তুই সফল হবি- আব্দুর রাজ্জাককে মাশরাফী
২৯,জানুয়ারী,শুক্রবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: লম্বা সময় ধরে গুঞ্জন চলছে জাতীয় দলের নির্বাচকের দায়িত্বে দেখা যেতে পারে বাঁহাতি অফ-স্পিনার আব্দুর রাজ্জাককে। সেটা অবশেষে সত্য হয়েছে। জাতীয় দলের দুই নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও হাবিবুল বাশারের প্যানেলে যুক্ত হয়েছেন আব্দুর রাজ্জাকও। বুধবার বিসিবির অনলাইন সভায় নেয়া হয়েছে এই সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এই সিদ্ধান্তে খুশি ক্রিকেট ভক্ত থেকে শুরু করে ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট সবাই। আব্দুর রাজ্জাককে শুভ কামনা জানান সবাই। সেই রেষ অনেকটা কেটে গেছে গত দুই দিনে। তবে কাছের বন্ধু, সতীর্থ মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা একটু দেরি করেই শুভেচ্ছা জানিয়েছে নতুন নির্বাচককে। শুক্রবার দুপুরে ফেসবুক পোস্টে মাশরাফী জানান, খান আবদুর রাজ্জাক (রাজ), বন্ধু একটু দেরি হয়ে গেল শুভ কামনা জানাতে। হয়তো আমার মতো অনেক মানুষ তোর এই অর্জনে খুশি হয়েছে তবে আমার যে জায়গাটায় সবচেয়ে বেশি আনন্দ হচ্ছে সেটা হলো তুই ক্রিকেট কত গভীরে বুঝতি তা দেখানোর সুযোগ এবার পেয়েছিস। আব্দুর রাজ্জাক কতটা গভীর থেকে ক্রিকেট বুঝতেন সেটাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন মাশরাফী। লিখেছেন, এতদিন সবাই বল হাতে রাজ্জাকের পারফর্ম দেখেছে, এবার দেখবে মস্তিষ্কের পারফর্ম। জানি তুই তোর সেরাটাই দিবি, এবং সফলও হবি ইনশাআল্লাহ। এতদিন বা হাতের ভেলকি দেখেছে সবাই এবার দেখবে তোর মস্তিস্কের, যা নিয়ে কোনদিনও আমার সংশয় ছিল না। অনেক সংকটে তোর সাথে কথা বলেছি বলেই বলছি, তুই বিজয়ী হবি ইনশাআল্লাহ। আব্দুর রাজ্জাকের অর্জনে ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদও জানান মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ জানাই মানুষটাকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের জন্য। ভালোবাসা অবিরাম বন্ধু।
ক্যারিবীয়দের হোয়াইটওয়াশ করে- ফুল মার্কস পেল টাইগাররা
২৫,জানুয়ারী,সোমবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সবমিলিয়ে ২৬তম কিংবা ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে পঞ্চম সিরিজ জয়টা ঢাকায়ই নিশ্চিত করে এসেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শেষ ম্যাচটিতে লক্ষ্য ছিল হোয়াইটওয়াশের। সেইসঙ্গে ওয়ানডে সুপার লিগে নিজেদের প্রথম সিরিজে পূর্ণ ত্রিশ পয়েন্টও নিশ্চিত করার। সেই লক্ষ্যে নেমে- ফুল মার্কস নিয়েই পাস করেছে তামিম ইকবালের দল। শুধু সিরিজ জয়ই নয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দ্বিতীয় এবং সবমিলিয়ে প্রতিপক্ষকে ১৪তম বারের মতো হোয়াইটওয়াশ করার কীর্তি দেখিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম দুই ম্যাচে যথাক্রমে ৭ ও ৬ উইকেটে জেতার পর আজ তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের ব্যবধান ১২০ রান। নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসে এ নিয়ে ১৫টি ম্যাচে ১০০ বা তার বেশি রানের ব্যবধানে জিতল টাইগাররা। ম্যাচটিতে আগে ব্যাট করে চার ফিফটিতে বাংলাদেশ দাঁড় করিয়েছিল ২৯৭ রানের বড় সংগ্রহ। যার জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অলআউট হয়েছে ১৭৭ রানে। আগের দুই ম্যাচে ১২২ ও ১৪৮ রানে অলআউট হওয়া ক্যারিবীয়রা এ ম্যাচে প্রথমবারের মতো পেরিয়েছে দেড়শ রানের কোটা, যা স্রেফ পরাজয়ের ব্যবধানই কমাতে পেরেছে। রান তাড়া করতে নেমে ফের ছন্নছাড়া ব্যাটিং প্রদর্শনী দেখিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। নিজের প্রথম স্পেলে দুই উইকেট তুলে নিয়ে শুরুর ধাক্কাটা দেন মোস্তাফিজুর রহমান। পরে কিপটে বোলিংয়ে লাগামটা নিজেদের হাতেই রাখেন টাইগার অফস্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ। খানিক খরুচে বোলিং করলেও দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার করেছেন এ ম্যাচ দিয়েই দলে ফেরা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে পুরো সিরিজে ধারাবাহিক খেলা রভম্যান পাওয়েল রান পেয়েছেন আজও। সৌম্য সরকারের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ার আগে ৪৯ বলে ৪৭ রান করেন রভম্যান। এনক্রুমাহ বোনারের ব্যাট থেকে এসেছে ৩১ রান। এর বাইরে রেয়মর রেইফার (২৭), জেসন মোহাম্মদরা (১৭) ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েও অল্পেই থেমে গেছেন। বাংলাদেশের পক্ষে বল হাতে ৯ ওভারে ৫১ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়েছেন সাইফউদ্দিন। মোস্তাফিজ ৬ ওভারে ২৪ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। বাংলাদেশের অফস্পিনারদের মধ্যে সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলিংয়ের রেকর্ড গড়ে ১০ ওভারে মাত্র ১৮ রানের বিনিময়ে ২ উইকেট শিকার করেছেন মেহেদি মিরাজ। এছাড়া ১টি করে উইকেট গেছে তাসকিন আহমেদ ও সৌম্য সরকারের নামে। এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম পাওয়ার প্লে'টা ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছে টাইগাররা। প্রথম ১০ ওভারে ২ উইকেট হারালেও, স্কোরবোর্ড যোগ হয় ৫৩ রান। তবে এরপর কমতে থাকে রানের গতি। পরের ২০ ওভারে আসে মাত্র ৮৪ রান। আগের দুই ম্যাচের মতোই হতাশ করেন দুই তরুণ লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্ত। ইনিংসের প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফিরে যান লিটন। দ্বিতীয় উইকেটে অধিনায়ক তামিম ইকবালের সঙ্গে ৩৭ রান যোগ করে কাইল মায়ারসের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে ধরা পড়েন ৩০ বলে ২০ রান করা শান্ত। দুই তরুণ ব্যর্থ হলেও, পরে চার অভিজ্ঞই তুলে নিয়েছেন নিজেদের ব্যক্তিগত ফিফটি। ইনিংসের শুরুতে বেশ সাবলীল ছিলেন তামিম। একপর্যায়ে তিনি মাত্র ২৭ বলে করেন ২৮ রান। এরপর যেন বন্দী হয়ে যান খোলসে। পঞ্চাশে যেতে খেলে ফেলেন ৭০টি বল। যেখানে ছিল মাত্র ২টি চারের মার। তবে ফিফটি পূরণের ঠিক পরের বলেই নিজের ট্রেডমার্ক ইনসাইড আউট শটে হাঁকান ইনিংসের প্রথম ছক্কা। যদিও ইনিংসটি বেশি বড় করতে পারেননি টাইগার অধিনায়ক। তৃতীয় উইকেটে তামিম ও সাকিব মিলে যোগ করেন ৯৩ রান। কিন্তু এতে খেলে ফেলেন ১১৬টি বল। দুজনের কেউই ইনিংসের মাঝপথে সাবলীল ব্যাটিং করতে পারেননি। সিঙ্গেলস-ডাবলস বের করতে রীতিমতো লড়াই করতে হয়েছে দুজনকেই। জুটি বেঁধে ২ হাজার রানের মাইলফলক পূরণ করেছেন সাকিব ও তামিম। তাদের জুটি ভাঙে দলীয় ১৩১ রানে গিয়ে, তামিম ব্যক্তিগত ৬৪ রানে সাজঘরে ফিরে গেলে। ক্যারিয়ারের ৪৯তম ফিফটিতে খেলা ৮০ বলের ইনিংসে ৩ চারের সঙ্গে ১ ছক্কা হাঁকান তিনি। তামিম ফিরে যাওয়ার পর ৪৮তম ওয়ানডে ফিফটি তুলে নেন সাকিব। তিনি ৩ চারের মারে ফিফটি পূরণ করতে খেলেন ৭৮ বল। তামিমের সমান ৮০ বল খেলে সাকিব আউট হন ৫১ রান করে। সাকিবের বিদায়ের পর রানের গতি বাড়ানোর মিশনে নামেন ব্যক্তিগত সম্পর্কে 'ভায়রা ভাই' মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহীম। যা বেশ সফলভাবেই করেন এ দুজন। তাদের জুটিতে আসে ৭২ রান, মাত্র ৫৮ বলে। মূলত মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর জুটিতেই আসে ২৮৭ রানের বড় সংগ্রহ। সাকিব-তামিম যেখানে করেন ধীরগতির ফিফটি, সেখানে বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তুলেছেন মাহমুদউল্লাহ ও মুশফিক। ক্যারিয়ারের ৩৯তম ফিফটি করতে মুশফিক খেলেন ৪৭ বল। মাহমুদউল্লাহর ১৭তম ফিফটি আসে মাত্র ৪০ বলে। দারুণ এক ছয়ের মারে পঞ্চাশ পূরণ করেন মাহমুদউল্লাহ। তাদের ব্যাটেই মূলত শেষ ১০ ওভারে ১০০ রান পায় বাংলাদেশ। পুরো ৫০ ওভার শেষ করে আসতে পারেননি মুশফিক। তিনি সাজঘরে ফেরেন ৪৭তম ওভারে, খেলেন ৫৫ বলে ৬৪ রানের ইনিংস। যেখানে ছিল ৪ চারের সঙ্গে ২টি ছয়ের মার। তবে শেষপর্যন্ত খেলেছেন মাহমুদউল্লাহ। ৪৪ বলের ইনিংসে সমান ৩টি করে চার-ছয়ের মারে ৬৪ রান করেন মাহমুদউল্লাহ। এছাড়া সৌম্য সরকার ৮ বলে ৭ ও সাইফউদ্দিন ২ বলে ৫ রান করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন রেয়মন রেইফার ও আলঝারি জোসেফ।
হোয়াইটওয়াশ নয়, ক্যারিবীয়দের লক্ষ্য ১০ পয়েন্ট
২৪,জানুয়ারী,রবিবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সর্বশেষ সাত ম্যাচেই টাইগারদের কাছে হেরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শক্তিমত্তার বিচারে আগের দলের তুলনায় বর্তমান দলে পার্থক্য থাকলেও ক্রিকেটে যে কোনও দলই খেলতে নামে জয়ের লক্ষ্যে। চলতি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে হেরে ইতোমধ্যে ব্যাকফুটে উইন্ডিজ, খুইয়েছে সিরিজও। তাই শেষ ম্যাচ জিতে অন্তত ১০ পয়েন্ট পেতে চায় ক্যারিবীয়রা। হ্যাঁ, চলমান আইসিসি ওয়ানডে চ্যাম্পিয়নশিপ বা ওয়ানডে সুপার লিগের কারণে এখন একটি জয় পেলেই ১০ পয়েন্ট। বাংলাদেশ যেমন টানা দুটি ম্যাচ জিতে বিশে বিশ পূর্ণ করেছে। শেষ ম্যাচেও হারলে হোয়াইটওয়াশ হবে ক্যারিবীয়রা। অন্যদিকে, পুরো ত্রিশ পয়েন্ট পকেটে পুরবে বাংলাদেশ। তাই তো হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়ানোর প্রচেষ্টা নিয়েই শেষ ম্যাচটি জিতে অন্তত ১০টি পয়েন্ট পাওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা সফরকারীদের। এ বিষয়ে দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স বলেন, আমরা ৩০ পয়েন্টের জন্যই এসেছিলাম। এখনও ১০ পয়েন্ট নিয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে। আমাদের মূল লক্ষ্য থাকবে এই ১০ পয়েন্ট অর্জন। এদিকে, চলমান এই আইসিসি সুপার লিগের শীর্ষ আটটি দল জায়গা করে নেবে ২০২৩ বিশ্বকাপের মূলপর্বে। বাকিদের খেলতে হবে বাছাইপর্ব। দুর্বল দল পাঠিয়ে এখন নিশ্চয়ই অনুশোচনা হচ্ছে ক্যারিবীয় বোর্ডের। অবশ্য পর্যায়ক্রমে উন্নতির ছাপ দেখছেন সিমন্স। তিনি বলেন, ১২০ রান থেকে সেদিন ১৪০ রান করলাম। আমাদের এখন ২৩০ বা ২৫০ রানের মতো করতে হবে। তাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, বোলাররা রসদ নিয়ে লড়তে পারবে। এদিকে, টানা দুই ম্যাচ জেতার পাশাপাশি সিরিজ নিজেদের করে নেয়ায় তৃতীয় তথা শেষ ম্যাচে টাইগার শিবিরে মিলেছে কয়েকটি পরিবর্তনের আভাস। এ বিষয়ে দলীয় অধিনায়ক তামিম ইকবাল খান বলেন, তাসকিন-সাইফউদ্দিনের মতো ক্রিকেটাররা এখনও একাদশে সুযোগ পাননি। দলে জায়গা পেতে কঠিন প্রতিযোগিতা চলছে। তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে শেষ ম্যাচের আগে এটি কোনও উদ্বেগজনক বিষয় নয়। সবারই খেলার সুযোগ পাওয়া উচিত। যারা এখনও খেলার সুযোগ পাননি, তারা সবাই ভালো করার সামর্থ্য রাখে। আমি নিশ্চিত, তৃতীয় ওয়ানডেতে আমাদের কিছু পরিবর্তন হবে এবং আশা করি, যারা আসবে ভালো করবে।
হোয়াইটওয়াশ মিশনে চট্টগ্রামে টাইগাররা
২৩,জানুয়ারী,শনিবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলেছে বাংলাদেশ। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হওয়া সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে সহজ জয়ই পেয়েছে টাইগাররা। এবার হোয়াইটওয়াশ মিশনে রাজধানী ঢাকা ছেড়ে চট্টগ্রামে পৌঁছেছে তামিম বাহিনী। (শনিবার) দুপুর গড়াতেই বন্দর নগরীতে চলে গেছে টাইগাররা। বেলা পৌনে একটায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে নেমেছেন তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহীম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মেহেদি হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমানরা। শুধু স্বাগতিক বাংলাদেশই নয়, শনিবার বেলা ১২টার ফ্লাইটে একসঙ্গে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে দুপুর পৌনে ১টায় বন্দর নগরীতে গিয়ে পৌঁছেছে জেসন মোহাম্মদের ওয়েস্ট ইন্ডিজও। গত ২০ জানুয়ারি (বুধবার) প্রথম ম্যাচে ৬ উইকেটে জয়ের পর শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৭ উইকেটে হারিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে তামিম ইকবালের দল। আগামী ২৫ জানুয়ারি (সোমবার) চট্টগ্রামের সাগরিকার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে। তবে তামিমের দল এরই মধ্যে সিরিজ নিশ্চিত করে ফেলায় এখন শেষ ম্যাচটি অনেকটাই গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে। সেটা এখন শুধুই আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়েছে। এখন স্বাগতিকদের সামনে রয়েছে ক্যারিবীয়দের হোয়াইটওয়াশ করার সুবর্ণ সুযোগ। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে দুই দলের শেষ ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ জিতেছিল ২-১ ব্যবধানে। সেবার প্রথম ম্যাচ জিতলেও দ্বিতীয় খেলায় হেরেছিল মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। তাই সিরিজ জিততে অপেক্ষায় থাকতে হয় শেষ ম্যাচ পর্যন্ত। তারপর তৃতীয় ম্যাচে গিয়ে জয় ধরা দেয়। এবার অবশ্য চিত্র ভিন্ন। প্রথম দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ বিজয়ের উৎসব রাজধানীতেই করে ফেলেছে টাইগাররা। সোমবারের ম্যাচটি জিতলে ক্যারিবীয়দের হোয়াইটওয়াশ করার পাশাপাশি পূর্ণ ৩০ পয়েন্ট নিয়েই ওয়ানডে সুপার লিগের প্রথম সিরিজ শেষ হবে বাংলাদেশের।
ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক সিরিজ জয়
২২,জানুয়ারী,শুক্রবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বাংলাদেশ সফরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোয়াড ঘোষণার পরই আভাস পাওয়া গিয়েছিল ফলাফলের ব্যাপারে। দেখার বিষয় ছিল, মাঠে ঠিক কতটা দাপুটে জয় পায় বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে ক্যারিবীয়দের ১২২ রানে অলআউট করে স্বাগতিকরা জিতেছিল ৬ উইকেটে। আজ (বুধবার) দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ করেছে ১৪৮ রান। যার জবাবে অধিনায়ক তামিম ইকবালের ফিফটির সুবাদে ৩ উইকেট হারিয়ে, ৭ উইকেটের ব্যবধানে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। প্রথমে ২০১৮ সালের জুলাইতে প্রতিপক্ষের মাটিতে ২-১, একই বছর ডিসেম্বরে ঘরের মাঠে ২-১, এবার ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ঘরের মাঠে এক ম্যাচ হাতে রেখেই নিশ্চিত হয়ে গেল সিরিজের ট্রফি; সবমিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের হ্যাটট্রিক করে ফেলল বাংলাদেশ দল। এবং সবমিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পঞ্চম সিরিজ জয়টি টাইগারদের। জিম্বাবুয়ের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে কোনো দেশের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের হ্যাটট্রিক হলো টাইগারদের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বোচ্চ টানা ৬টি সিরিজ জেতার রেকর্ড রয়েছে বাংলাদেশের। ১৪৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারেননি লিটন দাস। দৃষ্টিনন্দন কিছু বাউন্ডারি হাঁকিয়ে তিনি সাজঘরে ফিরে যান ষষ্ঠ ওভারে। আউট হওয়ার আগে ২৪ বলে করেন ২২ রান। আরও একবার হতাশ করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তার ব্যাট থেকে আসে ২৬ বলে ১৭ রান। তিনি জেসন মোহাম্মদের বলে সহজ ক্যাচ তুলে দেন জর্ন ওটলের হাতে। একপ্রান্তে অবিচল ছিলেন অধিনায়ক তামিম। দলকে ১০০ রান পার করিয়ে আউট হন তিনি। তার আগেই তুলে নেন ক্যারিয়ারের ৪৮তম ওয়ানডে ফিফটি। তবে এরপর আর টিকতে পারেননি। তিন চার ও এক ছক্কায় সাজানো ইনিংসে ৭৫ বলে ৫০ রান করেন তামিম। অধিনায়ক ফিফটি করলেও সাকিব অপরাজিত ছিলেন ৪৩ রানে। মুশফিকুর রহীমের (৯) সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ৪০ রানের জুটি গড়ে ম্যাচ জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন সাকিব। এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে আজও ইতিবাচক শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপেনার সুনিল অ্যামব্রিস। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে রুবেল হোসেনের করা প্রথম বলেই দারুণ টাইমিংয়ে বাউন্ডারি মারেন তিনি। কিন্তু প্রথম ম্যাচের মতো এদিনও ফিরে যান খানিক পরেই। আগের ম্যাচের মতো আজও তিনি আউট হয়েছেন মোস্তাফিজের বোলিংয়ে, তার ব্যাটের কানা ছুঁয়ে আসা বলটি সহজেই তালুবন্দী করেন মেহেদি হাসান মিরাজ। অ্যামব্রিস করতে পেরেছেন ১৫ বলে ৬ রান। দলীয় ১০ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারানোর পর অভিষিক্ত জর্ন ওটলেকে নিয়ে প্রতিরোধের আভাস দেন জশুয়া ডা সিলভা। দুজন মিলে যোগ করেন ২৬ রান। ইনিংসের ১১তম ওভারে হাসান মাহমুদকে অসাধারণ এক পুল শটে ছক্কা হাঁকান ওটলে। তবে স্পিন আসতেই ভাঙে জশুয়া-ওটলের প্রতিরোধ। এক ওভারেই দুজনকে ফেরান মিরাজ। দশম ওভারে প্রথম আক্রমণে এসে নিজের তৃতীয় ওভারে জোড়া সাফল্যের দেখা পান অফস্পিনার মিরাজ। ইনিংসের ১৪তম ওভারের প্রথম বলে শর্ট মিডঅফে তামিম ইকবালের হাতে ক্যাচ তুলে দেন ৪৪ বলে ২৪ রান করা অভিষিক্ত ওটলে। একই ওভারের চতুর্থ বলে ভুল লাইনে ডিফেন্ড করে সোজা বোল্ড হয়ে যান জশুয়া, তার ব্যাট থেকে আসে ২২ বলে ৫ রান। মিরাজের জোড়া উইকেটের পরের ওভারেই ডাকা হয় আরেক স্পিনার সাকিব আল হাসানকে। নিজের প্রথম ওভারের শেষ বলে আন্দ্রে ম্যাকার্থিকে আর্মারে বোকা বানান সাকিব। স্লগ করতে গিয়ে সোজা বোল্ড হন ৭ বলে ৩ রান করা ম্যাকার্থি। উইন্ডিজের মরার ওপর খাড়ার ঘা হয়ে আসে ১৮তম ওভারের রানআউট। অধিনায়ক জেসন মোহাম্মদ শর্ট স্কয়ার লেগে ঠেলেই দ্রুত রানের জন্য দৌড় শুরু করেন। দারুণ থ্রোতে স্ট্রাইকার এন্ডে মায়ারসের বিদায়ঘণ্টা বাজান নাজমুল হোসেন শান্ত। আগের ম্যাচে ইনিংসের সর্বোচ্চ ৪৪ রান করা মায়ারস এবার ফেরেন শূন্য রানে। মাত্র ৪১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে কঠিন চাপে পড়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ষষ্ঠ উইকেটে ইনিংস সর্বোচ্চ ২৬ রানের জুটি গড়েন জেসন মোহাম্মদ ও এনক্রুমাহ বোনার। নিজের প্রথম স্পেল থানা প্রান্ত থেকে করে এক উইকেট নেয়ার পর ২৫তম ওভারে মিডিয়া প্রান্তে বোলিং শুরু করেন সাকিব। সেই ওভারের শেষ বলেই ভাঙেন জেসন-বোনার জুটি। লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে বিদায় নেন ১১ রান করা ক্যারিবীয় অধিনায়ক। এর পরের ওভারে প্রথম উইকেটের দেখা পান আগের ম্যাচে অভিষেক হওয়া হাসান মাহমুদ। তার নিচু হওয়া ডেলিভারিতে বোল্ড হন ইতিবাচক খেলে ২৫ বলে ২০ রান করা বোনার, মাত্র ৭১ রানে ঘটে উইন্ডিজের সপ্তম উইকেটের পতন। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে তাদের বিপদ আরও বাড়ান মেহেদি মিরাজ। ইনিংসের ৩০তম ওভারের চতুর্থ বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন ২ রান করা রেইফারকে। আম্পায়ার আউট দেননি সেটি, রিভিউ নিয়ে উইকেট পায় বাংলাদেশ। দলীয় নব্বইয়ের আগেই অষ্টম উইকেট হারানোর পর পাল্টা আক্রমণ করেন রভম্যান পাওয়েল ও আলঝারি জোসেফ। দুই স্পিনার মেহেদি মিরাজ ও সাকিব আল হাসানের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক খেলতে থাকেন তারা। তাদের জুটিতে আসে ইনিংস সর্বোচ্চ ৩২ রান। ইনিংসের ৩৮তম ওভারে আলঝারিকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন মোস্তাফিজ। শর্ট গালিতে লিটন দাসের হাতে ধরা পড়েন ২১ বলে ১৭ রান করা আলঝারি। শেষ উইকেট জুটি ভাঙতে ৬.১ ওভার বোলিং করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। নিজের শেষ ওভার করতে এসে চতুর্থ বলে স্ট্যাম্পিং করেন ইনিংসের সর্বোচ্চ স্কোরার রভম্যান পাওয়েলকে। এগিয়ে এসে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে নিজের উইকেট হারান ৬৬ বলে ৪১ রান করা পাওয়েল, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস থামে ১৪৮ রানে। সবমিলিয়ে ৯.৪ ওভারে মাত্র ২৫ রান খরচায় ৪ উইকেট নেন মিরাজ। ওয়ানডেতে এটিই তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার। এছাড়া ২টি করে উইকেট গেছে সাকিব আল হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমানের ঝুলিতে।
সাকিব-মিরাজের ঘূর্ণিতে ১৪৮ রানে শেষ উইন্ডিজ
২২,জানুয়ারী,শুক্রবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: শেষ পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবার দলীয় তিন অঙ্ক পেরোনো রান পেয়েছে লোয়ার-অর্ডার ব্যাটসম্যানদের কল্যাণে। নয়তো শুরু থেকে বাংলাদেশের দুই স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ-সাকিব আল হাসান যেভাবে ছোবল দেওয়া শুরু করেছিলেন তাতে শয়ের ঘরে পৌঁছানোর আগে গুটিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল ক্যারিবিয়ানদের। মাত্র ৮৮ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে বসেছিল উইন্ডিজ। সেখান থেকে দলকে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছে দেন দুই লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যান রভমেন পাওয়েল (৪১) ও আলঝেরি জোসেফের (১৭) দলীয় সর্বোচ্চ ৩২ রানের জুটি। তবে শেষ পর্যন্ত উইন্ডিজ থামে ৪৩.৪ ওভারে ১৪৮ রানে। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে টানা দুই ম্যাচে প্রতিপক্ষকে দেড়শর নিচে অলআউট করল টাইগাররা। শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে উইন্ডিজ। ওপেনার সুনীল আমব্রিসকে (৬) দিয়ে শুরুটা করেন মোস্তাফিজুর রহমান। এরপর জোড়া আঘাত হানেন মিরাজ। ওয়ানডেতে অভিষেক হওয়া ওপেনার কিয়র্ন ওটলেকে (২৪) তামিম ইকবালের হাতে ক্যাচ বানানোর পর জশুয়া ডি সিলভাকে (৫) বোল্ড করেন তিনি। এরপর নিজের প্রথম ওভার করতে এসেই আন্দ্রে ম্যাকার্টিকে (৩) বোল্ড করেন সাকিব আল হাসান। আগের ম্যাচে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন তিনি। সাকিব নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান অধিনায়ক জেসন মোহাম্মদকে (১১) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে। এর আগে বিপর্যয়ে পড়া উইন্ডিজকে আরও বিপদের মুখে ঠেলে রানের খাতা খোলার আগে রান আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন আগের ম্যাচে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক কাইল মায়ার্স। তবে চাপের মুখে পাল্টা আক্রমণ চালানোর চেষ্টা করেন এনক্রুমাহ বোনার (২০)। অবশ্য তাকে বোল্ড করে বেশি সুযোগ করতে দেননি হাসান মাহমুদ।
টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ
২২,জানুয়ারী,শুক্রবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বুধবার সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে প্রত্যাশিত জয় দিয়ে ওয়ানডে সুপার লিগ শুরু করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আজ (শুক্রবার) সিরিজ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিকরা। আগের ম্যাচে টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম ইকবাল। এবার টস জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে তারা নিয়েছে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত। প্রথম ম্যাচে আগে ব্যাট করে ম্যাচ হারলেও, আজ ফের আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্তই নিয়েছে ক্যারিবীয়রা। এ ম্যাচটি জিতলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের হ্যাটট্রিক হবে বাংলাদেশ দলের। তাদের বিপক্ষে ২০১৮ সালে ঘরের মাঠে ও তাদের মাঠে- উভয় সিরিজই জিতেছিল স্বাগতিকরা। এছাড়া সবমিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পঞ্চম সিরিজ জয়ের হাতছানি বাংলাদেশের সামনে। উল্লেখ্য, সিরিজের প্রথম ম্যাচে আগে ব্যাট করে ১২২ রানে অলআউট হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বল হাতে ৪ উইকেট নেন দীর্ঘদিন পর মাঠে ফেরা সাকিব। এছাড়া অভিষিক্ত হাসান মাহমুদের ঝুলিতে যায় ৩ উইকেট। পরে ৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ জিতে নেয় বাংলাদেশ।
মুম্বাই থেকে বাদ, অবসর নিয়ে নিলেন মালিঙ্গা
২১,জানুয়ারী,বৃহস্পতিবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বুধবার (২০ জানুয়ারি) ছিল আইপিএলের আসন্ন মৌসুমের নিলামের আগে নিজেদের রিটেইনড (ধরে রাখা) ও রিলিজড (ছেড়ে দেয়া) খেলোয়াড়দের তালিকা জমা দেয়ার শেষদিন। টুর্নামেন্টের সফলতম দল মুম্বাই ইন্ডিয়ানস তাদের স্কোয়াড থেকে ছেড়ে দিয়েছে সাতজনকে, যেখানে ছিল তারকা পেসার লাসিথ মালিঙ্গার নামও। এ তালিকা প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পর ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন এ লঙ্কান কিংবদন্তি পেসার। মালিঙ্গার ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট ছাড়ার খবরটিও জানিয়েছে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস কর্তৃপক্ষ। আইপিএলের দ্বিতীয় আসর থেকে টানা মুম্বাইয়ের হয়ে খেলেছেন মালিঙ্গা। আইপিএল ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী মালিঙ্গা। টুর্নামেন্টের ১৩ আসরের মধ্যে ১০টিতে খেলেছেন তিনি। যেখানে ১২২ ম্যাচ খেলে তার শিকার ১৭০টি উইকেট। মুম্বাইয়ের হয়ে চারটি আইপিএল শিরোপা জিতেছেন তিনি। এছাড়া দলের বোলিং মেন্টর হিসেবেও কাজ করেছেন ২০১৮ সালে। মুম্বাই ইন্ডিয়ানস ছাড়াও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে মালিঙ্গার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য দলগুলো হলো ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে জ্যামাইকা তালাওয়াস, গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে খুলনা টাইটান্স, রংপুর রাইডার্স, বিগ ব্যাশ টি-টোয়েন্টিতে মেলবোর্ন স্টার্স। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে ২৯৫ ম্যাচে মালিঙ্গার শিকার ৩৯০ উইকেট। তার চেয়ে বেশি উইকেট আছে কেবল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডোয়াইন ব্রাভোর। গতবছরের মার্চে সবশেষ কোনো ম্যাচ খেলেছেন মালিঙ্গা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠে খেলা সেই টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অধিনায়কত্বও করেছিলেন তিনি। নিজের অবসরের সিদ্ধান্তের বিষয়ে মালিঙ্গা বলেছেন, পরিবারের সঙ্গে আলোচনার পর আমার মনে হয়েছে, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট থেকে অবসরের এটাই সঠিক সময়। মহামারী পরিস্থিতি ও ভ্রমণে বিধি-নিষেধের কারণে আমার পক্ষে আগামী মৌসুমে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলা কঠিন। তাই এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভালো সময়। তিনি আরও যোগ করেন, মুম্বাই ইন্ডিয়ানস কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা বলেছি। তারা আমার কথা বুঝতে পেরেছে এবং আমাকে সমর্থন করেছে। মুম্বাই ইন্ডিয়ানস ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে এবং দুর্দান্ত ১২টি বছর কাটানোর জন্য সমর্থকদের ধন্যবাদ জানাই।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন জয়েই রাঙাল বাংলাদেশ
২০,জানুয়ারী,বুধবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: প্রথম ইনিংসের পরই মোটামুটি ঠিক হয়ে গিয়েছিল ম্যাচের ফলাফল। অভিজ্ঞ সাকিব আল হাসান ও অনভিষিক্ত হাসান মাহমুদের বোলিং তোপে ১২২ রানে গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে সহজ লক্ষ্যে জয় যতটা সহজে আসার কথা ছিল, ঠিক ততটা সহজে পায়নি বাংলাদেশ। মাত্র ১২৩ রানের লক্ষ্য ছুঁতে চার উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ, খেলেছে ৩৩.৫ ওভার। কাগজে-কলমে খর্বশক্তির ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৬ উইকেটের প্রত্যাশিত জয় দিয়েই ক্রিকেটে ফেরাটা রাঙিয়ে রাখল বাংলাদেশ। একইসঙ্গে নতুন বছরের শুরুটাও ইতিবাচকভাবেই করলো তামিম ইকবালের দল। দীর্ঘদিন পর মাঠে ফেরা সাকিব আল হাসানই সবার চেয়ে উজ্জ্বল। প্রথম বল হাতে মাত্র ৮ রানে ৪ উইকেটের পর ব্যাট হাতে করেছেন ১৯ রান। যা দলকে পাইয়ে দিয়েছে সহজ জয়। অথচ ম্যাচের শুরুটা দুর্দান্ত ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারের শেষ বলে সোজা ডিপ স্কয়ার লেগ দিয়ে সীমানার বাইরে পাঠিয়ে দেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সহ-অধিনায়ক সুনিল অ্যামব্রিস। এমন শট দিচ্ছিল সাহসী ব্যাটিংয়ের বার্তা। কিন্তু মোস্তাফিজুর রহমানের করা দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলেই থেমে যায় অ্যামব্রিসের যাত্রা। ফিরতে হয় সাজঘরে। খালি চোখে মনে হচ্ছিল, মোস্তাফিজের উইকেট নেয়া ডেলিভারিটি পিচ করেছে লেগস্ট্যাম্পের বাইরে। তবে রিপ্লেতে দেখা গেছে মিডল স্ট্যাম্পেই ছিল সেই বল, যা আঘাত হানত মিডল-লেগ স্ট্যাম্পে। ফলে রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি অ্যামব্রিস। নিজের মাত্র দ্বিতীয় বলেই প্রথম ব্রেকথ্রু এনে দেন মোস্তাফিজ। যা ছিল মূলত ওয়েস্ট ইন্ডিজের পতনের শুরু। দ্বিতীয় উইকেটও আসে মোস্তাফিজের বোলিংয়ে। এবার গালিতে দাঁড়িয়ে উড়ন্ত ক্যাচ নেন লিটন দাস। মোস্তাফিজের করা ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারের দ্বিতীয় বলে অফস্ট্যাম্পের বাইরের ডেলিভারিটিতে ড্রাইভ করেছিলেন জশুয়া ডা সিলভা। ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে বল চলে যায় গালি অঞ্চলে। যেখানে ছিলেন লিটন, ডানদিকে ঝাঁপিয়ে দুই হাতে বলটি তালুবন্দী করে বাজান জশুয়ার বিদায়ঘণ্টা। এরপর শুরু হয় বল হাতে সাকিবের ক্যালমা। আইসিসির এক বছরের নিষেষাজ্ঞা ও করোনাভাইরাসের কারণে বন্ধ থাকার কারণে দীর্ঘ ১৬ মাস পর খেলতে নেমে প্রায় একা হাতেই ক্যারিবীয়দের গুঁড়িয়ে দেন সাকিব। নিজের প্রথম ওভারে অন্তত তিনবার ব্যাটসম্যানের ব্যাটের কানায় বল লাগান সাকিব, সম্ভাবনা জাগান উইকেটের। প্রথম ওভারে উইকেট না পেলেও, পরে সাকিবের ঘূর্ণিতেই কুপোকাত হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম স্পেলে টানা ৭ ওভার বল করেছেন তিনি। ক্যারিবীয় ইনিংসের ২৩তম ওভারে যখন আক্রমণ থেকে সরানো হয় সাকিবকে, তখন তার নামের পাশে বোলিং ফিগার ৭-২-৮-৩; এই স্পেলে ৩৪টি বলই ছিল ডট। পরে সাকিবের গড়ে দেয়া ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে তিন উইকেট নেন অভিষিক্ত হাসান মাহমুদ, মেহেদি হাসান মিরাজের ঝুলিতে যায় এক উইকেট। ততক্ষণে ৯ উইকেট হারিয়ে ফেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাদের গুটিয়ে দিতে ৩৩তম ওভারে ফের আনা হয় সাকিবকে। দ্বিতীয় বলেই তিনি তুলে নেন ক্যারিবীয়দের শেষ উইকেট। সবমিলিয়ে বোলিং ফিগার দাঁড়ায়ঃ ৭.২-২-৮-৪! ওয়েস্ট ইন্ডিজ গুঁড়িয়ে যায় মাত্র ১২২ রানে। ব্যাটসম্যানরা স্কোরবোর্ডে তেমন বড় সংগ্রহ দিতে না পারলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা ঠিকই নিজেদের উজাড় করে দিয়েছেন। অভিজ্ঞতার বিচারে বাংলাদেশ দলের অনেক পিছিয়ে থাকা এ ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল বল হাতে ঠিকই কঠিন পরীক্ষা নিয়েছে স্বাগতিকদের। যেখানে বেশ কষ্টেই পাস করতে হয়েছে তামিম ইকবাল, লিটন দাসদের। বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংসের শুরু থেকে টানা ৮ ওভার বোলিং করেন তরুণ পেসার আলঝারি জোসেফ। যেখানে প্রথম ৬ ওভার শেষে তার বোলিং ফিগার ছিল ৬-৩-৭-০। টানা মাপা লাইন-লেন্থে বোলিং করে লিটন-তামিমের নাভিশ্বাস উঠিয়েছেন আলঝারি। একেকটি রানের জন্য সংগ্রাম করতে হয়েছে দুই ওপেনারের। উদ্বোধনী জুটিতে ৪৭ রান করতে শেষ হয় ১৩.২ ওভার। ইনিংসের ১৪তম ওভারে সাজঘরে ফেরেন লিটন। বাঁহাতি স্পিনার আকিল হোসেনের শার্প টার্নে বোকা বনে যান ৩৮ বলে ১৪ রান করা লিটন। এরপর নিজের দশ ওভারের স্পেলের একদম শেষ বলে সাকিবকেও সরাসরি বোল্ড করেন আকিল হোসেন। তার ১০ ওভারের বোলিং ফিগার ছিল এক মেইডেনে ২৬ রানে ৩ উইকেট। মাঝে নাজমুল হোসেন শান্তকেও ফিরিয়েছিলেন আকিল। শান্ত করেন ১ রান। শান্ত, লিটনরা অল্পে ফিরলেও অধিনায়ক তামিম ইকবাল রয়েসয়ে খেলে এগুচ্ছিলেন ব্যক্তিগত ফিফটির দিকে। কিন্তু ৪৪ রানের মাথায় ক্যারিবীয় অধিনায়ক জেসন মোহাম্মদের বলে স্ট্যাম্পিং হন টাইগার অধিনায়ক। তখনও জয় থেকে ৪০ রান দূরে ছিল বাংলাদেশ। পরে দলীয় ১০৫ রানে ফিরে যান সাকিবও। ছোট লক্ষ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে খানিক বিপাকেই পড়ে বাংলাদেশ। পঞ্চম উইকেটে আর বিপদ ঘটতে দেননি মুশফিকুর রহীম ও মাহমুদউল্লাহ। দুজন মিলে দেখেশুনে খেলেই শেষ করেন ম্যাচ। রিভার্স সুইপে চার মেরে ম্যাচ শেষ করেন ১৯ রানের ইনিংস খেলা মুশফিক। মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত থাকেন ৯ রানে।