বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২১
প্রকাশ : 2021-08-29

ডিজিটাল পাঠদান পদ্ধতিতে দেশ সেরা কনটেন্ট নির্মাতা হলেন নড়াইলের মঞ্জু রাণী পাল

২৯আগষ্ট ২০২১, নড়াইল প্রতিনিধি , নিউজ একাত্তর : করোনার কারণে দেশের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যখন বন্ধ কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যখন সরাসরি স্কুলে গিয়ে ক্লাস করতে পারছে না, এমন একটি মহাসংকটে শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে অনলাইনে ক্লাস নিতে শুরু করেন প্রাথমিক শিক্ষক মঞ্জু রাণী পাল। তিনি নড়াইল সদর উপজেলার গোবরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। নিজ বিদ্যালয়, ঘরে বসে শিখি, নড়াইল অনলাইন প্রাইমারি স্কুল, বাংলাদেশ আলোকিত প্রাথমিক শিক্ষক, ডিজিটাল অনলাইন প্রাইমারি স্কুল সড়াইল পেজসহ ১০ টি অনলাইন পেজে ক্লাস নেন তিনি। এটুআই পরিচালিত শিক্ষক বাতায়ন পোর্টালের পাক্ষিক সেরা কনটেন্ট নির্মাতা ক্যাটাগরিতে দেশ সেরা নির্বাচিত হন তিনি। গত ৩১ জুলাই রাতে এটুআই তাকে সেরা কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। বাংলাদেশ তথা বিশ্বের অন্যতম সর্ববৃহৎ শিক্ষা বিষয়ক ওয়েব পোর্টাল হচ্ছে শিক্ষক বাতায়ন । জনপ্রিয় পোর্টাল ও ডিজিটাল শিক্ষাদান পদ্ধতির অন্যতম প্লাটফর্ম হচ্ছে এই শিক্ষক বাতায়ন। মঞ্জু রানী পাল ২০১০ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন। তিনি ২০১১ সালে সিইনএড, ২০১৫ সালে বিএড এবং ২০১৯ সালে কৃতিত্বের সাথে এমএড সম্পন্ন করেন । শিক্ষক মঞ্জু রানী পাল নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, শিক্ষক বাতায়নে কাজ করি ধৈর্য্য, ভালোবাসা আর আন্তরিকতা দিয়ে। যাঁরা শিক্ষক বাতায়নে দিন-রাত কাজ করেন তারাই ভালোভাবে অনুভব করেন সেরা হওয়ার আনন্দ আর অনুভুতির জায়গাটি। কাজ করি ভালোলাগা থেকে, এইভাবেই করে যাব সব সময় । আমার এই প্রাপ্তি আমার চাকরি জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। আমার এই প্রাপ্তিতে আমি প্যাডাগজি রেটার, প্রতিষ্ঠানের প্রধান, সহকর্মীবৃন্দ ও শিক্ষকমন্ডলী এবং যাঁরা উৎসাহ, উদ্দীপনা ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।আমার এই প্রাপ্তি আমাকে আগামি দিনে আরো ভালো কাজ করার ক্ষেত্রে অনুপ্রাণিত করবে। মঞ্জুর সহকর্মী একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নন্দা দাস বাসসকে বলেন, চমৎকার উপস্থাপনার মাধ্যমে শিক্ষক মঞ্জু রানী পাল অনলাইনে ক্লাস নিয়ে থাকেন। প্রতিটি ক্লাসে তিনি নতুন নতুন বিষয় উপস্থাপনা করেন যা শিক্ষার্থীদের মনোযোগ আকৃষ্ট করে।পাঠ্য বইয়ের সংশ্লিষ্ট বিষয়ভিত্তিক উপকরণ-কখনো ছবি এঁকে কখনো অন্য পদ্ধতিতে তিনি ক্লাস নিয়ে থাকেন। ম্যাডাম সাবলিলভাবে শিশু শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেন। সদা হাস্যোজ্জ্বল শিক্ষক মঞ্জু রানী পালের অনলাইনে ক্লাস নেয়ার পদ্ধতি সব সময় ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে নতুন কিছু এনে দেয়।এ কারণে ছাত্র-ছাত্রীরা মনোযোগ সহকারে তার অনলাইন ক্লাসে অংশ নেয়। গোবরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপ্না রাণী বিশ্বাস জানান, এটুআই পরিচালিত পোর্টালের পাক্ষিক সেরা কনটেন্ট নির্মাতা ক্যাটাগরিতে কাজের মূল্যায়ন হিসেবে মঞ্জু রানী পালকে দেশ সেরা নির্বাচিত করা হয়েছে। কঠোর পরিশ্রম ও মেধা খাটিয়ে তিনি অনলাইনে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিয়ে থাকেন। শিক্ষার্থীরা করোনাকালে এ ক্লাসে অংশগ্রহণ করে আনন্দের সাথে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী নাসিম খান ও অর্পি রায় জানায়, করোনাকালীন দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর স্কুল বন্ধ থাকলেও মঞ্জু পাল অনলাইনে ক্লাস নিয়েছেন। তিনি নিয়মিত অনলাইনে ক্লাস নেয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠ্য বইয়ের পড়াশুনা সম্পন্ন করা সহজ হয়েছে । তিনি যে পদ্ধতিতে অনলাইনে ক্লাস নেন সেটা শিক্ষার্থীরা সহজে বুঝতে পারে। ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নে সহজ, আনন্দময় ও ফলপ্রসূ শিক্ষা নিশ্চিত করতে মাল্টিমিডিয়া কন্টেন্ট, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, সকলের জন্য মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টিতে মুক্তপাঠ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীসহ সকলের একীভূত ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকল্পে মাল্টিমিডিয়া যথাযথ মনিটরিং ও ব্যবস্থাপনার জন্য ক্লাসরুম মনিটরিং, ড্যাশবোর্ড এবং শিক্ষকদের মাঝে কন্টেন্ট ও আইডিয়া আদান প্রদানের জন্যই শিক্ষক বাতায়ন। একুশ শতকের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজন একুশ শতকের শিক্ষাব্যবস্থা।এ শিক্ষাব্যবস্থায় নেতৃত্ব দিতে প্রয়োজন একুশ শতকের শিক্ষক। তাই শিক্ষকদের উপর আস্থা রেখে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলতে এবং শিক্ষকদের দক্ষ তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানে সমৃদ্ধ করতে, প্রায় ছয় লাখ শিক্ষকের একটি মহিরূহ প্রতিষ্ঠান শিক্ষক বাতায়ন।শিক্ষক বাতায়ন একটি অনুপ্রেরণার নাম, একটি সুস্থ প্রতিযোগিতার নাম। সর্বস্তরের শিক্ষকরা তাদের মনের মাধুরী মিশিয়ে ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি করে শিক্ষক বাতায়নে আপলোড করতে পারেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: হুমায়ুন কবীর বলেন, আমাদের দৈনন্দিন জীবন ব্যবস্থায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির নিত্যনতুন উদ্ভাবন সমাজ ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিচ্ছে। অনেক সময়ই শিক্ষার্থীরা তাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে শিক্ষা ব্যবস্থাকে মেলাতে পারে না। পরিবর্তনশীল সমাজ ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীর এই নানামূখী চাহিদা পূরণ করা এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে এটুআই শিক্ষাক্ষেত্রে উদ্ভাবন নিয়ে প্রায় এক যুগ ধরে কাজ করে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ, সময়োপযোগী শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তির সমন্বয়ে ভবিষ্যৎ চাহিদার সাথে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার যোগসূত্র স্থাপনে কাজ করে চলেছে এটুআই। নিউজ একাত্তর/ভুঁইয়া