পরিবর্তন আসছে না লীগ ন্যাশনাল টিমস কমিটিতে
০৮,অক্টোবর,বৃহস্পতিবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার এক সপ্তাহ পরই সভায় বসছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নির্বাহী কমিটি। আগামী রোববার নতুন কমিটির প্রথম সভা আহ্বান করেছেন বাফুফে সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিন। বাফুফের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু নাঈম সোহাগ জানিয়েছেন, এ সভায় নির্বাচনের ফলাফল, এজিএম পর্যালোচনা, নির্বাচিতদের পরস্পরের সঙ্গে পরিচিত হওয়া- এসব আছে এজেন্ডায়। প্রথম সভায় বিভিন্ন স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যানও ঠিক করা হতে পারে। তবে খুব একটা পরিবর্তন আসছে না এসব কমিটির শীর্ষ পদে। দীর্ঘদিন ধরে প্রফেশনাল লীগ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী। একমাত্র তিনি সফলভাবে ১২ বছরে ১২টি লীগ আয়োজন করেছেন। এই সফলতাকে পুঁজি করেই লীগ কমিটিতে থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সালাম মুর্শেদী। বাফুফে সভাপতিও তার হাতেই দিতে চাইছেন দেশের সর্বোচ্চ লীগের দায়িত্ব। একই সঙ্গে ফিন্যান্স কমিটির দায়িত্বেও থাকবেন তিনি। ন্যাশনাল টিমস কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সহ-সভাপতি কাজী নাবিল আহমেদ। নাটকীয় কিছু না হলে এই স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। বিদায়ী কমিটির সহ-সভাপতি বাদল রায় প্রথমে ছিলেন ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান। তিনি অসুস্থ হওয়ার পর এ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন স্বয়ং সভাপতি কাজী মো. সালাউদ্দিন। এবার তিনি এ দায়িত্ব পালন করছেন না। প্রথমবারের মতো সহ-সভাপতি নির্বাচিত হওয়া তমা গ্রুপের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মানিকের ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আরেক সহ-সভাপতি ইমরুল হাসানও চান তৃণমূলে কাজ করতে। গত চার বছর মহানগরী লীগ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন বর্ষীয়ান ক্রীড়া সংগঠক হারুনুর রশিদ। সদ্য শেষ হওয়া নির্বাচনে সদস্য পদে বিজয়ী হারুনুর রশিদের হাতে মহানগরী লীগ কমিটি থাকছে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ। স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠনের বিষয়ে বাফুফের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘বিগত কমিটিতে যারা যে দায়িত্ব পালন করেছেন, আমাদের চেষ্টা থাকবে তাদের সেখানে রেখে নতুন যারা এসেছেন তাদের আগ্রহের ভিত্তিতে কমিটি গঠন করার’। সেক্ষেত্রে গতবার স্কুল কমিটির দায়িত্বে থাকা বিজন বড়ুয়া এবারো একই দায়িত্ব পাচ্ছেন। তবে পরিবর্তন আসতে পারে পাইওনিয়ার লীগ কমিটি, গ্রাউন্ডস কমিটি ও রেফারিস কমিটিতে। পাইওনিয়ার লীগ কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন শওকত আলী খান জাহাঙ্গীর, কো-চেয়ারম্যান ছিলেন অমিত খান শুভ্র। রেফারিস কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন ইকবাল হোসেন। টানা দুই মেয়াদে গ্রাউন্ডস কমিটির দায়িত্ব সামলিয়েছেন ফজলুর রহমান বাবুল। এরা কেউ এবার নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে পারেননি। এ কারণেই এসব কমিটিতে নতুন মুখ আসছে। তবে নতুনদের মধ্যে প্রথমবারের মতো বাফুফে সদস্য নির্বাচিত হওয়া আমের খান এসব কমিটিতে আসতে চাইছেন না। তার আগ্রহের কেন্দ্র হলো ন্যাশনাল টিমস কমিটি। এর কারণ ব্যাখ্যা করে ব্রাদার্স ইউনিয়নের এই কর্মকর্তা বলেন, প্রতিবারই জাতীয় দল ঘোষণা করা হলে একটা বিতর্ক তৈরি হয়। দেখা যায় কোচের ঘোষণা করা দলে অনেক পরীক্ষিত ফুটবলাররা সুযোগ পান না। আমি ন্যাশনাল টিমস কমিটিতে ঢুকে সাবেক ফুটবলারদের দিয়ে একটি স্বতন্ত্র জাতীয় দল নির্বাচক কমিটি গঠন করতে চাই। যার দায়িত্ব থাকবে সারা বছর খেলা দেখে একটি দল তৈরি করে কোচের হাতে তুলে দেয়া। কোচ সেখান থেকে তার চূড়ান্ত দল নির্বাচন করবেন’। এর বাইরে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ ফুটবল নিয়মিত করতে মহানগরী লীগ কমিটিতে থাকতে চান আমের খান। ফুটবলারদের পাশে দাঁড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সদ্য নির্বাচিত সদস্য মহিদুর রহমান মিরাজ। দেশের ফুটবল উন্নয়নে বাফুফে সভাপতি যেখানে রাখবেন সেখানে কাজ করতে চান টিপু সুলতান, ওয়াদুদ পিন্টু। তাবিথ আউয়ালের হাতে থাকা টেকনিক্যাল কমিটির বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন না বাফুফে সভাপতি।
নারীর প্রতি মনোভাব বদলের ডাক মাশরাফীর
০৭,অক্টোবর,বুধবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে নারীর প্রতি সহিংসতার হার। সিলেটে এমসি কলেজসহ নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় প্রতিবাদের ঝড় সারাদেশে। ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিক্ষোভ-মিছিল করে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। এই প্রতিবাদে এবার যোগ দিয়েছেন সাংসদ ও দেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সফলতম অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। বুধবার দুপুরে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে দেশসেরা এ ক্রিকেটার লেখেন, আপনার মেয়ে যখন আপনার কোলে বসে থাকে, তখন আপনার সেই অনুভূতি হয় না। যখন আপনার বোন আপনার পাশের রুমে থাকে, তখনও সেই অনুভূতি আসে না। আপনার স্ত্রীকে নিয়ে যখন আপনি ঘুরতে বেরোন, তখন তার দিকে বাঁকাভাবে তাকালে আপনার খারাপ লাগে। কিন্তু অন্যকে দেখার ক্ষেত্রে কি আমার, আপনার অনুভূতি একই রকম আছে? তা না হলে বুঝে নিতে হবে, সমস্যা অনেকের মগজেই। তিনি আরও লেখেন, হয়তো পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে সবারটা প্রকাশ পায় না। আসুন মানসিকতা পরিবর্তন করি। নারীকে মাথা উঁচু করে বাঁচতে দিই। আর ধর্ষক কোনো পরিচয় বহন করে না। সে কুৎসিত, হয়তো চেহারায় নয়, মানসিকতায়।- বাংলাদেশ প্রতিদিন
যৌন হয়রানি ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সাকিবের- জিরো টলারেন্স
০৬,অক্টোবর,মঙ্গলবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: যেকোনো সংবাদমাধ্যম খুললেই এখন চোখে পড়ে নারী নির্যাতন ও যৌন হয়রানিমূলক নানান খবর। প্রায় নিত্যদিনই নতুন করে কোনো না কোনো জায়গায় ঘটছে ধর্ষণ, নিপীড়নসহ ঘৃণ্য সব ঘটনা। ঘরে কিংবা বাইরে, কোথাও যেন নিরাপত্তা নেই দেশের নারীসমাজের। এমতাবস্থায় দেশের অনেক জায়গায়ই চলছে নারী নির্যাতন ও যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে আন্দোলন, দ্রুত বিচারের দাবি জানাচ্ছেন সবাই। এতে যোগ দিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তিনি সাফ জানিয়েছেন, যৌন হয়রানি ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ বিষয়ক একটি ছবি আপলোড করেছেন সাকিব। ছবিতে লেখা রয়েছে, নারীদের ওপর চলমান সবধরনের হয়রানি বন্ধ করুন। এর সঙ্গে ক্যাপশনে দেয়া বার্তায় সাকিব লিখেছেন, চমৎকার একজন নারীর ছেলে আমি, জীবন চলার পথে স্ত্রী হিসেবে পেয়েছি অপূর্ব একজন নারীকে, দারুণ একজন নারীর ভাই আমি আর দুটি ফুটফুটে কন্যার বাবা আমি। এক শ্রেণির বর্বর মানুষ বয়স, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে নারী ও শিশুদের প্রতি প্রতিদিনই যে জঘন্য অন্যায় করছে তারপর আমি আর চুপ থাকতে পারি না। আমার অবস্থান তাই সব ধরনের ঘৃণা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে। একে অপরের অধিকার রক্ষা ও আদায়ের জন্য আমাদের চালিয়ে যেতে হবে লড়াই, ঠিক যেভাবে আমাদের অধিকার নিশ্চিত করতে লড়েছিলেন আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা। আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই নৈতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে লড়াই করি এবং আমাদের নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করি যাতে তারা স্বপ্ন দেখতে পারে এবং নির্ভয়ে তাদের জীবনযাপন করতে পারে। মনে রাখবেন, আজকে আমরা যদি এই বর্বর এই আচরণ ও মানসিকতার বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়াই। তবে একদিন আমাদের প্রিয়জনদের একজনই হতে পারে এই নির্মমতার ভুক্তভোগী। এই বার্তার নিচে সাকিব হ্যাশট্যাগে লিখেছেন, যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স।
নভেম্বরে ক্রিকেটে ফিরছেন সাকিব, অনিশ্চিত মাশরাফী
০৫,অক্টোবর,সোমবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন সাকিব আল হাসানের ফেরার জন্য চাতক পাখির মতো প্রতীক্ষায় ক্রিকেট পিয়াসুরা। দেশের ক্রিকেটের নয়নমনির ফেরার সময় ঘনিয়ে আসছে। আর চার সপ্তাহও বাকি নেই নিষেধাজ্ঞার শেকল ভেঙে ফিরবেন সাকিব। শ্রীলঙ্কা সিরিজ আঁধারে ঢাকা পড়ায় কদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের কাছে আবারো ফিরে গেছেন মিস্টার সেভেন্টি ফাইভ। যতটা জানা গেছে, এ মাসের শেষের দিকে দেশে ফিরবেন সাকিব। কোয়ারেন্টিন শেষে যোগ দেবেন নভেম্বরে ৫ থেকে ৬টি দল নিয়ে বিসিবি আয়োজিত কর্পোরেট টি-টোয়েন্টি লিগে। এ বিষয়ে বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান বলেন, নভেম্বরের মাঝামাঝিতে আমরা একটা টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট করবো। সাকিবের নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে ওই আসরে অবশ্যই ফিরবে সে। তবে, নভেম্বরে টি-টোয়েন্টির ওই আসরে সাকিবের ফেরার খবর নিশ্চিত হলেও, গেল মার্চ থেকে ক্রিকেটের বাইরে থাকা মাশরাফীর ব্যাপারে কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারেননি আকরাম খান। কারণ করোনার মাঝে ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত অনুশীলনে সবাইকে দেখা গেলেও, অনুশীলনের দৃশ্যপটে নেই সাবেক অধিনায়ক মাশরাফী। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাশের ফিটনেস বোর্ডের ভাবনায়। তবে টি-টোয়েন্টি আসরে নাকি খেলার ইচ্ছে আছে মাশরাফীরও! আকরাম খান আরো বলেন, মাশরাফী খেলবে কিনা এটা নির্বাচক ও তার ব্যাপার। নির্বাচকরাই ওর ব্যাপারটা দেখবে। এদিকে, সামনের সপ্তাহে জাতীয় দল ও এইচপি দলের ক্রিকেটারদেরকে নিয়ে তিন দলের একটি ওয়ানডে সিরিজ আয়োজনের পরিকল্পনা আছে বোর্ডের। বিসিবির এই শীর্ষ কর্তা জানালেন, সিরিজটিতে দিবারাত্রির ম্যাচ আয়োজনের কথা ভাবছে তারা। এ বিষয়ে আকরাম খান বলেন, আমরা যে টুর্নামেন্ট করছি, সেটা এ মাসের ১০ তারিখের পর শুরু করছি ডে-নাইট ওয়ানডে টুর্নামেন্ট। সবগুলো ম্যাচ হবে মিরপুরে। আগামী বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে সমান তিনটি করে টেস্ট ও ওয়ানডে ছাড়াও, ২ টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সিরিজ খেলতে আসার কথা ওয়েষ্ট ইন্ডিজের। মূলত সেই সিরিজের জন্য ক্রিকেটারদেরকে এখনই প্রস্তুত করে রাখতে চায় বোর্ড।
মাশরাফীর জন্মদিন আজ
০৫,অক্টোবর,সোমবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার জন্মদিন। ৩৬ পেরিয়ে ৩৭ পা দিলেন ম্যাশ। নড়াইলের দুরন্ত সেই কিশোর থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে খেলার স্বপ্ন পূরণ, দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেকে ভিন্ন ভাবে আবিষ্কার। এখানেই কি শেষ, না। এখন তিনি রাজনীতিতে। করছেন মানুষের সেবা। মাঠের পর এখানেও এক সফল মাশরাফীর প্রতিচ্ছবি। ১৯৮৩ সালে আজকের এই দিনটায় মায়ের কোল আলো করে এই ধরনীতে আছেন কৌশিক। ছোট বেলা থেকে দুষ্ট দুরন্ত দুর্বার। স্কুলের ধরাবাঁধা পড়ালেখাতেও ছিলেন তুখোড়। তবে, বাঁধাপড়া জীবনে আটকে রাখতে পারতো না কেউই দুরন্ত কিশোরটিকে। তাই চিত্রা নদীতে তীব্র ঢেউয়ের বিপরীতে দু:সাহসিক সাঁতারের পাল্লা মেতে উঠা কৌশিকের দেখা মিলতো প্রায়ই। বিকেলে ফুটবলে আর সন্ধ্যায় ব্যাডমিন্টনের নেশা ছিলো। কিন্তু, ধীরে ধীরে ক্রিকেটের প্রতি প্রেম বেড়েছে। প্রথমে ব্যাটিংয়ে আগ্রহ বেশি থাকলেও, কিশোর কৌশিকের বোলিংয়ে গতি ছিলো চমৎকার। পাড়া মহল্লায় দারুণ আলোচিত হন। হই উঠে / এতো অল্প বয়সে কৌশিক নামে ছেলেটির বল চোখে দেখা যায় না। তার খেলা উপভোগে নড়াইলের মাঠে মাঠে মানুষের আগ্রহ থাকতো তুঙ্গে। এভাবেই নড়াইল জয় করে ঢাকায় আগমন ঘটে কৌশিকের। বয়স ভিত্তি ক্রিকেটের বাঁধা টপকে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অভিষেক ২০০১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এরপরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যানভাসে কৌশিক থেকে সবার প্রিয় মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা হয়ে উঠা। এরপর কঠিন পথ, সংগ্রাম, ইনজুরির অভিশাপ দল থেকে বাদ পড়া কতো কিছু। যেন সিনেমার গল্পের মতো তার এ জীবন এখন পর্যন্ত। হ্যাঁ, নায়কের মতোই। তবে, ক্যারিয়ারের কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলোই বলি শুনুন। ২০০৯ সালে সর্বশেষ টেস্ট খেলেন। এরপর এলিট ফরম্যাটে আর ফেরা হয়নি। অপয়া ইনজুরির ঈর্ষায়। সাতবার গুরুত্বর অস্ত্রোপচার হয়েছে হাঁটুতে। কিন্তু, অদম্য ইচ্ছা শক্তি আর আত্মবিশ্বাসের কারণেই মাশরাফী ফিরেছেন বার বার। অনেকটা ফিট থাকলেও, ২০১১ বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়েছেন। বুক ছাপা কষ্ট সহ্য করেছেন। তারপরেও দমিয়ে রাখা যায়নি মাশরাফী থেকে হয়ে উঠা সবার প্রিয় ম্যাশকে। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব পাওয়ার লাল সবুজের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সাফল্যে এনে দিয়েছেন। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে দুইবার এশিয়া কাপের ফাইনাল ছাড়াও, তার নেতৃত্বেই প্রথম আরাধ্য বহুজাতিক ট্রফি জেতে বাংলাদেশ। ৮৮ ম্যাচে টাইগারদের নেতৃত্ব দিয়ে ৫০ ম্যাচে বাংলাদেশকে বিজয়ের উপলক্ষ্য এনে দিয়েছেন সবার প্রিয় ম্যাশ। এ বছরের মার্চে অধিনায়কত্ব ছেড়েছেন। কিন্তু, ক্রিকেট এখনো ছাড়েননি। আরও খেলা চালিয়ে যাওয়া ইচ্ছে আছে মাশরাফীর। বর্তমানে নড়াইল -০২ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে সবার আস্থা ভাজন হয়ে উঠেছেন। প্রায় ২০ বছর দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন। বয়স বেড়ে দাঁড়িয়েছে আজ ৩৭ এ। মাঠের ক্রিকেটের মতো রাজনীতির মাঠেও সফল হবার আগাম বার্তা পাওয়ায় যায় মাশরাফীর রাজনৈতিক দর্শনে। এমন মাশরাফীরা সফল হেই তো সমৃদ্ধ হয় লাল সবুজের বাংলাদেশ।
ইউনিসেফের নতুন শুভেচ্ছা দূত মুশফিক
০৪,অক্টোবর,রবিবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমকে বাংলাদেশে ইউনিসেফের নতুন শুভেচ্ছা দূত হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। সারাদেশে শিশু অধিকার বিষয়ে প্রচারণার জন্য ইউনিসেফের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন তিনি। ইউনিসেফের দূত হিসেবে মুশফিকের কাজ হবে শিশুদের অধিকার এবং তারুণ্যকে প্রভাবিত করে সেসব বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে সহায়তা করা। শিক্ষার অধিকার, দারিদ্র্য ও বৈষম্যের প্রভাব এবং সহিংসতা, নির্যাতন এবং শোষণের বিরুদ্ধে সুরক্ষার জন্য শিশুদের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে কাজ করবেন তিনি। এ বিষয়ে আজ রবিবার মুশফিক বলেন, একজন ক্রিকেট খেলোয়াড় এবং একজন বাবা হিসেবে আমি বাচ্চাদের জন্য বিশেষত সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণদের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সবাইকে একত্রিত করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করব। মুশফিকুর রহিমকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্যতম দক্ষ ব্যাটসম্যান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অভিষেকের পর থেকে জাতীয় দলের একজন নিয়মিত সদস্য মুশফিক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রায় ১২,০০০ আন্তর্জাতিক রান এবং ১৪টি সেঞ্চুরি নিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের শীর্ষ তিন রান সংগ্রাহকের তালিকায় রয়েছেন। এর আগে ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে কাজ করেছেন সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন, মোহাম্মাদ আশরাফুল ও সাকিব আল হাসান।
অবশেষে কোহলির ব্যাটে রান, রাজস্থানকে উড়িয়ে শীর্ষে ব্যাঙ্গালুরু
০৩,অক্টোবর,শনিবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: এবারের আইপিএলটা একদমই ভালো যাচ্ছিল না বিরাট কোহলির। প্রথম তিন ম্যাচে তার উইলো থেকে আসে ১৪, ১ ও ৩ রান। কোহলির নামের সঙ্গে কি এসব মানায়! অবশেষে স্বরূপে ফিরলেন রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু অধিনায়ক। আর কোহলি যেদিন ফর্মে থাকেন, প্রতিপক্ষের আর কীই-বা করার থাকে! আবুধাবিতে অধিনায়কের রানে ফেরার ম্যাচটিতে রাজস্থান রয়্যালসকে রীতিমত উড়িয়ে দিয়েছে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু। ম্যাচটি তারা জিতেছে ৮ উইকেট আর ৫ বল হাতে রেখে। এই জয়ে আইপিএলে পয়েন্ট তালিকার এক নম্বরে উঠে এসেছে ব্যাঙ্গালুরু। চার ম্যাচের মধ্যে তিনটিতেই জিতেছে কোহলির দল। লক্ষ্য ছিল ১৫৫ রানের। টি-টোয়েন্টিতে একেবারে মামুলি বলার উপায় নেই। তবে দেবদূত পাডিক্কেলের দুরন্ত ফর্ম আর কোহলির ক্যাপ্টেনস নকে জয় পেতে একদমই কষ্ট হলো না ব্যাঙ্গালুরুর। ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চ ৮ রানে ফেরার পর দ্বিতীয় উইকেটে পাডিক্কেল আর কোহলি গড়েন ৯৯ রানের ম্যাচ জেতানো জুটি। ৪৫ বলে ৬ চার আর ১ ছক্কায় ৬৩ রান করে পাডিক্কেল শেষতক ফেরেন জোফরা আর্চারের বলে বোল্ড হয়ে। তবে এবি ডি ভিলিয়ার্সকে নিয়ে বাকি পথটা পারি দিতে কষ্ট হয়নি কোহলির। ৫৩ বলে ৭ বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায় ব্যাঙ্গালুরু অধিনায়ক অপরাজিত থাকেন ৭২ রানে। ১০ বলে ১২ রান নিয়ে তার সঙ্গে বিজয়ীর বেশে মাঠ ছাড়েন ডি ভিলিয়ার্স। এর আগে কঠিন বিপদ সামলে ৬ উইকেটে ১৫৪ রানের লড়াকু পুঁজি দাঁড় করায় রাজস্থান রয়্যালস। ১৬ ওভার শেষে তাদের সংগ্রহ ছিল ৫ উইকেটে ১০৬ রান। সেখান থেকে শেষ চার ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে যোগ করে আরও ৪৮। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামার পর রাজস্থানকে উড়ন্ত সূচনাই দিয়েছিলেন জস বাটলার। ১৬ বলে ২৭ রানের উদ্বোধনী জুটিটি ভাঙে ইসুরু উদানার বলে স্টিভেন স্মিথ ৫ করে বোল্ড হলে। পরের ওভারে ভয়ংকর বাটলারকে তুলে নেন নভদ্বীপ সাইনি। ১২ বলে ৩ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় বাটলার করেন ২২ রান। রাজস্থানের বিপদ আরও বাড়ান ইয়ুজবেন্দ্র চাহাল দুরন্ত ফিরতি ক্যাচে সঞ্জু স্যামসনকে ফিরিয়ে। ৩ বলে ৪ রান করেন স্যামসন, ৩১ রানে ৩ উইকেট হারায় রাজস্থান। সেখান থেকে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেছেন রবিন উথাপ্পা আর মহীপাল লমরর। চতুর্থ উইকেটে ৩৬ বলে ৩৯ রান যোগ করেন তারা। তবে উথাপ্পা খুব একটা স্বচ্ছন্দ্য ছিলেন না, ধুঁকতে থাকা এই ব্যাটসম্যান ২২ বলে ১৭ করে চাহালকে তুলে মারতে গিয়ে উদানার ক্যাচ হন। পঞ্চম উইকেটে রায়ান পরাগকে নিয়ে ৩৪ বলে ৩৫ রানের আরেকটি জুটি লমররের। এই জুটিতে আবার পরাগ তেমন স্বচ্ছন্দ্য ছিলেন না, ১৮ বলে ১৬ রান করে উদানার শিকার হন এই ব্যাটসম্যান। একের পর এক সঙ্গী হারিয়ে ধৈর্য্যচুতি ঘটে লমররেরও। দারুণ খেলতে থাকা এই ব্যাটসম্যান ইনিংসের ১৭তম ওভারের প্রথম বলটি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। চতুর্থ বলে তাকে ঠিকই তুলে নেন চাহাল। ৩৯ বলে ১ বাউন্ডারি আর ৩ ছক্কায় ৪৭ রানে লং অনে ক্যাচ হন লমরর। ১১৪ রানে ৬ উইকেট হারানো রাজস্থান শেষ পর্যন্ত রাহুল তেয়াতিয়া আর জোফরা আর্চারের ঝড়ে ১৫৪ রানের লড়াকু পুঁজি পায়। তেয়াতিয়া ১২ বলে ৩ ছক্কায় ২৪ আর আর্চার ১০ বলে একটি করে চার ছক্কায় ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন। ব্যাঙ্গালুরুর বোলারদের মধ্যে চাহাল ৩টি আর উদানা নেন ২টি উইকেট।
চতুর্থবারের মতো বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন
০৩,অক্টোবর,শনিবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: আবারও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি নির্বাচিত হলেন সাবেক ফুটবলার কাজী মো. সালাউদ্দিন। এ নিয়ে টানা চতুর্থ মেয়াদে বাফুফে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। শনিবার রাজধানীর প্যানপ্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে হওয়া নির্বাচনে জিতেছেন তিনি। নতুন মেয়াদে বাফুফের সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন আরেক সাবেক ফুটবলার আবদুস সালাম মুর্শেদী। কাজী সালাউদ্দিনের মতো তিনি টানা চতুর্থবারের মতো সিনিয়র সহ-সভাপতি হলেন। বহুল প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনে ১৩৯ ভোটের মধ্যে ভোট পড়েছে ১৩৫টি। দুজন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন না, ভোট দেননি আরও দুজন।
সদ্য প্রকাশিত Ranking এ শ্রীলঙ্কাকে টপকে গেল বাংলাদেশ
০২,অক্টোবর,শুক্রবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রস্তুতি ম্যাচের মাধ্যমে আজ শুক্রবার থেকে ছেলেদের ক্রিকেট মাঠে গড়ালেও মেয়েদের ক্রিকেট সেভাবে শুরু হয়নি। তবে মেয়েরা অনুশীলন করে যাচ্ছেন। এর মাঝেই সুখবর দিল বিশ্ব ক্রিকেটের প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। সদ্য প্রকাশিত আইসিসি Ranking ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কাকে টপকে আটে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। ৫০ ওভারের ফরম্যাটে এতদিন বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৯ নম্বরে। রেটিং পয়েন্ট ছিল ৫৪। ১ পয়েন্ট বেশি নিয়ে ঠিক ওপরেই ছিল শ্রীলঙ্কা দল। কিন্তু বার্ষিক Ranking এ ২০১৬-১৭ মৌসুম বাদ দেওয়ায় অবস্থানে অদল বদল হয়েছে। ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ মৌসুমের পাওয়া পয়েন্টের ৫০ ভাগ ও ২০১৯-২০ মৌসুমে পাওয়া পয়েন্টের শতভাগ নিয়ে তৈরি নতুন রেটিং পয়েন্ট অনুযায়ী বাংলাদেশের ৭ পয়েন্ট বেড়েছে আর শ্রীলঙ্কার কমেছে ৮ পয়েন্ট। বর্তমান এশিয়া কাপ জয়ী বাংলাদেশ ৬১ পয়েন্ট পেয়ে ৮ নম্বরে আছে। ওদিকে ৪৭ পয়েন্ট নিয়ে নয়ে নেমে গেছে শ্রীলঙ্কা। এশিয়ার অন্য দুই দলের মধ্যে ৭৭ পয়েন্ট নিয়ে ৭ নম্বরে পাকিস্তান আর ১১৯ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভারতের রেটিং পয়েন্ট ১২১। ১৬০ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে বরাবরের মতোই শীর্ষে আছে অস্ট্রেলিয়া। টি-টোয়েন্টিতে অবশ্য ১৯২ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই নয়ে আছেন সালমারা। সূত্র : কালের কণ্ঠ