সুন্দরবনের করমজলে কুমিরের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস- ৪৪ ডিমে ফুটেছে ৪ ছানা
০৬সেপ্টেম্বর,রবিবার,মো.জিল্লুর রহমান,বাগেরহাট প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: সুন্দরবনের একমাত্র বন্যপ্রাণি প্রজননকেন্দ্র করমজলের কুমির পিলপিলের ৪৪টি ডিমে মাত্র ৪টি ছানা ফুটেছে। গতকাল শনিবার সকালে নতুন ইনকিউবেটরে রাখা ১১টি ডিম থেকে মাত্র চারটি বাচ্চা জন্ম নেয়। ৪৪টি ডিম থেকে মাত্র ৪টি কুমির ছানা ফোটায় হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রাণিদের রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োজিত বনকর্মীরা। তবে প্রাণি সম্বদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন বয়স বৃদ্ধি হওয়ার কারণে করমজলের মা কুমির দুটির ফার্টিলিটি (বাচ্চা উৎপাদনের ক্ষমতা) অনেক কমে গেছে। এর আগে এবছরের ১২ জুন দুপুরে প্রজনন কেন্দ্রের পুকুর পাড়ে নিজের বাসায় ৪৪টি ডিম দেয় পিলপিল। ডিমগুলোর মধ্যে ২১টি ডিম পিলপিলের নিজে বাসায়, ১২টি পুরোতন ইনকিউবেটরে এবং ১১টি নতুন ইনকিউবেটরে রেখে বাচ্চা ফোটানোর চেষ্টা করেন বনকর্মীরা। এর মধ্যে নতুন ইনকিউবেটরে রাখা ১১টি ডিমের মধ্যে ৪টি ডিমে বাচ্চা ফুটেছে। এছাড়াও এবছরের ২৯ মে অন্য কুমির জুলিয়েট ৫২টি ডিম দিয়েছিল। সেগুলোর মধ্যে ১৪টি ডিম জুলিয়েটের জুলেয়েটের বাসায়, ২৬টি পুরোতন ইনকিউবেটরে এবং ১২টি নতুন ইনকিউবেটরে রাখা হয়েছিল। কিন্তু জুলেয়েটের ৫২টি ডিমে কোন বাচ্চা ফোটেনি বলে জানিয়েছেন সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির । আজাদ কবির বলেন করমজল দেশের একমাত্র সরকারি কুমির প্রজনন কেন্দ্র। এখান প্রজননের জন্য দুটি মা কুমির রয়েছে। আমরা খুব যত্নের সাথে এই কুমিরের প্রজননের চেষ্টা করি। কুমির ডিম পাড়ার পর থেকে বাচ্চা ফোটানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। কিন্তু জুলেয়েট এবং পিলপিল দুটি কুমিরেরই অনেক বয়স হয়েছে। যার ফলে তাদের ডিমে ফার্টিলিটি হার খুবই কম। তিনি আরও বলেন, এখানে বর্তমানে পুরোনো যে ইনকিউবেটর রয়েছে সেগুলো অনেক সেকেলে। নতুন যে ইনকিউবেটরটি তৈরি করা হয়েছে তার ধারণ ক্ষমতা মাত্র ২৪টি। এ ধরনের আরও দুএকটি ইনকিউবেটর তৈরি করা গেলে সফলতা আসলেও আসতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি। বাগেরহাট জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. লুৎফর রহমান বলেন, কুমির খুবই সেন্সিটিভ প্রাণি। এর ডিম থেকে বাচ্চা ফোটাতে অনেককিছু মানতে হয়। আর মা কুমির পূর্ণ বয়স্ক হওয়ার পর থেকে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে তাদের বাচ্চা উৎপাদন ক্ষমতা কমে যায়। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মাদ বেলায়েত হোসেন বলেন, কুমির গুলোর বয়স হওয়ার কারণে ফারটিলিটি কমে গেছে।আমরা চেষ্টা করছি মা কুমির দুটোকে পরিবর্তণ করে নতুন করে মা কুমির আনার। করমজলই বাংলাদেশের একমাত্র সরকারি কুমির প্রজনন কেন্দ্র। ২০০০ সালে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের শুরু হলে এখানে কুমির প্রথ, ডিম দেয় ২০০৫ সালে। এখন পর্যন্ত করমজলে বিভিন্ন সময় ২৯২টি কুমিরের ছানা জন্ম নিয়েছে। যার মধ্যে ১৯৫টি ছানা এখনও প্রজনন কেন্দ্রে রয়েছে। ৯৭টি কুমিরের ছানা সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালে অবমুক্ত করা হয়েছে।- বণিক বার্তা
ভাসানচর দেখতে গেলেন ৪০ রোহিঙ্গা নেতা
০৫সেপ্টেম্বর,শনিবার,মো.জুনায়েদুল হক,কক্সবাজার প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ থেকে রোহিঙ্গাদের একটি প্রতিনিধিদল শনিবার নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। সেখানে তৈরি করা আবাসন ব্যবস্থা বসবাসের উপযোগী কি না, তা দেখতে যাচ্ছেন তারা। উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয়শিবিরে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাস করে। সেখান থেকে এক লাখ রোহিঙ্গাকে বঙ্গোপসাগর ও মেঘনার মোহনায় জেগে ওঠা ভাসানচরে পাঠানো হবে। এর অংশ হিসেবে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে একটি প্রতিনিধিদলকে সেখানে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টায় ২ নারীসহ ৪০ রোহিঙ্গা নেতা ভাসানচরের উদ্দেশে উখিয়ার কুতুপালং ট্রানজিট শরণার্থী শিবির থেকে রওনা দেয়। এর আগে শুক্রবার রাতে বিভিন্ন শিবিরের রোহিঙ্গা নেতারা সেখানে পৌঁছান। সেখান থেকে তারা মাইক্রোবাসে করে চট্টগ্রামে যান। সেখান থেকে নৌবাহিনীর জাহাজে করে বেলা আড়াইটার দিকে ভাসানচরের দিকে রওনা হওয়ার কথা। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, সরকারের আশা, রোহিঙ্গা নেতারা ঘুরে এসে বোঝালে শরণার্থীরা ভাসানচর যেতে রাজি হবেন। এ দলের সঙ্গে রোহিঙ্গাদের সহায়তাকারী জাতিসংঘের কোনো সংস্থার প্রতিনিধি বা গণমাধ্যমকর্মী থাকছেন না। তবে আগে থেকে ভাসানচরে আরআরআরসি কার্যালয়ের তিন কর্মকর্তা অবস্থান করছেন। টেকনাফের নয়াপাড়া, লেদা, শালবাগান ও জাদিমোরা শিবিরের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোহিঙ্গা নেতারা তিন-চার দিন আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে শরণার্থী শিবিরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌঁছান। সেখান থেকে তারা সেনা প্রহরায় মাইক্রোবাসে করে উখিয়া রওনা দেন। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা কুতুপালং ট্রানজিট শরণার্থী শিবিরে পৌঁছানোর পর শুক্রবার রাতে তাদের সঙ্গে মাহবুব আলম তালুকদার দেখা করেন। তিনি ভাসানচরের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। প্রতিনিধিদলের সদস্যদের করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হয়েছে। জাদিমোরা শিবিরের মাঝি মো. কালাম হোসেন বলেন, শুক্রবার রওনা দেওয়ার আগে তাদের সবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। শনিবার ভোরে ২ নারীসহ ৪০ জনের একটি দল ভাসানচরের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। সব ঠিক থাকলে হয়তো রাতের মধ্যে তারা সেখানে পৌঁছাবেন। শালবাগান রোহিঙ্গা শিবিরের মাঝি জাফর আলম বলেন, ভাসানচর যদি বসবাসের উপযুক্ত হয়, তবে অবশ্যই রোহিঙ্গারা সেখানে যাবেন। আমরা দেখে এলে সবাইকে বোঝাতে পারব। সেই উদ্দেশ্য নিয়ে তাঁদের দলটি সেখানে যাচ্ছে। শরণার্থী শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন-১৬) পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ হেমায়েতুল ইসলাম বলেন, পরিদর্শনের পর রোহিঙ্গা নেতারা ভাসানচরে যাওয়ার পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। গত জুলাইয়ের শেষ দিকে রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদলের তালিকাটি তৈরি করা হয়। সেনাবাহিনীর রামু-১০ পদাতিক ডিভিশনের মুখপাত্র মেজর ওমর ফারুক বলেন, ভাসানচর দেখতে রোহিঙ্গা নেতাদের আগস্টের শুরুতে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে তা সম্ভব হয়নি। শনিবার ভোরে তাদের সড়কপথে চট্রগ্রাম হয়ে জাহাজে করে ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তারা মঙ্গলবার সেখান থেকে ফিরবেন।
নদীভাঙনে দিশেহারা মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলার মানুষ
০৪সেপ্টেম্বর,শুক্রবার,বরিশাল প্রতিনিধি ,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রমত্তা মেঘনা, মাসকাটা, কালাবদর ও তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে বিপর্যস্ত বরিশালের দ্বীপ উপজেলা মেহেন্দীগঞ্জ। সংলগ্ন হিজলা উপজেলায়ও মেঘনা নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত এক মাসের ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে দুই উপজেলার ছয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন, বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, ফসলি জমি। এখনো নদীভাঙনের হুমকিতে রয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। সহায় সম্বল রক্ষায় দ্রুত নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং ডুবোচর কেটে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের মাধ্যমে ভাঙন রোধ করা সম্ভব বলছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য পংকজ নাথ। নদীভাঙনসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গেই বসবাস মেহেন্দীগঞ্জ এবং চরবেষ্টিত হিজলা উপজেলার মানুষের। একাধিকবার নদীগর্ভে বাড়িঘর বিলীন হওয়ার পর এখনো নদীভাঙনের হুমকিতে রয়েছে হাজার হাজার পরিবার। সম্প্রতি উত্তরের বন্যা এবং জোয়ারের পানির প্রভাবে মেহেন্দীগঞ্জের চর এককরিয়া, উত্তরচর, আলীগঞ্জ, রুকুন্দি, স্টিমারঘাট, জাঙ্গালিয়া, চরগোপালপুর, শ্রীপুর, আলীমাবাদ ও দড়িরচর খাজুরিয়া, নলবুনিয়া এবং হিজলার পুরাতন হিজলা, দক্ষিণ বাউশিয়া ও হরিনাথপুর এলাকায় নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসাবে গত এক মাসে দুই উপজেলার ছয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাকা ভবনসহ বাড়িঘর, স্থাপনা, রাস্তাঘাট ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি নদীতে হারিয়ে গেছে। নদীভাঙনে নিঃস্ব হয়ে গেছে অনেক পরিবার। এখনো ভাঙন আতঙ্গে দিন কাটছে এসব এলাকার মানুষের। স্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধ করার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা। গত বুধবার মেহেন্দীগঞ্জের উত্তরচর এলাকায় মেঘনা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে স্থানীয়দের সান্ত্বনা দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য পংকজ নাথ। বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং ডুবোচর কেটে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের মাধ্যমে ভাঙনরোধে স্থানীয়দের আশ্বাস দেন তিনি। বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রাকিব জানান, এবার সারা দেশের মতো মেহেন্দীগঞ্জ-হিজলা উপজেলায়ও ব্যাপক নদীভাঙন হয়েছে। দুই উপজেলায় শুধু গত এক মাসে ছয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। দুই উপজেলার ভাঙনরোধে মন্ত্রণালয়ে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প জমা দেয়া আছে। এ প্রকল্প পাস হলেই ভাঙনরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা মো. রাকিব।
নোয়াখালীর চাটখিল ছাত্রলীগের নেতার সৌদি আরবে মৃত্যু
০৩সেপ্টেম্বর,বৃহস্পতিবার,এনায়েত হোসেন,নোয়াখালী চাটখিল প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: চাটখিল উপজেলার রামনারায়ন ইউনিয়ন ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক ফয়েজ আহমেদ রাফি (২৪) সৌদি আরবে ইন্তেকাল করেছেন। সে উত্তর রামনারায়নপুর গ্রামের জহির উদ্দিন পাটোয়ারী বাড়ির সেলিম পাটোয়ারীর ছেলে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে রামনারায়নপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম টুটুল এ তথ্য নিশ্চিত করে। তিনি আরো জানান, প্রায় ৯ মাস আগে রাফি জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে যায় সে। মঙ্গলবার রাফি প্রচন্ড বুক ব্যথা নিয়ে সেখানকার হাসপাতালে ভর্তি হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। রাফির মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
গ্রামবাসীর জন্য কলেজ ছাত্রদের কাঠের সেতু তৈরি
০২সেপ্টেম্বর,বুধবার,মাকসুদুর রহমান,হিলি প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনায় কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় দিনাজপুরের হিলিতে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত ছাত্ররা। এমন অবস্থায় নিজেরা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে ও গ্রামের মানুষের সহযোগীতায় গ্রামবাসীর জন্য ২৫০ফিট লম্বা একটি কাঁঠের সেতু তৈরি করেছেন ছাত্ররা। সেতু হওয়ায় নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারায় কয়েক গ্রামের মানুষ খুশি। স্থায়ী ব্রীজ নির্মাণের দাবী ছাত্র ও গ্রামবাসীদের। হিলির আলিহাট ইউনিয়নের কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামে তুলশিগঙ্গা নদীর উপরে ছাত্ররা এই কাঠের সেতু নির্মাণ করেন। হিলির আলিহাট ইউনিয়নের শেষ প্রান্তের গ্রাম কাশিয়াডাঙ্গা। পার্শ্বেই রয়েছে একই ইউনিয়নের বাশমুড়ি গ্রাম। দুই গ্রামের মাঝে সংযোগ স্থলে রয়েছে তুলশিগঙ্গা নদী যেখানে দীর্ঘদিনেও ব্রীজ নির্মাণ না হওয়ায় দুটি গ্রামের ৩০ হাজার মানুষজনকে পানি কাদা ভেঙ্গে কিংবা অনেক দুর দিয়ে ঘুরে বিপরীত সড়ক ব্যবহার করে চলাচল করতে হতো। এতে করে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো মানুষকে। কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের প্রবীন ব্যাক্তি আব্দুল করিম বলেন, সেই দাদার আমল থেকে শুনে আসছি এখানে ব্রীজ হবে হবে। ব্রীজ হতে হতে ৭০ থেকে ৮০ থেকে দাদারা বিদায় নিয়ে চলে গেলো। এর পর আমার বাবারা আসলো উনিও বললো ব্রীজ হবে এখানে এই এমপি না হয় ওই এমপি এটা করতে করতে বহুদিন এযাবৎ আসছে আর যাচ্ছে এমন কথা শুনতে শুনতে বাবাও চলে গেলো। এর পর আমরাও শুনে আসছি কিন্তু আজো এখানে ব্রীজ হচ্ছেনা। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী কষ্টভোগ করছি, ব্রিটিশ আমলে কাঠের সেতু দিলেও সেটিও নষ্ট হয়ে যায় যার কারনে বহুত কষ্ট। কখনও চাড়িত করে পার হয়, কখনও কলার গাছের ভোর দিয়েসহ বিভিন্নভাবে পার হয়ে খুব কষ্ট করে চলাচল করি যা আজো করতেই আছি। স্থানীয় এলাকাবাসী সিদ্দিক হোসেন ও রহিমা বিবি বলেন, আগে নদী ভরা ছিলো, কোন নৌকা ছিলনা, মানুষের অনেক অসুবিধা হচ্ছিল, নদী পারাপার হতে পারছিলনা যারকারনে তাদের যাতায়াতে অনেক সমস্যা হচ্ছিল। একইভাবে পার্শ্বের গ্রামে স্কুল মাদ্রাসা থাকায় বন্যা হলে ছেলে মেয়েদের স্কুল মাদ্রাসায় যেতে খুব সমস্যা হতো। ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি কোন লোকজন এখানে আসেনা কোন ব্রীজ হয়না। কেউ অসুস্থ্য হয়ে পড়লে যে তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাবো তাও সম্ভব হচ্ছিলনা। এখন কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের ছেলেরা যারা বিভিন্ন স্থানে পড়ালেখা করতো তারা উদ্যোগ নিয়ে গ্রামের মানুষের সহযোগীতায় সেখানে একটি কাঠের সেতু নির্মান করেছে এতে করে অত্র অঞ্চলের রোগী নিয়ে যাওয়াসহ জনগনের যাতায়াতের অনেক সুবিধা হয়েছে। এছাড়া আগে আমরা খুব বিপদগ্রস্থ অবস্থার মধ্যে ছিলাম, এখনও যে ব্রীজের দুই পার্শ্বে সড়কে কাঁদা রয়েছে চেয়ারম্যান মেম্বার কেউ তা দেখেনা। ব্রীজ নির্মানের উদ্যোক্তা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত নাসির উদ্দিন, নাসির উল্লাহ ও চীনে অধ্যায়নরত আনাছ আহমেদ জানান, করোনা ভাইরাসের কারনে দীর্ঘ ৬মাসের মতো সময় ধরে কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। যার কারনে আমরা যারা এই গ্রামের ছেলেরা বাহিরে পড়ালেখা করতাম সকলেই ছুটি পেয়ে বাড়িতে বসে ছিলাম। আমরা দীর্ঘদিন ধরে শুনে আসছিলাম আমাদের এই গ্রামের তুলশিগঙ্গা নদীর উপরে ব্রীজ নির্মান হবে হচ্ছে কিন্তু তারপরেও হয়না। এমন অবস্থায় আমরা উদ্যোগ নেয় এখানে একটি ব্রীজ নির্মান করতে পারলে আমাদের এলাকাবাসীর অনেক উপকার হবে। আমরা শুরুতেই গ্রামবাসী বিত্তবান থেকে শুরু করে সকলের কাছে গিয়েছি সহযোগীতা চেয়েছি। তারা আমাদের অর্থ দিয়ে বুদ্ধি দিয়ে গাছ দিয়ে সহযোগীতা করেছে। এই ব্রীজটি নির্মান করতে আমাদের ২৫০টির মতো গাছের গুড়ি লেগেছে, এর সাথে কাঠ দিয়ে আমরা দীর্ঘ ৪৫দিন ধরে কাজ করে সেখানে একটি কাঠের ব্রীজ নির্মান করতে সক্ষম হয়। তবে এই ব্রীজটি যেহেতু ক্ষনস্থায়ী তাই উদ্ধর্তন কতৃপক্ষের নিকট দাবী এখানে যেন একটি স্থায়ী ব্রীজ নির্মান করা হয়। হাকিমপুর উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন উর রশীদ হারুন বলেন, হিলির কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামে যে নদী রয়েছে সেখানে দীর্ঘদিন ধরেই ব্রীজ নেই। যার কারনে মানুষজন অনেক কষ্ট করে যাতায়াত করতো। কিন্তুু করোনা ভাইরাসের কারনে স্কুল কলেজ বন্ধ থাকায় ওই এলাকার ছেলেরা নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন মানুষজনের সহযোগীতায় একটি কাঠের সেতু নির্মান করেছেন। এটি আসলেই একটি সুন্দর উদ্যোগ, এমন উদ্যোগকে সাধুবাধ জানাই। উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সেই সকল যুবকদের ও ব্রীজ করতে যারা সহযোগীতা করেছেন তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তবে অতিসত্বর এমপি মহোদয় আমাদের কথা দিয়েছেন ও কার্যক্রম শুরু হয়েছে, আমরা আশা করছি অচিরেই সেখানে একটি স্থায়ী ব্রীজ স্থাপন করা হবে এলজিইডির মাধ্যমে।
নোয়াখালী পৌরসভার দুটি রাস্তার সংস্কার শুরু
০১সেপ্টেম্বর,মঙ্গলবার,মল্লিক উদ্দিন,নোয়াখালী প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: নোয়াখালী পৌরসভার ৩ ও ৪ নাম্বার ওয়ার্ডের ২টি রাস্তা পাকাকরণের কাজ শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে কোদাল ধরে মাটি কেটে এ কাজের উদ্বোধন করেন নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র শহীদ উল্লাহ খান সোহেল। পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের উত্তর ফকিরপুর এলাকার চাইল্ড কেয়ার সড়কটি দীর্ঘদিন থেকে সংস্কারের অভাবে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে এলাকাবাসীর। তাই প্রায় ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে এই সড়কটি পাকাকরণে উদ্যোগ নেয়া হয়। এছাড়াও দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার পর ৩নং ওয়ার্ডের প্রেট্রোল পাম্প থেকে এম এ রশিদ স্কুলের সামনের সড়কের কাজও শুরু হয়। এ সময়ে রাস্তার প্রস্থ ১০ ফিট থেকে ১৬ ফিটে উন্নীত করা হয়। পৌর মেয়র শহীদ উল্লাহ খান সোহেল বলেন, নোয়াখালী পৌরসভার প্রতিটি এলাকার সমানভাবে উন্নয়ন করা হচ্ছে। তাই যেখানেই কোন সমস্যা দেখা দিবে সেখানেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে জনসেবার দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হবে। এ সময় তিনি আরও কিছু উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন এবং সড়কগুলো ভালো মানে কাজ করার জন্য পৌর প্রকৌশলীদের নির্দেশ দেন। এ সময় নোয়াখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুর রহমান মঞ্জু, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক কমিশনার আজাদ চৌধুরী, মহিলা কমিশনার লিলি রহমান, কমিশার আহসান হাবীব হাসান, জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল আলম মঞ্জু, আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন টোকনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
পটিয়ার আলমদার পাড়া শাহ্ জব্বারিয়া ব্লাড ব্যাংকর উদ্বোধন
৩১আগস্ট,সোমবার,পটিয়া প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: পটিয়া উপজেলার ছনহরা ইউনিয়নের আলমদারপাড়া শাহ জব্বারিয়া ব্লাড ব্যাংক গত ৩০ আগস্ট (রবিবার) উদ্বোধন করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে থ্যালাসেমিয়া রোগের প্রতিরোধ এবং তরুণ প্রজন্মকে রক্তদানে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করা হয়। রাশেদ ফারুক আলমদারের সভাপতিত্বে ও শাখাওয়াত হোসেন রিয়াজের পরিচালনায় আলমদারপাড়া বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্স মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন- বায়তুশ শরফ কমপ্লেক্সের সভাপতি কাজী জসীম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট সমাজসেবক মাকসুদ আলমদার, মাওলানা আবদুর রহিম, আবদুল গফুর, ইসমাইল চৌধুরী, রহমত উল্লাহ চৌধুরী, আরিফ উদ্দিন নয়ন, আলমগীর ইসলাম বাবু, হোসেন আলমদার, সাহেদুল ইসলাম মনির, রেজাউল হাসান রেজা, লোকমান হাকিম ফরমান, সায়েম মাহমুদ, কাজী জসীম উদ্দিন, কাজী জনি, কাজী সিরাজ, হাসান চৌধুরী, কাজী রিফাত, কাজী নাঈম, মো. আতাউল্লাহ, ইমন আলমদার, কাজী হেলাল,মো. হৃদয়। চট্টগ্রাম টেরিবাজার ব্লাড ব্যাং পরিবারের সহযোগিতায় ৪০০ লোকের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করা হয়।
নড়াইলে সুলতান চারুকলা মহাবিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন
৩১আগস্ট,সোমবার,মো.উসমান গনি,নড়াইল প্রতিনিধি,নিউজ একাত্তর ডট কম: এস এম সুলতান বেঙ্গল চারুকলা মহাবিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে নড়াইল শহরের মাছিমদিয়ার এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক ও কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আনজুমান আরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান, কলেজ অধ্যক্ষ অনাদী বৈরাগী, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য শেখ হানিফসহ শিক্ষক-কর্মচারীরা। চারতলা ভীত বিশিষ্ট ভবনটি প্রায় ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রথম পর্যায়ে একতলার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে। দীর্ঘ ১০ বছর পর মহাবিদ্যালয়টি এবার এমপিওভুক্ত হয়েছে। বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের নামে ২০০৯ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
ভালুকায় সরকারি রাস্তা কেটে দখলের অভিযোগ
৩০আগস্ট,রবিবার,মামুন সরকার,ভালুকা,নিউজ একাত্তর ডট কম: ময়মনসিংহের ভালুকায় সরকারি হালটের রাস্তা কেটে ধান ক্ষেত রোপণ করে দখলের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম পাড়াগাঁও নামক এলাকায়। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় ২০টি পরিবার। এ ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিগণের কাছে অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা পায়নি ভুক্তভোগীরা। জানা যায়, উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম পাড়াগাঁও নামক এলাকায় মৃত আব্দুস ছাত্তার ওরফে সন্নত আলীর ছেলে সাইদুল ইসলামসহ কয়েকটি পরিবার দীর্ঘ ৬০ বছর ধরে ওই এলাকায় থাকেন। উপজেলা সদর বা বাজারে যাওয়ার তাদের এটাই একমাত্র রাস্তা। গত মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে আব্দুল করিম, তার ছেলে বাদল মিয়া, পল্লী চিকিৎসক মজিবুর রহমান তাদের লোকজন নিয়ে চলাচলের ওই রাস্তাটি কেটে ধান ক্ষেত রোপণ করে দেয়। এ সময় সাইদুল ইসলাম, হেলাল উদ্দিনসহ কয়েকজন রাস্তা কাটতে বাঁধা দিলে বাদল মিয়া তাদের নানা রকম হুমকি প্রদান করেন। ভুক্তভোগী সাইদুল ইসলাম জানান, আমাদের বাড়ির চলাচলের এটাই একমাত্র রাস্তা। এটি বিআরএস রেকর্ডে সরকারি রাস্তা হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এ রাস্তা দিয়ে আমরা ৩ পুরুষ চলাচল করছি। এই সড়ক বাদে চলাচলের আমাদের আর কোনও রাস্তাও নেই। বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়েও কোনো প্রকার সমাধান পাইনি। ভুক্তভোগী হেলাল উদ্দিন নামের এক অটোরিকশা চালক জানান, অটোরিকশা চালিয়ে আমি আমার পরিবারের সকলের জীবিকা নির্বাহ করি। রাস্তাটি কেটে ফেলার পর অটোরিকশা নিয়ে বাড়িতে যেতে পারি না। মানুষের দোকানে চার্জ দিয়ে কোনো মতে অটো চালাচ্ছি। রাস্তাটি বন্ধ হওয়াতে আমি খুব বিপদে পড়ে গেছি। অভিযুক্ত বাদল মিয়া জানান, এটা আমাদের পুরাতন বাড়ির রাস্তা, আমরা এখন ওই বাড়িতে থাকি না। তাই রাস্তা কেটে ফেলেছি। অভিযুক্ত বাদল সাবেক ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। স্থানীয় ইউপি সদস্য বুলবুল ইসলাম জানান, রাস্তাটি দিয়ে বহু বছর যাবৎ মানুষ চলাচল করে। রাস্তা কাটাতে তাদের খুব সমস্যা হচ্ছে। স্থানীয় ভাবে বিষয়টি সমাধান করার চেষ্টা করছি। কিন্তু সমাধান হয়নি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদ কামাল জানান, এ বিষয়ে কোনো অভিযোন পাইনি। অভিযোগ পেলে তদস্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সারা দেশ পাতার আরো খবর