বছরের প্রথম ম্যাচে হেরেই গেল চ্যাম্পিয়নরা
০৫,জানুয়ারী,মঙ্গলবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: বিগত বছরের শেষটা মনঃপুত ছিল না ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন লিভারপুলের। শেষ দুই ম্যাচে তারা পায়নি জয়ের দেখা, ড্র করেছিল ওয়েস্ট ব্রম ও নিউক্যাসল ইউনাইটেডের সঙ্গে। যা শঙ্কার মুখে ফেলে দিয়েছিল তাদের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান। আর এবার নতুন বছরের প্রথম ম্যাচটি হেরেই গেল ইয়ুর্গেন ক্লপের শিষ্যরা। প্রতিপক্ষের মাঠে ম্যাচ দিয়ে বছর শুরু করেছে লিভারপুল। যেখানে তারা সাউদাম্পটনের কাছে হেরে গেছে ০-১ ব্যবধানে। নিজেদের ঘরের মাঠে খেলা ম্যাচটিতে একদম শুরুতেই গোল করে এগিয়ে যায় সাউদাম্পটন। যা আর শোধ করতে পারেননি রবার্তো ফিরমিনো, মোহামেদ সালাহ ও সাদিও মানেরা। যে কারণে চ্যাম্পিয়নদের মাঠ ছাড়তে হয়েছে ০-১ গোলের পরাজয় নিয়েই। ম্যাচের মাত্র দ্বিতীয় মিনিটে ফ্রি-কিক পায় সাউদাম্পটন। জেমস ওয়ার্ড প্রাউসের নেয়া ফ্রি-কিকটি খুব একটা ভয়ের কারণ ছিল না। কিন্তু ক্লিয়ার করতে পারেননি ট্রেন্ট অ্যালেক্সান্ডার আর্নল্ড। সুযোগে বল পেয়ে প্রথমবারেই জালের ঠিকানা খুঁজে নেন লিভারপুলেরই সাবেক ফরোয়ার্ড ড্যানি ইঙ্গস। গোল হজমের পর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে লিভারপুল, করতে থাকে একের পর এক আক্রমণ। কিন্তু কোনোটিই লক্ষ্যে রাখতে পারেনি তারা। পুরো ম্যাচে ১৭টি শট করলেও লক্ষ্য বরাবর ছিল মাতে ১টি। যা সহজেই ফেরান সাউদাম্পটন গোলরক্ষক। ফরোয়ার্ড লাইনের এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর আর ম্যাচে ফেরা সম্ভব হয়নি লিভারপুলের। উল্টো আরেক গোল খেতে বসেছিল তারা। গোলরক্ষক অ্যালিসনকে ফাঁকি দিয়ে বল যাচ্ছিল জালের দিকে। শেষমুহূর্রেনে ঠিক গোললাইন থেকে সেটি ফিরিয়ে দেন জর্ডান হেন্ডারসন। ফলে পরাজয়ের ব্যবধান আর বাড়েনি চ্যাম্পিয়নদের। অবশ্য এ হারের পরেও পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে লিভারপুল। ১৭ ম্যাচে ৩৩ পয়েন্ট তাদের। এক ম্যাচ কম খেলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডেরও রয়েছে ৩৩ পয়েন্ট। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় এক নম্বরে অবস্থান লিভারপুলের।
বন্ধ হয়ে গেল জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট
০৪,জানুয়ারী,সোমবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: সারা দেশজুড়ে যত ক্রিকেটীয় কার্যক্রম চলছিল, সবগুলোই বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ড। মূলত করোনাভাইরাসের নতুন ধরন মোকাবিলায় সরকারি সিদ্ধান্তের কারণেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সবধরনের ক্রিকেট। শুধু ক্রিকেট নয়, জিম্বাবুয়ের সবধরনের খেলাধুলাই আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় এ কথা জানিয়েছে দেশটির ক্রীড়া ও চিত্ত বিনোদন কমিশন। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এখনের সময়টা খুবই চ্যালেঞ্জিং। তবে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ড এই সিদ্ধান্তের কবলে পড়া সকল সূচির নতুন সময় ঘোষণা করবে। বিশেষ করে সোমবার (৪ জানুয়ারি) শুরু হতে যাওয়া ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টটিও নতুন সূচিতে আয়োজন করা হবে। গত বছরের নভেম্বরে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলতে পাকিস্তান সফর করেছিল জিম্বাবুয়ে। কিন্তু করোনাভাইরাস আগমনের পর থেকে নিজেদের ঘরের মাঠে কোনও আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেনি তারা। ২০২০ সালে আগস্টে আফগানিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজ আয়োজনের কথা ছিল তাদের। একই মাসের শেষদিকে তিন ওয়ানডে খেলতে ভারতীয় ক্রিকেট দলেরও জিম্বাবুয়ে সফরের কথা ছিল। কিন্তু সেই দুই সিরিজের একটিও আলোর মুখ দেখেনি। করোনার কারণে হয়ে গেছে বাতিল। করোনার কারণে বারবার খেলা বাতিল ও পিছিয়ে যাওয়া জাতীয় দলের ওপর খুবই বাজে প্রভাব ফেলছে বলে মন্তব্য করেছিলেন জিম্বাবুয়ের সিনিয়র ব্যাটসম্যান ও সাবেক অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেলর। জিম্বাবুয়ের সাপ্তাহিক পত্রিকা দ্য স্ট্যান্ডার্ডে তিনি বলেছিলেন, ব্যক্তিগতভাবে এই বিরতিগুলো আমাদের কোনও সাহায্য করছে না। টেলর আরও যোগ করেন, আমি মনে করি, আমরা এমন একটা দল, যাদের নিয়মিত খেলা উচিত। আমরা সবসময়ই ক্রিকেটে অভাবে ভুগেছি। এ বছর (২০২০) আমাদের সামনে অনেক খেলা ছিল। কিন্তু মহামারির কারণে সবকিছুই অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে। তাই এটা সত্যিই অনেক বেশি হতাশার।
দেশে ফিরলেন সাকিব
০৩,জানুয়ারী,রবিবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: মা শিরিন রেজাকে নিয়ে রোববার (০৩ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেছেন সাকিব আল হাসান। সকাল ১০টায় কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন তিনি। গেল ডিসেম্বরে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে জেমকন খুলনার হয়ে খেলার সময় প্রথম কোয়ারিফায়ার খেলার আগের তিনি শ্বশুরের গুরুতর অসুস্থতার কথা শুনে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। তবে সাকিব যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পূর্বেই তার শ্বশুরকে হারান। দেশে ফিরে সাকিব বিমানবন্দরে আসছে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি জানান, এই ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজ জিততে চান। তবে হেরে গেলে সেটি হবে হতাশার। ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে হোম সিরিজিকে সামনে রেখে আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে জাতীয় ক্রিকেট দলের ক্যাম্প। সেদিনই উইন্ডিজদের ঢাকায় আসার কথা রয়েছে। আগামী ২০ জানুয়ারি তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডে মাঠে গড়াবে। আর ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু টেস্ট সিরিজ।
তুরস্কে আতশবাজি পোড়াতে গিয়ে দগ্ধ ফুটবলার
০১,জানুয়ারী,শুক্রবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে আতশবাজি বা ফটকা ফোটানোর রীতি বিশ্বজুড়েই প্রচলিত। কিন্তু এই আতশবাজিই আবার অনেক ক্ষয়-ক্ষতির কারণও হতে পারে। আতশবাজি মারাত্মক পরিবেশ দূষণের কারণ হতে পারে। এর কারণে আগুন লাগা, পাখির মৃত্যু এমনকি মানুষ পর্যন্ত আহত হতে পারে। এই যেমন নরওয়ের ফুটবলার ওমর এলাবডেল্লাউই। থার্টিফার্স্টের রাতের ঘটনা। পুরো শহরে যখন আতশবাজি ফুটছিল, তুরস্কের গ্যালাতাসারাই ক্লাবের ডিফেন্ডার ওমর তখন ঘরেই ছিলেন। ঘরেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে উৎসবে মত্ত থাকা অবস্থায় একটি আতশবাজি তার হাতে বিস্ফোরিত হয়। আর তাতে মারাত্মক আহত হয়েছেন নরওয়ে জাতীয় দলের সহ-অধিনায়ক। তুর্কি সংবাদমাধ্যম- হুররিয়াত জানিয়েছে, আতশবাজিতে ওমরের মুখ এবং চোখের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে তার ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। অন্যান্য শারীরিক ক্ষতির কারণে বাড়তি পরীক্ষানিরীক্ষার কথাও জানানো হয়েছে। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করেছে, ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক এই খেলোয়াড় সম্ভবত দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। অবশ্য গ্যালাতাসারাই'র পক্ষ থেকে এই দাবি নাকচ করা হয়েছে। ক্লাবটি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ওমরের অবস্থা স্থিতিশীল। তার কোনো অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়নি। ২০২০ সালে গ্রিক ক্লাব অলিম্পিয়াকোস থেকে তুরস্কে পাড়ি জমানো ওমর এলাবডেল্লাউইকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন গ্যালাতাসারাই ক্লাবের ম্যানেজার ফাতিহ তেরিম ও অধিনায়ক আর্দা তুরান। তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বিবৃতি দিয়েছে টার্কিশ সুপার লিগে গ্যালাতাসারাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী ফেনেরবাচ, বেসিকতাস এবং ট্র্যাবসনস্পর। এদিকে থার্টিফার্স্ট নাইটে ইউরোপজুড়ে আতশবাজিতে কমপক্ষে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে 'বিবিসি'। এছাড়া আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। আর মৃত্যু হয়েছে হাজারো পাখির।
জয়ে নতুন বছর বরণ চট্টগ্রাম আবাহনীর
০১,জানুয়ারী,শুক্রবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: ইংরেজি নতুন বছর ২০২১ সালকে জয় দিয়ে বরণ করলো চট্টগ্রাম আবাহনী। শুক্রবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ফেডারেশন কাপ ফুটবলের প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে চট্টলার দলটি ২-০ গোলে হারিয়েছে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রকে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা গোলশূন্যভাবে শেষ হলেও অতিরিক্ত সময়ে দারুণ জয় তুলে নেয় মারুফুল হকের শিষ্যরা। দুই দলের আড়ালে দেশের দুই অভিজ্ঞ কোচের লড়াইও ছিল এটি। চট্টগ্রাম আবাহনীর ডাগআউটে মারুফুল হক, রাসেলে সাইফুল বারী টিটু। একটা জমজমাট লড়াই হওয়ার প্রত্যাশা ছিল সবার। কিন্তু দুই দলের লড়াইটা ছিল ম্যাড়মেড়ে। বিশেষ নির্ধারিত সময়ের ম্যাচে। অতিরিক্ত সময়ে দুই দলই গোলের জন্য মরিয়া হয়। মারুফুল হকের দল গোল আদায় করতে পারলেও পারেনি সাইফুল বারী টিটুর দল। শেখ রাসেলের সমর্থকরা অবশ্য কাঠগড়ায় দাঁড় করাতেই পারে তাদের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড লোপেজ রদ্রিগেজকে। মাঠে অনুজ্জ্বল পারফরম্যান্সের সাথে ছিল পেনাল্টি মিসের মতো ব্যর্থতা। ৬০ মিনিটে পেনাল্টি পেয়েছিল শেখ রাসেল। এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কোনো দলের জন্য যা বিশাল সুযোগ। কিন্তু সে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ব্রাজিলিয়ান রদ্রিগেজ। তার শট রুখে দেন চট্টগ্রাম আবাহনীর গোলরক্ষক নাঈম। নির্ধারিত সময়ে গোলের ভালো সুযোগ এসেছিল চট্টগ্রাম আবাহনীরও। ৮৬ মিনিটে কাওসার রাব্বী বল গোলরক্ষকের গায়ে মেরে সুযোগ নষ্ট না করলে খেলা নির্ধারিত সময়েই শেষ হতে পারতো। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের দ্বিতীয় মিনিটেই গোল করে এগিয়ে যায় চট্টগ্রাম আবাহনী। রাকিব হোসেন করেন এগিয়ে যাওয়া গোল। ১১৩ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করেন মান্নাফ রাব্বী। ম্যাচ শেষে হওয়ার মুহূর্তে চট্টগ্রাম আবাহনীর কাওসার রাব্বীকে আঘাত করলে রাসেলের বদলি ফরোয়ার্ড তকলিস আহমেদকে লালকার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন রেফারি। ফেডারেশন কাপে এটাই প্রথম লাল কার্ড।
টাইগার যুবাদের বিশ্বজয়ই বছরের সেরা প্রাপ্তি
২৯ডিসেম্বর,মঙ্গলবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: দেখতে দেখতে ২০২০ সালের শেষ সপ্তাহ চলে এলো। সময়ে অতল গর্ভে হারিয়ে যাবে আরও একটি বছর। দেশের ক্রিকেটাঙ্গনের অন্যতম একটি ব্যস্ত সময় পার করার কথা ছিল এই বছরটি। কিন্তু করোনা ভাইরাসের প্রকোপের কারণে মার্চের পর থেকে পুরো বছরটি মাঠের বাইরে পার করতে হয়েছে। তার আগ পর্যন্ত হাতে গোনা কয়েকটি সিরিজ খেলেছে জাতীয় দল। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির ২০২০ সালে বাংলাদেশের ক্রিকেট কেমন ছিল সেটাই দেখে নেওয়া যাক। বছরের শুরুতেই জানুয়ারিতে পাকিস্তান সফরে যায় টাইগাররা। নিরাপত্তাজনিত কারণে তিন ধাপে পাকিস্তান সফরের প্রথম ধাপের সফর শুরু হয় জানুয়ারিতে। ২৪, ২৫ ও ২৭ জানুয়ারি তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলে বাংলাদেশ। একটি ম্যাচ বৃষ্টি কারণে পরিত্যক্ত হয়। বাকি দুটি ম্যাচ শোচনীয়ভাবে হেরে দেশে ফিরে আসে মাহমুদউল্লাহর দল। ফেব্রুয়ারিতে ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়েকে আমন্ত্রণ জানায় বাংলাদেশ। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে একটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টি খেলতে সফরে আসে জিম্বাবুইয়ানরা। একমাত্র টেস্টে টাইগারদের কাছে পাত্তা পায়নি সফরকারীরা। ইনিংস ও ১০৬ রানের বড় ব্যবধানে হারে জিম্বাবুয়ে। ওয়ানডে সিরিজেও টাইগারদের কাছে পাত্তা পায়নি জিম্বাবুয়ে। তবে ওয়ানডে সিরিজ আলোচিত ছিল মশরাফির অধিনায়কত্বকে বিদায় বলার কারণে। শেষ ওয়ানডের আগে ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে জানিয়ে দেন অধিনায়ক হিসেবে শেষ ওয়ানডে সিরিজ নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। তাই তো মাশরাফির এমন ঘোষণায় আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয় সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজের মতো টি-টোয়েন্টি সিরিজেও দাপট দেখায় টাইগাররা। দুই ম্যাচ জিতে পুরো সিরিজটাই জিম্বাবুয়েকে হোয়াটওয়াশ করে রাসেল ডমিঙ্গোর শিষ্যরা। ফেব্রুয়ারি মাসেই দেশের ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় অর্জন আসে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হাত ধরে। যেই অর্জনটা দেশের ক্রিকেটের জন্য প্রথমবার তারা বয়ে নিয়ে আসে। আকবর আলীর হাত ধরে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। প্রথমবার কোনো সংস্করণে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মর্যাদা পায় বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে ভারতকে ৩ উইকেটে হারায় জুনিয়র টাইগাররা। প্রথমবারের মতো আইসিসির কোনো ইভেন্টে শিরোপা জেতে আকবর আলীর দল, তাও আবার বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে। শুধু এই বছর নয় দেশের ক্রিকেটেরই সেরা প্রাপ্তি টাইগার যুবাদের বিশ্বজয়। মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে দেশে শুরু হতে থাকে করোনার প্রভাব। দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ১৫ মার্চ ১২টি দল নিয়ে মাঠে গড়ায় ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) ২০১৯-২০ মৌসুমের খেলা। কিন্তু সেসময়ই দেশের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সব ধরনের খেলাধুলা বন্ধ ঘোষণা করে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯ মার্চ বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সব ধরনের ক্রিকেট স্থগিত ঘোষণা করেন। শুধুমাত্র বাংলাদেশ নয় পুরো ক্রিকেট বিশ্বেই এর প্রভাব পড়ে। যার ফলে একে একে বাংলাদেশের আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা সিরিজ স্থগিত হয়ে যায়। ক্রিকেটাররা হয়ে পড়েন ঘর বন্দি। জুলাই পর্যন্ত ক্রিকেটারার মাঠেই ফিরতে পারেনি। তবে ক্রিকেটাররা একেবারেই বসে ছিলেন না। সবাই সবার জায়গা থেকে ফিটনেস নিয়ে কাজ করে গেছেন। তবে এর বাইরেও তারা বিভিন্ন ধরনের সামজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন। করোনায় কষ্ট পাওয়া মানুষের পাশে এসে দাঁড়ান মাশরাফি বিন মর্তুজা, মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান সহ প্রায় সব ক্রিকেটার। এমনকি নিষেধাজ্ঞায় থাকা সাকিব আল হাসানও এই কর্মকাণ্ডে অংশ নেন। সংসদ সদস্য হওয়ায় মাশরাফি নিজ এলাকা নড়াইলে মানুষের পাশে গিয়ে দাড়ান। সরকারি সহযোগিতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাড়াতে ১৬ বছর ধরে ব্যবহার করা নিজের প্রিয় ব্রেসলেটটা নিলামে তোলেন। দেশীয় এক সংগঠন ৪২ লাখ টাকায় সেটি কিনে নেয়। মুশফিকুর রহিম টেস্ট ক্যারিয়াররে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি যে ব্যাটটি দিয়ে করেন সেই স্মারক ব্যাটটি নিলামে তোলেন করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে এসে দাঁড়াতে। ব্যাটটি ১৮ লাখ টাকায় কিনে নেন ক্রিকেট বিশ্বের আরেক নন্দিত তারকা পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদি। সাকিব আল হাসান ২০১৯ সালের যে ব্যাট দিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডিং পারফরম্যান্স করেছিলেন সেই ব্যাটটি নিলামে তোলেন। ২০ লাখ টাকায় সেই ব্যাটটি কিনে নেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক বাংলাদেশি। ছাড়াও তামিম, তাসকিনসহ অন্যান্য ক্রিকেটাররা ব্যক্তিগত ও দলীয়ভাবে করোনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে এসে দাঁড়ান। করোনা মহামারি বিরতির পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) তত্বাবধানে ১৯ জুলাই থেকে নয় জন ক্রিকেটার ঢাকা ও ঢাকার বাইরে সামাজিক দূরত্ব বজায় ব্যক্তিগত অনুশীলন শুরু করেন। পরে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য ক্রিকেটাররটাও অনুশীলন শুরু করেন। অক্টোবর মাসে দেশের ক্রিকেটের অন্য কোনো কার্যক্রম না থাকলেও দেশের ক্রিকেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা ঘটে। মার্চের ক্রিকেট স্থগিত হওয়ার পর অক্টোবর মাসে তিন দল নিয়ে বিসিবি আয়োজন করে বিসিবি প্রেসিডেন্ট কাপ। করোনা থেকে রক্ষা পেতে পুরো টুর্নামেন্টটি বিসিবি ক্রিকেটারদের জৈব সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে রেখে আয়োজন করে। নাজমুল একাদশকে হারিয়ে এই টুর্নামেন্টের শিরোপা জেতে মাহমুদউল্লাহ একাদশ। ২৯ অক্টোবর দেশের ক্রিকেটের আরও গুরুত্বপূর্ণ দিন ছিল। সব ধরনের ক্রিকেটে থেকে আইসিসির এক বছরের নিষেধাজ্ঞা শেষে আবার মুক্ত হন সাকিব আল হাসান। জুয়াড়ির প্রস্তাব গোপন করার অপরাধে ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর সবধরনের ক্রিকেট থেকে সাকিবকে আইসিসি এক বছর নিষিদ্ধ করেছিল। করোনার পরে নভেম্বরে বিসিবি এবার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট আয়োজন করে। দেশীয় ক্রিকেটারদের নিয়ে আয়োজন করা হয় ফ্রাঞ্চাইজিভিত্তিক টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ। পাঁচ দলের অংশগ্রহণে এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামকে ৫ রানে হারিয়ে শিরোপা জেতে জেমকন খুলনা। এই টুর্নামেন্ট দিয়ে শেষ হয় করোনাময় ২০২০ সালের বাংলাদেশের ক্রিকেট। জাতীয় পর্যায়ে শীর্ষ স্থানীয় থাকা ক্রিকেটাররাই ক্রিকেটে ফিরতে পেরেছেন করোনার পর। তবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগে খেলা ক্রিকেটার ও নারী ক্রিকেটাররা এখনো ক্রিকেটে ফিরতে পারেনি। বিসিবি সভাপতি জানিয়েছেন করোনার ভ্যাকসিন আসলে অথবা করোনা পরিস্থিতি উন্নতি হলে দেশের ক্রিকেট আবার আগের মতো প্রাণ ফিরে পাবে।
কখনও মাদ্রিদে যাবেন না মেসি, ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্রে নাম লেখানোর
২৮ডিসেম্বর,সোমবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: লা লিগার শিরোপা খোয়ানো, উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে ২-৮ গোলের ভয়াবহ বিপর্যয় এবং শিরোপাশূন্য মৌসুম- ইউরোপিয়ান ফুটবলের ২০১৯-২০ মৌসুমটা দুঃস্বপ্নময় ছিল স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার জন্য। এর সঙ্গে মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে আসে দলের সবচেয়ে বড় তারকা লিওনেল মেসির ক্লাব ছাড়তে যাওয়ার ঘোষণা। চলতি মৌসুম শুরুর আগে মেসির ক্লাব ছাড়তে চাওয়ার ইচ্ছাকে ঘিরে বেশ অস্থির অবস্থার মধ্য দিয়েই যেতে হয়েছে বার্সেলোনাকে। একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল, এবার ঠিকই বার্সা ছেড়ে অন্য কোনও ক্লাবে নাম লেখাবেন মেসি। তবে শেষপর্যন্ত ২০২০-২১ মৌসুমের জন্য বার্সায় থাকতে রাজি হয়েছেন তিনি। তবে এখনও নিশ্চিত নয়, ২০২০-২১ মৌসুম শেষে আদৌ বার্সেলোনায় থাকবেন কি না তিনি। কেননা এখনও পর্যন্ত নিজের শৈশবের ক্লাবটির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেননি মেসি। আপাতত তার ইচ্ছা, চলতি মৌসুমটা ভালোভাবে শেষ করা এবং বার্সেলোনার হয়ে শিরোপা জেতার লক্ষ্যপূরণ করা। নতুন মৌসুমে কোথায় যেতে চান? সম্প্রতি লা সেক্সটায় দেয়া সাক্ষাৎকারে রাখা হয় এমন প্রশ্ন। উত্তরে পরিষ্কার করে কিছুই বলেননি মেসি। তবে একটি জিনিস সাফ জানিয়েছেন, বার্সেলোনা ছেড়ে মাদ্রিদের দুই ক্লাব তথা রিয়াল মাদ্রিদ ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে যাওয়া সম্ভব নয় তার পক্ষে। একইসঙ্গে মেসি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে নাম লেখানোর। এটিও অবশ্য সরাসরি বলেননি তিনি। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা উপভোগের ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি অর জয়ী এ ফুটবলার। যদিও শেষপর্যন্ত মৌসুম পুরোটা খেলার দিকেই জোর দিয়েছেন তিনি। মেসির ভাষ্য, রিয়াল মাদ্রিদ বা অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের জন্য ক্লাব ছাড়া অসম্ভব আমার জন্য। আমি সবসময়ই বলেছি, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে চাই আমি। কিন্তু আমি জানি না এটা হবে কি না। আমি আপাতত আগামী ছয় মাসের (মৌসুমের বাকি সময়) দিকে মনোযোগী। তিনি আরও যোগ করেন, আমি মৌসুম শেষে কী করব, সেটা এখনই বলা ঠিক হবে না। মূলত আমি নিজেও জানি না, মৌসুম শেষে কী হবে। এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দলের ভালোর কথা চিন্তা করা এবং মৌসুমের শিরোপা নিশ্চিত করা। মৌসুম শেষে বার্সেলোনা ছেড়ে গেলেও ক্যারিয়ার শেষে যেকোনও দায়িত্ব নিয়ে ক্লাবে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়ে মেসি বলেন, আমি যদি কখনও বার্সেলোনা ছেড়ে যাই, তাহলে বার্সা এবং বার্সেলোনায় ফিরে আসতে চাইব। যখন আমি অবসর নেবো, তখন নিজের জ্ঞান দিয়ে কিছু অবদান রাখার জন্য ক্লাবে ফিরতে চাইব। এসময় বার্সেলোনার প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা জানাতেও ভোলেননি মেসি, বার্সা আমার জীবন। আমি বার্সা এবং বার্সেলোনাকে ভালোবাসি। আমি ক্লাবের জন্য সবসময় নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েছি। আমি এই জার্সির জন্য অনেক বেশি অনুভব করি। বার্সেলোনা আমার জীবন। আমি এই ক্লাব ও শহরে বেড়ে উঠেছি, সবকিছু এখানেই শিখেছি। এই ক্লাব আমাকে সবকিছু দিয়েছে। বার্সা এবং এই শহরের সঙ্গে আমার ভালোবাসার সম্পর্ক।
বর্ষসেরা ওয়ানডে ব্যাটসম্যান লিটন দাস
২৬ডিসেম্বর,শনিবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: করোনা মহামারিতে ২০২০ সালে হয়নি ক্রিকেটের সিংহভাগ ম্যাচ। করোনাভাইরাসের দখলে চলে গেছে অনেক অনেক সিরিজ। তবু করোনার প্রকোপের আগে ও পরে সবমিলিয়ে চলতি বছর আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচ হয়েছে ৪৪টি। যার ৪২টিতে জয়-পরাজয়ের দেখা মিলেছে। একটি করে ম্যাচ টাই ও পরিত্যক্ত হয়েছে। আর এই ৪৪ ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশ খেলেছে মাত্র ৩টি। আর তিন ম্যাচ খেলেই বিশ্বের সব ব্যাটসম্যানকে পেছনে ফেলেছেন বাংলাদেশের লিটন দাস। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংসের মালিক হয়েছেন তিনি। এ বছর লিটন দাস এক ইনিংসে করেছেন ১৭৬ রান। যা বর্ষসেরার তালিকায় সবার উপরে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন আরেক বাংলাদেশি। ড্যাশিং ওপেনার ও বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক তামিম ইকবাল। এক ইনিংসে তার সংগ্রহ ১৫৮ রান। চমক দেখিয়েছেন পল আয়ারল্যান্ড দলের স্টারলিং। শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ম্যাচে ১৪২ রান করে তৃতীয় স্থানটি নিজের করে নিয়েছেন। ভারতের বিপক্ষে সদ্য অনুষ্ঠিত ওয়ানডে সিরিজের একটি ম্যাচে ১৩১ রানের ইনিংস খেলে চতুর্থ স্থানে এসেছেন অসি তারকা স্টিভ স্মিথ। পঞ্চম স্থানটিতে আরও একটি চমক রয়েছে। বিশ্বের বাঘাবাঘা ব্যাটসম্যানদের পেছনে ফেলে ওমানের বিপক্ষে অপরাজিত ১২৯ রান খেলে তালিকার পঞ্চমে নাম লিখিয়েছেন নামিবিয়ার ক্রেইগ উইলিয়ামস। সমান রান করে উইলিয়ামসের পাশে নিজের নাম লিখিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার জানেমান মালান। ২০২০ সালে লিটন-তামিম ছাড়া আর কোনো ব্যাটসম্যান দেড়শ’ রানও করতে পারেনি। চলতি বছরের মার্চে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ। সেই সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ২০টি বাউন্ডারি ও তিনটি ছক্কার মারে ১৫৮ রানের ইনিংস খেলেন তামিম ইকবাল। যা ছিল ওই দিন পর্যন্ত বাংলাদেশের পক্ষে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড। এর পরের ম্যাচেই ১৭৬ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলে তামিমের সেই রেকর্ড নিজের করে নেন লিটন দাস। ১৬টি চার ও ৮টি ছয়ের মার ছিল তার সেই ইনিংসে। তামিম ও লিটনের পরপর দুই ম্যাচে খেলা ইনিংস দুটিই ২০২০ সালে ওয়ানডে ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত দুই ইনিংস হয়ে থাকল।
১২শ শীতার্ত পরিবারের পাশে রুবেল হোসেন
২৪ডিসেম্বর,বৃহস্পতিবার,স্পোর্টস ডেস্ক,নিউজ একাত্তর ডট কম: অসহায় ও দুস্থ মানুষদের সব সময় নিজের সামার্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করার চেষ্টা করেন রুবেল হোসেন। করোনাকালীন তার প্রমাণ দিয়েছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ৩০ বছর বয়সী এই পেসার। দেশজুড়ে এখন তীব্র শীত পড়ছে। আর এই সময় আবারও অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ালেন বাগেরহাটের কৃতি সন্তান রুবেল। নিজ এলাকায় ১২০০ পরিবারকে দিয়েছেন শীতের কম্বল। এখানে থেমে থাকছে না ডানহাতি পেসারের কল্যাণমূলক কার্যক্রম। আরও কিছু নির্দিষ্ট পরিবারকে চিহ্নিত করে নিজ থেকে কম্বল পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতেও নিজের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন মহৎ উদ্যোগের বিষয়টি নিজেই জানিয়েছেন রুবেল। বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে অসহায়-শীতার্ত পরিবারগুলোকে নিজ হাতে কম্বল দেওয়ার কয়েকটি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘আসসালামু আলাইকুম। করোনার শুরু থেকে আমি চেষ্টা করেছি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। আপনারা জানেন আমাদের দেশে প্রচন্ড শীত পড়েছে। এমন অবস্থায় আমার নিজ এলাকা বাগেরহাটে ১২০০ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি। শুধু তাই না। আরো নির্দিষ্ট কিছু পরিবার চিহ্নিত করে আমি নিজে থেকে রাতের বেলায় ঘরে ঘরে গিয়ে কম্বল পৌঁছে দেবো। চলতি শীতে আমার এই প্রচেষ্টা অব্যহত থাকবে ইনশাল্লাহ। আমার এই চেষ্টায় সার্বিক সহযোগিতার জন্য আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই বাগেরহাট সদর থানার ওসি কে এম আজিজুল ইসলাম ভাইসহ তার সঙ্গের সকল পুলিশ কর্মকর্তাদের।