়ে কামেলের সান্নিধ্য লাভ করেন। তাঁর ছাত্ররা এখন দেশ-বিদেশে তরিকার খেদমত করে যাচ্ছেন। একজন সফল মানুষ ছিলেন তিনি। এর বড় প্রমাণ তিনি একটি অসাধারণ ঈমানি প্রজন্ম রেখে যেতে পেরেছেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায়। তিনি বাংলাদেশে কাদেরিয়া তরিকার অন্যতম প্রধান সেবকদের একজন। স্পষ্টবাদী এ নবী (দ.) প্রেমিক অগণিত শিক্ষার্থী ও ভক্তকুল রেখে যান। তাঁকে উস্তাজুল উলামা বা শিক্ষকদের শিক্ষক বলা হয়। তিনি ভ্রান্ত মতবাদের মূলোৎপাটনে সারাজীবন কাজ করে গেছেন। তিনি লিখতে যেমন পারতেন, তেমনি বক্তা হিসেবেও ছিলেন অসাধারণ। তিনি বাতেলের আতঙ্ক ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন বরেণ্য আলেমকে হারাল আর সুন্নি জনতা হারাল তাদের প্রিয় অভিভাবককে। এ মহান আলেমের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমরা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে প্রার্থনা তিনি যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউসে অধিষ্ঠিত করেন। আল্লামা মুফতি ওবাইদুল হক নঈমীর ইন্তেকালে নিউজ একাত্তরের পক্ষ থেকে গভীর শোক এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়াকে চসিকের বিদায় সংবর্ধনা
০৬জুলাই,সোমবার,নিজস্ব প্রতিবেদক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দুই বছর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন শেষে বিদায় নিয়েছেন আফিয়া আখতার। চট্টগ্রামে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক পদে তার যোগদানের কথা রয়েছে। রবিবার সকালে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় দিয়েছে চসিক। নগর ভবনের চসিক মেয়র দপ্তরে অনুষ্ঠিত বিদায় সংবর্ধনায় প্রধান অতিথি ছিলেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।মেয়র বলেন, আফিয়া আখতার চসিকে আন্তরিকতা ও সফলতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি যেখানে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং করবেন সেই ধারাবাহিতকতাকে অব্যাহত রাখার জন্য আহ্বান জানান মেয়র। তিনি বলেন, আফিয়া আখতার চট্টগ্রাম নগরে অনেক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ গুরুত্বপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করেছেন। তার এই কার্যক্রম চট্টগ্রামবাসী স্মরণীয় করে রাখবেন। মেয়র তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন। বিদায় অনুষ্ঠানে চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সামসুদ্দোহা, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল সোহেল আহমদ, স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট জাহানারা ফেরদৌস, মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম উপস্থিত ছিলেন। বিদায়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ফুল ও চসিকের মনোগ্রাম খচিত ক্রেস্ট দিয়ে অভিনন্দন জানান সিটি মেয়র।
ইয়াবা বিক্রি করতে এসে Rab-7 এর হাতে আটক
০৫জুলাই,রবিবার,রাজিব দাশ,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইয়াবা বিক্রি করতে এসে Rapid Action Battalion (Rab) এর হাতে আটক হয়েছেন মোহাম্মদ সোহেল (১৯) নামে এক যুবক। রোববার (৫ জুলাই) হাটহাজারী থানাধীন বড়দীঘির পাড় এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক মোহাম্মদ সোহেল চন্দনাইশ থানাধীন সাতবাড়িয়া এলাকার মোহাম্মদ সোলেমানের ছেলে। তার কাছ থেকে ২ হাজার ১১৩ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। আটক মোহাম্মদ সোহেল একজন খুচরা ইয়াবা বিক্রেতা বলে জানিয়েছে Rab। Rab-7 এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. মাহমুদুল হাসান মামুন বলেন, বড়দীঘির পাড় এলাকায় রRab এর গাড়ি দেখে পালানোর চেষ্টাকালে মোহাম্মদ সোহেল নামে এক যুবককে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ২ হাজার ১১৩ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। Rab-7 এর চান্দগাঁও ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর শামীম সরকার নিউজ একাত্তরকে বলেন, সোহেল একজন খুচরা ইয়াবা বিক্রেতা। হাটহাজারী, ফটিকছড়ি এলাকায় সে এসব ইয়াবা বিক্রি করে। বড়দীঘির পাড় এলাকায় ইয়াবা বিক্রি করতে এসেছিল। Rabর গাড়ি দেখে পালানোর চেষ্টাকালে তাকে আটক করা হয়। মোহাম্মদ সোহেল দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসা করে আসছিলেন। তাকে হাটহাজারী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান Rab কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান মামুন।
করোনা: চট্টগ্রামে নতুন আক্রান্ত ২২০
০৫জুলাই,রবিবার,রাজিব দাশ,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ২২০ জনের। মৃত্যুবরণ করেছেন দুই জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৯ জন। এ নিয়ে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৯ হাজার ৮৮৮জন। এদের মধ্যে নগরে ১৬২ জন এবং উপজেলায় ৫৮ জন। রোববার (৫ জুলাই) সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ৫টি ল্যাব ও কক্সবাজার ল্যাবে মোট ১ হাজার ৫০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এরমধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ল্যাবে ৫১টি নমুনা পরীক্ষা করে ১০ জন করোনা পজেটিভ রোগী শনাক্ত হয়। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসে (বিআইটিআইডি) ১৪১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে শনাক্ত হয় আরও ১৪ জন। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) ল্যাবে ৪৪৮টি নমুনা পরীক্ষা করে ৯৩ জন করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিভাসু) ২০৩টি নমুনা পরীক্ষা করে ২০ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস পাওয়া যায়। এছাড়া এইদিন বেসরকারি ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের রিপোর্ট পাওয়া না গেলেও শেভরণ ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরিতে ২০৪টি নমুনা পরীক্ষা করে ৮৩ জন শনাক্ত হয়। অন্যদিকে কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজে চট্টগ্রামের তিনটি মাত্র নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে কারও শরীরে করোনা পজেটিভ পাওয়া যায়নি। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৫০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নতুন আক্রান্ত হয়েছে ২২০ জন।
নকল স্যানিটাইজার বিক্রি, জরিমানা ৮৫ হাজার
০৫জুলাই,রবিবার,শারমিন আকতার,চট্টগ্রাম,নিউজ একাত্তর ডট কম: নকল হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হেক্সিসল এবং অনুমোদনহীন ও সরকারি ওষুধ বিক্রির দায়ে ৫টি ফার্মেসিকে ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (৫ জুলাই) নগরের অক্সিজেন এলাকায় ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের সহায়তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে এই জরিমানা আদায় করেন। এতে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলী হাসান। অভিযানে অংশ নেন ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের তত্বাবধায়ক মো. কামরুল হাসান। অভিযানে ড্রাগ আইন লঙ্ঘনের দায়ে কিউর অ্যান্ড কেয়ার ফার্মেসিকে ৩০ হাজার, বিসমিল্লাহ ফার্মেসিকে ২০ হাজার, হাফসা হানিফ মেডিক্যালকে ১৫ হাজার, আল মাশাফি ফার্মেসিকে ১৫ হাজার এবং ইকবাল ফার্মেসিকে ৫ হাজার টকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ব্যবসা পরিচালনা করায় অক্সিজেন এলাকার ৩ জন খুচরো বিক্রেতাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সর্বশেষ সংবাদ